মে ২৩, ২০১৮ ১০:০০ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৩ মে বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • নারী-শিশু নির্যাতন মামলা-পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই-দৈনিক প্রথম আলো
  • জঙ্গি দমন ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: আইজিপি-দৈনিক ইত্তেফাক
  • এবার মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত ৭-দৈনিক যুগান্তর
  • খুলনা ‘শান্তিপূর্ণ কারচুপির’ নির্বাচনের নতুন মডেল-দৈনিক মানবজমিন
  • সরকার বিএনপিকে নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে : মির্জা ফখরুল-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • রোমিওদের রুখতে শহরে নামছে প্রমীলা পুলিশের বিশেষ বাইক বাহিনী-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ‌যোগী রাজ্যে শিশুমৃত্যুতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে নিজের রাজ্যে স্বাগত জানাল কেরল -দৈনিক আজকাল
  • বাংলাদেশ থেকে নাবালিকা পাচার চলছেই কোলকাতার যৌনপল্লিতে-দৈনিক আনন্দবাজার

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। বিশ্লেষণের বিষয়গুলো......

১. বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে এবং এতে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?   

২. ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি আমেরিকাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ইরান ও বিশ্বের ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত নেয়ার কে? তার এ বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

বিশ্লেষণের বাইরে দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

সরকার বিএনপিকে নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে : মির্জা ফখরুল-দৈনিক নয়া দিগন্ত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দল বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা চাই অরাজনৈতিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হোক। যেন কাউকে অন্যায়ভাবে ক্রসফায়ার না দেয়া হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে একজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে- এমন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

নারী-শিশু নির্যাতন মামলা-পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই-দৈনিক প্রথম আলো

ঢাকার পাঁচটি বিশেষ আদালতে নারী–শিশু নির্যাতনের গুরুতর ছয় অপরাধের মামলা নিয়ে প্রথম আলোর দীর্ঘ অনুসন্ধান। বিচার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ বলছে, সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। একটি ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘ঘুষ নেওয়াটা যদি না থাকত, ন্যায়বিচারটা থাকত, তাহলে একটা মানুষ অন্যায় করলে সেরে (পার পেয়ে) যেতে পারত না।’ ২০১২ সালে ১৫ বছর বয়সে মামলা করার পর থেকে মেয়েটিকে এখনো হুমকি-হেনস্তা সইতে হচ্ছে। তাঁর মামলার পয়সাওয়ালা পেশিশক্তিধর আসামি গত বছর বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

ঢাকা জেলার বিশেষ আদালতগুলোয় ১৫ বছরে আসা এমন প্রায় আট হাজার মামলার তথ্য নিয়ে প্রথম আলো নারী-শিশু নির্যাতনের বিচার পরিস্থিতি বুঝতে চেয়েছে। দেখা গেছে, গুরুতর ছয়টি অপরাধের এসব মামলাতেও আসামিদের অব্যাহতি ও খালাসের হার মাত্রাছাড়া রকমের বেশি।

সমস্যার শিকড়

সমস্যার সূত্র ধরেই সুপারিশে যাওয়া। প্রথম সমস্যা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিরাও বলে থাকেন, এ আইনে করা মামলার বেশির ভাগই মিথ্যা। অনেকের কথাবার্তায় ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির ভুক্তভোগীকে অবিশ্বাস করার, ঘটনার দায় তার ওপরে চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়। ঘটনাগুলো ‘অপরাধ’ বলে মনে না করার এবং এগুলো ঘটা ‘জায়েজ’ ভাবার প্রবণতাও চোখে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্য-অনিরাপদ খাদ্য বিষের সমতুল্য-দৈনিক প্রথম আলো

মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই। জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নিরাপদ খাদ্যের। পানি ও খাদ্যবস্তু মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। বেঁচে থাকার পরেই শুধু মানুষের জীবনের অন্যান্য প্রয়োজন পূরণের প্রশ্ন আসে।

খাদ্য বলতে বোঝায় নিরাপদ খাদ্যবস্তু, অনিরাপদ দূষিত খাদ্য নয়। খাদ্য ও বিষযুক্ত খাদ্য একেবারেই দুই জিনিস। এক শিশি বিষ খাইয়ে কাউকে দুই মিনিটে হত্যা করা আর বিন্দু বিন্দু বিষ খাইয়ে এক কোটি মানুষকে পাঁচ বছরে হত্যা করার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি না।

পার্থক্য শুধু এইটুকু যে প্রথমটিকে আমরা বলব হত্যা আর দ্বিতীয়টিকে বলব নীরব গণহত্যা। হত্যা আর গণহত্যার শাস্তি একই। প্রকারভেদে হত্যার শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, গণহত্যার শাস্তি তিন-চার বছরের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে না।

আমরা উন্নয়নপিপাসু ও প্রবল গণতন্ত্রপ্রেমী জাতি। আমরা জানি শুধু ভোট-ভাতের সমস্যা আমাদের কাছে বড় নয়। নির্বাচন আর ভোট নিয়ে কথা শুনতে শুনতে মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জো! তার ফলে অনিরাপদ খাদ্য খেয়ে শরীর খারাপ হওয়ার কথা ভাবার অবকাশ অল্প।

তবে সদাশয় প্রশাসন বসে থাকে না। তারা সারা বছরই কিছু কিছু, তবে বিশেষভাবে রমজান মাস ও কোরবানির ঈদের আগে দৃষ্টিগ্রাহ্য অভিযান চালায়। নোংরা মাঠের মধ্যে শুকাতে দেওয়া নুডলস বা লাচ্ছা সেমাই জব্দ করে, জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানের মালিককে এবং কোমরে দড়ি দেন কর্মচারী কিশোর-যুবকটির।

আমরা রিকশাঅলার সঙ্গে পাঁচ টাকার ভাড়া নিয়ে বচসা করে মারামারি করলেও কিংবা বাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ে দর-কষাকষি করতে করতে মাথা ফাটাফাটি করলেও বস্তুত আমরা পরম সহনশীল জাতি। সহনশীল বলেই কিলবিল করা পোকাসমৃদ্ধ বিদেশি গমের আটার রুটি ও পরোটা পরম তৃপ্তিতে খাই। রেস্তোরাঁয় অজ্ঞাত মরা মুরগির রান চিবোই। ফাস্ট ফুডের দোকানের ফাঙ্গাশ পড়া হ্যামবার্গার অবলীলায় খেয়ে টিস্যু পেপারে মুখ মুছি। পচা-বাসি যাঁরা খান তাঁরা হয়তো না জেনেই খান, কারণ তাঁদের পেটে ও চোখে ক্ষুধা, কিন্তু যাঁরা তা বিক্রি করেন তাঁরা না জেনে ভুলবশত করেন না। নিরাপদ খাদ্যের অধিকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার।

এবার মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত ৭-দৈনিক যুগান্তর

ক্রসফায়ার

এবার চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ফেনী, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও গাইবান্ধায় সাতজন নিহত হয়েছেন।র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

খুলনা ‘শান্তিপূর্ণ কারচুপির’ নির্বাচনের নতুন মডেল-দৈনিক মানবজমিন

দেশে কয়েকটি ভালো নির্বাচনের পর খুলনা সিটি করপোরেশনে একটি অস্বচ্ছ ও ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পর সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, খুলনায় শান্তিপূর্ণ  কারচুপি হয়েছে যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নতুন মডেল। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলেও মনে করে সুজন।

এবার ভারতের কয়েকটি  খবর তুলে ধরছি।

রোমিওদের রুখতে শহরে নামছে প্রমীলা পুলিশের বিশেষ বাইক বাহিনী-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পরনে ঝকঝকে ইউনিফর্ম। মাথায় নীল হেলমেট। কোমরে রিভলভার। শহরের রোমিওরা সাবধান। এবার থেকে বাইকে করে শহরজুড়ে টহল দেবে কলকাতা পুলিশের প্রমীলাবাহিনী। লালবাজার জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয়নি। যদিও এই বাহিনীকে ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। শহরে শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিং কমাতে যেমন রোমিও ধরবে এই মহিলা পুলিশবাহিনী, আবার ট্রাফিকের সমস্যা হলেও প্রমীলারা নেমে পড়বেন রাস্তায়। আর কিছুদিনের মধ্যেই পুরোদমে রাস্তায় নামে এই বাহিনী। পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে গিয়ে এই বাহিনীকে উৎসাহ দেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। কলকাতা পুলিশের অঙ্গ হিসাবে তাঁদের সাহসের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।

  • বাংলাদেশ থেকে নাবালিকা পাচার চলছেই কোলকাতার যৌনপল্লিতে-দৈনিক আনন্দবাজার

বাংলাদেশ থেকে বছর চোদ্দোর কিশোরী রূপাকে (নাম পরিবর্তিত) অপহরণ করে এনে সোনাগাছির যৌনপল্লিতে তোলা হয়েছিল।এমন অভিযোগ থাকারও পরও থানার টনক নড়েনি। ফলে টানা দু’বছর ধরে ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন ব্যবসায় কাজ করতে হয়েছে ওই নাবালিকাকে। পরে খোদ রাজ্যের সমাজকল্যাণ দফতরের ডিরেক্টরেটের অফিস থেকে লালবাজারের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা)-কে বিষয়টি জানানো হলে লালবাজারের ‘অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট’ (এএইচটিইউ)-এর তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশের ওই কিশোরীকে। শুধু এক জন নয়। ৪ মে এবং ৯ মে— দু’দিনের অভিযানে মোট চার জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্রের খবর। গ্রেফতার করা হয় দু’জন দালালকেও। তবে মূল পাচারকারীরা এখনও অধরা।# 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ