মে ২২, ২০১৮ ১১:২৭ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২২ মে মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশে:

  • মাদক সমস্যা-নির্বিচার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ফল দেবে না-দৈনিক প্রথম আলো
  • প্রথম আলোর অন্য একটি খবরের মিরোনাম-সরকারি ব্যাংকের ঋণপত্রের টাকাও এখন খেলাপি
  • এবার একরাতের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১-দৈনিক যুগান্তর
  • নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরির জন্য ক্রসফায়ার চলছে-দৈনিক ইত্তেফাক-দৈনিক ইত্তেফাক
  • গাজীপুরে নৌকার পক্ষে এক হয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ-দৈনিক মানবজমিন
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কেন?-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • নাজিমের পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল-দৈনিক সমকাল

ভারত:

  • দলিত যুবককে পিটিয়ে-হত্যা করা হলো গুজরাটে-দৈনিক গণশক্তি
  • আচ্ছে দিন!‌ ছত্তিশগড়ে নর্দমার জল খাচ্ছেন গ্রামবাসীরা-দৈনিক আজকাল
  • আস্থাভোট পর্যন্ত হোটেলেই বন্দি বিধায়করা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরির জন্য ক্রসফায়ার চলছে-দৈনিক ইত্তেফাক

ক্রসফায়ার

বিএনপি অভিযোগ করেছে যে,আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই আমরা। অপরাধীদের গ্রেফতার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন।আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

তিনি বলেন, বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত হয়েছে, যা মানবধিকারের পরিপন্থী ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আর দৈনিক যুগান্তর লিখেছে, সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুমিল্লা, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

মাদক সমস্যা-নির্বিচার ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ফল দেবে না-দৈনিক প্রথম আলো

দৈনিকটির  মতামত কলামে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে? সেই যুদ্ধের কৌশল প্রণয়নে কি প্রচলিত আইনকে ধর্তব্যের মধ্যে নেওয়া হয়েছে? মাদকের ভয়াবহতার কারণে যাঁরা সরকারের অঘোষিত, কিন্তু ইতিমধ্যে প্রযুক্ত কৌশলের পক্ষে যুক্তি হাজির করছেন, তাঁরা কী পৃথিবীর অন্যত্র এই ধরনের কথিত ‘ওয়ার অন ড্রাগসের’ পরিণতি বিষয়ে অবহিত হয়েই তাতে সোৎসাহে সম্মতি দিচ্ছেন? গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা দরকার হয়ে পড়েছে।

কোনো ব্যক্তি আইনসংগতভাবে বিচার-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যে তিনি নিরপরাধ, বিচার-প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল একজন শাস্তি পেতে পারেন এবং সেই শাস্তি দেওয়ার জন্য যে আলাদা কাঠামো সংবিধানে নির্ধারিত আছে, তার বাইরে যাওয়ার অর্থ, এটি হচ্ছে বেআইনি এবং বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থা। বাংলাদেশে কার্যত এগুলো প্রায় বিস্মৃত। ভিন্নমতের মানুষ, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যবস্থা প্রযুক্ত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস আছে, কিন্তু তা গত এক দশকে কেবল মাত্রার দিক থেকে বেড়েছে এবং নির্বিচারভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তা-ই নয়, একে স্বাভাবিক বলেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আর দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, মাদক নির্মূলে বন্দুকের ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

দৈনিক প্রথম আলোর অর্থনীতি বিষয়ক খবরের শিরোনাম-সরকারি ব্যাংকের ঋণপত্রের টাকাও এখন খেলাপি

কারখানার জন্য বিদেশ থেকে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আনেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এ জন্য ব্যাংক তাঁদের ঋণপত্র সুবিধা দেয়, যা নন-ফান্ডেড ঋণ নামে পরিচিত। নগদ টাকার পরিবর্তে অন্য যেসব সুবিধা মিলে, তার সবই নন-ফান্ডেড। তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে ঋণপত্র, গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন নামে নেওয়া নন-ফান্ডেড ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদে শোধ করছেন না অনেকে। ফলে এসব ঋণ ফান্ডেড বা নগদ দায়ে পরিণত হচ্ছে। এরপরও শোধ না করায় এ ঋণগুলো ধীরে ধীরে খেলাপি হয়ে পড়ছে। তাতে এসব ব্যাংকের জন্য নন-ফান্ডেড দায় এখন বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী—রাষ্ট্রমালিকানাধীন এ চার ব্যাংকে ২০১৭ সালে ১৮ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার নন-ফান্ডেড ঋণ বর্তমানে ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়েছে। আবার এর মধ্যে ৪ হাজার ১৪২ কোটি টাকার ঋণ ২০১৭ সালে খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দুর্ঘটনাজনিত দৈনিক সমকালের  দুটি খবর

নাজিমের পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল-এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে, রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারে বাসচাপায় নিহত ঢাকা ট্রিবিউন পত্রিকার কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

নিহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন

এদিকে, বেপরোয়া দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের ভাইদের কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।  একই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে হাইকোর্টের গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবারে ভারতের খবর তুলে ধরছি।

আচ্ছে দিন!‌ ছত্তিশগড়ে নর্দমার জল খাচ্ছেন গ্রামবাসীরা-দৈনিক আজকাল

কোথায় মোদির আচ্ছে দিন। প্রতিমুহূর্তে  যাঁরা গ্রামোন্নয়নের দোহাই দেন সেই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা‌ কী জানেন এখনও এদেশে নর্দমার পানি-খাওয়ার পানি হিসেবে ব্যবহার করছেন গ্রামবাসীরা। বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়েই এই দশা গ্রামবাসীদের। দান্তেওয়াড়ায় নর্দমার জলে তেষ্টা মিটিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন তাঁরা। সেই লড়াইয়ে রয়েছে শিশুরাও। শুধু নোংরাই নয় পারদ মিশে রয়েছে সেই পানিতে। গ্রামবাসীরা বলছেন, সরকার তাঁদের পানি সংকট দূর করতে কোনও উদ্যোগই নেয়নি। কথায় বলে পানিই জীবন। সেই জীবন বাঁচাতেই এই বিষপানি পান করছেন তাঁরা। কারণ উপায় নেই নইলে তেষ্টায় জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে। তবু হুঁশ ফিরবে না সরকারের। নর্দমার পানিতে রান্না করা, বাসন মাজা দৈনন্দিন সব কাজই করতে হচ্ছে তাঁদের।

আস্থাভোট পর্যন্ত হোটেলেই বন্দি বিধায়করা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তাই সিঁদুরে মেঘ দেখছে কর্ণাটকের মানুষ। দুই দলের অন্দরেও শঙ্কা। কিন্তু, ঘরে-বাইরে যাঁরা এমনটা ভাবছেন তাঁদের আশ্বস্ত করলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দিল্লিতে সাক্ষাতের পর প্রত্যয়ী জেডিএস নেতা বললেন, কর্ণাটকে স্থিতিশীল সরকার গড়বে কংগ্রেস-জেডিএস। বস্তুত, জোটে বড় দল হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর আসনের দাবি ছেড়েছে কংগ্রেস। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক দলকে। এবার জেডিএসের ‘অ্যাডজাস্ট’-এর পালা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার দল সেটি করবে, রাহুলের কাছে সে আশ্বাস গিয়েছে বেঙ্গালুরু থেকে। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটেয় কুমারস্বামী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন। পরের দিনই তাঁর বিধানসভায় আস্থা পরীক্ষা। বুধবারের শপথের মঞ্চ আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের মহড়াস্থল হয়ে উঠতে চলেছে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

দলিত যুবককে পিটিয়ে-হত্যা করা হলো গুজরাটে-দৈনিক গণশক্তি

এবার জঞ্জালকুড়ুনি এক দলিত যুবককে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে গুজরাটের রাজকোটে। শহরের উপকণ্ঠে সাপার শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানায় রোববার জঞ্জালের স্তূপ থেকে আবর্জনা সংগ্রহের সময় চুরির অভিযোগ তুলে মুকেশ ভানিয়া (৩৫) নামে এই যুবককে বেধড়ক মারতে শুরু করে কয়েকজন। ঘটনাস্থলে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জয়াবেন ভানিয়াও, তাঁকেও মারা হয়। তবে কোনোক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে মুকেশকে উদ্ধারের জন্য লোকজন ডেকে আনেন তিনি। ততক্ষণে মারের চোটে মৃত্যু হয়েছে অসহায় মুকেশের। রাজকোটের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মুকেশকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহতের স্ত্রী–র অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার কারখানার মালিকসহ ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২