প্রিয়জন : 'তুর্কি থেকে আমেরিকার ঘাঁটি প্রত্যাহারের জোরালো আন্দোলন দরকার'
প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে।
আমিরুল মু’মেনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, সে ব্যক্তি বুদ্ধিমান নয় যে উপকারী ও ক্ষতিকর বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। বরং বুদ্ধিমান ওই ব্যক্তি যে দুটি ক্ষতিকর বিষয়ের মধ্যে যেটি কম ক্ষতিকর সেটি শনাক্ত করতে সক্ষম।
আসরের শুরুতেই যে ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। নওগাঁ জেলার মরসুলা গার্লস স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক মো তাসলিমউদ্দিন (রকেট) পাঠিয়েছেন এটি।
রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়মিত শোনেন উল্লেখ করে ভাই রকেট জানিয়েছেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান তিনি শর্টওয়েভ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শুনে থাকেন। এ ছাড়া রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটও নিয়মিত ভিজিট করেন। চিঠির সঙ্গে কষ্ট করে শ্রবণ প্রতিবেদনও পাঠিয়েছেন তিনি।
বহলুল: মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। অর্থাৎ আমরা শ্রবণ মান সম্পর্কে জানতে চাইনি তারপরও নিজ গরজে এটি কষ্ট করে পাঠিয়েছেন। সত্যি ভাই আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমাদের নেই।
জ্বি। তবে সেইসঙ্গে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করলে আমরা আরো খুশি হতাম। সে যাক ভবিষ্যতে চিঠি লেখার সময় এদিকে খেয়াল রাখবেন আশা করছি। চিঠি লেখার জন্য ভাই তাসলিমউদ্দিন রকেট আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বহলুল: না এবারে শ্রোতা ভাইদের প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই শুনবো না।
আপনি এ রকম কথা বলতে পারেন ভেবে আমরা আগেই তৈরি হয়ে বসে আছি। এই দেখুন না ঢাকার পুরানো শ্রোতা ভাই আমিন আল আসাদের বক্তব্য আমাদের কাছে রয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে সিরিয়া সংকটের মূল কারণ তুলে ধরেছেন।
বহলুল: চমৎকার বলেছেন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ইয়ার-দোস্তরাই আজকের সিরিয়ার রক্তপাতের জন্য দায়ী।
হ্যাঁ তারাই সৃষ্টি করেছে এ সংকট এবং তাদের কারণেই দেশটি ছারখার হয়েছে। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। রক্তপাত এবং প্রাণহানির এমন দুর্যোগময় সময়েও আশাভঙ্গের মতো কারণ ঘটেনি। কারণ মানুষ সিরিয়া সংকটের মূল কারণ অনুধাবন করতে পেরেছে।
তারা জানে দেশটিতে কারা মানুষ হত্যা করছে। অর্থাৎ মানুষের কাছে সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে আর বহলুল ভাইয়ের ভাষায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের দোসর, সেই ইয়ার-দোস্তদের চরিত্র প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।
বহলুল: আর এভাবেই সত্য সমাগত আর অসত্য বিতাড়িত হবে চিরকালের জন্য।
আসরের এ পর্যায়ে ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশিত খবরে পাঠক বন্ধুরা যে সব মন্তব্য করেছেন সেদিকে নজর দেব। হ্যাঁ, মানবতার কল্যাণে নয়;মানুষ হত্যায় অর্থ ঢালছে আমেরিকা শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ মে। এ খবরে বলা হয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান অভিযোগ করেছেন,মানবতার কল্যাণে নয় বরং মানুষ হত্যার পেছনে অর্থ ব্যয় করছে আমেরিকা। এরদোগানের বরাত দিয়ে তুরস্কের এনটিভি এ খবর দিয়েছে।

রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে মো আজহার রুবেলের মন্তব্যে অনেক সত্য কথা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন,অথচ তুরস্কে আমেরিকার শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে,তাদের সাথে লোক দেখানো বিবাদে জড়ালে তারাই বলে সামরিক ঘাঁটি নিয়ে কোন কথা হবে না অর্থাৎ বহাল থাকবে। তুর্কির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিনীরা মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য অপরাধ অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাই তুর্কি থেকে আমেরিকার ঘাঁটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জোরালো দাবী / আন্দোলনসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ থেকে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার জন্য জোরালো আন্দোলন দরকার। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থান জিইয়ে রেখে কোনো দেশ স্বস্তিতে থাকতে পারবে না।
চমৎকার বলেছেন ভাই আজহার রুবেল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মাঝেমধ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় হতে চান। কিন্তু তার দেশেই যে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি ও মার্কিন সৈন্য রয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেন না।
আর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে দাবি আপনি জানিয়েছেন তাও অত্যন্ত সময়োপযোগী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, আরব শাসকরা নিজেদের গদি ঠিক রাখার জন্য নিজেদের দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রেখেছেন। বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের জন্য অবমাননাকর হলেও আরব রাজা-বাদশারা তা না বোঝার ভান করছেন।
এদিকে রাজীবের দুই ভাইকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৮ মে। এ খবরে বলা হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে নির্দেশে দিয়েছে হাইকোর্ট।
রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে মন্তব্য করেছেন শাহান মারুফ। তিনি লিখেছেন যুগান্তকারী এক রায়! এতে পরিবহন মালিক চালক ও শ্রমিকদের একটা উচিত শিক্ষা হবে।
বহলুল: বাংলাদেশে বাস-ট্রাক এক ধরণের গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কেউ এ ধরণের হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসেনি। এবারে মনে হয় হাওয়া বদলাতে শুরু করেছে।
আপনি আদালতের একটি রায়ে হঠাৎ করে অনেক আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বহলুল ভাই। কিন্তু আসলে দেখতে হবে রায়টি বাস্তবায়িত হয় কিনা। যাই হোক, এদিকে সময় শেষ হয়ে এসেছে। এবার বিদায় নিতে হবে। #