ফেসবুক আসক্তি: বাড়ছে একাকিত্ব-হতাশা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৭ মে রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য-তিস্তায় নীরব হাসিনা, মোদি চুপ রোহিঙ্গায়-দৈনিক প্রথম আলো
- বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট-দৈনিক ইত্তেফাক
- ফের একতরফা নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রী ভারতের শরণাপন্ন-রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
- ফেসবুক আসক্তি: বাড়ছে একাকিত্ব-হতাশা-দৈনিক মানবজমিন
- বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলরসহ ১১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত-দৈনিক সমকাল
- রাজশাহীতে-রেস্তোরাঁর আড়ালে ভয়ঙ্কর চক্র-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- সম্মানজনক আসন বন্টন নাহলে একলা চলো, আশঙ্কা জাগিয়ে বার্তা ‘বহেনজি’র-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- শিশুকে কোলে নিয়ে হাওড়া ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিল মা -দৈনিক আজকাল
- রাজধর্ম পালনে বিচ্যুতি ঘটাতেই কি বিষবাষ্পে ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ?-দৈনিক আনন্দবাজার
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। বিশ্লেষণের বিষয়গুলো..
কথাবার্তা:
বিশ্লেষণের বাইরে পত্রিকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য-তিস্তায় নীরব হাসিনা, মোদি চুপ রোহিঙ্গায়-দৈনিক প্রথম আলো
তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু আজও অমীমাংসিত।
তিস্তার পানিবণ্টনে মমতা বড় অন্তরায়।
তিস্তা নিয়ে মোদি প্রতিশ্রুতি পূরণে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে গত শুক্রবার এক মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নীরবতাই যেন প্রবল হয়ে বাজল। একদিকে শেখ হাসিনা তিস্তা নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি, অন্যদিকে মোদির মুখেও ছিল না রোহিঙ্গা ইস্যু।
গতকাল শনিবার ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু আজও অমীমাংসিত। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে এই ইস্যুটি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি এখন পর্যন্ত ব্যর্থ।
ফের একতরফা নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রী ভারতের শরণাপন্ন-রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দেশের স্বার্থে নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেছে দলটি। রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশিদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি ভারতের শরণাপন্ন হয়েছেন। রিজভী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের কাছে আকুতি জানাতে ভারত সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন খবরই দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিতর্কে নির্বাচন কমিশন-সরকারের ইচ্ছাই পূরণ করছে ইসি-দৈনিক প্রথম আলো
সরকারের ইচ্ছাপূরণেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইসির বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
ইসি সূত্র জানায়, সরকারি দল আওয়ামী লীগ গত এপ্রিলে ইসির বৈঠক করে তিনটি দাবি জানিয়েছিল। সেগুলো হলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংসদদের প্রচারের সুযোগ দেওয়া, সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন না আনা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কারের আগে তা আরও পর্যালোচনা করা। ইসির একজন কমিশনারের আপত্তির মুখে সিটি নির্বাচনে সাংসদদের প্রচারের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আরপিও সংস্কারকাজও আরও পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন না আনার দাবি পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশে পূরণ করেছে ইসি।
ফেসবুক আসক্তি: বাড়ছে একাকিত্ব-হতাশা-দৈনিক মানবজমিন
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করেছে। বিশ্বের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের কাছে টেনে নেয়ার মতো সুযোগ এই মাধ্যমটিই করে দিয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভালো সময় কাটানোর একটি অন্যতম প্ল্যাটফরম ফেসবুকই। আর সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের এ জায়গাটি যতই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে ততটাই নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করার পাশাপাশি ফেসবুকে থেকে নিজেরা হতাশায় ভুগছেন- এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর
সম্মানজনক আসন বন্টন নাহলে একলা চলো, আশঙ্কা জাগিয়ে বার্তা ‘বহেনজি’র-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
২০১৯-এ মোদি-শাহ জুটিকে কি ধাক্কা দিতে পারবে নয়া ফেডারেল ফ্রন্ট? নাকি আধপাকা অবস্থাতেই খসে পড়তে হবে হবে তাকে? কয়েকদিন আগে পর্ষন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, এখন কিন্তু সেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। আর এই আশঙ্কার মেঘ সৃষ্টি করেছেন বিজেপি বিরোধী এই জোটের অন্যতম মুখ তথা বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতী। জোটের অন্যান্য সদস্যদের বার্তা দিয়ে তাঁর সাফ কথা, হয় সম্মানজনক আসন বন্টন নয়তো ‘একলা চলো রে’ নীতি। ২০১৯-এর লোকসভার লড়াইকে মাথায় রেখে বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে তৎপর দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলি। যার স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায় সম্প্রতি কর্ণাটকের মখ্যমন্ত্রী পদে এইচডি কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। একমঞ্চে উপস্থিত হন দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্যস্তরে বিরোধ থাকলেও বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে কাছাকাছি এসেন তাঁরা।
রাজধর্ম পালনে বিচ্যুতি ঘটাতেই কি বিষবাষ্পে ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ?-দৈনিক আনন্দবাজার
ঈশান কোণে মেঘ জমলে তাকে কি নিছকই বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়? ঘরপোড়া গরু জানে, যায় না। কানপুরে যখন এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বের অপরাধে’ এক মুসলিম যুবককে গণপ্রহারের শিকার হতে হয় অথবা কালিয়াচকের বাঙালি যুবক ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে না পারার কারণে চড়-চাপড় খান বস্তুত তিনি মুসলিম বলেই, তখনও কি এই সব ঘটনাকে নিছকই বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দেব আমরা? কথাটা এই জন্যই তোলা, শাসক শিবির অন্যায় কার্যকলাপকে নেহাতই বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে সতত। এই ধরা যাক না, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার যে ন্যক্কারজনক ছবিটা দেখা গেল, প্রত্যাশিত ভাবেই সরকার তথা তৃণমূল নেতৃত্ব তাকে বিরাট কর্মকাণ্ডে ‘সামান্য কয়েকটা ঘটনা’ বলে যথাসম্ভব নগণ্য করার চেষ্টা করল। এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন গোমাংসের নামে মুসলমানদের হত্যা হয় অথবা ভিন্নতর কোনও কারণে অত্যাচার হয় দলিতের উপর, তখনও বিজেপি শিবিরের থেকে উঠে আসে একই উচ্চারণ— এ সব নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ‘বিচ্ছিন্ন’ এই সব ঘটনা দেখে আমরাও হয়তো বা পাশ ফিরি, কিছু আলোড়নের পর উদাসীন হই। এক দিন আচমকা ঘুম ভাঙে আমাদের, বিপদ যখন নিজের বাড়ির চৌকাঠে পা বাড়ায়।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৭