প্রিয়জন :'বিশ্ব ডাকাত আমেরিকার পেশা হলো অপরের সম্পদ লুণ্ঠন করা'
বন্ধুরা,আপনাদের অনেক অনেক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন।
আশা করছি সবাই ভালো আছেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আজ আপনাদের সঙ্গে রয়েছি আমরা তিনজন। প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে। ইমাম রেজা (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো গরীব মুসলমান দেখে তাকে যথাযথ সম্মান না জানিয়ে অবজ্ঞাভরে সালাম দেয় কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ ওই অহংকারী ব্যক্তির ওপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ হবেন।
মূল্যবান হাদিস শুনলাম। বন্ধুরা আজকের আসরে প্রথমেই যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের বাঁশথুপি ইটাহার থেকে এটি লিখেছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই মৌলভি মোহাম্মাদ হানিফ। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে লেখা পোস্টকার্ডের চিঠিটি সম্প্রতি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। চিঠিতে ইটাহার গ্রামের একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু চিঠি আমাদের হাতে এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এ সমস্যা কেটে গেছে। তাই এ নিয়ে এখন আলোচনা করে লাভ হবে না বলেই মনে করছি।
বহলুল: ওই যে কথায় বলে না সময়ের এক ফোঁড়- তা সে সময়ই তো পার হয়ে গেছে ভাই।
তবে বিপদের সময়ে রেডিও তেহরানের কথা মনে রাখার জন্য সত্যিই আমরা সবাই অভিভূত হয়েছি। আর সময়মতো চিঠি হাতে এসে না পৌঁছানোয় বিষয়টি নিয়ে প্রিয়জনের আসরে আলোচনা করতে পারলাম না বলে সত্যিই আমাদের খারাপ লাগছে। যাই হোক, এরপর এ ভাই প্রশ্ন করেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়নের ঘটনায় কে বা কারা উস্কানি দিচ্ছে? তিনি মিয়ানমারের মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বহলুল: আপনার এ আহ্বান রেডিওতে প্রচারিত হওয়ার আগেই অনেক সাড়া পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গাদের পাশে অনেক দেশ এসে দাঁড়িয়েছে; যেসব দেশের মধ্যে ইরান সামনের সারিতে রয়েছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়নের সঙ্গে কারা জড়িত তাও এরই মধ্যে বিশ্ব জেনে গেছে। মুসলমানদের চিরশত্রু ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং আমেরিকার ভূমিকার কথাই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ মৌলভি মোহাম্মাদ হানিফ। চিঠি লেখা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করছি।
এবারের ইমেইলটি এসেছে বাংলাদেশ থেকে। ভোলা জেলা থেকে এটি পাঠিয়েছেন পুরনো শ্রোতাভাই মো জিল্লুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ইরানের জাতীয় সংসদে ফিলিস্তিন বিষয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়েছে,তবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ১৫টি ভোট পড়ে এবং ৯ জন ভোট দানে বিরত থাকেন। ৯ জন কেন ভোট দানে বিরত ছিলেন তাই জানতে চেয়েছেন এ ভাই।
এ বিষয়টির ওপর চোখ রাখছিলেন রেডিও তেহরানের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম। আজকের আসরে তিনি উপস্থিত হয়েছেন এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য
ধন্যবাদ ভাই সিরাজুল ইসলাম। আর হ্যাঁ ভাই জিল্লুর রহমান আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মূল্যবান প্রশ্ন করার জন্য। আপনার ইমেইলের সূত্র ধরেই এ নিয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাওয়া গেল।
বহলুল: এজন্যেই আপনাদেরকে সব সময়ই বলি চমৎকার প্রশ্নসহ চিঠি পাঠান। তাতে আপনিও সুন্দর জবাব পাবেন আর আমাদেরও অনেক কিছু জানা হবে।
আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এবং ওয়েব সাইটের খবরে পাঠক বন্ধুরা যে সব মন্তব্য করেছেন সে দিকে নজর দেবো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভারতে নতুন করে ইতিহাস লেখা হচ্ছে: মমতা- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,'ভারতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে নতুন করে ইতিহাস লেখা হচ্ছে।'পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় ভারতীয় কংগ্রেসের বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন যে সব পাঠক তাদের অন্যতম হলেন শহীদুল ইসলাম এবং মোল্লা হোসেইন। এদিকে 'খনিজ সম্পদ লুট ও আফিমের জন্য আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছে আমেরিকা' শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে খনিজ সম্পদ লুট এবং আফিম চাষ জোরদার করার জন্য ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন আমেরিকার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সাবেক অধ্যাপক জেমস হেনরি ফিটজার।
রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটের এ খবরে মন্তব্য করেছেন তোফাজ্জল হোসনে। চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী ভুসুক পা'র প্রবাদ সমতুল্য বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আর এটি হলো, হরিণের মাংস হরিণের শত্রু।
বহলুল: সত্যি বেচার হরিণ। কারো সাতে পাঁচে নেই তারপরও নিজ সুস্বাদু গোশতের কারণে প্রাণ হারাতে হয়!
এদিকে রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে মন্তব্য করেছেন আবদুস সলিম। তিনি লিখেছেন,বিশ্ব ডাকাত আমেরিকার পেশা হলো অপরের সম্পদ লুণ্ঠন করা। অসংখ্য ধিক্কার জানাই নির্লজ্জ বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকার প্রতি। আর ভোলা সাধু লিখেছেন, আসমানি গজবের চরম ভয়াবহতা নেমে আসুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন সরকার ও বিভিন্ন সরকারি সংগঠনের বৈদেশিক নীতিনির্ধারকদের উপর।
বহলুল: এরপর কি যে বলবো তা মোটেও ভেবে পাচ্ছি না। এদিকে বেশিক্ষণ ভাবার মতো সময়ও হাতে নেই। এবারে আসর গুটাতে হবে তাই না?
ঠিকই বলেছেন বহলুল ভাই। তাহলে বন্ধুরা আগামী সপ্তাহে আবার কথা হবে- এই কামনা ব্যক্ত করে আজ প্রিয়জনের আসর থেকে এখানেই বিদায় চাইছি।#