আগস্ট ৩১, ২০১৯ ১১:৪৯ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৩১ আগস্ট শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা-দৈনিক যুগান্তর
  • গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল জিয়া :প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ১৯ বছরের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী আগস্টেই-দৈনিক প্রথম আলো
  • ‘সড়ক নিরাপদ না হলে জনরোষ থেকে কেউ রক্ষা পাবে না’ডিএমপি কমিশনার-দৈনিক মানবজমিন
  • পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যাকারী‌দের ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:    

  • অসমে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ, বাদ পড়লেন ১৯ লক্ষ- দৈনিক আনন্দবাজার
  • এনআরসি তালিকা থেকে বাদ ১৯ লক্ষ মানুষ, কী হবে নিজভূমে পরবাসীদের ভবিষ্যৎ?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ১৭ দিনেই মোহভঙ্গ, বিজেপি থেকে নিষ্কৃতি চাইলেন শোভন–বৈশাখী-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. আজকের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার লিড নিউজ হচ্ছে 1 নারায়নগঞ্জে এত অস্ত্র।খবরে প্রধানত অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। খবরটি কি আপনি কিভাবে দেখছেন?

২. ভারতের অসম রাজ্যের জাতীয় নাগরিকত্বের তালিকা বা এনআরসি প্রকাশ করেছে সেদেশের সরকার। তাতে ১৯ লাখ মানুষ অসমের নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ভারত সরকারের এ পদক্ষেপকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা-দৈনিক যুগান্তর

রোহিঙ্গাদের জন্য আইন অনুসারে মোবাইল ফোন ব্যবহার অবৈধ হলেও তারা প্রশাসনের লোকদের সামনে প্রকাশ্যেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গাদের আগমনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ২৫ আগস্ট হঠাৎ করে জমায়েত হয়ে জনসভা করে। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, অবৈধভাবে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আশ্রয় গ্রহণের সময় টেকনাফের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি করে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকার কর্ণপাত করেন নাই।

গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল জিয়া : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে খুনিদের দল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে সর্বপ্রথম গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন করেছে, লাশ গুম করে দিয়েছে। শুধু আমাদের দলের লোকদের হত্যা করা হয়েছিলো এমন নয়, যারা মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ছিলেন, সেনাবাহিনী-বিমানবাহিনীতে যারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, সেরকম শত শত অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল খুনি জিয়াউর রহমান। হাজার হাজার সৈনিককে দিনের পর দিন ফাঁসি দিয়ে, গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। শোনা যেত খাবার টেবিলে বসে জিয়া এক হাতে কাটা চামুচে খেতেন, অন্য হাতে মৃত্যুদণ্ডের ফাইলে সই করতেন।

১৯ বছরের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী আগস্টেই-দৈনিক প্রথম আলো

চলতি আগস্ট মাসেই ৫০ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা গত ১৯ বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট রোগীর চেয়েও বেশি।  ঢাকার বাইরেও আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড তৈরির পাশাপাশি নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এ বছর ঢাকাসহ ৬৪ জেলাতেই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৯ হাজার ৯১ জন।ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্যে জানা গেল, সারা দেশেই এডিস মশা আছে, সারা দেশেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি আছে। এতে ঘাবড়ালে চলবে না। সারা দেশে বিরামহীন মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসা জনবল গড়ে তুলতে হবে।২০০০ সালে দেশে প্রথম ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তবে একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক বলেছেন, এর আগেও দেশে ডেঙ্গু ছিল। ১৯৯৯ সালে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলেও তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

ভারতের প্রায় সব দৈনিকের প্রধান খবর হচ্ছে- অসমের এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ। এ সম্পর্কে দৈনিক আনন্দবাজারের শিরোনাম-'অসমে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ, বাদ পড়লেন ১৯ লক্ষ'

বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, নির্ধারিত সময়েই প্রকাশিত হল অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা। নতুন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩ কোটি ১১ লক্ষ মানুষ। বাদ পড়েছেন ১৯ লক্ষ। এনআরসি দফতর সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। খসড়া তালিকায় এই সংখ্যাটা ছিল ৪১ লক্ষ। অনেকেই এনআরসি-র পদ্ধতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীও। সংখ্যাটা এক ধাক্কায় ১৯ লাখের বেশি কমে যাওয়ায় আসামজুড়ে এ মুহূর্তে যতটা স্বস্তি, শাসক বিজেপির অভ্যন্তরে ঠিক ততটাই অস্বস্তি বেড়ে গেছে। রাজ্য বিজেপির দুই নম্বর মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে এভাবে সংশয় প্রকাশ করে বলেছৈনএই তালিকায় তাঁরা ভরসা রাখতে পারছেন না। তালিকা প্রকাশের পর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই গোটা রাজ্যকে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম-এনআরসি তালিকা থেকে বাদ ১৯ লক্ষ মানুষ, কী হবে নিজভূমে পরবাসীদের ভবিষ্যৎ?

এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর অসমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় সব পক্ষই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অখুশি। বিজেপির তরফে উপমুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল গতকালই হিন্দু বাঙালিদের বাদ পড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তালিকা প্রকাশের পর অল অসম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে তাঁরা অখুশি। তাদের দাবি তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়া উচিত ছিল। অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়া উচিত ছিল। কংগ্রেসের তরফে সাংসদ আবদুল খালেক এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা ঘোষিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট এবং আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, তালিকায় অনেক স্থায়ী ভারতবাসীর নাম ওঠেনি। তাই, ফরেনার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হোক।

এ তো গেল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথা। কিন্তু, এখন প্রশ্ন এই ১৯ লক্ষ মানুষের কী হবে? তাঁরা কী নিজভূমে পরবাসী হলেন? রাতারাতি তাদের নিজের দেশেই বিদেশি তকমা সাঁটিয়ে দেওয়া হল? অসম সরকার বলছে ‘না’। যাদের নাম এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় নেই, তাদের ব্যপারে সরকার সহানুভূতির সঙ্গেই বিবেচনা করবে। যারা তালিকায় ঠাঁই পায়নি তাদের জন্য বেশ কিছু আইনি পথ অবশ্য থাকছে।

১৭ দিনেই মোহভঙ্গ, বিজেপি থেকে নিষ্কৃতি চাইলেন শোভন–বৈশাখী-দৈনিক্ আজকাল

যোগদানের কয়েকদিন পর থেকেই গন্ডগোল চলছিল। এবার বিবাদ চরমে উঠল। বিজেপি থেকে এবার নিষ্কৃতি চাইলেন শোভন চ্যাটার্জি এবং বৈশাখী ব্যানার্জি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আপাতত দল থেকে নিষ্কৃতী চেয়ে তাঁরা বলেছেন প্রয়োজনে পরে দুজনের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। এব্যাপারে বৈশাখী বলেছেন, ‘যোগদানের পর থেকেই একগুচ্ছ ঘটনা আমাদের বিরক্ত করছিল। যেটা আমার মনে হয়েছে ঠিক নয়। 

এদিকে দৈনিক্ আনন্দবাজারের খবরে লেখা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণের ঘোষণা করছেন, সেই সময়ই বৃদ্ধির হার আরও পড়ছে— আর এমনই এক হুলুস্থূল অবস্থার মধ্যে আচমকাই খবরটা আছড়ে পড়ল রাজধানীতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নৃপেন্দ্র মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। #

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯