জুন ০৩, ২০১৮ ১০:১৯ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩ জুন রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশে:

  • মাদকযুদ্ধ কোথাও কেন সফল হয় না-দৈনিক প্রথম আলো
  • একরামুল নিহত হওয়ার অডিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তদন্ত শুরু-দৈনিক যুগান্তর
  • কুড়িগ্রামে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জেলায় নিহত ৯-দৈনিক মানবজমিন
  • দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া শঙ্কিত মানুষ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারত:

  • সিঙ্গাপুরে সাজানো সংলাপ! ‘ধরা’ পড়ে গেলেন মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার
  • আরএসএস–এর সভায় যোগদান প্রসঙ্গে কী বললেন প্রণব মুখার্জি ?-দৈনিক আজকাল
  • মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা, বিতর্কিত মন্তব্য কৃষিমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

একরামুল নিহত হওয়ার অডিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তদন্ত শুরু-দৈনিক যুগান্তর

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

টেকনাফের তিনবারের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরাম হত্যার কথোপকথনের অডিও ক্লিপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে অডিওটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা জানান।তিনি বলেন, অডিও ক্লিপটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আর দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা টাঙ্গাইলে বন্দুকযুদ্ধে ১ জন নিহত হয়েছে।

মাদকযুদ্ধ কোথাও কেন সফল হয় না-দৈনিক প্রথম আলো

বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামের স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার এ অভিযানে ক্ষমতার অপব্যবহার কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সামাজিক গণমাধ্যম ক্ষমতাবানদের দ্বারা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফাঁদে ফেলা ও হত্যার কিছু অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক এবং চট্টগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমর চৌধুরীর ঘটনা এর উদাহরণ। লেখক ও সমালোচকেরা ‘অভিযানটির’ গলদের ব্যাপারে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে এটা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্পর্শও করছে না; অথচ হামলে পড়ছে ক্ষমতাবঞ্চিতদের ওপর। যদিও এসব সমালোচনার কোনোটাই ফেলনা ন—তবুও এগুলো মাদকবিরোধী যুদ্ধের অত্যন্ত কেন্দ্রীয় একটা সমস্যা এড়িয়ে যায়। সেটা হলো: মাদকযুদ্ধ যদি সম্পূর্ণ ‘যথাযথভাবে’ও করা হয়, তবুও এ থেকে কখনোই মাদকমুক্তি আসে না।

কুড়িগ্রামে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নিজের নামের ধরলা সেতু উদ্বোধন করেছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর’উদ্বোধন করেছেন। রবিবার সকাল ১০টায় তিনি সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেন। এরপর সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।  কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে এই গার্ডার সেতুটির নির্মিত হয়েছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তারাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। সেতুর সুবিধা পাবেন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ।

জলাবদ্ধতা থাকবে না, অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়নি, জনগণের সঙ্গে প্রহসনের দায় নেবে কে?-দৈনিক প্রথম আলো

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হয় নি

রাজধানীতে আয়োজিত বৈঠকে নগরবিদেরা বলেছেন, এ বছর আর জলাবদ্ধতা থাকবে না, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের করা এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাঁরা প্রশ্ন করেন, জনগণের সঙ্গে এই প্রহসনের দায় কে নেবে?

জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি উদ্যোগ ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটির আয়োজন করে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা)। গতবার রাজধানীতে জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, ‘আমি প্রমিজ করছি, সামনের বছর থেকে আর এসব (জলাবদ্ধতা) দেখবেন না।’ তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা এবং দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসা ৩ ওসির মদদে-প্রথম আলো

মাদক ব্যবসা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদক ব্যবসা ও সরবরাহে প্রত্যক্ষÿ ও পরোক্ষভাবে তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৬ জন জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। অবশ্য তাঁরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরকারের করা মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের তালিকায় এসব নাম এসেছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আশুগঞ্জ, বিজয়নগর এবং সীমান্তবর্তী আখাউড়া ও কসবার ১২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির নাম রয়েছে ওই তালিকায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকের তালিকায় মাদক চোরাকারবার ও সরবরাহে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তাকারী হিসেবে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এবারে ভারতের খবর তুলে ধরছি।

সিঙ্গাপুরে সাজানো সংলাপ! ‘ধরা’ পড়ে গেলেন মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি

রাহুল গাঁধীকে সামনে পেয়ে একের পর এক প্রশ্নে বিঁধতে চেয়েছিলেন এক বাঙালি লেখক। শান্ত গলায় সব ক’টির জবাব দিয়েছিলেন রাহুল। তার পর বলেছিলেন, ‘‘এ ভাবে আমাকেই জেরা করতে পারবেন, কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে পারবেন না।’’তিন মাস আগে রাহুলের সিঙ্গাপুর  সফরের ঘটনা। রাহুলের পথ ধরে গত কাল সেই সিঙ্গাপুরেই শ্রোতাদের থেকে সরাসরি প্রশ্ন নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু কংগ্রেস বলছে, রাহুলের নকল করতে গিয়েও ‘ধরা’ পড়ে গেলেন মোদী। রাহুলের আলাপচারিতা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। আর মোদীর সভা গোটাটাই সাজানো। লোক দেখানো।

আরএসএস–এর সভায় যোগদান প্রসঙ্গে কী বললেন প্রণব মুখার্জি ?-দৈনিক আজকাল

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী

আরএসএস–এর সভায় প্রধান অতিথি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেস বেশ অস্বস্তিতেই পড়েছে। অনেক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন। আরএসএসের যদিও তা নিয়ে কোনও তাপ উত্তাপ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কংগ্রেসে এতদিন কাটানোর পর কীকরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আরএসএসর মত দলের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার আমন্ত্রণ পত্র গ্রহণ করলেন। এই নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনার তুমুল টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। প্রণব মুখার্জি নিজে কিন্তু এতদিন এই বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। অবশেষে তিনি একটা বাংলা পত্রিকাকে বললেন, ‘আমার যা বলার আমি নাগপুরের সভাতেই বলব, প্রতিদিন আমার কাছে অসংখ্য অনুরোধ, ফোনকল, চিঠি আসছে তার কোনওটারই আমি জবাব দিইনি।’

মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা, বিতর্কিত মন্তব্য কৃষিমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

Image Caption

সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই অহেতুক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ালেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিং।বিনা শর্তে কৃষিঋণ মকুব, শাক সবজির দাম বাড়ানো নিয়ে দেশেজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছেন কৃষকরা। এই নিয়ে ১০ দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিহারের বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের সদানন্দ সিং জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কৃষকদের উপহাস করছে। তিনি বলেন, প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন। কিন্তু মোদি সরকার তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য কিছু করছে না।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩