এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের সহযোগি: রিজভী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৩ অক্টোবর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- অর্থনীতিবিদদের মতামত-ঋণের ফাঁদে পড়বে দেশ!- দৈনিক প্রথম আলো
- সিরাজগঞ্জে যুবলীগ নেতা খুন -দৈনিক কালের কণ্ঠ
- সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন-দৈনিক যুগান্তর
- ফখরুলসহ বিএনপির ৭ নেতার আগাম জামিন -দৈনিক ইত্তেফাক
- এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের সহযোগি: রিজভী -দৈনিক মানবজমিন
- রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষকদের -দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন ‘বিদ্রোহী’ রঞ্জন গগৈ-দৈনিক গণশক্তি
- নাগেরবাজার সকেট বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিআইডি তদন্ত-দৈনিক আজকাল
- মুসলিম বলে সুবিচার পাননি, তাই হিন্দু হলেন আখতার!-দৈনিক আনন্দবাজার
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী মন না থাকলে উদ্বেগের কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে কীভাবে দেখছেন?
২. মার্কিন সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সৌদি রাজা দুই সপ্তাহ টিকবে না- কথাটি বলেছন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কতটা বাস্তবা তার এ দাবি?
বিশ্লেষণের বাইরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর:
অর্থনীতিবিদদের মতামত-ঋণের ফাঁদে পড়বে দেশ!-দৈনিক প্রথম আলো
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দেশজ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে দেশ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশনের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান এ আশঙ্কার কারণ হিসেবে বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থায়ন একটি সূত্রের (বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ) পরিবর্তে অন্য সূত্র থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে।
তবে দেশের আরেক অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর পদ্মা সেতুসহ বৃহৎ প্রকল্প ঘিরে অন্য শঙ্কার কথাও বললেন। তিনি বলেছেন, ‘পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ৪০ হাজার কোটি টাকার রেললাইন বসানোর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটা শেষ পর্যন্ত ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। কিন্তু এত টাকা খরচ করে কী লাভ (রেট অব রিটার্ন) পাওয়া যাবে, তা নিয়ে কোনো পর্যালোচনা হয়নি। কবে এত টাকা উঠে আসবে জানি না। পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও এ ধরনের পর্যালোচনা করা হয়নি।’ তাঁর মতে, বেশির ভাগ বড় প্রকল্প বিদেশি টাকায় করা হচ্ছে। এতে ঋণের সুদ ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম-শেখ হাসিনার নামে হবে পদ্মা সেতুর নাম: কাদের। এ খবরে লেখা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতুর কাজের ৫৯ ভাগ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। এই সেতু দেশের জনগণের মতামত নিয়ে নামকরণ হচ্ছে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু।
শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের সিনোহাইড্রোর জাজিরা ঘাট এলাকায় পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন-দৈনিক যুগান্তর
সরকারি বেতন স্কেলের নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে নিয়োগে সব ধরনের কোটা তুলে দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব সফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকছে না। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির চাকরিতে কোটা থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ গায়েবি তথ্য উৎপাদন কারখানায় রূপ নিয়েছে: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন-পুলিশের কাছে তথ্য আছে বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতার ছক আঁকছে। সে জন্যই হাতিরঝিলে বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামে মামলা হয়েছে। আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই-পুলিশও আপনাদের মতো গায়েবি তথ্য উৎপাদন কারখানায় পরিণত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, চায় আনুগত্যতন্ত্র। সে জন্য আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেফতার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর নীরব রাখতে চাচ্ছে।
রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষকদের-দৈনিক নয়া দিগন্ত
কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতায় অংশ নিতে পারবেন না মাদরাসা শিক্ষকেরা। এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকরাই মূলত এর আওতায় আসবেন। ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-২০১৮’ আইনের চূড়ান্ত খসড়ার বিবিধ ধারায় এ বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি চূড়ান্ত খসড়াটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। এতদিন মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত হয়ে আসছে ১৯৭৮ সালের মাদরাসা শিক্ষা অর্ডিন্যান্সের অধীনে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
মুসলিম বলে সুবিচার পাননি, তাই হিন্দু হলেন আখতার!-দৈনিক আনন্দবাজার
মুসলিম বলেই কি ছেলের হত্যার সুবিচার পাচ্ছেন না? ছেলের হত্যাকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে?— এই প্রশ্নগুলোই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল আখতারকে। আর ততই তিনি হাতাশ হচ্ছিলেন। সুবিচার পেতে তাই একেবারে ধর্ম পরিবর্তনের রাস্তা বেছে নিলেন। রীতিমতো হলফনামা দিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে সে কথা জানিয়েও আসেন আখতার। আর এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠে গেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
বাগপতের বরারখা জেলার বাসিন্দা আখতার। মাসখানেক আগে তাঁর ছেলে গুলহাসানের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় মেলে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, ছেলেটিকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগও করেন আখতার। কিন্তু পুলিশ খুনের অভিযোগ না নিয়ে সেটাকে স্রেফ আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মামলা রুজু করে। প্রচণ্ড হতাশ হয়েছিলেন আখতার। শেষমেশ ছেলের হত্যার সুবিচার পেতে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন আখতার ও তাঁর পরিবারের ১২ জন সদস্য!
নাগেরবাজার সকেট বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিআইডি তদন্ত-দৈনিক আজকাল
দমদম থানা এলাকার নাগেরবাজারের কাজিপাড়ায় সকেট বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করল সিআইডি। মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার কাজিপাড়ার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বহুতলের একতলায় একটি ফলের দোকানে বোমা বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিভাস ঘোষ নামে এক সাত বছরের বালকের। এই ঘটনার পর দমদম থানায় পুলিস স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে খুনের মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুলিসের কাছ থেকে এই মামলার ভার নিল সিআইডি।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন ‘বিদ্রোহী’ রঞ্জন গগৈ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া সত্ত্বেও নজিরবিহীনভাবে প্রথমবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন তিনি। সেই রঞ্জন গগৈই ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সত্য নিষ্ঠার শপথ নিয়েই কার্যকাল শুরু করছেন বিচারপতি গগৈ।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন