নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে-কাদের, খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির সমাবেশ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ জুলাই শুক্রবার কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বিচারব্যবস্থা: খোল-নলচে পাল্টে ফেলতে হবে-দৈনিক প্রথম আলো
- কোটায় সরকারের যুক্তি নিয়ে আইনগত প্রশ্ন-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে, আবারও আ’লীগ জোয়ারে ভাসবে-কাদের-দৈনিক যুগান্তর
- খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ -দৈনিক ইত্তেফাক
- ‘সোনা চোররাই ভোট চুরি করে’ আলাল-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- আস্থা ভোটের আগে মোদিকে অল আউট অ্যাটাক রাহুলের, বক্তব্যে বাঁধা বিজেপির-সংবাদ প্রতিদিন
- জোটের অঙ্ক নিয়েই ভোপালে অখিলেশ-দৈনিক আনন্দবাজার
- সৌজন্যের নজির দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেন কংগ্রেস সভাপতি-আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রাজনীতির খবর: দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম-নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে, আবারও আওয়ামী লীগ জোয়ারে ভাসবে-কাদের।
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের একসময় ভাটা ছিল, এখন বিএনপির। তাদের এ ভাটা জোয়ার হবে কিনা জানি না। আমার মনে হয় আজ যে জোয়ার আওয়ামী লীগের পক্ষে, এ জোয়ারে আগামী নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এবং আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ এ জোয়ারে ভাসবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে।
দৈনিক মানবজমিন ও প্রথম আলোর খবরের শিরোনাম-২৩ শর্তে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি
খবরটিতে বলা হয়েছে, ডিএমপি ২৩ শর্তে আজ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের অমানবিক আচরণ করার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট আছে, যা অতীতে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও মাদকবিরোধী অভিযানে মৃত্যুর খবর:
মাদকবিরোধী অভিযান: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩- এ খবরটি দৈনিক মানবজমিনের। খবরটিতে লেখা হয়েছে, দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় এসব ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সংঘটিত হয়।
এদিকে সড়কে নিত্যদিনের মতো আজও তিনজন নিহতের খবর দিয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক। খবরে বলা হয়েছে, সরিষাবাড়ীতে মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩জন নিহত ও ৩জন আহত হয়েছেন। উপজেলার তারাকান্দি-ভূঞাপুর সড়কের জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল এসসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার গত বছরের চেয়ে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। বিষয়টি নিয়ে চলছে- বিশ্লেষণ-কেন পাসের হর কমল? এ সম্পর্কে প্রথম আলোর শিরোনাম-১০ বছরে পাসের হার সর্বনিম্ন: বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূলত তিনটি কারণে এবার পাসের হার কমেছে। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় এবার অনেকেই ভালোভাবে না পড়ে পাসের সুযোগ নিতে পারেননি। ‘অস্বাভাবিকভাবে’ উত্তরপত্র মূল্যায়নের ধারা বন্ধ করে খাতা দেখার চেষ্টা করেছেন পরীক্ষকদের অনেকেই। এ ছাড়া ইংরেজি ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন হয়েছিল। আর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে মানবিকের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক খারাপ করেছেন। এদিকে যুগান্তরের একটি খবরে লেখা হয়েছে, এইচএসসিতে অকৃতকার্য, রাজশাহীতে ৮ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা।
বিচারব্যবস্থা: খোল-নলচে পাল্টে ফেলতে হবে-দৈনিক প্রথম আলো
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর মন্তব্যধর্মী এ লেখাতে লিখেছেন, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’, এটি অতি পুরোনো কথা। এখানে বিচার পাওয়া না-পাওয়ার আহাজারি ফুটে উঠেছে। প্রাসঙ্গিক বিষয় দুটি। এক. ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না। অর্থাৎ অপরাধী সাজা পায় না, নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা ভোগ করে। দুই. বিচারপ্রক্রিয়া এত লম্বা সময় নেয় যে নিরপরাধ প্রমাণ করতে করতেই তার আয়ু ফুরিয়ে যায়। ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মুখ থেকে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত পেয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৯। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন আছে ২৮ লাখ ৯২ হাজার ১৩৭টি মামলা। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখের বেশি (প্রথম আলো, ১০ জুলাই ২০১৮)। মামলাজট তো এক দিনে হয়নি। শত বছরের জঞ্জাল জমে জমে আজ এ অবস্থা। এক দিনে বা এক বছরে তার নিষ্পত্তি হবে না। কিন্তু শুরু তো করতে হবে।
এ দেশে মানুষ বেশি। মামলার সংখ্যাও বেশি। মামলাপ্রিয় জাতি হিসেবে আমাদের খ্যাতি আছে। সমস্ত কিছুর পরিবর্তন দরকার। কলোনিয়াল পাওয়ারের রুল নিয়ে দেশ চলতে পারে না। নতুন স্বাধীন দেশ, স্বাধীন মতবাদ, স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে হবে। সেখানে জুডিশিয়াল সিস্টেমের অনেক পরিবর্তন দরকার। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো কথা শুনব না।
৯ জুলাই সংসদে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আইন ও বিচার বিভাগ দেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচারকাজ ত্বরান্বিত করতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো এবং এজলাস-সংকট নিরসনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির এবং তাঁর জানামতে, ‘আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি চিন্তাভাবনা করছেন।’ খুব ভালো কথা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে ৪৩টি বছর। অনেক দিন নাহয় বঙ্গবন্ধুর দল সুস্থির হয়ে বসতে পারেনি। এখন তো তাঁরা ক্ষমতায় আছেন টানা ১০ বছর। এ ব্যাপারে তাঁরা কী কী ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিয়েছেন, তা জনগণকে জানানো দরকার। এ ক্ষেত্রে ‘দেখছি’, ‘ভাবছি চিন্তাভাবনা করছি, এসব কথার কোনো মানে হয় না। মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত সমগ্র বিচারব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টে ফেলতে হবে। এ জন্য দরকার অনেক আয়োজন, বিপুল বিনিয়োগ। বাজেটের দিকে তাকালে তো তার ছিটেফোঁটাও নজরে পড়ে না।
বিচারব্যবস্থার সংস্কার শুধু আদালতকেন্দ্রিক হলে চলবে না। এ জন্য দরকার প্রয়োজনীয় আইন-সংস্কার এবং পুলিশ প্রশাসনের দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়ানো। একটি সামগ্রিক সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে। এটাকে দাতা সংস্থার অনুদানে নিছক একটা ‘প্রজেক্ট’ হিসেবে নিলে চলবে না। সরকারের ভেতর থেকেই তাগিদটা আসতে হবে। সঙ্গে থাকতে হবে রাষ্ট্রের প্রবল ইচ্ছাশক্তি। রাষ্ট্র চাইলে সবকিছুই হয়।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
আস্থা ভোটের আগে মোদিকে অল আউট অ্যাটাক রাহুলের, বক্তব্যে বাঁধা বিজেপির-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অল আউট অ্যাটাক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর। বক্তব্যের শুরুটা কংগ্রেস সভাপতি করলেন নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে জুমলার অভিযোগ তুলে। ১৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি, রাহুলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী কোনও প্রতিশ্রুতিই রাখেননি, খালি জুমলা স্ট্রাইক করেছেন। রাহুল বলেন,রাফাল চুক্তি নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী চৌকিদার নন, দুর্নীতির ভাগীদার।
সৌজন্যের নজির দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলেন কংগ্রেস সভাপতি-আজকাল
অনাস্থা প্রস্তাব বিতর্কের মধ্যেই লোকসভায় দেখা গেল সৌজন্যের বিরল নজির। চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন বিরোধী পক্ষের প্রধান বক্তা রাহুল গান্ধী। এদিন রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে লোকসভা। কিন্তু তারপরও লোকসভায় যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কংগ্রেস সভাপতি তাতে বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারের গানকেই স্মরণ করিয়ে দিল। ‘জড়িয়ে ধরেছি যারে সে আমার নয়’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা এমনটাই। রাহুল গান্ধীর দাবি, দেশের নারী, সংখ্যালঘু, দলিত কেউ সুরক্ষিত নয়।
জোটের অঙ্ক নিয়েই ভোপালে অখিলেশ-দৈনিক আনন্দবাজার
মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতির জন্য দু’দিনের সফরে আজ ভোপালে পৌঁছলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব। সেখানে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই, কর্মিসভার পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবেন তিনি। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কমল নাথের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে তাঁর।
উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলিতে সাফল্যের পরে আসন্ন বিধানসভা ভোটগুলিতে বিজেপিকে হারাতে ওই জোটের মডেলটিকে কাজে লাগাতে তৎপর অখিলেশ এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। দুই নেতাই চাইছেন, বিএসপি নেত্রী মায়াবতীকে নিজেদের সঙ্গে রেখে ভোটে লড়তে। আজ অখিলেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাহুল বা মায়াবতীর নাম না করে বলেন, ‘‘২০১৯-এ নতুন প্রধানমন্ত্রী পাবে দেশ এবং সেই প্রধানমন্ত্রী হবেন উত্তরপ্রদেশ থেকেই।’’
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২০