যারা আমাকে সম্রাট বানিয়েছেন তারা কোথায়?’: দৈনিক ইত্তেফাক
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৮ অক্টোবর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান নেতারা-দৈনিক প্রথম আলো
- গোলাগুলির ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি, আলোচনা করে সমাধান করব': দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- জামায়াতকে তালাক দিয়ে রাস্তায় নামুন: বিএনপিকে জাফরুল্লাহ-দৈনিক যুগান্তর
- যারা আমাকে সম্রাট বানিয়েছেন তারা কোথায়?’: দৈনিক ইত্তেফাক
- সারাদেশে ঐক্য ছড়িয়ে দেয়ার আহবান ড. কামালের-দৈনিক মানবজমিন
- বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে যা বললো বিজিবি–দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের খবর:
- ‘মন খুলে কথা, ওঠেনি কাশ্মীর প্রসঙ্গ, স্বস্তি দিল চিন-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ‘অভিজিৎ বামপন্থী, তাঁর ভাবনাকে ছুড়ে ফেলেছে দেশ’, আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের-দৈনিক আজকাল
- পা অমিত শাহর সঙ্গে গোপন বৈঠক সৌরভের, নয়া জল্পনা ক্রিকেট মহলে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা-এবার বাছাইকৃৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান নেতারা-দৈনিক প্রথম আলো
ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর নিজেকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে গুটিয়ে নেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। প্রায় এক মাস ধরে ধানমন্ডির নিজ বাসায় অনেকটা ‘নির্বাসিত’ জীবন যাপন করছেন। নেতা-কর্মীরাও যাচ্ছেন না তাঁর কাছে। যুবলীগ চেয়ারম্যানের নীরব পতন হয়েছে বলে মনে করছেন নেতা–কর্মীরা। এখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন যুবলীগেরই কয়েকজন নেতা।
তবে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।৩ অক্টোবর ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাঁর নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, বিবরণীর তথ্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা দেয় অভিবাসন পুলিশ। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যেসব রাজনৈতিক নেতার নাম এসেছে, তাঁদের সবার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়।
যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলে, প্রায় ১০ বছর একক কর্তৃত্বে সংগঠন চালিয়েছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থের বিনিময়ে
বিতর্কিতদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং অপকর্মে প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। নৈতিক স্খলনের কারণে নিজ থেকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল তাঁর। পদ ধরে রাখায় সংগঠনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন তাঁকে বাইরে রেখেই যুবলীগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আগামী রোববার চূড়ান্ত হতে পারে।
গোলাগুলির ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি, আলোচনা করে সমাধান করব': দৈনিক কালেরকণ্ঠ
'ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিএসএফ গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এতে আমরা মর্মাহত। প্রয়োজনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে।' আজ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় জেলেকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে গুলিবিনিময় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সবাই জানেন। বিজিবি পদ্মা নদীতে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে জানা যায় তারা ভারতীয় জেলে। জেলেরা গিয়ে বিএসএফ-কে ঘটনা জানালে তারা আসেন। পরে, ভুল বোঝাবুঝিতে বিএসএফ গুলি ছুড়লে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। প্রয়োজনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে।' তিনি বলেন, 'বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। উভয়পক্ষ বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।'
অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সীমান্তে র্যাব টহল দিতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে যায়। ফলে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভারতের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক। আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এগুলোর সন্তোষজনক সমাধান করব।
জামায়াতকে তালাক দিয়ে রাস্তায় নামুন: বিএনপিকে জাফরুল্লাহ-দৈনিক যুগান্তর
২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে তালাক (বাদ) দিয়ে বিএনপিকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি’ নিয়ে এ মানববন্ধন হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফজলে সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিএনপি নেতা আমীর খসরুর উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হয়েছে। আজকে জনগণের প্রশ্ন সামনে ভোট দিতে পারবো কিনা? ভোট দেয়ার সংগ্রামটাই জনগণের কাছে আসল। এজন্য আন্দোলন করতে হবে। জামায়াত জোটে থাকলে আন্দোলন হবে না। এই যে আমীর খসরু। এটা আপনাদেরই দায়িত্ব। সব বিভেদ একটু ভুলে গিয়ে জামায়াতকে তালাক দিয়ে রাস্তায় নামুন। বাংলাদেশ আপনাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুক্তি আসবে এবং খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন।
তিনি বলেন, আজকে আবরারের হত্যাকাণ্ডের যে কাহিনী শুনছি, তারা (সরকার) ৩০২ ধারায় মামলাকে ৩০৪ ধারায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। এই সরকারের জন্য এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন না। তাই সবাইকে আগামী দিনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরিভাবে একটি দলীয় অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন খসরু।
যারা আমাকে সম্রাট বানিয়েছেন তারা কোথায়?’: দৈনিক ইত্তেফাক
ঢাকায় ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গতকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে ছিলেন সম্রাট ও আরমান। অস্ত্র ও মাদক মামলায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট বলেন, অনেকেই আমাকে আজকের সম্রাট বানিয়েছেন। তারা আজ কোথায়? আসছেন না কেন? আমার দলীয় অবস্থান ধরে রাখতে তাদের অনেকের আর্থিকসহ বিভিন্ন চাহিদা মিটাতে গিয়ে আজকে আমার এই পরিণতি।
জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট বলেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তো অনেকেই পেয়েছেন। শুধু তাকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? তাকে শুধু গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্যদের কেন নয়? এদিকে সম্রাটের মামলা দুটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলা তদন্ত করছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে মামলা দুটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।
সারাদেশে ঐক্য ছড়িয়ে দেয়ার আহবান ড. কামালের-দৈনিক মানবজমিন
জাতীয় ঐক্যের ডাক জেলায়-জেলায়, গ্রামে-গ্রামে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলেছেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক হিসেবে যেন নিজের ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য এ ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে। এবার জনগণকে ক্ষমতার মালিকের ভূমিকা রাখতে হবে। সেজন্যই আমাদের এ ঐক্যের ডাক। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে মুক্তিজোট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথ বলেন।
ড. কামাল বলেন, আমরা অতীতে ঐক্যের ডাক দিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি, সফল হয়েছি। আপনারা এখানে যেমন ঐক্যের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন। সে রকম পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামে সব জায়গায় এ ঐক্যের ডাককে নিয়ে যাবেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে তারা এ দেশের মালিকের ভূমিকা রাখতে পারবে।

আমাদের আনাকাঙ্খিত গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। সেই ধরনের শাসনের মধ্যে জনগণ তাদের আকাঙ্খিত লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারবে। আসুন আমরা এ শপথ নেই, আমাদের এ ঐক্য সবচেয়ে বড় শক্তি।আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করে, গণতন্ত্রকে ভালোভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে আমরা দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পদক্ষেপ অবশ্যই নেব। আমাদের সবচেয়ে বেশি যেটা পক্ষে আছে, সেটা হলো জনগণ। আমরা যে ঐক্যের ডাক দিয়ে নেমেছি, সেটায় অনেক সাড়া পড়ছে। আমরা আগামীতে দেশকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবো।
জনগণ ক্ষমতার মালিক এটা সংবিধানে লেখা আছে। সাময়িকভাবে কোনো সরকার বৈধভাবে এলেও তারা মালিক নয়। মালিকের প্রতিনিধি। আর যারা অবৈধভাবে ওখানে আছে, তারাতো কিছুই না। তারা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী।ড. কামাল বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের বলে দেয়, জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। যারা দেশে স্বৈরশাসন চালাতে চায়, তাদের মূল চেষ্টা থাকে সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতায় বিভেদ সৃষ্টি করা। যারা দেশে জনগণের শাসন চায় না, গণতন্ত্র চায় না, তারা বলে দেশ কতভাগে বিভক্ত। জনগণ যে দেশের মালিক, সেটা তারা স্বীকারও করে না, তাদের ক্ষমতাও দিতে চায় না। অন্যদিকে আমরা সবাই মনে করি, যারা এসব করার চেষ্টা করে তারা অতীতে এগুলো করে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের শক্তি হলো জনগণের ঐক্যের মধ্যে যারা স্বৈরশাসক হিসেবে চালাতে চেয়েছে তারা পারেনি। সাময়িকভাবে পারলেও ধরে রাখতে পারেনি।
বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে যা বললো বিজিবি–দৈনিক নয়া দিগন্ত
রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে গোলাগুলিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্য নিহতের যে দাবি ভারতের পক্ষ থেকে করা হয়েছে সে বিষয়ে ‘নিশ্চিত নন’ বলে জানিয়েছেন বিজিবির আঞ্চলিক কমান্ডার। বৃহস্পতিবার সকালে চারঘাটের শাহরিয়ার খাল এলাকায় ‘ইলিশ ধরা ঠেকানো’ নিয়ে ওই সংঘর্ষের পর বিকালে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী-বিএসএফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয় বিজিবির। রাতে বিজিবি-১ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসএফের একজন সদস্য নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন বলে তাদের আঞ্চলিক কমান্ডার পতাকা বৈঠকে দাবি করেছেন।
তবে এর পক্ষে ভিডিও বা কোনো প্রমাণ তিনি দেখাননি। তার দাবি সত্যি হয়ে থাকলে এটা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।’ বিএসএফের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তে ওই ঘটনায় বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং নিহত এবং আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আর বিজিবির বিবৃতিতে পুরো ঘটনার বিবরণে বলা হয়, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চারঘাট বিওপি থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এবং সীমান্ত পিলার ৭৫/৩-এস থেকে ৫০০ মিটার বাংলাদেশের ভেতরে চারঘাট থানার শাহরিয়ার খাল এলাকায় মাছ ধরছিলেন তিন ভারতীয় জেলে। ওই সময় সেখানে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পদ্মা নদীতে অভিযান চলছিল।
এবার ভারতের বিস্তারিত কিছু খবর তুলে ধরছি
সমঝোতায় সায় নেই, জানাল মুসলিম পক্ষের একাংশ, নয়া মোড় অযোধ্যা মামলায়-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণা বাকি এখনও। তার আগেই অন্য মোড় নিল অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা। জমির দাবি ছাড়ার প্রস্তাবে একেবারেই সায় নেই বলে এ বার জানিয়ে দিল অযোধ্যা মামলায় মুসলিম পক্ষের একাংশ। তাদের দাবি, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড যে প্রস্তাব দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তাতে হতবাক তারা।

মুসলিম পক্ষের প্রতিনিধিদের দাবি, শীর্ষ আদালত নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী কমিটির সঙ্গে তাঁদের কোনও সমঝোতাই হয়নি। যদি হয়ে থাকে তা একমাত্র সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বোর্ডের কোনও সমঝোতা হলেও, তা সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ফাঁস হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ইচ্ছাকৃত ভাবেই বিষয়টি ফাঁস করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁদের।
এর আগে, বুধবার বন্ধ খামে একটি রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মধ্যস্থতা কমিটি। ওই রিপোর্টে বিতর্কিত জমির দাবি ছাড়তে রাজি হয়েছে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড। মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে অন্যতম শ্রীরাম পঞ্চুর মাধ্যমে একটি চিঠি দিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে তারা। কিন্তু এ দিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সেই দাবি খারিজ করেন অযোধ্যা মামলায় মুসলিম পক্ষের আবেদনকারী এম সিদ্দিকের আইনজীবী এজাজ মকবুল। তিনি বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রিপোর্টে সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কোনও প্রস্তাবে আমরা রাজি নই। যে পদ্ধতিতে মধ্যস্থতা হয়েছে এবং মীমাংসার মাধ্যমে জমির দাবি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাতেও তাতেও একমত নই আমরা।’’
এজাজ মকবুলের দাবি, ‘‘কোনওরকম সমঝোতায় যেতে রাজি নয় বলে মামলায় প্রধান হিন্দুপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। মুসলিম আবেদনকারীরাও মীমাংসায় রাজি হননি। একমাত্র ব্যতিক্রম সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। এমন পরিস্থিতিতে কোনওরকম সমঝোতার প্রস্তাব গ্রহণ করাই সম্ভব নয়।’’
‘অভিজিৎ বামপন্থী, তাঁর ভাবনাকে ছুড়ে ফেলেছে দেশ’, আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের-দৈনিক আজকাল
অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন আরেক বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। গোটা দেশ যখন তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তখন মোদির মন্ত্রিসভার মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ব্যস্ত অভিজিতকে কটাক্ষ করতে। শুক্রবার পুনেতে সাংবাদিক সম্মেলনে নোবেল জয়ীর মতাদর্শ এবং তাঁর ভাবনাচিন্তা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, দেশের জনগণ তাঁর ভাবনাকেই তো ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।
পীযূষ গোয়েলের কথায়, ‘নোবেল জেতার জন্য অভিজিৎ ব্যানার্জিকে আমি অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আমরা সবাই ওনার ভাবনা চিন্তা সম্পর্কে জানি। তিনি বামপন্থায় বিশ্বাসী। পাশাপাশি অভিজিৎ কংগ্রেসের ন্যায় প্রকল্পের অনেক গুণগান করেছিলেন। পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশবাসী তাঁর সেই ভাবনাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।’ এই প্রথম নয়, নোবেল জয়ের পর থেকেই অভিজিতকে লাগাতার বিজেপির নেতা–মন্ত্রীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। কখনও ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় তাঁর বাঙালি হওয়া নিয়ে আক্রমণ করেছেন, কখনও আবার অনন্তকুমার হেগড়ে প্রকাশ্যে অভিজিতের সমালোচনা করেছেন। আর এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল পীযূষ গোয়েলের।
‘বাংলার ভোটে এনআরসিই ইস্যু করব’, বার্তা অমিত শাহর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এরআরসিকে হাতিয়ার করেই বিজেপি আগামী দিনে বাংলার মসনদ দখল করতে চাইছে। এমন সম্ভাবনাই প্রবল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে বাংলার প্রসঙ্গে বলার সময় জোরালোভাবে এনআরসি ইস্যুকে সামনে তুলে ধরেছেন তাতে রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি অর্থাৎ এনআরসি যে বিজেপির প্রচারের অন্যতম ইস্যু হবে, সেই বার্তাই মিলেছে।
বৃহস্পতিবার, একটি জাতীয় বৈদ্যুতিন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এনআরসি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ বলেন, “বাংলায় এনআরসির কথা বলবই। আগামী নির্বাচনে বাংলায় এনআরসি অবশ্যই একটা ইস্যু। বাংলায় এবারের নির্বাচনেও এনআরসি ইস্যু ছিল।” লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি যে সাফল্য লাভ করেছে তার পিছনে অন্য বিষয়ের পাশাপাশি এনআরসিও ছিল বলে শাহ মন্তব্য করেছেন। বাংলায় যে তাঁরা আগামী দিনে ক্ষমতা দখল করবেন একথা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বলে আসছেন শাহ। এদিনও তাঁর মুখে সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি শোনা গিয়েছে।
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।