নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৮ অক্টোবর সোমবাররে কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ‘শিগগিরই আসছে ৪১তম বিসিএসের ঘোষণা-দৈনিক প্রথম আলো
- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- খালেদা জিয়াকে জামিন দিন, নইলে ক্ষতির দায় সরকারের: ড. মোশাররফ- দৈনিক যুগান্তর
- নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি-দৈনিক ইত্তেফাক
- ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ড. ইউনূসকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি নয়: হাইকোর্ট-দৈনিক মানবজমিন
- গণধর্ষণ থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে ফের ধর্ষণকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- দীপাবলিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় এ বার প্রধানমন্ত্রীর মুখেও পাক অধিকৃত কাশ্মীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- পাক আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা, বিশ্ব দরবারে নালিশ দিল্লির-দৈনিক এই সময়
-
তুবড়ি ফেটে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার বাজি বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার প্রশ্নপাক আ
১.বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কোনমতেই অবনতি হয় নি বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন জানানোর পর এ বক্তব্য দেয়া হলো। কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?
২.উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হয়েছে বলে আমেরিকা দাবি করেছে। তবে রাশিয়া বিষয়টিতে সংশয় প্রকাশ করেছে। আর ইরান বলেছে, বাগদাদী নিহত হলেও আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া বন্ধ করে নি। সামগ্রিকভাবে এ বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?
জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ
‘শিগগিরই আসছে ৪১তম বিসিএসের ঘোষণা-দৈনিক প্রথম আলো
আসছে ৪১তম বিসিএস। খুব শিগগিরই এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি)। এই বিসিএস হবে সাধারণ (জেনারেল)। এই বিসিএসে নেওয়া হবে ২ হাজার ১৩৫ জনকে।পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসি নির্দেশনা পেয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র তারা হাতে পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার চূড়ান্ত অবস্থানে আছে পিএসসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগিরই এটি পিএসসির ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে।’ তবে কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
তবে পিএসসির বেশ কয়েকটি সূত্র জানায় বিজ্ঞপ্তি এই মাসের শেষ দিন প্রকাশের সম্ভাবনা আছে, তা না হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই প্রকাশ করা হতে পারে।
এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেওয়া হবে। শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশে ১০০, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জনকে নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেওয়া হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।
সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।
৪১তম বিসিএসেও প্রচুর আবেদন জমা পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান পিএসসির একাধিক সূত্র।
৪০তম বিসিএসের জন্য গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। এতে আবেদন করেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩ মে। ২৫ জুলাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করছেন ২০ হাজার ২৭৭ জন প্রার্থী। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে আজ দুপুরে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার বেলা একটায় শহীদ ডা. মিল্টন হলে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয় তুলে ধরেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তির সময় খালেদা জিয়ার অনিয়ন্ত্রীত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কঠিন রিউমেটিক আথ্রাইটিসসহ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা ছিল। এ কারণে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে।
বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ও উন্নতির দিকে রয়েছে জানিয়ে মাহবুবুল হক বলেন, ‘কোনো কোনো বিষয়ে ওনার উন্নতি হচ্ছে এবং কোনো কোনো বিষয়ে ওনার চিকিৎসা ভালো হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চিকিৎসকরা প্রায়ই অনুমতি পান না। ফলে চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটে।

এ সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বিএসএমএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. জিলন মিঞা সরকার, অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিন, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হকসহ অন্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। পরে চলতি বছরের ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে ২২১নং কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
খালেদা জিয়াকে জামিন দিন, নইলে ক্ষতির দায় সরকারের: ড. মোশাররফ
গত দেড় বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জামিন না দিলে খালেদা জিয়ার যদি কোনো ক্ষতি হয়, তা হলে সব দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ড. মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হোক। যাতে তিনি তার সুবিধামতো স্থানে চিকিৎসা নিতে পারেন। যদি জামিন দেয়া না হয়, আর পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতাল অথবা কারাগারে যদি দেশনেত্রীর কোনো ক্ষতি হয়, তবে এর সব দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।
নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি-দৈনিক ইত্তেফাক
ফেনী জেলা কারাগারে পৃথক কনডেম সেল না থাকায় নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে পাঠাতে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। সোমবার ফেনী জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ফেনী জেলা কারাগারে থাকা নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি যেসব সেলে রয়েছে, সেসব সেলে থাকা অন্য আসামিদেরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
ফেনী কারাগারের জেলার দিদারুল আলাম বলেন, ‘ফেনী জেলা কারাগারে কোনো কনডেম সেল নেই। এজন্য নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর জন্য আইজি প্রিজনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ কুমিল্লা কারাগারে অনেকগুলো কনডেম সেল রয়েছে।সেসব কনডেম সেল ফাঁকা থাকলে আসামিদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ফাঁকা না থাকলে কাশিমপুরসহ যেসব কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেল ফাঁকা রয়েছে, সেখানে আসামিদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এরআগে বৃহস্পতিবার সোয়া ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। এবং প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি মো: রুহুল আমিন (৫৫), মহি উদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ২৭ মার্চ। পরের দিন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন নিহত নুসরাতের মা শিরিন আখতার। সেদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কিছু ক্যাডার জনমত গঠন করে সিরাজকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য। তারা সিরাজকে মুক্ত করতে রাস্তায় আন্দোলনও করে।
৩ এপ্রিল খুনিরা সিরাজের সঙ্গে জেলখানায় পরামর্শ করে এসে ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে খুন করার পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে খুনিরা পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসা হয় নুসরাতের।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল ৮ জনকে আসামি করে ও অজ্ঞাতপরিচয় বোরকা পরা চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয় ১০ এপ্রিল। সেদিন রাতেই মারা যান নুসরাত। মৃত্যুর আগে ডাইং ডিক্লারেশন দিয়ে যায় সে তার সেই ডিক্লারেশনের ক্লু ধরেই এগোতে থাকে মামলা। এক এক করে গ্রেফতার করা হয় আসামিদের।
১১ এপ্রিল নুসরাতের মরদেহ আনা হয় তার বাড়িতে। সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে নামাজে জানাজার পর সমাহিত করা হয়। সেদিন নুসরাতের জানাজায় লোকে লোকারণ্য ছিল। লাখো মানুষ তার জানাজায় অংশ নিয়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

এরপর একে একে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয় ২১ জনকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ১২ জন। ২৮ মে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত পাঁচজনকে বাদ দিয়ে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে ১৬ জনকে। নুসরাত হত্যায় পুলিশের অবহেলার অভিযোগে ১৩ মে প্রত্যাহার করা হয় ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে। নুসরাতের থানায় হেনস্থা হওয়ার ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর ৮ মে সোনাগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেয়াজ্জেম হোসেনসহ পুলিশের দুই এসআইকে বহিষ্কার করা হয় ৮ মে। এরপর তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ১৬ জুন তাকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
১০ জুন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। এরপর ২০ জুন চার্জ গঠন হয়। ২৭ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দেন মোট ৮৭ জন। দীর্ঘ ৪৭ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল যুক্তিতর্ক চলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬২ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।
৭ নভেম্বর পর্যন্ত ড. ইউনূসকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি নয়: হাইকোর্ট-দৈনিক মানবজমিন
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়েছে তাকে।এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।রোকন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তিন ব্যক্তি লেবার কোর্টে তিনটা মামলা করেছেন। এই তিন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
যখন মামলাটা ফাইল হয়, তখন তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সময়ও তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এখন ড. ইউনূস এয়ারপোর্টে আসলে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তার জন্য উনার ভাই মুহাম্মদ ইব্রাহীম একটি রিট পিটিশন করেছিলেন।আদালত আদেশ দিয়েছেন উনি দেশে ফিরে ফ্রিলি কোর্টে যেতে পারবেন। উনাকে কেউ হয়রানি করবে না। তিনি ৭ই নভেম্বরের মধ্যে কোর্টে হাজির হবেন।উল্লেখ্য, গত ৩রা জুলাই গ্রামীণ ট্রাস্টভুক্ত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শাহ আলমসহ তিনজন বেআইনভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে এই মামলা করেছিলেন। গত ৯ই অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল ইসলাম। এরপর শ্রম আদালত ইউনূসকে হাজির হতে গত ৮ই অক্টোবর সমন জারি করেছিল।
গণধর্ষণ থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে ফের ধর্ষণকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভোলার মনপুরায় স্পীডবোট যাত্রী এক নারীকে গণধর্ষণ থেকে বাঁচাতে গিয়ে ফের ধর্ষণকারী সেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ অক্টোবর) রাতে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত নজরুল দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের আজগর আলী চৌধুরীর ছেলে।
জানা যায়, শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আড়াই বছরের পুত্র সন্তান নিয়ে চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট থেকে স্পীডবোটে করে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরার জনতা বাজার যাচ্ছিলেন এক গৃহবধূ। কিন্তু বোটে থাকা ৪ যাত্রী ঐ গৃহবধূকে গন্তব্যস্থলে যেতে না দিয়ে সাগর মোহনার চর পিয়ালে নিয়ে গণধর্ষণ করে। খবর পেয়ে স্পীডবোটের মালিক ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি ৪ ধর্ষককে মারধর করেন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা কেড়ে নেন। এরপর তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজেই ওই গৃহবধূকে আবারো ধর্ষণ করে।
এসময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ধর্ষক নজরুল ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। পাশাপাশি ধর্ষণের খবরটি কাউকে জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই গৃহবধূকে মনপুরা যেতে না দিয়ে স্পীডবোটে করে চরফ্যাশনে রেখে আসে। এরপর চরে থাকা মহিষের বাতানদের (রাখাল) নিকট থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলসহ স্থানীয়রা ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এত বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। বিষয়টি গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে তারা। গ্রেফতার করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ধর্ষক নজরুল ইসলামকে।
মনপুরা থানার ওসি মো: শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আসামীরা ধর্ষণ শেষে ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম মনপুরার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। রোববার ভোররাতে ধর্ষক নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
দীপাবলিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় এ বার প্রধানমন্ত্রীর মুখেও পাক অধিকৃত কাশ্মীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে প্রথম সে রাজ্যের মাটিতে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুঞ্চের রাজৌরিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপন করলেন। সেই সঙ্গে উস্কে দিলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রসঙ্গ। এই প্রথম পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়ে মুখ খুললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
আজ সরাসরি রাজৌরিতে বি জি ব্রিগেডের সদর দফতরে যান মোদী। সঙ্গে ছিলেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়ত। সেখানে সেনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিমান পৌঁছনোর কিছু ক্ষণ আগেই রাজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনার পোস্ট লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। জবাব দেয় ভারত। দীপাবলির মিষ্টি বিনিময় হয়নি আজ।
‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনির মধ্যে সেনার জ্যাকেট গায়ে জওয়ানদের মিষ্টি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘দেশভাগের পরে কাশ্মীর দখলের ছক কষেছিল পাকিস্তান। আমাদের সেনারা সেই ছক ব্যর্থ করে দেন। কিন্তু কাশ্মীরের কিছু অংশ ওদের হাতে থেকে গিয়েছে। বেআইনি ভাবে ওরা সেই অংশ দখল করে আছে। সেই যন্ত্রণা আমরা ভুলিনি।’’ এর আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নিয়ে মুখ খুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ দাবি করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কেবল পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি আবার সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়ত বলেছেন, ‘‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’ আজ মোদীও সেই সুরে মুখ খোলায় পিওকে নিয়ে সরকার ধাপে ধাপে সুর চড়াচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকেরা।
রাজৌরির সদর দফতরে উপস্থিত প্রায় এক হাজার সেনার উদ্দেশে মোদী বলেন, ‘‘আপনাদের বীরত্বের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে পারছে যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হত।’’ রাজনীতিকদের মতে, পরোক্ষে পুলওয়ামা হামলার পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের কথা বলেছেন মোদী।
১৯৪৭ সালে এ দিনই প্রথম কাশ্মীরে পা রেখেছিলেন ভারতীয় সেনারা। সেই ঘটনার স্মৃতিতে পালন করা হয় ‘ইনফ্যান্ট্রি ডে’। দীপাবলির পাশাপাশি মোদীর সফরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সেনার সেই উৎসবও।
২০১৪ সাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সেনা ও আধাসেনাদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপন শুরু করেন মোদী। সিয়াচেন, পঞ্জাব, হিমাচল, উত্তর কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ড সীমান্তে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে রাজৌরি সেক্টরকে বেছে নেওয়ায় মোদীর সফর অন্য মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজৌরির পরে পঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও যান তিনি।
মোদীর সঙ্গে কথা বলে স্পষ্টতই উল্লসিত সেনারা। এক জন বললেন, ‘‘কখনও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপন করবেন। এটা আমাদের কাছে বড় বিস্ময়। ওঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা গর্বিত।’’
এরই মধ্যে সরকারকে চিন্তায় রেখেছে কাশ্মীরে জঙ্গিদের নয়া কৌশল। বৃহস্পতিবার শোপিয়ান জেলায় জঙ্গি হামলায় দুই ট্রাকচালক নিহত হওয়ার পরে তল্লাশি শুরু করে যৌথ বাহিনী। জওয়ানেরা দেখতে পান, ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন কাটা রয়েছে। ক্ষতি করা হয়েছে একটি টাওয়ারেরও। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, ওই টাওয়ার ভেঙে পড়লে কাশ্মীরের নানা অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
পাক আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা, বিশ্ব দরবারে নালিশ দিল্লির-দৈনিক এই সময়
আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় এ বার পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থায় টেনে নিয়ে গেল দিল্লি। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে পাক আকাশসীমা ব্যবহার করতে না-দেওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গ্যানাইজেশন (ICAO)-কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, 'VVIP বিশেষ বিমান যাকে সাধারণ ক্ষেত্রে অন্য যে কোনও দেশ আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তাকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে বাধা দেওয়াটা দুঃখজনক। ICAO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী অন্যান্য দেশগুলির আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়াটাই নিয়ম। তবে পাকিস্তান তা না-দেওয়ায় বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থায় জানিয়েছি।'
তুবড়ি ফেটে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার বাজি বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
তুবড়ি ফেটে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন বাজি বিক্রেতা। অন্যজন বাজি প্রস্তুতকারক। বিনা লাইসেন্সে বাজি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দু’জনকে।
রবিবার সন্ধেয় বাড়ির সামনেই বাজি পোড়াচ্ছিল হরিদেবপুরের কচিকাচারা। সেই সময় ঠাকুমার সঙ্গে রাস্তায় বেড়িয়েছিল বছর পাঁচেকের আদি দাস। সেই মুহূর্তে রাস্তার উপর তুবড়ি জ্বালানো হচ্ছিল। তখনই আচমকা তুবড়ির ভাঙা অংশ ছিটকে আদির গলায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। সূত্রের খবর, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই আদি গলা থেকে তুবড়ির ভাঙা অংশ বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ আদির বাবা-মা। দুর্ঘটনা খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশ আধিকারিকররা। ঘটনাস্থল থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেন।

এরপর ওই শিশুর পরিবারের সদস্যদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে দোকান থেকে ওই তুবড়ি কেনা হয়েছিল, সেই দোকানের মালিক বরুণ রায়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার থেকেই বাজি প্রস্তুতকারক বিজয় সর্দারের হদিশ পায় তদন্তকারীরা। দু’জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিজেই বাজি প্রস্তুত করত বিজয় সর্দার। কোন মানের উপকরণ ব্যবহার করে ওই তুবড়ি প্রস্তুত করেছিল সে, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে এসেছে গতবছরের মজুত করা বাজি বিক্রি করেছিল বরুণ। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে তুবড়ি ফেটেই মৃত্য হয়েছে কসবার বাসিন্দা দীপকুমার কোলের। কোথা থেকে বাজি কিনেছিলেন ওই ব্যক্তি, ঠিক কী হয়েছিল রবিবার রাতে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। #
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।