দুর্নীতিবাজ-অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৯ সেপ্টেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- দুর্নীতিবাজ-অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
- ‘অন্যায় করলে জনপ্রতিনিধিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে’-দৈনিক যুগান্তর
- মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকেই পেতেন জুয়ার টাকা!-দৈনিক ইত্তেফাক
- এবারের বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে লক্ষণীয় দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে : টিআইবি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ-২৫০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের অভিযোগ-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- রাষ্টপুঞ্জে ইমরানের যুদ্ধের হুমকির পরেই কাশ্মীরে আরও কড়া হল নিয়ন্ত্রণ, মোতায়েন অতিরিক্ত সেনা-দৈনিক আনন্দবাজার
- নারদ তদন্তে নয়া মোড়, মির্জাকে সঙ্গে নিয়ে মুকুলের ফ্ল্যাটে হানা সিবিআইয়ের -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- দেশে ফিরেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গ তুললেন প্রধানমন্ত্রী -দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
দুর্নীতিবাজ-অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে তাঁর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন।
সম্রাটকে আটকের ব্যাপারে সরকারের সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা-দৈনিক প্রথম আলো
কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনের ফটকে এখন আর কর্মীদের ভিড় নেই। কারণ, এই ভবনের আলোচিত বাসিন্দা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট কয়েক দিন আগে ভবন ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।এই ভবন ছাড়ার পর থেকে সম্রাটকে নিয়ে নানা গুজবের ডালপালাও ছড়াতে থাকে। কেউ বলেন, তিনি আটক হয়েছেন; কেউ বলেন, তিনি নীরবে দেশ ছেড়েছেন। আবার কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে অজানা আশঙ্কার কথাও বলেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, সম্রাট ঢাকায় আছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতেই আছেন। সম্রাটকে আটকের ব্যাপারে তাঁরা সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্রাট বলে কোনো কথা নেই। অপরাধ যে-ই করবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। আপনারা খুব শিগগির তা দেখবেন। তিনি বলেছেন, অন্যায় করলে জনপ্রতিনিধিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আর দৈনিক যুগান্তরের এ সম্পর্কিত খবরের শিরোনাম-সম্রাট কি গ্রেফতার?
ক্যাসিনো সাঈদ: ফুটপাতের দোকানকার থেকে কয়েকশ' কোটি টাকার মালিক-দৈনিক যুগান্তর
রাজধানীতে মাদক ও ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে দেশ ছেলে পালান মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ঢাকায় আরেক আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে (ক্যাসিনো সম্রাট) গুরু মানতেন তিনি। সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা দেখভালও করেন তিনি। এ কারণে মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় ক্লাবগুলোতে যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সাঈদ নামে পরিচিত।ক্যাসিনো সাঈদের উত্থান সম্পর্কে জানা যায়, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। পারিবারিক কলহের কারণে রাগ করে ২০০২ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এরপর মতিঝিলের দিলকুশা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সামনের সড়কে দোকানদারি শুরু করেন। চোরাই তেলের ব্যবসাও করতেন। এরপর অবৈধ পথে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। ঢাকায় বহু ভবন তার দখলে। মতিঝিল, ফরিকাপুল, পল্টনে কয়েকটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা করেন তিনি। এসব থেকে মাসে আয় কয়েক কোটি টাকা।
মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকেই পেতেন জুয়ার টাকা!-দৈনিক ইত্তেফাক
রাজধানীর টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের তিন মূর্তিমান আতঙ্ক জি কে শামীম, খালেদ ও কালা ফিরোজকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক নতুন তথ্য মিলেছে। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজি করে তারা কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন- সে বিষয়ে একটা তালিকা করা হচ্ছে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন- সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেকের নাম বলেছেন। কমিশন নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশকিছু সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপির নাম রয়েছে। এই তালিকায় রাজধানীর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই মাঝে মধ্যেই বিএনপির এসব নেতা জি কে শামীম ও ল্যাংড়া খালেদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে খালেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্যও মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এবারের বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে লক্ষণীয় দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে : টিআইবি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
এবারের বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অনিয়ম ছিল লক্ষণীয়- এমন তথ্যই উঠে এসেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়।টিআইবি বলছে, ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। স্বজনপ্রীতি, কম দেয়া এবং পাশাপাশি একই পরিবারকে একাধিক বার ত্রাণ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি এসব অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করলে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করা হয় অনেককে। আর প্রথম আলো এ খবরে লিখেছে, টিআইবি বলেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে। টিআইবি বলেছে, চলতি বছরের বন্যায় দেশের ২৮ উপজেলার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮৮ সালের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর বিপরীতে যে সরকারি সহায়তা মিলেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। এই ত্রাণ বিতরণেও হয়েছে নানামুখী অনিয়ম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যাপরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ৭৭২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যা খুবই সামান্য।
রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ-২৫০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের অভিযোগ-দৈনিক মানবজমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে আড়াই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আজ দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এই অভিযোগ করেন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
রাষ্টপুঞ্জে ইমরানের যুদ্ধের হুমকির পরেই কাশ্মীরে আরও কড়া হল নিয়ন্ত্রণ, মোতায়েন অতিরিক্ত সেনা-দৈনিক আনন্দবাজার
কাশ্মীরে যখন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছিল, তখনই রাষ্ট্রপুঞ্জে ইমরানের গরম ভাষণ।পরমাণু যুদ্ধের হুমকি।আর তার জেরে ফের উপত্যকায় শুরু নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েনও করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। তার উপর দু’টি ঘটনায় ছয় জঙ্গি এবং এক সেনা জওয়ানের মৃত্যুতেও উত্তেজনা বেড়েছে। সব মিলিয়ে ফের নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরকে। গত শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণে ইমরান খান কার্যত ভারত-পাক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘‘১৩০ কোটির দেশ ভারতের বাজারকে তোষণ করবে, নাকি নিরপরাধ মানুষকে সাহায্য করবে, সেটা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে ভেবে দেখতে হবে। সেটা না হলে ভালর আশা করতেই পারেন, কিন্তু খারাপের জন্যও তৈরি থাকতে হবে।’’
দেশে ফিরেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গ তুললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল
আমেরিকা সফর সেরে রাতে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর বিমান মাটি ছোঁয়ার পরই বিমান থেকে নেমে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেখানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নিয়ে আসেন তিন বছর আগের স্মৃতি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সেই ঘটনা।শনিবার এই ঘটনার তিন বছর পূর্তি ছিল। সেই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিন বছর আগে এই ২৮ সেপ্টেম্বরেই আমি সারারাত ঘুমোতে পারিনি।তিন বছর আগে এই দিনেই ভারতীয় সেনার বীর জওয়ানরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিলেন। সেই রাতের কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। আমি আমার জওয়ানদের বীরত্বকে সম্মান জানাই।’
নারদ তদন্তে নয়া মোড়, মির্জাকে সঙ্গে নিয়ে মুকুলের ফ্ল্যাটে হানা সিবিআইয়ের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
নারদকাণ্ড পুনর্নির্মাণে মুকুল রায়ের ফ্ল্যাটে সিবিআই৷ এই কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জাকে নিয়ে রবিবার সকালেই বিজেপি নেতার ফ্ল্যাটে যান তদন্তকারী অফিসাররা৷ সূত্রের খবর, অফিসারদের মির্জা জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটে গিয়েই মুকুল রায়ের হাতে বিপুল অংকের টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি৷ সেই ঘটনা পুনর্নির্মাণ করে, তা ভিডিওগ্রাফি করতেই রবিবার মুকুল রায়ের বাড়িতে যান সিবিআই অফিসাররা৷ নারদ কাণ্ডে অভিযুক্তদের ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষার পর বৃহস্পতিবার বর্ধমানের প্রাক্তন পুলিশ সুপার মির্জাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই৷ আদালতের নির্দেশে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে নিজেদের হেফাজতে রাখবেন তদন্তকারীরা৷ মির্জার গ্রেপ্তারির পরই মুকুল রায়কে শুক্রবার হাজির হওয়ার নোটিস দেন তদন্তকারীরা৷ কিন্তু সেই হাজিরা এড়িয়ে যান বিজেপি নেতা৷ বিজেপি নেতা দাবি করেন , নারদকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুখ দিয়ে তাঁর নাম বলিয়ে, তাঁকে ফাসানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯