অক্টোবর ০৫, ২০১৯ ১১:৫৪ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৫ অক্টোবর শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • এরশাদের আসনে উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম-দৈনিক ইত্তেফাক
  • পেঁয়াজ নিয়ে কেন এ খেলা?-দৈনিক যুগান্তর
  • রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?-দৈনিক প্রথম আলো
  • ৭ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-ভারত-দৈনিক মানবজমিন
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার নিরাপদ নয় : জাতিসঙ্ঘ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:    

  • এনআরসি নিয়ে আশ্বাস চায় ঢাকা-দৈনিক আনন্দবাজার
  • বাংলা দখলের ছক গেরুয়া শিবিরের, সাংসদদের বাড়তি দায়িত্ব অমিত শাহের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • রাত থেকেই মহারাষ্ট্রের অ্যারে অঞ্চলে চলছে বৃক্ষছেদন, প্রতিবাদ করায় আটক ২০-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. খুচরা নাটক করে দুর্নীতি দমন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্পর্কে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। আপনি কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?  

২. ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন যে, সৌদি আরবের নীতি পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহণ করবে ইরান। আসলে এ ব্যাপারে তেহরানের সদিচ্ছা কতটা বলে আপনার মনে হয়?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

৭ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-ভারত-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিলে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে পরবর্তী লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে নয়া দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউজে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এসব দলিলে স্বাক্ষর করা হয়। স্বাক্ষরিত স্বারকের মধ্যে ৬টি হলো নতুন। একটি নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন তিনটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোথায়?-দৈনিক প্রথম আলো

Image Caption

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গভীরতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের পর সমস্যাটি যে এতটা জটিল হয়ে উঠবে, তা অনেকের ভাবনায়ও ছিল না। উপরন্তু এর কিছুদিন পরই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়, যার ফলে মনে হয়েছিল দুই দেশের সমঝোতার মাধ্যমে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে এবং সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা এই সমঝোতার কোনো বাস্তবিক প্রয়োগ দেখতে পাইনি।ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ দুবারই ব্যর্থ হয়। এর ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জনমনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের শিবিরের মধ্যে বিশাল সমাবেশ নানা রকম প্রভাব তৈরি করেছে।এদিকে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে নানা রকম আর্থসামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিবিরে রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা ও বঞ্চনা বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৈষয়িক টানাপোড়েন ও মানসিক দূরত্ব বাড়ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার নিরাপদ নয় : জাতিসঙ্ঘ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসঙ্ঘের স্বতন্ত্র তদন্তকারী ইয়াংহি লি। কারণ নিজ মাতৃভূমিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য মিয়ানমার তাদের বিরাজমান ‘নিপীড়ন পরিস্থিতি’ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত করা ইয়াংহি লি শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত বাকি রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি এখনও ‘ভয়াবহ রয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়ে জীবনযাপন করতেও পারে না। তাদের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের বেঁচে থাকার জন্য যে মৌলিক উপকরণগুলো প্রয়োজনও সেগুলোও ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত লি আরও জানান, ‘এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বা টেকসই হবে না।’

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এছাড়া রোহিঙ্গাদের গ্রামে চালানো পরিবার-গণনা প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক রেকর্ড থেকে রোহিঙ্গাদের মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও হ্রাস পায়। সরকারের শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ‘জাতীয় শনাক্তকরণ কার্ড’ দেয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি সমাধান হবে না।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

বাংলা দখলের ছক গেরুয়া শিবিরের, সাংসদদের বাড়তি দায়িত্ব অমিত শাহের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বাংলায় দলের সাংসদদের এবার সামলাতে হবে অতিরিক্ত দায়িত্ব। নিজের লোকসভা কেন্দ্র ছাড়াও আরও দু’টি কিংবা তিনটি করে লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর নির্দেশে এমনই সার্কুলার এসেছে দিল্লি থেকে।

গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। দুই থেকে একলাফে ১৮। গত ১ অক্টোবর বাংলায় একদিনের ঝটিকা সফরে এসে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। সেখানে শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। সেজন্য দলের কার্যকর্তাদের পরিশ্রম করতে হবে। বিজেপির অনুকূলে হাওয়া বইছে পশ্চিমবঙ্গে। লোকসভা ভোটে সাফল্যের পর বাংলা দখলের ছক কষছে গেরুয়া শিবির। তাই এবার ‘মিশন ২০২১।’

NRC আতঙ্কে আত্মঘাতী বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার ঘনিষ্ঠ কর্মী-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এনআরসি আতঙ্গে বিজেপি নেতার একনিষ্ঠকর্মী আত্মঘাতী

অসমে নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই অজানা আতঙ্কে ভুগছে রাজ্যবাসী। বাংলায় এনআরসি হলে কী হবে তা ভেবেই ইতিমধ্যেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন অনেকেই। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নদিয়ার রানাঘাটে। শুক্রবার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি কর্মীর। সিপিএমের দাবি, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভীতির জেরে আত্মঘাতী হয়েছেন বিজেপির সক্রিয় কর্মী নিবাস সরকার।

রাত থেকেই মহারাষ্ট্রের অ্যারে অঞ্চলে চলছে বৃক্ষছেদন, প্রতিবাদ করায় আটক ২০-দৈনিক আজকাল

মুম্বইয়ের অ্যারে অঞ্চলকে ‘জঙ্গল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি বোম্বে হাইকোর্ট। আর আদালতের এই রায়ের পর শুক্রবারই গাছ কাটা শুরুর অভিযোগ উঠেছে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে৷ গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃক্ষছেদন৷ আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন পরিবেশ কর্মীরা৷ তাঁদের অভিযোগ বিএমসি বেআইনিভাবে গাছগুলিকে কেটে ফেলছে৷ এমনকি রাত থেকেই কাটা হয়ে গিয়েছে ৮০০টি গাছ৷ এদিকে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় ইতিমধ্যে ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়েছে৷ কারণ শনিবার সকাল থেকেই সেখানে উপস্থিত হচ্ছিলেন প্রতিবাদীরা৷  

আসলে মুম্বইয়ের অ্যারে অঞ্চলটি ‘গ্রিন ট্র্যাক্ট’ হিসেবে পরিচিত। এখানেই মেট্রো প্রকল্পের একটি কাজ হাতে নিয়েছে মহারাষ্ট্র প্রশাসন।সেটিরই একটি অংশ হিসেবে অ্যারে অঞ্চলে তৈরি করা হবে একটি কারশেড৷এই কারশেড তৈরির জন্য অন্তত ২,৬০০ গাছ কাটা পড়ার কথা। এর বিরুদ্ধে দু’বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন পরিবেশবিদরা।এর প্রতিবাদে জাপান সরকারের কাছেও দরবার করেন তাঁরা।সেই সঙ্গে হাইকোর্টে মামলা করা তো ছিলই। কিন্তু বোম্বে হাইকোর্ট এই মামলা খারিজ করে দেওয়ায় হতাশ সবাই।এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদরা সুপ্রিম কোর্টে যান কি না সেটাই দেখার।তবে পরিবেশপ্রেমীরা সব থেকে বেশি হতাশ অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমারের মতো সেলিব্রিটিদের আচরণে।এই মেট্রো প্রকল্পের জন্য প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছিলেন তাঁরা।যদিও শুক্রবার রাতের পর দিয়া মির্জার মতো সেলিব্রিটিরা আবার পরিবেশ কর্মীদের পাশে থেকেছেন৷

এনআরসি নিয়ে আশ্বাস চায় ঢাকা-দৈনিক আনন্দবাজার

দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বাড়ানো থেকে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি সই। তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, কাল হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকে এই কর্মসূচি ছাড়াও আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে চলেছে অসমের নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ যাওয়া মানুষদের নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিস্তা চুক্তি দ্রুত রূপায়ণের মতো বিষয়গুলি। 

গত কাল তাঁর দিল্লি সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা। সেখানে এনআরসি নিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয়। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথা হয়েছে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৫