বৈঠকের কথা মিথ্যা, বিএনপিকে সতর্ক হতে বললেন ইসি সচিব
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৫ নভেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- বৈঠকের কথা মিথ্যা, বিএনপিকে সতর্ক হতে বললেন ইসি সচিব -দৈনিক প্রথম আলো
- সেনাবাহিনী পুলিশের কমান্ডে কী করে কাজ করবে? : রিজভী -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট ও ফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপড়েন-দৈনিক ইত্তেফাক
- নৌকার টিকিট যাদের হাতে, পূর্ণাঙ্গ তালিকা: -দৈনিক যুগান্তর
- গণভবন নির্বাচনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে: ড. কামাল হোসেন-দৈনিক মানবজমিন
- আইনের সমান প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য: ইসি মাহবুব তালুকদার
ভারতের খবর:
- কেউ জানে না, মোদীর বাবার নাম কী! বললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- কংগ্রেসের বাধায় আটকে অযোধ্যার রামমন্দির: বলেছেন মোদি –দৈনিক আজকাল
- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের আরেকটি খবর- এবার ইন্দিরা গান্ধীকেও প্রতারক বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি!
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
বৈঠকের কথা মিথ্যা, বিএনপিকে সতর্ক হতে বললেন ইসি সচিব -দৈনিক প্রথম আলো
২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চতুর্থ তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘গোপন মিটিং সম্পর্কে বিএনপির অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপিকে ভবিষ্যতে সতর্ক হতে বলেছেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চতুর্থ তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং হয়। এতে সরকারের প্রশাসন ও পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে টানা আড়াই ঘণ্টা এই বৈঠক চলে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি অনুযায়ী ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীনও ছিলেন। বিএনপির এই অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আজ সন্ধ্যায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, এটা মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপিকে ভবিষ্যতে সতর্ক হতে বলেছেন।
সেনাবাহিনী পুলিশের কমান্ডে কী করে কাজ করবে? : রিজভী-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী পুলিশের সমন্বয়ের মধ্যে থাকবে, এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক। সিইসি বলেছেন যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে। সেনাবাহিনী একটি সুপিরিয়র বাহিনী হিসেবে পুলিশের কমান্ডে কী করে কাজ করবে? সেনাবাহিনীকে আর কতো ছোট করা হবে?’ আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন তিনি।

এছাড়া নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সিইসি স্বীকার করে নিলেন যে, সারাদেশে যতো হামলা, মামলা, গায়েবি মামলা, গ্রেফতারসহ সবকিছু হচ্ছে সিইসির নির্দেশে। তার বক্তব্যে পরিষ্কার হলো তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন চান না। যে করেই হোক আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসাতে হবে-এটাই কমিশনের মনোবাসনা।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট ও ফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপড়েন-দৈনিক ইত্তেফাক
নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আর মাত্র তিন দিন বাকি। অথচ এখনো বিএনপি তাদের ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে পারেনি। আসন বণ্টন নিয়ে জটিল আবর্তে রয়েছে বিএনপি। তবে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে কারও অযৌক্তিক দাবি মানা হবে না, যোগ্য প্রার্থী হলেই কেবল তাদের দাবি মানা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
গত দুই দিন এনিয়ে সিরিজ বৈঠক চলছে। তবে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাত অবধি এবং গতকাল সারাদিন দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা ৩০০ আসনের তালিকা নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদের সাথে এই বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে সরাসরি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারা যে কোনভাবে জয়লাভ করতে পারে এমন প্রার্থীদের চূড়ান্ত করেছেন। পাশাপাশি জোট ও ফ্রন্টকে যে যে আসনে ছাড় দিতে চায় সেসব আসন ফাকা রেখে দিয়েছে।
নৌকার টিকিট যাদের হাতে, পূর্ণাঙ্গ তালিকা: -দৈনিক যুগান্তর
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থীদের চিঠি দেয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ চিঠি দেয়া শুরু হয়। আজ ২৩০ আসনে দলের চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তদের চিঠি দেয়া হয়েছে। দুয়েকটি আসনে একাধিক ব্যক্তিকেও চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ দলীয় প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিক চিঠি দেয়া হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগ ও মহাজোট থেকে কে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন, সেটি কালই জানানো হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশিরভাগ আসনে আগেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জরিপ এবং তৃণমূলের মতামত নিয়ে প্রার্থী ঠিক করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলীয় মনোনয়ন বোর্ড। মনোনয়ন নির্ধারণে শেখ হাসিনার কথাই ছিল শেষ কথা।
গণভবন নির্বাচনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে: ড. কামাল হোসেন-দৈনিক মানবজমিন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেও গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন ও সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে এক লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গণফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে৷

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন, সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন (১৪(১), (১৪)(২)) হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নিরব ভূমিকা পালন করছে৷ কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সুব্রত চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের প্রসাশন ও আইনশৃঙখলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি কর্তৃত্বের মধ্যে থাকলেও আজ অবধি প্রসাশনিক কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্যরা আইন বহির্ভূতভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী বিরোধী পক্ষের ওপর হাজার হাজার হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন তাদেরকেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় মামলা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
আইনের সমান প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য: ইসি মাহবুব তালুকদার
‘সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘একটা কথা বলা হচ্ছে, নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে। এই কথাটা অবশ্যই ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। কারণ আইনকে নিজস্ব পথে চলতে না দিলে, নির্বাচন কখনো আইনানুগ হতে পারে না। সুতরাং যখনই আমরা বলবো নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে। তখন তার সাথে এটাও বলতে হবে, আইনকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে। এটা করার দায়িত্ব আপনাদের (ম্যাজিস্ট্রেটদের)।’
আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আজ রোববার সকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এবার ভারতে বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
কেউ জানে না, মোদীর বাবার নাম কী! বললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, নেতাদের পরিবারকে টেনে আক্রমণের প্রবণতা যেন ক্রমেই বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাকে নিয়ে আক্রমণ করেছিলেন রাজ বব্বর। এবার তাঁর পিতৃ পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিলাস মুত্তেম্বর। মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস সাংসদ সরাসরিই বললেন, ‘‘কেউ জানে না, প্রধানমন্ত্রীর বাবার নাম কী?’’
টুইটারে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিয়ো-তে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর বংশ পরিচয়ের সঙ্গে মোদীর তুলনা করেছেন মুত্তেম্বর। বলেছেন, ‘‘সারা বিশ্ব জানে রাহুল গাঁধীর বাবার নাম কী, ঠাকুমার নাম কী। কিন্তু মোদীর বাবার নাম কী, সেটা কেউ জানেন না।’’
এর পর আরও ব্যাখ্যা দিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্য, এমনকি, রাহুল রাজনীতিতে আসার আগেই সবাই জানত, রাহুলের বাবার নাম রাজীব গাঁধী, ঠাকুমা ইন্দিরা গাঁধী এবং ঠাকুমার বাবা ছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, তাঁর বাবার নাম মতিলাল নেহরু। এক লাইনে পাঁচ পুরুষের নাম জানে সবাই। কিন্তু এই নরেন্দ্র (মোদী)! আজ পর্যন্ত কেউ জানে না তাঁর বাবা কে ছিলেন।’’
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য টুইটারে এই ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন। তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে নিন্দাও। অন্য দিকে, ওই পোস্টেই এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন মালব্য।
কংগ্রেসের বাধায় আটকে অযোধ্যার রামমন্দির : মোদি –দৈনিক আজকাল
নিজের পা পাঁকে আটকে রয়েছে। তবু কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না মোদি। অযোধ্যা নিয়ে নিজের শরিকদের প্রশ্নের মুখে বিজেপি। এদিকে এই নিয়ে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে ছাড়ছেন না প্রধানমন্ত্রী। রাজস্থানে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মোদি অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নাকি অযোধ্যার জিগির তুলে আগে নির্বাচন দাবি করবে।

মোদির অভিযোগ,‘অযোধ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার কীভাবে হয় সেটা নিয়ে যখন ভাবনা চিন্তা করছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা। ঠিক তখনই কংগ্রেসের এক রাজ্যসভার সদস্য যিনি পেশায় আইনজীবী তিনি অকারণে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের ইমপিচমেন্টের দাবি জানাচ্ছেন। তাতেই আটকে যাচ্ছে অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির রায় দান। বারবার বাধা সৃষ্টি করছে কংগ্রেস।
প্রকারন্তরে মোদি রামমন্দির নির্মাণে দেরি হওয়ার দায় কংগ্রেসের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছেন। কারণ রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে শরিকদের কাছে কোনঠাসা হয়ে রয়েছে বিজেপি। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত শরিকরা চাপ বাড়াচ্ছে।
• দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের আরেকটি খবর- এবার ইন্দিরা গান্ধীকেও প্রতারক বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি!
ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মুণ্ডপাত করার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছাড়তেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার নেহেরুকে ছেড়ে ইন্দিরার আর্থিক নীতির সমালোচনা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিখ্যাত ‘গরিবি হটাও' স্লোগানকেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বলে উড়িয়ে দিলেন মোদি।

বেশ কিছুদিন ধরেই মোদির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে চলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শনিবার মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌরে একটি নির্বাচনী জনসভায় রাহুলের তোলা সেইসব অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মোদি ইন্দিরা গান্ধীকেও টেনে আনলেন। মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “৪০ বছর আগে ইন্দিরা গান্ধী গরিবি হটাও স্লোগান দিয়েছিল, আজ পর্যন্ত কি দেশ থেকে গরিবি দূর হয়েছে? তাহলে সেই স্লোগানটা তো মিথ্যা ছিল, কোন মিথ্যেবাদী স্লোগানটি দিয়েছিল মনে আছে তো..” এরপর ইন্দিরার ব্যাংকিং নীতির সমালোচনা শুরু করেন মোদি। তিনি বলেন, “সেসময় ইন্দিরা গান্ধী ব্যাংকিং জাতীয়তাবাদের কথা বলেছিলেন, কিন্তু ২০১৪ সাল পর্যন্তও ভারতের অর্ধেক মানুষও ব্যাংকিং পরিষেবার অধীনে আসতে পারেনি।প্রতারণা ছাড়া আর কী?” এরপরই প্রধানমন্ত্রীর গলায় স্বীকারোক্তি। “পাঁচ ছয় দশক ধরে যে ভুলগুলো কংগ্রেস করেছে তা শোধরাতে কিছুটা সময় লাগে। আমি মাত্র ৪ বছর সময় পেয়েছি। যদি কংগ্রেসের অর্ধেক সময়ও আমি পাই তাহলে গোটা দেশের আমূল পরিবর্তন করে দেব।” বিরোধীরা বলছেন, কংগ্রেসকে দূষলেও পরোক্ষে মোদি স্বীকার করে নিলেন চারবছরে আশানূরূপ কাজ তিনি করতে পারেননি।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২৫