মাদকবিরোধী অভিযান-বড় ব্যবসায়ীরা ধরা পড়েনি, আরো নিহত ১৩
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩০ মে বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- মাদকবিরোধী অভিযান-বড় ব্যবসায়ীরা ধরা পড়েনি-দৈনিক প্রথম আলো
- অভিযান চলছে: মঙ্গলবার রাতেও নিহত ১৩-দৈনিক ইত্তেফাক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বার্নিকাট-মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতদের আইনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে-দৈনিক যুগান্তর
- ‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না’-দৈনিক মানবজমিন
- ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০, সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা-দৈনিক সমকাল
- ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জোসেফ এখন মুক্ত-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- ব্যাংক ধর্মঘটে চূড়ান্ত নাকাল সাধারণ মানুষ, ধাক্কা অনলাইন পেমেন্টেও-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ধর্ষণ কাণ্ডে আবার নাম জড়াল বিজেপি বিধায়কের -দৈনিক আজকাল
- মাথায় উপরে ছাদ কই? দূর অস্ত ‘ঘর ঘর মোদী’র স্বপ্ন-দৈনিক আনন্দবাজার
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. মৃত্যুর মিছিলে ১১৯-এটা হলো দৈনিক মানবজমিনের শিরোনাম। মাদকবিরোধী অভিযানের এই খবর অন্যান্য পত্রিকায়ও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা রকম সমালোচনাও হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের করণীয় কী হতে পারে?
২. ইসরাইল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি অনেকটা তেঁতে উঠেছে আবার। ইসরাইল গতকাল বড় রকমের বিমান হামলা চালিয়েছে আবার হামাসও রকেট ছুঁড়ে খানিকটা জবাব দিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বিশ্লেষণের বাইরে পত্রিকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বার্নিকাট-মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতদের আইনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে-দৈনিক যুগান্তর
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠককালে এ উদ্বেগের কথা জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সরকারের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে যারা মারা যাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের আইনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে। বিনাবিচারে একজন মানুষ মারার অর্থ হচ্ছে ওই পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে যাওয়া। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমরাও চাই। তবে অভিযুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি।
মাদকের জন্য অভিযুক্ত মূল অপরাধী এবং এর উৎস বন্ধ করার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মাদকের উৎস বন্ধ না করে এ অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আর দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছে- অভিযান চলছে: মঙ্গলবার ঘটা করে মাদকবিরোধী অভিযানের তিন দিন পর কড়াইলে গিয়ে জানা গেল, বস্তির ভেতরেই বড় মাদক বিক্রেতা রয়ে গেছেন। ধরা পড়েননি। এলাকাবাসী জানলেও পুলিশ খুঁজে পায়নি। আর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পভিত্তিক বড় মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াক এবং তাঁর মূল সহযোগীরাও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযানের এই অবস্থা শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে যেসব স্থানে ১৫ দিন ধরে অভিযান হয়েছে, সেসব স্থান থেকে ‘ড্রাগ ডিলার’ বা বড় মাদক ব্যবসায়ী বলতে যা বোঝায়, এমন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত তিন দিনে রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযান-বড় ব্যবসায়ীরা ধরা পড়েনি-দৈনিক প্রথম আলো
- দেশব্যাপী এই মাদকবিরোধী অভিযানের শুরু ১৪ মে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, গতকাল পর্যন্ত অভিযান ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১০৮ জন নিহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধের পাশাপাশি ব্লক রেইড করছে র্যাব ও পুলিশ। তবে এই অভিযান শুরুর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঘোষণা করেছিলেন, সব বাহিনী থেকে পাওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে অভিযান চালানো হবে। সেই অনুযায়ী বাহিনীগুলো দেশব্যাপী মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে। এরপর তালিকা সমন্বয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকা সমন্বয় শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন বাহিনী অভিযান শুরু করে। দেখা যায়, র্যাব, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিজ নিজ পরিকল্পনামতো অভিযান চালাচ্ছে। একপর্যায়ে অভিযোগ ওঠে, এক বাহিনীর সঙ্গে আরেক বাহিনীর কোনো সমন্বয় নেই। এমনও হয়েছে, এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পুলিশ ও র্যাব একসঙ্গে প্রস্তুতি নিয়েছে। পরে জানতে পেরে এক বাহিনী অভিযানে যাওয়া বাদ দিয়েছে।রাতেও নিহত ১৩।
‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না’-দৈনিক মানবজমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারগারে অত্যন্ত অসুস্থ। এই অসুস্থতা এমন পর্যায় গিয়েছে যে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে গিয়েছিল। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা এর আগেও বলেছি তার বাম হাত অবশ হয়ে গেছে। তিনি আগে থেকে আর্থ্রাইটিস, ব্যাক পেইনে ভুগছিলেন। এগুলো বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকরা বলেছেন, তার এমআরআই দরকার। ফিজিও থেরাপী দরকার। সেই ফিজিওথেরাপি তিনি পাচ্ছেন না। কারাগারে স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশে তিনি প্রতিদিন অসুস্থ হচ্ছেন। এখন প্রতি রাতে তার জ্বর আসে। এই কারাগারে এখন কেনো জেনারেটর নেই। আমরা যখন কারাগারে ছিলাম তখন কখনোই বিদ্যুৎ যেত না। জেনারেটর দিয়ে সার্ভিস দেয়া হতো। বিদ্যুৎ চলে গেলে কোন ফ্যান কাজ করে না, বাতি জ্বলে না। মোমবাতি আর হাত পাখা ব্যবহার করতে হয়। সারাজীবন তিনি যেটায় অভ্যস্ত তার ন্যূনতম সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। এই অমানবিকতা, নিষ্ঠুর আচরণ তার সাথে করা হচ্ছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর
মাথায় উপরে ছাদ কই? দূর অস্ত ‘ঘর ঘর মোদী’র স্বপ্ন-দৈনিক আনন্দবাজার
সকলের মাথার উপরে ছাদ জোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বপ্নপূরণের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলও বলেছিল, ২০১৯ সালের ‘লক্ষ্যপূরণে’ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা হয়ে উঠবে সাফল্যের হাতেগরম উদাহরণ।
কিন্তু খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য পরিসংখ্যান সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। সেই তথ্যে উঠে এসেছে ‘ঘর ঘর মোদী’ এখনও দূর অস্ত। বিশেষত শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (যা শুরু হয়েছে ২০১৫-১৬ সালে) লক্ষ্যমাত্রার দশ শতাংশও ছুঁতে পারেনি। এ বার এই তুরুপের তাস ফস্কে যাওয়ার আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী ডেকে পাঠিয়েছিলেন আবাসনমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীকে। প্রকল্পের মন্থর গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ধর্ষণ কাণ্ডে আবার নাম জড়াল বিজেপি বিধায়কের-দৈনিক আজকাল
ধর্ষণ কাণ্ডে আবার জড়াল বিজেপি নেতার নাম। এবার বাদাউনের বিজেপি বিধায়ক কুশগ্র সাগরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক কিশোরী। উন্নাও কাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি। তারই মধ্যে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে আবার উঠল ধর্ষণের অভিযোগ।
কিশোরীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা ২ বছর তাঁকে ধর্ষণ করেছে বিজেপি বিধায়ক। ১৭ জুন অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে বিজেপি বিধায়কের। তখনই কিশোরীটি বিধায়ককে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু বিধায়ক তা অস্বীকার করে। এবং ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে মেয়েটির মুখ বন্ধ করতে চায় সে। এরপরই পুলিসের দ্বারস্থ হয় মেয়েটি। জানা গেছে নিগৃহীতা কিশোরীর মা ওই বিজেপি বিধায়কের বাড়িতে কাজ করতেন।
ব্যাংক ধর্মঘটে চূড়ান্ত নাকাল সাধারণ মানুষ, ধাক্কা অনলাইন পেমেন্টেও-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
ন’টি সংগঠনের ডাকে চলছে দু’দিনের ব্যাংক ধর্মঘট৷ ব্যাংক কর্মীদের বেতন আরও বাড়ানো-সহ বেশ কয়েক দফা দাবিতে ব্যাংক ও এটিএম পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ আগে থেকে ব্যাংক বনধের ডাক দেওয়া হলেও মাসের শেষে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন আমজনতা৷ এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকার জেরে ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহকরা৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩০