জুলাই ০৮, ২০১৭ ১৬:২২ Asia/Dhaka

হজরত আলী (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে মহানবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, হে আলী! পুণ্যের দরজা তিনটি: মনের উদারতা,মিষ্ট ভাষা,আর কষ্ট ও উৎপাতে ধৈর্যধারণ।

আমরা সবাই মহানবী (সা.)'র দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে সক্ষম হবো, এ প্রত্যাশায় শুরু করছি আজকের আসর।  শুরুতেই চিঠিপত্র,ইমেইল ও মন্তব্যের দিকে নজর দিচ্ছি। আজকের আসরের প্রথমেই যে চিঠি হাতে নিলাম তা এসেছে ভারত থেকে। মুর্শিদাবাদ জেলার ছাতুমারা গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন সাব্বির আহমেদ। চিঠির শুরুতেই সব শ্রোতা বন্ধুসহ রেডিও তেহরানের সবাইকে আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এরপর জানতে চেয়েছেন ইরানে ঈদুল ফিতরের বন্ধ কয় দিনের হয়? ঈদের বন্ধে ইরানিরা কি বাড়ি যায়?

বহলুল: ইরানে ঈদুল ফিতরের বন্ধ দু’দিনের। ইরানিরা বন্ধ পেলেই বাইরে ছোটে।

বহলুল ভাই বলতে চেয়েছেন, তেহরানের লোকেরা বন্ধ পেলেই মফস্বল শহরগুলোর দিকে ছোটে। আর মফস্বল শহরগুলোর লোকজন তেহরানে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে আসে।  ইরানের মানুষ নিজেদের দেশ ঘুরে দেখতে ভালবাসে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তারা এ কাজটা বেশি করেন। কারণ এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিন মাসের জন্য বন্ধ থাকে। আপনার প্রশ্ন ছিল ঈদের ছুটিতে বাড়ি যায় কিনা? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, ঈদুলে ফিতরের ছুটিতে ইরানিরা দূরে সফর করে না। এদেশের মানুষের বার্ষিক প্রধান উৎসব হচ্ছে ফার্সি নতুন বছর বা নওরোজের ছুটি। সে সময় ইরানিরা ব্যাপকভাবে বেড়াতে যায়। তেহরান শহর একরকম ফাঁকা হয়ে যায় বললেই চলে। বহু ইরানি এ সময় বিদেশ সফরে যায়।

আমাদের পুরনো এ বন্ধুর চিঠি এখনো শেষ হয় নি। তিনি আরো লিখেছেন, শব্দ ও ছবির এ যুগে কেবল শব্দে কি মেটে মনের সব তৃষ্ণা! আমরা কি বলতে চাই তা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন।

 

বহলুল: অবশ্যই। তবে আপাতত আপনাদেরকে পড়া মানে ওয়েব সাইট পড়া আর রেডিও শোনার মধ্যে থাকতে হবে। অর্থাৎ পড়াশোনা করতে হবে।

ওয়েব সাইটের বিভিন্ন খবরেও মাঝেমধ্যে ভিডিও দেয়া হচ্ছে, তা দেখতে পারেন। তবে ছবি ও শব্দের জন্য হয়ত আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

পরের চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের নওগা জেলার হাটখোলার ধামইর হাট থেকে। আর এটি লিখেছেন বোন রোখসানা পারভিন। রেডিও তেহরানের সবাইকে সালাম জানিয়ে তিনি লিখেছেন, অনেক বোনই দীর্ঘদিন ধরে প্রায় নিয়মিতই রেডিও তেহরান শোনেন।  তারপরও তারা কেনো কম চিঠি লেখেন?

বহলুল: মারাত্মক রকমের একটা ভালো প্রশ্ন করেছেন আপনি।  বোনেরা হয়ত চিঠি লেখার প্রয়োজন মনে করেন না। কারণ তাদের মনে জাগা প্রশ্নগুলো হয়ত ভাইয়েরাই করে দিচ্ছেন।

মন্দ বলেননি বহলুল ভাই। দেখা যাক, এবার বোনেরা এ নিয়ে কিছু বলেন কিনা।  সে যাই হোক, এ বোনের চিঠি এখনো শেষ হয়নি। তিনি আরো লিখেছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো বিশ্বসংবাদ আর প্রিয়জন।

বোন রোখসানা পারভিন, ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং আপনার পরিচিত অন্য বোনদেরকে চিঠি লিখতে উৎসাহিত করবেন এই আশা করছি। আপনারা যদি বেশি বেশি চিঠি লিখতে থাকেন তাহলে দেখবেন একদিন বোনদের চিঠিই বেশি আসতে শুরু করেছে আর ভাইয়েরা হেরে গেছেন।

আসরের এ পর্যায়ে যথারীতি নজর দেবো রেডিও তেহরানের ওয়েব সাইট এবং ফেসবুক গ্রুপের খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সে দিকে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম ঐক্যের জন্য সহায়ক: পাক সেনাপ্রধান-শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৩ জুলাই। এ খবর বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য জোরদারের জন্য সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। রেডিও তেহরানের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এ খবরে মন্তব্য করেছেন নিয়মিত পাঠক ভাই জাফর পাঠান। তিনি লিখেছেন,

 

মিষ্টার কামার জাভেদ বাজওয়া,কথা ও কাজে এক থাকুন তবেই বেঁচে যাবেন এবং শক্তিশালী হবেন,অন্যথায় রাহুগ্রাসে পড়ে যাবেন। কথাটি সত্য বললাম ।

বহলুল: রাহুগ্রাসের কথা বলে বেশ জোরালোভাবেই বক্তব্য তুলে ধরেছেন আপনি। ধন্যবাদ ভাই জাফর পাঠান। এদিকে ২ জুলাই প্রকাশিত একটি খবরে শিরোনাম-

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী: বলেছেন ইরানি সংসদ সদস্য। এ খবরে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির মুখপাত্র সাইয়্যেদ হোসেইন নাকাভি হোসেইনি বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ইরানি টিভি চ্যানেল-টু'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে মন্তব্য করেছেন আবদুস সালাম। তিনি লিখেছেন-

শুধু সেনাবাহিনী বড় সন্ত্রাসী বাহিনী নয়,আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকা ধ্বংস হোক।  এ ছাড়া, একেএম ওবাইদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন- গড ফাদার আমেরিকা।

বিশ্বের বহু দেশের সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমেরিকার পদলেহন করলেও সেসব দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু আমেরিকাকে ঠিকই ঘৃণা করে।  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বহু জরিপে এরকম চিত্র আমরা দেখতে পেয়েছি। বাংলাদেশ এবং ভারতের সাধারণ মানুষও যে আমেরিকা সম্পর্কে অত্যন্ত বাজে ধারণা পোষণ করে তা এই দুই ভাই’র মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হলো। ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে রেডিও তেহরানের খবরে মন্তব্য করার জন্য।

আজকের আসর আর বড় করা সম্ভব হবে না। সময়ের অভাবে...

বহলুল: এখানেই আসর গুটাতে হবে। তাই না?

হ্যা ঠিকই ধরেছেন আপনি। তো বন্ধুরা, দেখতে দেখতে আজকের আসরের সময়ও শেষ হয়ে এসেছে। এবার বিদায়ের পালা। যারা চিঠি দিয়েছেন, খবরে মন্তব্য করেছেন এবং এতোক্ষণ ধরে অনুষ্ঠান শুনেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা গান শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নেই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে। #