নভেম্বর ০৯, ২০১৬ ১৪:৫১ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের শিশুকিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে এ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে বিশ্বমানবতার জন্য মহান আল্লাহর এক রহমত হিসেবে। তিনি ছিলেন অসহায়, ইয়াতিম, দরিদ্র ও মজলুমের বন্ধু।

বিশ্বনবী (সা,) দারিদ্র্যকে ভালোবাসতেন এবং একে তাঁর গর্ব বলে উল্লেখ করতেন। তিনি জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরতেন না, কিন্তু তিনি কখনও অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকতেন না। ছেঁড়া ও তালিযুক্ত পোশাক পরলেও কখনও ময়লা পোশাক পরেননি। পরিপাটি থাকা ও নিয়মানুবর্তিতা ছিল তাঁর স্বভাব। তাই মুসলমানেরই উচিত শালীন পোশাক পরা। কম দামের পোশাকও শালীন হতে পারে। রাসূলে-করীম (সা.) মানুষকে কম দামের পোশাক পরতে উৎসাহিত করতেন। কারণ বেশী দামের একটি পোশাক কেনার চেয়ে কম দামের একাধিক পোশাক কিনে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে রংধনু আসরে রাসূলেখোদার জীবন থেকে নেয়া একটি সত্য ঘটনা প্রচার করা হয়েছে। এ পর্বে রয়েছে। একটি গানসহ এক ছোট্টবন্ধুর সাক্ষাৎকার।

বরকতময় ১২ দিরহাম

একদিন আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্য একটি জামা কিনতে বাজারে গেলেন। তিনি ১২ দেরহাম দিয়ে একটি জামা কিনে রাসূলেখোদার কাছে ফিরে নিয়ে গেলেন। জামাটি হাতে নিয়ে নবীজী হযরত আলীকে জিজ্ঞেস করলেন, জামাটি কত দিয়ে কিনেছো? জবাবে হযরত আলী (আ.) বললেন, ১২ দেরহাম দিয়ে কিনেছি। তখন রাসূলেখোদা বললেন, "জামাটি আমার পছন্দ হচ্ছে না। আমি এর চেয়ে কম দামে একটি জামা কিনতে চাই। তুমি বরং দোকানে গিয়ে দেখো যে, জামাটি ফেরত দিতে পারো কিনা।"

হযরত আলী জামাটি নিয়ে বাজারে গেলেন। দোকানদারকে তিনি বললেন, "আমি এ জামাটি কিনেছিলাম রাসূলেখোদার জন্য। তিনি এর চেয়ে সস্তা দামে একটি জামা চান। তুমি কি জামাটা ফেরত নিতে রাজি আছ "?

বিক্রেতা রাজি হলো। আলী (আ.) টাকাগুলো নিয়ে রাসূলের কাছে এলেন। এরপর দুজন মিলে একসাথে বাজারের দিকে রওনা হলেন।

পথিমধ্যে তারা দেখতে পেলেন, এক ক্রীতদাসী রাস্তার ধারে বসে কাঁদছে। নবীজী তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছো কেন? মেয়েটি জবাব দিল, "গৃহকর্ত্রী আমাকে চার দেরহাম দিয়ে বাজার করতে পাঠিয়েছিল। কিন্তু দেরহামগুলো আমি হারিয়ে ফেলেছি। এখন খালি হাতে বাড়িতে যেতে আমার ভয় হচ্ছে। মালিক আমাকে নিশ্চয়ই মারধর করবে। "

একথা শোনার পর রাসূল (সা.) মেয়েটিকে বারো দেরহাম থেকে চার দেরহাম দিয়ে বললেন, ''যাও, যা কেনার জন্য বাজারে এসেছিলে, তা কিনে নিয়ে বাড়ি চলে যাও।'' এ কথা বলে নবীজী বাজারে গেলেন এবং চার দেরহাম দিয়ে একটি জামা কিনলেন এবং সেটি গায়ে দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলেন।

বাড়ি আসার পথে তিনি এক লোককে দেখতে পেলেন যার পরনে কোনো জামা নেই। নবীজী তার নতুন জামাটি খুলে লোকটিকে দিয়ে দিলেন। এরপর তিনি আবারো বাজারে গিয়ে বাকি চার দেরহাম দিয়ে আরেকটি জামা কিনলেন। বাড়ি ফেরার পথে তিনি আবারো দেখলেন যে, সেই ক্রীতদাসী মেয়েটি পথের পাশে জড়সড় হয়ে বসে আছে। রাসূলুল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার! তুমি এখনো বাড়ি যাওনি ?

মেয়েটি বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এসেছি অনেক আগে। কিন্তু টাকার হারানোর কারণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। এখন বাড়ি গেলে আমার মনিব যদি আমাকে মারে-তাই ভয় পাচ্ছি।" রাসূলেখোদা বললেন, "ঠিকাছে। তোমার সাথে আমিও যাচ্ছি। তুমি আমাকে তোমার মনিবের বাড়িটা দেখিয়ে দাও।"

ক্রীতদাসীকে সাথে নিয়ে লোকটির বাড়িতে পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ বললেন, "হে বাড়ির বাসিন্দারা, আসসালামু আলাইকুম।"

বাড়ি থেকে কেউই সালামের জবাব দিল না। রাসূলেখোদা আবারো সালাম দিলেন। এবারো কোনো জবাব এল না। নবীজী তৃতীয়বার সালাম জানানোর পর জবাব এল, ''আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।'' সালামের জবাব পেয়ে রাসূলেখোদা বললেন, "তোমরা বাড়িতে আছ অথচ প্রথম দুইবার আমার সালামের উত্তর দিলে না যে! তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাওনি?"

বাড়ির লোকেরা বলল, "জী হুজুর! প্রথমেই শুনতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আপনার সালাম বার বার শুনতে শুনতে ইচ্ছে করছিল। কারণ আপনার সালাম তো আমাদের বাড়ির সবার জন্য রহমত ও কল্যাণ বয়ে আনবে।

বাড়ির লোকদের কথা শেষ হবার পর নবীজী বললেন, "তোমাদের এ দাসীটি বাজারে গিয়ে দেরী ফেলেছে। তোমরা যেন তাকে কিছু না বলো, সে জন্য আমি তোমাদের এখানে এসেছি।

এ কথা শুনে বাড়িওয়ালা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পদধুলি এ বাড়িতে ফেলেছেন এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনার শুভাগমনের কারণে এই মুহূর্তে আমি মেয়েটিকে মুক্ত করে দিলাম।"

বাড়িওয়ালার কথা শুনে রাসূলেখোদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। তারপর বললেন, কত বরকতময় ওই ১২টি দেরহাম- যা দুজনকে জামা পরাল আর একজন ক্রীতদাসীকে মুক্ত করে দিল।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯