সামনে মন্ত্রী-সাংসদেরা টার্গেট হবে না, তা বলা যায় না: কাদের
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১ সেপ্টেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম
- সামনে মন্ত্রী-সাংসদেরা টার্গেট হবে না, তা বলা যায় না: কাদের-দৈনিক প্রথম আলো
- জাতীয় কাউন্সিল চলতি বছরই: মির্জা ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর
- রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
- এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা-দৈনিক মানবজমিন
- খালেদা জিয়ার ২ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ও ২৪ সেপ্টেম্বর-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- এনআরসি তালিকায় নাম থাকলেই নিশ্চিন্ত হবেন না, এই খেলা কিন্তু চলতেই থাকবে-দৈনিক আনন্দবাজার
- প্রতিহিংসা বন্ধ করে অর্থনীতির হাল ফেরান’, মোদিকে পরামর্শ মনমোহনের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, নাভিশ্বাস সর্বত্র-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
প্রথমে রাজনীতি সম্পর্কিত খবর তুলে ধরছি।
সামনে মন্ত্রী-সাংসদেরা টার্গেট হবে না, তা বলা যায় না: কাদের-দৈনিক প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সায়েন্স ল্যাবে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম টার্গেট ছিলেন না। এটি পুলিশের ওপর হামলা।
আজ সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি এও বলেন, এ ধরনের ছোট ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে একসময় যে মন্ত্রী-সাংসদ ও রাজনীতিবিদেরা টার্গেট হবেন না, তা বলা যায় না।গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টা থেকে ৯টা ২৫ মিনিটে সায়েন্স ল্যাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
জাতীয় কাউন্সিল চলতি বছরই: মির্জা ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর
খবরে লেখা হয়েছে, তিনি বলেছেন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ- চেয়ারপারসনের মুক্তি ও দল গোছানো । জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির পরই বৃহত্তর ‘মুভমেন্ট’করা। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের পরও সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই ।তাছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুকে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, দৈনিক প্রথম আলোর একটি খবরে লেখা-একটা ‘বড়’ আন্দোলন করার আশায় বিএনপি
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তিনি থাকছেন যুক্তরাজ্যে। তাঁর দেশে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। দল ও জোটের মধ্যে আছে টানাপোড়েন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও প্রায়ই সামনে চলে আসছে। দেশে দলের যাঁরা নেতৃত্বে আছেন, তাঁদের দক্ষতা-যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে গিয়ে শোচনীয় পরাজয় এবং সংসদ অবৈধ আখ্যা দিয়ে আবার সেই সংসদে যোগ দেওয়া বিএনপিকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে। কোনো ইস্যুতেই মাঠে জোরদার আন্দোলন করতে না পারা দলটির নেতারা সামনে কোনো ‘সুদিন’ দেখতে পাচ্ছেন না।
বিএনপি ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ক্ষমতার বাইরে। অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছর তারা ক্ষমতার বাইরে।বিএনপির রাজনীতি সভা–সেমিনারে সীমাবদ্ধ।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছিবিএনপি মনে করছে, একটা ‘বড়’ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে দলে যে সমস্যা, তা বহুলাংশেই কেটে যাবে। তবে বিএনপির নেতারা যা–ই ভাবুন না কেন, দলটির কোনো কর্মকাণ্ডকে পাত্তা দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীনেরা।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি একটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এটা সত্য।বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, তাঁদের দলের নেতৃত্বে যেকোনো একটি বা একাধিক ইস্যুতে একটি ‘বড়’ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।
অর্থনীতির খবর
রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কেও রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণসহ নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে, তাদের কাজে আমরা সহযোগিতা করব।’আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দৈনিক মানবজমিনের শিরোনাম এরকম যে, এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, আবারো দরপতনের ধারায় দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এতে আড়াই শতাংশের ওপরে প্রধান মূল্য সূচক হারিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন কমেছে আড়াই শতাংশের ওপরে। সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। সপ্তাহটিতে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় দুই শতাংশ। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।
ভারতের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মন্তব্য করছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
ভারতের আসামে ঘোষিত জাতীয় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমরা মন্তব্য করছি না এবং করতেও চাই না। ভারত যদি আমাদের কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পর আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি। যারা গেছেন, তারা আগেই গেছেন। ওই দেশ থেকে যেমন এখানে এসেছে, এখান থেকে ওখানে গেছে। কাজেই আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
প্রথমে অসমে এনআরসি মূল তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার খবর
এনআরসি তালিকায় নাম থাকলেই নিশ্চিন্ত হবেন না, এই খেলা কিন্তু চলতেই থাকবে-দৈনিক আনন্দবাজার
অসম জুড়ে যেন হাহাকারের রোল। মাত্র ১৯ লক্ষ? এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে, এত অর্থ, সময়শক্তি, উৎকণ্ঠা উল্লাস, আত্মহত্যার পর মাত্র ১৯? বিগত কয়েক বৎসরে আমাদের মানসিকতার এতই অধঃপতন ঘটেছে যে, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষও আমাদের মনে রেখাপাত করে না। কিন্তু এই ১৯ লক্ষ মানুষ গোটা অসম আন্দোলন, অসম চুক্তি, বিজেপি সরকারের অনুপ্রবেশকারী মুসলিম বিতাড়ন, সব কিছুকে ধূলিসাৎ করে প্রমাণ করেছে, অসমে বিদেশি অনুপ্রবেশ নেহাতই একটি অকিঞ্চিৎকর ইস্যু, যাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানো হতো। তাই কান্নার রোল-ক্রোধ-ক্ষোভ তাঁদের, যাঁদের নাম ভারতীয়ত্বের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। তাঁরাও বিমূঢ়, যাঁরা আশা করেছিলেন ৪১ বেড়ে কমপক্ষে ৫০-এ দাঁড়াবে, এবং ত্রুটিহীন এনআরসির জন্য আর এক দফা সংগ্রামের অবকাশ পাবেন। শুধু তাঁদেরই শূন্যদৃষ্টি, যাঁদের নাম এ বারও উঠল না তালিকায়। মাত্র ১৯ লাখের পাশে কার আর দাঁড়ানোর উৎসাহ থাকে!
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, মিনা হাজারিক নামের এক নারী কেবলই বলছেন‘ আমরা কি এ দেশের নাগরিক নই? আমাদের কি আত্মহত্যা করতে হবে। তৃতীয় তালিকাও তার নাম নেই।শুধু মীনা হাজারিকাই নন, গোটা অসমে থিকথিক করছে এমন অসংখ্য ক্ষুব্ধ মানুষ।
এবার ভারতের অর্থনীতির খবর
ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, নাভিশ্বাস সর্বত্র-দৈনিক আজকাল
ফের দাম বাড়ল রান্নার গ্যাসের। রবিবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনেকটাই বাড়ল ভর্তুকিবিহীন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। ফলে পুজোর আগে নাভিশ্বাস উঠল দেশের আপামর জনগণের। পর পর লাগাতার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনসাধারণের মধ্যে। এদিন থেকে দেশের চারটি বড় শহরে ভর্তুকিবিহীন ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে গেল।শনিবার মধ্যরাত থেকেই চালু হয়েছে এই নতুন দাম। নিজেদের ওয়েবসাইটে এই নয়া মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন।
‘প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়ুন’, জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে মোদী সরকারকে কটাক্ষ মনমোহনের-দৈনিক আনন্দবাজার
এ খবরে লেখা হয়েছে, দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। তা নিয়ে এ বার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। গোটা পরিস্থিতির জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারকেই দুষলেন তিনি। তাঁর মতে, সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অব্যবস্থার জন্যই আজ এমন পরিস্থিতি।তাতে মনমোহন বলেন, ‘‘প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এটা দীর্ঘস্থায়ী মন্দারই ইঙ্গিত। অথচ দ্রুত গতিতে উন্নতির সবরকম সম্ভাবনাই রয়েছে ভারতের। সব ক্ষেত্রে মোদী সরকারের চূড়ান্ত অব্যবস্থাই আজ মন্দা ডেকে এনেছে।’’
এ ভাবে চললে খুব শীঘ্র বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন মনমোহন। তিনি বলেন। ‘‘এ ভাবে চলতে পারে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ, প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পরামর্শ নেওয়া হোক। মনুষ্যসৃষ্ট এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজে বার করা হোক বিচার বিবেচনার মাধ্যমে।’’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১