আইএসআইএল বাংলাদেশে নেই,তারা আছে একথা বলা পশ্চিমা ষড়যন্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পাঠক! ১৫ এপ্রিল শুক্রবারে কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। তো শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথম আলো অনলাইন: কচুয়ায় ইউএনওর পান্তা-ইলিশ খেয়ে অসুস্থ ৫১/
ইত্তেফাক অনলাইন: 'নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে'-গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
সমকাল অনলাইন: বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মানবজমিন অনলাইন: ‘মশাল নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট’
বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: মাদক উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, গুলিবিদ্ধ ১
ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:
আনন্দবাজার অনলাইন: পাক সীমান্তের গায়ে বিরাট বাহিনী নামিয়ে কঠোর বার্তা ভারতের
সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন: সৌরভ হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১২
বর্তমান অনলাইন: কমিশনের শোকজের জবাবে মমতা-যা বলেছি বেশ করেছি, হাজার বার বলব।
আজকাল অনলাইন: বাংলার ছেলেমেয়েরা ভিক্ষে করবে না: মমতা
শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশের-সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
আইএসআইএলের ঘাঁটি বাংলাদেশে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রথম আলো অনলাইনের লিড শিরোনামের খবরটিতে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএলের কোনো ঘাঁটি বাংলাদেশে নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএলের সাংগঠনিক কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ ব্যাপারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইএসআইএলের কোনো ঘাঁটি বাংলাদেশে নেই। কোনো সংগঠন বাংলাদেশে নেই। আইএসআইএলকে হয়তো অল্প দু-একজন বিশ্বাস করতে পারে।
আইএসআইএলের প্রকাশনা ‘দাবিক’-এর ১৪ তম সংখ্যায় কথিত আইএসআইএলের বাংলাদেশ প্রধান শেখ আবু-ইব্রাহিম আল-হানিফের সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তিনি সেই প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি মতাদর্শের লোক এই দেশে ঘাঁটি গেড়ে অন্য দেশে আক্রমণ করবে, সেটা হবে না।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জঙ্গি সংগঠনের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী দেশের আক্রমণের সুযোগ দেয়া হবে না।
তবে ইসলামের নামে বিশ্বের কুখ্যাত তাকফিরি এই সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএল বা দায়েশের নামে কিন্তু বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি হত্যার দাবি করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আইএসএলের কোনো অস্তিত্ব এদেশে নেই। কিন্তু হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। কারা করছে-তা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আসলে বাস্তবতা কি তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষক মহল।
‘জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে ক্ষমা চাইতে হবে’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ আজ এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন। গতকাল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন সে সম্পর্কে হানিফ বলেছেন, তার ঐক্যের ডাকে জনগণ সাড়া দেবে না। জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি জাতির জনকের হত্যাকারীদের রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিয়ে বিচার বন্ধের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের পুরস্কৃত করেছেন। এ জন্য কোনো ধরনের অনুতাপ আছে কি না তা খোলাসা করতে হবে। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এ খবরটিতে আরো বলা হয়েছে, মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, তথাকথিত ৯০ দিনে অবরোধের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করল।এ ব্যাপারে তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা আছে কি না, দুঃখবোধ আছে কি না, নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন কি না তা জানাতে হবে। এরপর তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা ভাবতে পারেন।
তবে বাংলাদেশে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। অথচ দেশের গণতন্ত্র, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সামাজিক নিরাপত্তা,অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় দুটো রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ জরুরি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল। তারা মনে করেন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের রাজনৈতিক চর্চা এখানে খুবই জরুরি।
‘সামাজিক যোগাযোগে ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া কমেছে ৩২%’-এটি প্রথম আলোর শিরোনাম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমানে মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে অনেকে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এ সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ এখন আর বোকা নয়। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে অধিক সক্রিয় হলেও ফেসবুকের মতো সাইটে তথ্য শেয়ার করার বিষয়ে মানুষ এখন অনেক সচেতন। মানুষ এখন যা খুশি তাই শেয়ার করার পরিবর্তে সতর্ক হয়ে শেয়ার করছেন।
গত দুই বছরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনযাপন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার হার ৩২ শতাংশ কমেছে। কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার হারও এই সময়ে ১৬ শতাংশ কমেছে। গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্সের (জিডব্লিউআই) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে।
‘পদ্মা সেতুর বরাদ্দে ফের কাটছাঁট’
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন কাটছাঁট! এর জবাব রয়েছে-সমকালের প্রতিবেদনটিতে। সেখানে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বরে। মূল প্রকল্পের কাজে এখনও পুরোপুরি গতি না আসায় গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও প্রকল্পটির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ দুই দফায় প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা কাটছাঁটের প্রস্তাব করেছে সেতু বিভাগ, যা এডিপিতে পদ্মা সেতুর মূল বরাদ্দের অর্ধেক।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৬৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ হিসাবে প্রায় তিন হাজার ৮১৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করছে পরিকল্পনা কমিশন।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, অর্থ কাটছাঁট করা হলেও পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হবে না। আগামী অর্থবছরে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জনগণ পদ্মা সেতু পার হতে পারবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু ট্রায়াল কাজ শেষ হয়নি। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা আরও কিছু তথ্য চেয়েছেন। চাহিদার ভিত্তিতে সেগুলো দেয়া হচ্ছে। এ জন্য জুনের মধ্যে লক্ষ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে।
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে (দ্বিতীয় সংশোধিত) ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে যথাসময়ে এবং যে ব্যায় ধরা হয়েছে তাতেই যেন যথাসময়ে দেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ যেন শেষ হয় সে প্রত্যাশা দেশবাসীর। #
গাজী আবদুর রশীদ/১৫