খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন পদ্মা সেতু বানাবার ক্ষমতা তার নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৫ জানুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন পদ্মা সেতু বানাবার ক্ষমতা তার নেই: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
- জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত- দৈনিক প্রথম আলো
- শেষ বেলায় শীত থাকতে পারে ১০ দিন- দৈনিক যুগান্তর
- বাংলাভাষী মুসলিমদের বিতাড়ন ইস্যু: আসামে উত্তেজনার আশঙ্কা, উদ্বেগ- দৈনিক মানবজমিন
- জোর করে কর আদায় করা হবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান- দৈনিক সমকাল
- সেচ মওসুমে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত- দৈনিক নয়াদিগন্ত
- বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে- দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- অসমে মমতার নামে ২ এফআইআর হল- দৈনিক আজকাল
- ‘বাঙালি খেদাও’ নিয়ে উত্তাল সংসদ, অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি রাজনাথের- দৈনিক বর্তমান
- ভারত ভয় দেখিয়েছে মা-স্ত্রীকে, যাদবকে দিয়ে বলাল পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন পদ্মা সেতু বানাবার ক্ষমতা তার নেই: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বেগম জিয়া প্রমাণ করেছেন এই সেতু নির্মাণের কোন ক্ষমতা তার নেই। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘একটি সেতু বানাবার ঐ ক্ষমতা তার নাই। এটা ওনার কথার মধ্য দিয়েই উনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। নইলে যার মাথায় এতটুকু জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, তিনি নিশ্চয়ই সজ্ঞানে একথা বলবেন না।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান।
সরকার প্রধান বলেন, সরকারে এসেছি নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে। আজকে যখন আমরা নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু করি তখন আপনারা শুনেছেন যে খালেদা জিয়া বক্তৃতা দিচ্ছে- ‘ঐ পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে, কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু যখন আমরা নির্মাণ করছি সেটাও নাকি জোড়াতালি দিয়ে।
তিনি বিএনপি নেত্রীর বিদ্রুপের উত্তরে বলেন, হ্যাঁ একদিকে ঠিক, সেতু তৈরির জন্য প্রথমে এক একটা পার্ট তৈরি করে এবং সেটা পরে বসায়। যার এইটুকু জ্ঞান নেই একটা জিনিস তৈরি করতে হলে কিভাবে কোন পদ্ধতিতে করা হয়, যার মাখায় ঐটুকু ঘিলু নেই, তিনি কি করে এটি বুঝবেন। তার মাথায় শুধু ঘিলু আছে চুরি করার, টাকা বানানোর আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার, মানুষ পোড়ানোর, মানুষ হত্যার। বাসস।
জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত- দৈনিক প্রথম আলো

পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে সারা দেশে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। এক দিনে সারা দেশের তাপমাত্রা এক থেকে আট ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে শীতের প্রকোপ বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে রাতে শীতের অনুভূতি আগের মতোই থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই দিন ধরে যে শীতল দমকা হাওয়া বইছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের নদী এলাকাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে।
এদিকে গতকাল শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা এক লাফে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। গত বুধবার সেখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল তা কমে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পরিণত হয়েছে। তবে গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই এবারের শীতের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীত ঋতুর মাঝামাঝি এসেও কয়েক দিন ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরেই ছিল।
শেষ বেলায় শীত থাকতে পারে ১০ দিন- দৈনিক যুগান্তর

পৌষের শেষের দিকে শীত জেঁকে বসেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শীতের দাপট বেড়েছে। সকাল থেকে বইছে উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস। বিভিন্ন স্থানে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে শীতের প্রকোপ একটু বেশি। দেশের কোথাও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত আরও ১০ দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে, ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে মীম নামে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
১ জানুয়ারি আবহাওয়া অফিসের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী জানুয়ারিতে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে একটি তীব্র এবং অন্যত্র ২-৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস যুগান্তরকে বলেন, শীতকালে শীত থাকাটাই স্বাভাবিক। এতদিন শীত না পড়ায় মানুষ এর কারণ জানতে চেয়েছে। তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ও এরপর রাজশাহীসহ দেশের দু-একটি এলাকায় বৃষ্টি হয়। তখন আকাশে মেঘ ছিল। সেই মেঘ চলে গেছে। এটা শীতের একটি কারণ।
তথ্য অনুযায়ী ২ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বাদে দেশের অন্যত্র মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। ৭-৮ জানুয়ারির পর ওই দুই এলাকায়ও শীত পড়বে। সব মিলিয়ে ১৪-১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে শীত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার প্রকোপও বাড়বে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, উত্তরের জনপদে শীত জেঁকে বসেছে। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার আগে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এ মৌসুমের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা বলে জানায় রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। শীতের পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে ছিল কুয়াশার প্রকোপ। দুপুর ১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। এর ফলে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে পথের ধারে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে ছিন্নমূল মানুষদের। নিন্ম আয়ের মানুষ শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন নগরীর ফুটপাতের ভাসমান দোকানে।
বাংলাভাষী মুসলিমদের বিতাড়ন ইস্যু: আসামে উত্তেজনার আশঙ্কা, উদ্বেগ- দৈনিক মানবজমিন
আসামে বাংলাভাষী বা বাংলাভাষী মুসলিম ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে আসামে বসবাসকারী অনেক মুসলিম

বাংলাভাষীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ন্যাশনাল রেজিস্ট্রোর অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এর প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তাদের অনেকের নাম নেই। তাই তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, এমন রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারেন ৩০ থেকে ৪০ লাখ বাংলাভাষী মুসলিম।
তাদেরকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আসামে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের গায়ে হাত পড়লে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না। কিন্তু বিজেপি’র অভিযোগ, এনআরসি নবায়ন করার বিরোধিতা করছেন মমতা। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনে তিনি ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের’কে ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে চান। বিজেপির এমপি রাম প্রসাদ শর্মা বলেছেন, মমতা বাংলাদেশি ভোটব্যাংক অটুট রাখতে চান। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমস ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আসামে বসবাস করেন মর্জিনা বিবি। তাকে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করা হতে পারে বলে আতঙ্কিত তিনি। নাগরিকত্বের যে প্রাথমিক তালিকা রোববার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয়েছে তাতে ২৬ বছর বয়সী মর্জিনার নাম নেই, যদিও তার আছে ভোটার পরিচয়পত্র, ২০১৬ সালের বিধানসভার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। মর্জিনা বিবির প্রশ্ন- আমার সঙ্গে তারা এসব করছে কেন? আসামের ফোফেঙ্গা গ্রামে তার বসতি। মর্জিনা বলেন, তারা মনে করেছে আমি একজন বাংলাদেশী। কিন্তু আমার জন্ম এই আসামে। আমার পিতামাতার জন্ম আসামে। তাই আমি একজন ভারতীয়।
জোর করে কর আদায় করা হবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান- দৈনিক সমকাল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, 'জোর করে কারও কাছ থেকে কর আদায় করা হবে না। কারণ কঠোরতা অবলম্বন করলে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে। এনবিআর কারও প্রতিপক্ষ নয়, বরং বন্ধু।' তিনি আরও বলেন, 'হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাজস্ব আহরণ করা হবে।'
দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল সেগুনবাগিচায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে মোশাররফ হোসেন বলেন, 'এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।' তিনি বিশ্বাস করেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যত বেশি গতিশীল হবে, রাজস্ব আহরণ তত বাড়বে। এ জন্য এনবিআরের লক্ষ্য হবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে কঠোর উপায়ে রাজস্ব আহরণ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নয়।'
সেচ মওসুমে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত- দৈনিক নয়াদিগন্ত

সেচ মওসুমে ভারত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সেই পানি সেচের জন্য ক্যানেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাবে শীতকালেই তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদ মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রমত্তা তিস্তার বুকে জেগে উঠছে অসংখ্য ছোট-বড় ধু-ধু বালুচর। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহের বিশাল জলরাশি বুকে ধারণ করে বয়ে চলা যমুনা নদীর পেটে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। নদীর মূলধারা সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পানিসম্পদ, কৃষি অর্থনীতি এবং নৌপথে যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে।
ভারত থেকে আসা ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার প্রবাহ একসাথে ধারণ করে যমুনা নদী বিশাল জলরাশি নিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান ছিল। কিন্তু ভারত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বহুসংখ্যক জলবিদ্যুৎ ও সেচ প্রকল্প নির্মাণ করেছে। ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে যমুনা নদীতে। এরই মধ্যে যমুনার পানির প্রবাহ কমে গেছে। আর নদী ভরাট হয়ে অসংখ্য ছোট-বড় চর জেগে উঠছে। সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ছে নদীর মূলধারা। স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর আগে যমুনা ও তিস্তা নদী দিয়ে যেসব কার্গো জাহাজ চলত এখন আর সেই বিশাল কার্গো জাহাজগুলো চলতে পারে না।
আগে যেখানে ১২ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলত এখন সেখানে ৬ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলাচল করতে পারে। ২৫ বছর আগের চেয়ে এখন নৌপথ কমে অর্ধেক হয়েছে। তিস্তা প্রবাহ কমে যাওয়ায় যমুনা হয়ে তিস্তায় আর কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না। এখন যমুনা নদীতে আগের মতো পাঙ্গাস, চিতল, আইড়, গুজো ও রিঠা মাছ পাওয়া যায় না। পাঙ্গাস, আইড়, চিতল মাছের বিচরণত্রে ছিল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত। মাছ আসার জন্য নদীতে পানির যে পরিমাণ প্রবাহ থাকার কথা সেটি না থাকায় এখন আর যমুনায় পাঙ্গাস, চিতল, আইড়সহ সুস্বাদু মাছ আসে না।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে- দৈনিক ইনকিলাব

বাংলাদেশের আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে এ প্রতিবেদনে বলেছে ভারতীয় পত্রিকা দ্যা হিন্দু। গত বুধবার পত্রিকাটিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামনেই বাংলাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার এক আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। বছরের শেষের দিকে ১১তম পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য দেশ যতই প্রস্তুতি নিচ্ছে ততই রাজনৈতিক অস্থিরতায় ফেরার এক আশঙ্কা, উদ্বেগ বেশি করে দেখা দিচ্ছে। বেশির ভাগ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মত প্রকাশ করেছেন যে, ২০১৮ সালের এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ। কারণ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিরোধী পক্ষগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে বলেই মনে হচ্ছে। তারা দেখাতে চায় যে, ‘ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীনতাপন্থি’ দলগুলো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালে। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থি দলগুলো ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। সৃষ্টি হয় এক সহিংস পরিবেশ। তার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন।
এবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা যে সৃষ্টি হবে তার অন্যতম একটি আগাম ইঙ্গিত এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তা হলো আগেরবারের মতো সেই একই দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোট। বিএনপির মূল নেতৃত্বে থাকা নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না তারা। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন তত্ত¡াবধান করার জন্য একটি তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আহŸান জানাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেই যাচ্ছে, দেশের সংবিধানের অধীনে তারাই ক্ষমতায় থাকবে এবং তাদের অধীনেই হবে নির্বাচন।
চার বছর আগে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ভয়াবহ এক সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে। বিশ্লেষকরা বলেন, ওই সময় বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে যে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিল তা তাদের রাজনৈতিক ভুল ছিল- এটা প্রমাণিত হয়েছে এবং এর জন্য তাদেরকে অনেকটা মূল্য দিতে হয়েছে। এখন বিরোধীরা সেই একই ভুল আর করতে চায় না।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
অসমে মমতার নামে ২ এফআইআর হল- দৈনিক আজকাল

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে দু–দুটি এফআইআর করা হল অসমে। অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ (এনআরসি)–এর প্রথম খসড়ায় বহু নাগরিকের নাম বাদ পড়েছে। আতঙ্কে আছেন রাজ্যের বাঙালিরা। সেই বিষয়ে গতকাল আহমদপুরের সভায় মুখ খুলেছেন মমতা। জানিয়ে দিয়েছেন, মানুষের গায়ে হাত পড়লে তৃণমূল কংগ্রেস বসে থাকবে না। অসমে বিজেপি, আসু এবং আরও কিছু সংগঠন এতে হইহই করে উঠেছে। গুয়াহাটির লতাশীল থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন একজন আইনজীবী। দিসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ‘কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ’ নামে অসমের একটি সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করেছেন মমতা। অসমে জাতিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে সংগঠন।
কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, আমাদের নেত্রীর বক্তব্য আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করি। মামলা–হামলা আমরা অনেক দেখেছি। মামলা করে মমতাকে ভয় দেখানো যাবে না। এসব হুমকি যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আশা করি, ওঁদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। বিজেপি–র অসম রাজ্য সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস বৃহস্পতিবার হুমকি দেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস অসমে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু বিজেপি–র ২৭ হাজার কর্মী তৃণমূলের এই অপচেষ্টা রুখে দেবে।’ অসমের ‘ঘরোয়া রাজনীতি’–তে নাক গলানোরও অভিযোগ করেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। আসু–র সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈয়ের মতে, ‘অবৈধভাবে রাজ্যে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এনআরসি–র কাজ চলছে। একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির এধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।’
‘বাঙালি খেদাও’ নিয়ে উত্তাল সংসদ, অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি রাজনাথের- দৈনিক বর্তমান

অসম নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো কেন্দ্র বিরোধী সুর চড়াতেই অবস্থান পরিষ্কার করল মোদি সরকার। জানিয়ে দেওয়া হল, অসম থেকে মোটেই বাঙালি খেদানো হচ্ছে না। কাউকে তাড়ানো হচ্ছে না। যাঁদের নাম তালিকায় বাদ পড়ে যাবে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। বাঙালি খেদানো হচ্ছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা মিথ্যে। তৃণমূলের প্রবল চাপে রীতিমতো সংসদে বিবৃতি দিয়ে চলতি বিতর্কে কেন্দ্রের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
তবে কেবল বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হননি রাজনাথ। তৃণমূলের দুই এমপি সৌগত রায় এবং দীনেশ ত্রিবেদিকে কাছে ডেকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস, অসমের মানুষ সেখানেই থাকবেন। কোনও বাঙালিকে রাজ্য থেকে তাড়ানো হবে না। একইসঙ্গে সৌগতবাবুকে বলেন, ‘মমতাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন। চিন্তা করতে বারণ করুন। বাঙালির কোনও অসম্মান হবে না।’ পাল্টা সৌগতবাবুও তাঁকে জানিয়ে দেন, ‘আপনি তো তবু যুক্তিপূর্ণ বিবৃতি দিলেন। কিন্তু অসমে আপনাদের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যার জেরেই প্যানিক তৈরি হয়েছে। সোনওয়ালকে বোঝান।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমের বাসিন্দাদের একটি তালিকা তৈরি করতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। যেখানে মাত্র এক কোটি ৯০ লক্ষ বাসিন্দাদের নাম আছে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাঁরা রাজ্যের নাগরিকত্বের যাবতীয় সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষের মতো বাসিন্দার নাম সেখানে নেই। এমনকী অসমের লোকসভার এমপি বদরুদ্দিন আজমলের নামও সেখানে নেই বলে উল্লেখ করেছে তৃণমূল। এরকম বহু অহমিয়ার নাম নেই। বাদ পড়েছে অসমে থাকা বহু বাঙালিরও নাম। বাঙালিদের তাড়াতেই এটি একটি ষড়যন্ত্র বলেও এদিন লোকসভায় সরব হয়েছে তৃণমূল।
ভারত ভয় দেখিয়েছে মা-স্ত্রীকে, যাদবকে দিয়ে বলাল পাকিস্তান- দৈনিক আনন্দবাজার

আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতকে হেয় করতে পাকিস্তানের জেলে বন্দি কুলভূষণ যাদবকে নিয়ে আবার একটি প্রচারধর্মী ভিডিও প্রকাশ করল ইসলামাবাদ। সেই ভিডিওয় কুলভূষণকে দিয়ে ভারতীয় কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বলানো হয়েছে।
কুলভূষণকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমার সঙ্গে মা ও স্ত্রী যখন দেখা করতে আসেন, তখন ওঁদের দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। দেখি, ওঁদের চোখে, মুখে ভয়ের ছাপ। ভয়ের ছাপ থাকবে কেন? যা হওয়ার, তা তো হয়েই গিয়েছে। বুঝতে পেরেছিলাম, ওঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। যে ভারতীয় কূটনীতিক মা ও স্ত্রীকে আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি বড্ড চেঁচামেচি করছিলেন।’’তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই প্রচারধর্মী ভিডিওকে ‘একেবারেই গুরুত্বহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এমন ভিডিও প্রকাশের খবরে আমরা অবাক হইনি। অন্যকে তাদের সুরে কথা বলতে বাধ্য করিয়ে পাকিস্তান অনেক দিন ধরেই এমন ভিডিও প্রকাশ করে চলেছে। এই ধরনের প্রচারধর্মী ভিডিওর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে তা একেবারেই গুরুত্বহীন। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের ১২৬৭ এবং ১৩৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তকে বরং মেনে চলুক পাকিস্তান, এটাই আমাদের পরামর্শ। ভারতীয়দের মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারেও ইসলামাবাদ যত্নবান হবে, এটাও কাম্য।’’
গত ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জেলে বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর মা ও স্ত্রীকে দেখা করানোর সময় হাজির ছিলেন ইসলামাবাদে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার জে পি সিংহ।সেই সময় তাঁদের সাক্ষাৎ-পর্বের একটি ভিডিও ইসলামাবাদের তরফে প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, একটি পুরু কাচের দেওয়ালের ও পাশে রয়েছেন কুলভূষণ। আর সেই কাচের দেওয়ালের এ পাশে বসা তাঁর স্ত্রী ও মা ইন্টারকমে কথা বলছেন কুলভূষণের সঙ্গে।
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসরে আবারো কথা হবে আগামীকাল।
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৫