একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩০ সেপ্টেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া ভোটে আসবে, খবর আছে- বলেছেন কাদের দৈনিক প্রথম আলো
- নির্বাচন বর্জনের হুমকিতে বেআইনী কোন দাবি মানার সুযোগ নেই : বলেছেন-হানিফ-দৈনিক ইত্তেফাক
- যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলেন সিনহা- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- সরকারবিরোধীদের অভিযোগ সত্য নয়: জয়-দৈনিক যুগান্তর
- নির্বাচনে বিএনপির কৌশল নিয়ে যা বললেন ফখরুল-দৈনিক মানবজমিন
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাক স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত–দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- সীমা লঙ্ঘন করে জম্মুর আকাশে পাক কপ্টার, গুলি করে নামানোর চেষ্টা সেনার- দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ভারত শান্তি চায় তবে সার্বভৌমত্মের বিনিময়ে নয়, বললেন মোদি-দৈনিক আজকাল
- বুরহান, হাফিজদের বীরের সম্মান দিচ্ছে ওরা’, রাষ্ট্রসংঘে সুষমার তোপের মুখে পাকিস্তান-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া ভোটে আসবে, খবর আছে- বলেছেন কাদের দৈনিক প্রথম আলো
যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচনে আসবে, এমন খবর তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কাদের।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে আলোচিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও নানা কর্মসূচি দিচ্ছেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন আর যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই দুজনের সাম্প্রতিক তৎপরতা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুজনের মধ্যে কামাল হোসেন দেশের বাইরে। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর দেশে ফেরার কথা। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপির নেতাদের বৈঠক শেষে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আজ তাঁরা ময়মনসিংহে সমাবেশ করবেন। তবে গতকাল শনিবার যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ময়মনসিংহে ডাকা সমাবেশ স্থগিত করা হয়।
যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এর আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি দিয়ে আজ রোববার পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিল সরকারকে। নয়তো আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল তারা। তবে আজ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আন্দোলনের ঊর্মিমালা রাজপথে আছড়ে পড়বে না।’
নির্বাচন বর্জনের হুমকিতে বেআইনী কোন দাবি মানার সুযোগ নেই : বলেছেন-হানিফ-দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ওই নির্বাচনে আমরা সকল দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ অবস্থায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন ভঙ্গ বা সংবিধান লঙ্ঘনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ সকালে কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ‘নির্বাচনের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন দাবির প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। বিএনপিকে মাথায় রাখতে হবে দণ্ডিত কোন কয়েদীকে আদালতের মাধ্যম ছাড়া মুক্তি পেতে হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। এর বাইরে আর কোন পথ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়ে বেআইনী কোন দাবি মানার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলেন সিনহা- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রার্থনা করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এদেশে আমার কোনও স্ট্যাটাস নেই। আমি একজন শরণার্থী। আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি কিন্তু এখনও এর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল শনিবার ওয়াশিংটন প্রেসক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
সিনহা দাবি করেন, ‘তিনি লন্ডনের হাউস অব কমনস, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে তিনি সেখানে যেতে পারছেন না।’ সাবেক বিচারপতি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বোধ করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এত ভীত থাকি যে আমি ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি।’
তিনি দাবি করেন, ‘সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে আমার বাসা সব সময় মনিটরিং করে এবং যারা আমার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়।' এ সময় বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়। শুধু তাই না, ২০১৪'র নির্বাচনের পরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।’
সরকারবিরোধীদের অভিযোগ সত্য নয়: বলেছেন জয়-যুগান্তর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন সরকার বিরোধীরা। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনকে অবৈধ এবং আসন্ন নির্বাচনও সে রকমই হবে বলে দাবি করছেন। তারা ভুল; তাদের কোনো অভিযোগই সত্য নয়। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্সে প্রকাশিত এক কলামে তিনি এ কথা লিখেছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন- আসলে সত্য হল বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পর তারা অভিযোগ করে খুব কম রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ফলে তা লজ্জার। এটি ছিল তাদের স্বার্থে সাজানো অভিযোগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের অপূর্ণতার দায় পুরোটাই বিএনপির, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নয়। নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে সংসদের জন্য একজন প্রার্থীও দেয়নি বিএনপি।
তিনি লিখেছেন- ২০১৪ সালে বিএনপি নেতা ও তাদের জোটের শরিকরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিলিতভাবে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে। তারা এবং তাদের সহযোগীরা হাজার হাজার বাড়ি, গাড়ি, ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, ২০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছে এবং সরকারি স্থাপনায় আগুন দিয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপির কৌশল নিয়ে যা বললেন ফখরুল-দৈনিক মানবজমিন
আগামী নির্বাচনে দৃঢ়তার সঙ্গে (স্ট্রংলি) অংশ নিতে চায় বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ রোববার তারা ঢাকায় মহাসমাবেশ করছেন। এখানে যেসব দাবি তুলে ধরা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের কারাবন্দি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন তদারকির জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
ডিসেম্বরের ওই নির্বাচন তদারকি করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন রয়টার্সের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম কাদির। তাকে মির্জা ফখরুল বলেছেন, একটি বৃহৎ দল হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমাদের সব রকম প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সে জন্য আমাদের প্রয়োজন লেভেল প্লেইং ফিল্ড। তবে তা এখন নেই।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাক স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত-নয়াদিগন্ত
বাক স্বাধীনতা খর্ব করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহৃত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। আজ রোববার সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। এই আইন বাক স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই আইন নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তথ্যমন্ত্রীর আলোচনার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের সংবিধান এবং মানবিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সরকারের অঙ্গিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তন বিবেচনায় নেয়া হবে বলে আমরা আশা করি।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
সীমা লঙ্ঘন করে জম্মুর আকাশে পাক কপ্টার, গুলি করে নামানোর চেষ্টা সেনার- দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
জম্মু-কাশ্মীরে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমায় ঢুকে পড়ল একটি সন্দেহজনক পাক সেনার হেলিকপ্টার। পুঞ্চ সেক্টরে দুপুর সোয়া বারোটা নাগাদ ঘটনার পরই সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। হেলিকপ্টারটিকে গুলি করে নামানোর চেষ্টা করেন সেনা জওয়ানরা। তবে তার আগেই ফের পাক আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে কপ্টারটি।

সেনা সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে আচমকাই পাক সেনার একটি হেলিকপ্টার দেখা যায় পুঞ্চের গুলপুর সেক্টরে। নিয়ন্ত্রণরেখার ভিতরে প্রায় ২৫০ মিটার ঢুকে আসে কপ্টারটি। সাদা রঙের ওই কপ্টারটি দেখেই চূড়ান্ত সতর্কতা নেয় সেনাবাহিনী। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। মিনিট পাঁচেক ভারতের আকাশে চক্কর কাটার পর ফের পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সীমায় ফিরে যায় সেটি। তবে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, বিমান বিধ্বংসী ভারী কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুঞ্চের পাহাড়ি এলাকায় উড়ছে সাদা ওই কপ্টারটি। সেনা জওয়ানরা যে গুলি করে নামানোর চেষ্টা করছেন, ক্রমাগত সেই গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছে ওই ভিডিয়োতে।
ভারত শান্তি চায় তবে সার্বভৌমত্মের বিনিময়ে নয়, বললেন মোদি-দৈনিক আজকাল
ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু সেই শান্তি রক্ষার জন্য নিজের সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দিতে রাজি নয়। রবিবার মনকি বাত অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আক্রমণ করে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোদিকে। প্রথমে ভারত তাতে রাজি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তারই মধ্যে পাক বাহিনীর হাতে বিএসএফ এক জওয়ানের হত্যার ঘটনার পরেই সেই বৈঠক খারিজ করে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়ে পাকিস্তান ভারতকে তীব্র কটাক্ষ করেছিল। এমনকী মোদির বিরোধিতায় রাহুল যে অভিযোগ করছেন সেটাও সঠিক বলে পাকিস্তান দাবি করেছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই রবিবার মোদি এই মন্তব্য করেন।
মন কি বাত অনুষ্ঠানে মোদি বলেছেন, ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে। এবং শান্তি রক্ষা করতে চায়। কিন্তু সেই শান্তি রক্ষা করার জন্য কোনও ভাবেই নিজের আত্ম সম্মান এবং সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দিতে রাজি নয়। মন কি বাত অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছিল মোদি সরকার। তারপরেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং আত্মবলিদান নিয়ে মন কি বাতে একাধিক কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের জঙ্গি হামলা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
বুরহান, হাফিজদের বীরের সম্মান দিচ্ছে ওরা, রাষ্ট্রসংঘে সুষমার তোপের মুখে পাকিস্তান-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে হাতিয়ার করে আবারও পাকিস্তানকে কোণঠাসা করল ভারত। শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পড়শি দেশকে কার্যত তুলোধোনা করলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তাঁর সাফ কথা, যে দেশে হাফিজ সইদের মতো ঘোষিত জঙ্গি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, যারা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়, তাদের সঙ্গে কথা বলা অসম্ভব। পাকিস্তানের মুখে এক, কাজে আর এক। সুষমার অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে ভারত সুর নরম তো করবেই না। উল্টে পাক-বিরোধী অবস্থান আরও তীব্র করতে চলেছে নয়াদিল্লি।
সম্প্রতি দু’দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বর্ষপূর্তি পালন করা হচ্ছে ঘটা করে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের। এমত পরিস্থিতিতে, নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় নিজের বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে সীমান্তে পাক সেনার বর্বরতা সমস্ত ইস্যুকে ছুঁয়ে গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সুষমা বলেন, “পাকিস্তান সন্ত্রাসে শুধু মদতই দেয় না, তাকে মহিমান্বিতও করে। সন্ত্রাসবাদীদের নামে ডাকটিকিট বের হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীর তকমা দেওয়া হয়। এমন দেশের সঙ্গে শান্তি বৈঠকে কী লাভ?’’ সুষমার দাবি, ভারত আলোচনায় বসতে রাজি নয় বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে। তা ডাহা মিথ্যা। বহুবার ভারতের উদ্যোগেই দুই পড়শি দেশের মধ্যে কথা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের জন্যই বার বার তা ভেস্তে গিয়েছে। সুষমার কথায়, “একদিকে আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইছি। অন্যদিকে, এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। সে জন্যই যাদের মাথার দাম ঘোষণা হয়েছে, এমন জঙ্গিরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অর্থ দিয়ে, মদত দিয়ে ‘নায়ক’ বানাচ্ছে রাষ্ট্রসংঘেরই এক সদস্য। রাষ্ট্রসংঘকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। শুধু জঙ্গিদের তালিকা বানিয়ে লাভ নেই।”#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৩০