সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ ১০:৫৭ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২১ সেপ্টেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • খেলাপি ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে তথ্য: বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায় দুরূহ-দৈনিক যুগান্তর
  • কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র: তাঁদের হাতের মুঠোয় ছিল ইসির সার্ভার-দৈনিক প্রথম আলো
  • সরকার দুর্নীতির দায় এড়াতে বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে-দৈনিক মানবজমিন
  • আওয়ামী লীগের অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায়-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:          

  • শিল্পমহলের প্রত্যাশা ছাপিয়ে করে রেহাই দিল মোদী সরকার-দৈনিক আনন্দবাজার
  • পুজোর পরই ২ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, দিনক্ষণ ঘোষণা করল কমিশন-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • চিন্ময়ানন্দকে বাঁচাতে মামলাটিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, মন্তব্য অভিযোগকারিনী ছাত্রীর-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারও ধন্যবাদ

১. বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বেশ কিছু ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে যা থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-চিত্র বেরিয়ে আসছে। প্রশ্ন হচ্ছে- হঠাৎ করে কেন এই অভিযান শুরু হলো?

২. আমেরিকা সৌদি আরবে নতুন করে সেনা পাঠাচ্ছে বলে আজ খবর বের হয়েছে। অনেকে বলছেন এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়বে। আপনার কী মনে হয়?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র: তাঁদের হাতের মুঠোয় ছিল ইসির সার্ভার-দৈনিক প্রথম আলো

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিভাগের সার্ভারের (তথ্যভান্ডার) সব তথ্য ছিল জালিয়াত চক্রের হাতের মুঠোয়। তারা যখন-তখন এই জাতীয় সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ এবং কারও নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে আঙুলের ছাপ ও ছবিসহ তা সার্ভারে যুক্ত করে দিতে পারত। আর এই কাজটা করতেন জালিয়াত চক্রের সদস্য চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মোস্তফা ফারুক।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন মোস্তফা ফারুক। এরপর​ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ তথ্য পায় পুলিশ। কেবল তা-ই নয়, মোস্তফার বাসা থেকে উদ্ধার করা তাঁর ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ও তিনটি পেনড্রাইভে পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার ভোটার তালিকা, যা জাতীয় সার্ভার থেকে ডাউনলোড করা হয়েছিল। তাঁর বাসা থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডেটা এন্ট্রির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, মডেম, আঙুলের ​ছাপ নেওয়ার তিনটি সিগনেচার প্যাডসহ (যার গায়ে রাউজান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা লেখা) এনআইডি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মোস্তফা ইসির অস্থায়ী কর্মী। ডেটা এন্ট্রির কাজ করতেন। তাঁর কাছে জাতীয় সার্ভারে প্রবেশের পাসওয়ার্ড ছিল। তিনি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গত পাঁচ বছরে সার্ভারে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির নামে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করেছেন বলে​ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংখ্যা আরও বেশি হবে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াত চক্র ভুয়া এনআইডি তৈরির ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার করত। তারা মৃত ব্যক্তির ছবি ও আঙুলের ছাপ পাল্টে দিয়ে বাকি তথ্য ঠিক রেখে সেটা জাতীয় সার্ভারে যুক্ত করে (আপলোড) দিত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এখন তা যাচাই-বাছাই চলছে।

এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যুক্ত চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নালসহ তিনজনকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে অস্থায়ী কর্মী মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার-দৈনিক ইত্তেফাক

কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় যুবলীগের দুই নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু (৩৫) ও কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনকে(৪০) গ্রেফতার করে।

টেন্ডারমোঘল শামীমের যত কাহিনী-দৈনিক মানবজমিন

গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীম। মধ্যবিত্ত এক স্কুল মাস্টারের ছেলে। ভাগ্য পরিবর্তনে আশায় নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে আসেন ঢাকায়। কায়দা-কানুন করে পেয়ে যান যুবলীগের পদ-পদবি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেকেবি এন্ড কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের নামে বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানের কাজ একাই বাগিয়ে নেন তিনি। আর দু’একটি কাজ দয়া-দাক্ষিণ্য করে অন্য কাউকে ছেড়ে দিলেও নিজের হিস্যা ঠিকই বুঝে নিতেন। তাকে কমিশন দিয়েই অন্যরা কাজ করার সুযোগ পেতেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যালয়ের সব টেন্ডারে তার ছিলো একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ। শামীমের রাজ্যে যেনো টাকার বিকল্প কিছু নেই। তার সব কাজকর্ম টাকাকেই কেন্দ্র করে। অফিসে টাকা, বাসায় টাকা, ব্যাংকে টাকা। টাকা তার নিজ নামে, স্বজনদের নামে।

আওয়ামী লীগের অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায়-দৈনিক নয়া দিগন্ত

জুয়া, ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুদ্ধ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অনেক নেতা। চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে অপসারণের পর বিপুল পরিমাণ টাকা ও অস্ত্রসহ এরই মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে। গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো কয়েক নেতা। চলমান অভিযানের মুখে তারা এরই মধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আপাতত রক্ষা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকারের ইমেজ নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। বিতর্কিতরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকার দুর্নীতির দায় এড়াতে বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে-দৈনিক মানবজমিন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুরোপুরি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। গত কয়েকদিনের অভিযানে তা প্রমাণিত। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। সরকার দায় এড়াতে এখন বিএনপিকে জড়াচ্ছে। আজ শনিবার সকালে নবনির্বাচিত ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানে কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ফখরুল বলেন, সরকার আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্নীতিতে।

খেলাপি ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে তথ্য: বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায় দুরূহ-দৈনিক যুগান্তর

খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে নগদ অর্থ আদায় করা ব্যাংকগুলোর জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এটি আরও কঠিন। মূলত পাঁচটি কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে- ঋণ বিতরণের সময় যেভাবে সম্পদ বন্ধক দেয়া হয় খেলাপি হলে সেই অবস্থায় পাওয়া যায় না, ভুয়া জামানত প্রদান, একই জামানত একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রাখা, বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখানো এবং ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনিয়ম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনি কাঠামোর সুফল না পাওয়া ও এর দুর্বলতা অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের বিপরীতে চার ধরনের জামানত নেয়া হয়। গ্রাহকের সরাসরি জামানত, পরোক্ষ জামানত, ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট গ্যারান্টি এবং গ্যারান্টারের জামানত। ঋণ দেয়ার সময় গ্রাহক সরাসরি যেসব জামানত দেন সেগুলো ঋণ দেয়ার সময় যা থাকে, ঋণ খেলাপি হলে আর তা থাকে না। জামানতের মান ও দাম দুটোই কমে যায়। অথচ মান ও দাম বাড়ার কথা।

বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণগুলোতেই এমন অবস্থা দেখা যায় বেশি। ব্যাংক-গ্রাহক যোগসাজশে জামানতের মূল্য বেশি দেখানো হয়, ভুয়া জামানত দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ নেয়ার সময় এক জামানত দেয়া হয়, পরে খেলাপি হলে ব্যাংক নিলাম করতে গিয়ে পায় অন্য জামানত।

এসব কারণে ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্পত্তি বিক্রি করে যথাযথ মূল্য পায় না। ফলে ঋণের টাকাও আদায় হয় না। বিপাকে পড়ে ব্যাংক। প্রত্যক্ষ জামানত থেকে ঋণ আদায় না হলে ব্যাংক ঝোঁকে পরোক্ষ জামানতের দিকে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

শিল্পমহলের প্রত্যাশা ছাপিয়ে ট্যাক্স কমালো মোদী সরকার-দৈনিক আনন্দবাজার

অর্থনীতিতে মন্দার লক্ষণে মোদী সরকার যে কতখানি আতঙ্কিত, তার নমুনা মিলল। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার মরিয়া দাওয়াই হিসেবে আজ এক ধাক্কায় কর্পোরেট করের বোঝা অনেকখানি কমিয়ে দিল তারা। দীপাবলির আগেই রোশনাই ছড়াল শেয়ার বাজারে। আজ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কর্পোরেট কর এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশে নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করেছেন।যার অর্থ, কর কমছে ১০ শতাংশ অঙ্ক।নির্মলার ঘোষণা শিল্পমহলের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তারা ১ লক্ষ কোটি টাকার স্টিমুলাস চেয়েছিল। আজ অর্থমন্ত্রী ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস’ দিয়েছেন। কর্পোরেট কর কমানোয় বছরে ওই পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হবে।শিল্পমহল এই সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিলেও এর ফলে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য নাগালের বাইরে চলে যাবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। নির্মলা বলেছেন, সব দিক দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

চিন্ময়ানন্দকে বাঁচাতে মামলাটিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, মন্তব্য অভিযোগকারিনী ছাত্রীর-দৈনিক আজকাল

ঠিক যেন উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি। ওই ঘটনায় যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা। হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টকে। তেমনই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তেও পুলিশ এবং এই মামলার জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আক্রান্ত ছাত্রী। শুক্রবারই গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রভাবশালী এই ব্যক্তিকে। কিন্তু গ্রেপ্তার করা হলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বাঁচানোর চেষ্টা করছে চিন্ময়ানন্দকে। এমনটাই অভিযোগ আক্রান্ত ছাত্রীর। তাঁর বক্তব্য, বিচারের কোনও আশাই নেই। কারণ পুলিশ চিন্ময়ানন্দকে বাঁচাতে মামলাটিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। যে যে ধারায় চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করে অভিযোগকারিনী বলেন, ‘‌আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। এরকমটাই হওয়ার কথা ছিল।সিটের আধিকারিকদের আমি সবিস্তারে জানিয়েছি, কীভাবে আমার উপর অত্যাচার করা হয়েছিল?‌ আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল?‌ তা সত্ত্বেও চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তারির পর ৩৭৬ ধারা যুক্ত করা হল না। বুঝতে পারছি না কী পরিকল্পনা করে এই গ্রেপ্তারি করা হয়েছে। আমি সিটের এই কাজকর্মে খুশি নই।প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট শাহজাহানপুরের ল‌ কলেজের ছাত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, গত এক বছর ধরে তাঁকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন চিন্ময়ানন্দ।

পুজোর পরই ২ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, দিনক্ষণ ঘোষণা করল কমিশন-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পুজোর পরপরই দুই রাজ্যে নির্বাচন। শনিবার ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা দুটি রাজ্যেই নির্বাচন হবে এক দফায়। দুই রাজ্যের নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন দেওয়ার শেষ দিন ৪ অক্টোবর। মনোনয়নের স্ক্রুটিনি হবে ৫ অক্টোবর। প্রার্থীদের নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। দুই রাজ্যে একসঙ্গে নির্বাচন হবে ২১ অক্টোবর। ২৪ অক্টোবর ভোটগণনা।

মহারাষ্ট্রে ২৮৮ আসনের মধ্যে ২০১৪ বিধানসভায় বিজেপি জিতেছিল ১২২টি আসন। শিব সেনা জিতেছিল ৬৩টি। অর্থাৎ বিজেপি-শিব সেনা জোট জিতেছিল ১৮৫টি আসন। বিরোধী কংগ্রেস ৪২ এবং এনসিপি ৪১টি আসন পেয়েছিল। অন্যান্যদের দখলে গিয়েছিল ২০টি আসন। ২০০৯ বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৪৬টি আসন পাওয়া বিজেপি গত বিধানসভায় চমকপ্রদভাবে প্রথম স্থানে উঠে আসে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে অনেকটা এগিয়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনেও মহারাষ্ট্রে দুর্দান্ত ফল করেছে বিজেপি-শিব সেনা জোট। স্বাভাবিকভাবেই, বিধানসভার আগে অ্যাডভান্টেজে গেরুয়া শিবির। যদিও, বিজেপিকে এবার লড়তে হবে কংগ্রেস-এনসিপি জোটের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস এবং এনসিপি এবারে ১২৫টি করে আসনে লড়বে। অন্যদিকে, বিজেপি-শিব সেনা জোটের আসনরফা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। লড়াইয়ে আছে রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনা এবং প্রকাশ আম্বেদকরের বঞ্চিত বহুজন বিকাশ আগাডিও।

অন্যদিকে, ৯০ আসনবিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভায় আগেরবার ৪৭টি আসন জেতে বিজেপি। ওমপ্রকাশ চৌটালার আইএনএলডির দখলে গিয়েছিল ১৯টি আসন। কংগ্রেস জেতে মাত্র ১৫টি আসন। ২০০৯ সালে অবশ্য হরিয়ানায় সরকার ছিল কংগ্রেসেরই। কিন্তু, গত বিধানসভার ধাক্কা সামলাতে পারেনি কংগ্রেস। সম্প্রতি শেষ হওয়া লোকসভাতেও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে কংগ্রেসকে। এবারেও দলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব ভোগাচ্ছে হাত শিবিরকে। তাই, হরিয়ানাতেও খানিকটা এগিয়ে বিজেপি।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১