আবরারকে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা খুনি মনিরের জবানিতে
-
একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৬ অক্টোবর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বুয়েটে সন্ত্রাস রুখে দেওয়ার শপথ-দৈনিক প্রথম আলো
- আবরার হত্যা মামলায় বিশেষ প্রসিকিউশন টিম হবে:আইনমন্ত্রী: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- আবরারকে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা খুনি মনিরের জবানিতে: দৈনিক যুগান্তর
- স্বার্থান্বেষী মহল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: তথ্যমন্ত্রী দৈনিক ইত্তেফাক
- রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক মানবজমিন
- টাকা না দেয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- অযোধ্যা শুনানিতে চূড়ান্ত নাটক, ম্যাপ ছিঁড়লেন আইনজীবী, ওয়াক আউটের হুমকি প্রধান বিচারপতির-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ঋণ যাই থাক, কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে, স্পষ্ট করে দিলেন মমতা-দৈনিক আজকাল
- মনমোহন-রাজনের আমলেই ব্যাংকের দুরাবস্থা: সীতারমন-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার প্রশ্ন (১৬ অক্টেবার, ২০১৯)
১. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, সব আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। তারা শপথ নিয়ে বলেছেন, অর্পিত দায়িত্বসমূহ সতর্ক ও সততার সঙ্গে পালন, অপশক্তি রুখে দেয়া, যেকোন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ নেবেন। আপনার কী মনে হয় এই শপথের পর বুয়েটের পরিস্থিতির উন্নতি হবে?
২. সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার পর ওই অঞ্চলে এখন টহল দিচ্ছে রাশিয়ার সেনারা। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে?
জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ
বুয়েটে সন্ত্রাস রুখে দেওয়ার শপথ-দৈনিক প্রথম আলো
সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দেওয়ার শপথ নিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বুয়েট মিলনায়তনে এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হলের প্রভোস্টরা শপথ নেন। শিক্ষকেরা মিলনায়তনে উপস্থিত থাকলেও শপথে অংশ নেননি। শপথ নেওয়ার জন্য বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সোয়া ১টার দিকে শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ শুরুর আগে বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শপথ পড়ান বুয়েটের ১৭ তম ব্যাচের ছাত্রী রাফিয়া রিজওয়ানা। শপথে বলা হয়, তাঁরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান সম্মিলিতভাবে রুখে দেবেন। এ ছাড়াও নৈতিকতার সঙ্গে ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার তাঁরা সমূলে উৎপাটিত করবেন।

শপথে বলা হয়, বুয়েটের আঙিনায় আর যেন নিষ্পাপ কোনো প্রাণ ঝরে না যায়, আর যাতে কেউ অত্যাচারিত না হন, সেটা সবাই মিলে নিশ্চিত করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞাতসারে হওয়া প্রতিটি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাই সর্বদা সোচ্চার থাকবেন। এই মুহূর্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য তাঁদের ওপর অর্পিত নৈতিক, মানবিকসহ সব প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
আবরার হত্যা মামলায় বিশেষ প্রসিকিউশন টিম হবে:আইনমন্ত্রী: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেওয়ার জন্য বিশেষ প্রসিকিউশন টিম গঠন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কারো কিছু বলা ঠিক হবে না।
আজ বুধবার সচিবালয়ে তার দপ্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যায় ফৌজদারি মামলার এজহার দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর তদন্ত শুরু হয়, যা চলমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। অভিযোগপত্র পেলেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
আবরারকে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা খুনি মনিরের জবানিতে: দৈনিক যুগান্তর
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগ নেতাদের নৃশংস নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এজাহারভুক্ত আসামি মনিরুজ্জামান মনির। তিনিও এই ভয়াবহ নির্যাতনে অংশ নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মনির। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তিনি আবরারকে নির্যাতনের আদ্যপান্ত বর্ণনা দেন।
জবানবন্দিতে মনির বলেন, ‘১৫তম ব্যাচের বড় ভাইরা ডাকতে বলেছিলেন। অনিক, রবি ও রাসেলের নির্দেশে আমি আবরারকে তার রুম থেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাই। সেখানে অনিক ও রবিন ছাড়াও আরও অনেকে উপস্থিত ছিল। আবরারের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপে থাকা তথ্য দেখে আবরারকে শিবির হিসেবে সন্দেহ করা হয়। এর পর আবরারের কাছ থেকে হলে আরও কারা কারা শিবিরের ঘনিষ্ঠ জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় চুপ থাকলে তাকে প্রথমে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। এর পর তাকে যে যার মতো চড়থাপ্পড় মারে। একপর্যায়ে অনিক স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে থাকে। ওই সময় আমিও আবরারকে চড়থাপ্পড় মারতে থাকি। মনির স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, ‘সকাল, জিসান, তানিম, সাদাত, মোরশেদ বিভিন্ন সময় ওই কক্ষে আসে এবং আবরারকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটায়।
মোয়াজ, বিটু, তোহা, বিল্লাহ ও মোজাহিদও ঘুরেফিরে এসে আবরারকে পেটায়। একপর্যায় আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কয়েকবার বমিও করে। একপর্যায়ে আবরারকে ধরাধরি করে তানিম, মেয়াজ, জেমি সিঁড়ির দিকে নিয়ে যায়। পেছনে মোরশেদ, মুজাহিদ, তোহা, বিল্লাহ, মাজেদও ছিল। পরে ডাক্তার ডাকা হয়। ডাক্তার এসে বলেন, আবরার মারা গেছে।
প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।
তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রোববার পর্যন্ত চারজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মোহাজিদুর রহমানকে, শামসুল আরেফিন, মনিরুজ্জামান ও আকাশ হোসেন, মিজানুর রহমান (আবরারের রুমমেট), ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং হোসেন মোহাম্মদ তোহা এবং মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছেন এ এস এম নাজমুস সাদাত।
স্বার্থান্বেষী মহল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে: তথ্যমন্ত্রী দৈনিক ইত্তেফাক
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা তাকে হত্যা করেছিল। এখন সেই গোষ্ঠীটি তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

শিল্পকলা একাডেমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিবস পালন উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনা : বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথী’ শিরোনামে মাসব্যাপী ছবি প্রদর্শনী ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উপলক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অথবা আওয়ামী লীগের সভাপতি নন, তিনি সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আইকনও। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানস কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও অগ্রগতির অগ্রনায়ক। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা যে অসামান্য অগ্রগতি সাধন করেছে, তা প্রতিটি সেক্টরের মূলে পৌঁছেছে এবং এটি জাতির জন্য বিরাট গৌরব বয়ে এনেছে।
রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক মানবজমিন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাস্তায় চলাচলে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটলে শুধুমাত্র চালককে দায়ী করলে চলবে না। বরং কি কারণে দুর্ঘটনা ঘটল, চালক বা পথচারী কার ভুল সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

আজ সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ময়মনসিংহ- গফরগাঁও টোক সড়কে বানার নদীর উপর সেতু, ঢাকা- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল থেকে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ, সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেন ফ্লাইওভার, মুন্সিগঞ্জে ১৩টি ঝুঁকিময় সেতু স্থায়ী কংক্রিট দ্বারা প্রতিস্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর একই স্থানে ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের আন্ত:নগর ট্রেন চালু এবং রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসের র্যাক প্রতিস্থাপন উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমনভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করছি যেখানে মানুষ খুব অল্প সময়ে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যোগাযোগ করতে পারবে। জেলা থেকে একেবারে ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যন্ত, আবার রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যন্ত। এভাবে একটা সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যাপক কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যার শুভ ফল আপনারা পাচ্ছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
টাকা না দেয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ-দৈনিক নয়াদিগন্ত
রংপুরের পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির হাজতখানায় পশু ব্যবসায়ী সামসুল হক (৫৫) নামের এক আসামীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বুধবার পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ শুরু হলে ফাঁড়ি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এসময় ২৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করলে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। নিহত পশু ব্যবসায়ী সামসুল হকের পরিবারের দাবি, তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দেয়ার দাবি পূরণ না করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করে গামছা দিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার রাতে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আমিনুল ইসলাম মিঠাপুকুর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের পশু ব্যবসায়ী সামসুল ইসলামকে বড়দরগা থেকে গ্রেফতার করে। পরে বুধবার সকাল ৯টায় ফাঁড়ির হাজতখানার গ্রিলের সাথে গামাছা ও পাঞ্জাবী পেচিয়ে সামসুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছে দাবি করে খবর দেয় পুলিশ।
তবে নিহত সামসুলের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতারের পর এসআই আমিনুল ইসলাম তাদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় পুলিশ ফাঁড়ির হাজতখানায় সামসুর ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রীলের সাথে গামছা ও পাঞ্জাবী পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। এদিকে বুধবার সকালে সামসুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে সামসুল হত্যার বিচার দাবি করে। পুলিশ এলাকাবাসীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এলাকাবাসীকে বেধড়ক পিটুনি ও মানুষের উপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এলাকাবাসী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় রাবার বুলেটে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান, পুলিশের ডি সার্কেলের এএসপি হাফিজ উদ্দিন, ভিক্ষুকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
অযোধ্যা শুনানিতে চূড়ান্ত নাটক, ম্যাপ ছিঁড়লেন আইনজীবী, ওয়াক আউটের হুমকি প্রধান বিচারপতির-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
অযোধ্যা মামলার শেষ দিনের শুনানিতে চূড়ান্ত নাটক হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির মধ্যেই, বিতর্কিত জমির একটি মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে আদালত ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

নাটকের সূত্রপাত একটি বইকে ঘিরে। কুণাল কিশোরের লেখা ওই বই আদালতে রাম জন্মভূমির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার চেষ্টা করেন সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিংহ। তা দেখে মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী রাজীব ধবন বলে ওঠেন, “এই ধরনের বইয়ের উপর সুপ্রিম কোর্টের নির্ভর করা উচিত নয়।” তার পরই তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বইটি ছিঁড়ে ফেলার ‘অনুমতি’ চান। বিচারপতিদের জিজ্ঞাসা করেন, “এটা ছিঁড়ে ফেলার জন্য কি আপনাদের অনুমতি পেতে পারি?” বিরক্ত প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, “যা ইচ্ছে, তা-ই করুন।” এর পরেই, বইয়ে থাকা ‘রাম জন্মভূমি’ চিত্রিত একটি মানচিত্রের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন ধবন।
সব মিলিয়ে, আদালত কক্ষে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, “আদালতের সব শিষ্টাচার নষ্ট হয়েছে। শুনানি যদি এ ভাবে চলতে থাকে, আমরা উঠব আর সোজা বেরিয়ে চলে যাব।”
ঋণ যাই থাক, কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে, স্পষ্ট করে দিলেন মমতা-দৈনিক আজকাল
ঋণের বোঝা নিয়েই উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। কারণ বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বুধবার আলিপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই বার্তাই দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ফলে রাজ্যে আরও উন্নয়ন যে ঘটবে তা এদিনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট। এদিনও তাঁর মুখে কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, খাদ্য সাথী প্রকল্পের কথা চলে আসে। আর এমন অনেক প্রকল্প আরও হবে বলে জানান তিনি।

এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এবারের পুজো কার্নিভাল বিশ্বসেরা হয়েছে। গোটা পুজোতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কলকাতা পুলিশ, রাজ্যের মানুষজন এবং পুজো কমিটিগুলি ভাল কাজ করেছে। এভাবেই ঋণের বোঝা নিয়েও উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। ৬৪ বছরে কী হয়েছে? আর ৮ বছরে কী হয়েছে? পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ২৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা আগের থেকে ১১ শতাংশ বেশি।’
একদিকে বাংলার ছেলে অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি নোবেল পেয়েছেন। অন্যদিকে বাংলার ছেলে তথা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়েছেন। সেটা খুব গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অভিজিতের মায়ের কাছে যাব। সৌরভের সঙ্গে কথা হয়েছে এসএমএসে। তারপর আবার এলে কথা হবে। ও তো ঘরের ছেলে। এই দুটো ঘটনা বাংলার জন্য গর্বের।’
মনমোহন-রাজনের আমলেই ব্যাংকের দুরাবস্থা: সীতারমন-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বিশ্ব জুড়ে একের এক সমীক্ষা বারে বারে উঠে আসছে একটাই ছবি। তাহল চলতি মোদী সরকারের জমনায়ে দেশের অর্থনীতির হাল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আর সেই সমীক্ষাকে ভুল প্রমান করতে গত বেশ কিছু মাস ধরে প্রলব যুক্তি-তর্কে নেমেছেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। আর সেই যুদ্ধে বুধবার আবারও একবার কংগ্রেস জমানার অর্থনীতি নিয়ে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর জমানাতেই দেশের ব্যাংকিং সেক্টর সবচেয়ে খারাপ দশার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে নির্মলা বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলির উন্নয়ন। কারণ এই ব্যাংকই দেশের লাইফলাইন। সেটা ভুলে যায়নি তাঁদের সরকার। কারণ এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক গুলি সরকারের নীতির উপর নির্ভরশীল। রাজনের জমানায় শুধু মাত্র ফোনকল এবং রাজনৈতির নেতাদের নির্দেশেই চলত ব্যাংক এমনই অভিযোগ করেছেন তিনি। সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।