ভয় পেলে অভিযানে নামতাম না- বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩০ অক্টোবর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- সাকিবের পাশে ফুটবল–অধিনায়কও-দৈনিক প্রথম আলো
- প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি : বিএনপি নেতা গিয়াস কাদেরের তিন বছরের জেল': দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- বিসিবির সঙ্গে সাকিবের চুক্তি বাতিল!-দৈনিক যুগান্তর
- ঢাবির মহসীন হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার- দৈনিক ইত্তেফাক
- ভয় পেলে অভিযানে নামতাম না- বলেছেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন
- সরকার ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে : মির্জা ফখরুল–দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের খবর:
-
কাশ্মীরে জঙ্গি হানায় আহত শ্রমিকেরও মৃত্যু হাসপাতালে, হত বেড়ে ৬-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- বই পড়ে দারিদ্র্যের কথা শিখিনি, শিখেছি চা–বিক্রি করে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল
- কাশ্মীর অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিদেশিদের ডাকা হল কেন?”, বিজেপিকে তোপ শিব সেনার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
সাকিবের পাশে ফুটবল–অধিনায়কও-দৈনিক প্রথম আলো
দুজনই বাংলাদেশের দুই খেলার ‘পোস্টার-বয়’। ক্রিকেটে যেমন সাকিবের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা দেশ, ফুটবলে জামাল ভূঁইয়াও তেমনই। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জুয়াড়িদের অনৈতিক প্রস্তাব সম্পর্কে না জানানোর জন্য ২ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত সাকিব। এর মধ্যে এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। এ যেন এক কঠিন দুঃসময়। এই খারাপ সময়ে সাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
গত রাতে সাকিবকে নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন জামাল ভূঁইয়া। দুঃসময়ে সাকিব যেন ভেঙে না পড়েন, সে আশাই করেছেন তিনি, ‘বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার অন্তত এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে, এটা বেশ কষ্টকর। ভেঙে পড় না সাকিব। মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’ সঙ্গে সাকিবের একটা ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি।
জামাল ভূঁইয়ার সেই পোস্ট।সাকিব নিজে কোনো দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভুল, জুয়াড়িদের কাছ থেকে অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েও সেটি নিজের মধ্যে রাখা। ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে না জড়িয়েও এত বড় শাস্তি পেলেন সাকিব—জামালকে এটাই কষ্ট দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
নিষিদ্ধ হওয়ায় ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের আগে আর ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারছেন না সাকিব। যার মানে, সাকিবকে ছাড়াই আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। সেই পর্ব সফলভাবে পেরিয়ে যেতে পারলেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি: বিএনপি নেতা গিয়াস কাদেরের তিন বছরের জেল': দৈনিক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই। আজ বুধবার চট্টগ্রামের একটি আদালত এই আদেশ দেন।
২০১৮ সালে ২৯ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘আপনার বাবার চেয়েও আপনার অবস্থা খারাপ হবে’। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। মামলার সব কার্যক্রম শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গিয়াস কাদের।
বিসিবির সঙ্গে সাকিবের চুক্তি বাতিল!-দৈনিক যুগান্তর
এক ভুলে অনেক কিছু হারাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন রাখায় সব ধরনের ক্রিকেটে এক বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। যদিও প্রথমে নিষেধাজ্ঞাটা দুই বছর ছিল। এ সময়ে ক্রিকেট থেকে কোনো উপার্জন হবে না তার।
মানসম্মানও খুইয়েছেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞার পর পরই মর্যাদাপূর্ণ মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। এ রকম আরও অনেক ক্রিকেটীয় অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে হবে তাকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ গ্রেডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের একজন সাকিব। 'এ' প্লাস ক্যাটাগরিতে বোর্ড থেকে মাসে চার লাখ টাকা বেতন পেতেন তিনি। সেই চুক্তিও বাতিল হচ্ছে।

সাকিব এক বছর কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। এমনকি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে অটোমেটিক বিসিবির সঙ্গে তার পূর্ব চুক্তি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বোর্ড সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব। এদিন থেকেই বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তা কার্যকর থাকার কথা। তবে এ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাকিবের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি বাতিল হচ্ছেই। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, নিয়মানুযায়ী নিষেধাজ্ঞার দিন থেকে দুপক্ষের চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। সেটি সম্ভবত আর থাকছে না।
ঢাবির মহসীন হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার- দৈনিক ইত্তেফাক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মহসীন হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হলের পিছন থেকে আজ বুধবার সকালে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি রামদা, ২টি বড় ছুরি ও বেশ কিছু লোহার পাইপ।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাতে আকস্মিক হলে তল্লাশি চালায় হল প্রশাসন। ওই সময়ে অপ্রীতিকর কিছু পাননি তারা। পরবর্তীতে সকালে হলের কর্মচারীরা পেছনের অংশ পরিচ্ছন্ন করতে গেলে সেখানে এসব সরঞ্জাম পায় তারা। পরবর্তীতে হল প্রাধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি এসব সরঞ্জাম জব্দ করেন।
এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজমুল হক ভূইয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় হলে হলে অবস্থান করা বহিরাগতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা অভিযান চালাচ্ছি। আমরা হলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল থেকে বহিরাগত ও অছাত্রদের উচ্ছেদের। সেজন্য সবার সহযোগীটা করা উচিত।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক বলেন, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় হলগুলো অছাত্রদের দখলে যাচ্ছে। এসব অছাত্ররা হলগুলোতে অস্ত্র ও মাদকের আখড়া তৈরি করছে। এভাবে হলের অনেকগুলো রুমে মাদকের নিরাপদ আখড়াও গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যদি বিশেষ রুমে অভিযান চালায় তাহলে অবৈধ কাজের শেষ হবেনা। তাঁদের উচিত হলের সবগুলো রুমে তল্লাশি করা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে জানান তিনি।
ভয় পেলে অভিযানে নামতাম না- বলেছেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন
ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে কোন দল করে তা বিবেচ্য বিষয় নয়। অপরাধী অপরাধীই। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভয় পাওয়ার লোক আমি নই। ভয় পেলে আমি এ অভিযানে নামতাম না। গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক ন্যাম সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয় দেশবাসীকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বে ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়েও কথা বলেন। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। আমার বাবাকে দেখেছি কীভাবে সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় এ শব্দটা আমার ছোটবেলা থেকেই নেই। ভয় পাওয়ার লোক আমি না। ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আমি যখন নেমেছি, তখন সে কি করে, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। বিএনপিকে দুর্নীতির খনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তার হাতে গড়া দল, সেখানে আপনারা দেখেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা তো আছেই। হত্যা, খুন, দুর্নীতি এমন ধরনের কোন কাজ নেই, যা তারা করেনি। সেই দলের নেতা যিনি চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে। আরেকজন যাকে ভারপ্রাপ্ত করা হলো, সে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মামলায় দেশান্তর। তাদের মুখে এতো কথা কোথা থেকে আসে, কোন সাহসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীর সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। আর আমরা ঘর থেকে অভিযানটা শুরু করেছি। না হলে তো আবার বলত রাজনৈতিক হয়রানির জন্য আমরা এটা করছি।চলমান অভিযানকে বিএনপির তরফে আইওয়াশ বলা হচ্ছে-এটি আসলে কি আইওয়াশ এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আইওয়াশ করতে যাবো কেন? আমি তো আমার আপন-পর কিছু দেখিনি। যারাই অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরই ধরা হচ্ছে। তাহলে আইওয়াশ বলে কী করে? আইওয়াশের ব্যবসা বিএনপিই ভালো জানে-বোঝে। দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে এসেছে তো বিএনপি। দুর্নীতিকে ‘নীতি’তে নিয়ে এসেছে তারা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এমন কিছু করেনি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নাকি অন্য কিছু, অপেক্ষা করুন দেখতে পাবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে যেদিন এসেছি, সেদিন থেকেই ভয় নেই। আমার বিরোধীরা বিদেশের মাটিতে সক্রিয়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে আমি এসবকে ভয় পাই না।
কলকাতা টেস্ট দেখতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: সৌরভ গাঙ্গুলীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিসিসিআইয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ইডেন গার্ডেনে ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট দেখতে যাবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সৌরভ আমার সাথে ফোনে কথা বলেছে। আমাকে দাওয়াত দিল। আমি যেন যাই। কলকাতায় যেন থাকি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌরভ গাঙ্গুলি দাওয়াত দিয়েছে, আমি বলেছি যাব। এটা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত না, মুখ্যমন্ত্রীর দাওয়াতও না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সব সময় প্রটোকল, নীতিমালা এতকিছু থাকবে কেন। খেলা দেখতে সকালে যাব বিকালে চলে আসবো। এটুকুই। কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দেখতে গিয়ে তিস্তা নদী নিয়ে কূটনৈতিক কোন আলোচনা হবে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, ক্রিকেটকে নদীতে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? ক্রিকেট খেলা দেখতে যাবো সেখানে তিস্তা নিয়ে কথা বলে তিক্ততা এখানে তুলবো কেন? এসময় প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই খেলা দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন না। আর কূটনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলার তো আরও সময় আছে। তখন কথা হবে।
জীবনে এমন ধর্মঘট দেখিনি: সমপ্রতি ক্রিকেটারদের ডাকা ধর্মঘট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা হঠাৎ করেই একটা ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের দাবি থাকলে তো জানাতে পারত। কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে ধর্মঘট ডাকা জীবনে শুনিনি ক্রিকেটাররা এভাবে ধর্মঘট ডাকে। পরবর্তী সময়ে তারা বোর্ডে গেছে। সে ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে। আমার মনে হয় পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যারা এভাবে ক্রিকেটারদের সমর্থন দেয়। এসময় ?সাকিব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিসিবি সাকিবের পাশে আছে এবং সব রকমের সহযোগিতা দেবে। এই ধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুয়াড়িরা যোগাযোগ করে। ওর (সাকিবের) যেটা উচিত ছিল, যখনই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, ও খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সে আইসিসিকে বিষয়টি জানায়নি। নিয়মটা হচ্ছে, ওর সঙ্গে সঙ্গে জানানো উচিত ছিল। সাকিব এই জায়গায় ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে সে একটা ভুল করেছে। এক্ষেত্রে আপনারা জানেন, আইসিসি যদি কোনও ব্যবস্থা নেয়, এখানে আমাদের খুব বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না। তবু আমরা বলব, বিশ্ব ক্রিকেটে তার একটা অবস্থান আছে। একটা ভুল সে করেছে এবং সেটা সে বুঝতেও পেরেছে। এখানে খুব বেশি কিছু করার নেই আমাদের। বিসিবি’র একজনের ক্যাসিনোতে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনোর যে প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, সেটা বোধহয় ঠিক না। বাইরে কে কী করছে, সেটার সঙ্গে বিসিবির কোনো সম্পর্ক নেই। খোঁজ করলে সাংবাদিকদের ভেতরেও হয়তো ক্যাসিনোতে জড়িত কাউকে পাওয়া যাবে। তখন কী হবে? আমরা তো অভিযান চালাচ্ছি। কে কখন কিভাবে ধরা পড়বে, বলা যায় না। আমরা কিন্তু ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ধরেছি। তাদের কেউ বহাল তবিয়তে আছে, সেটাও ঠিক না। এর আগের এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, এখন আপনারা খুঁজে দেখেন, কোথায় কী পাওয়া যাচ্ছে। কারও যদি জুয়া খেলার আকাঙ্খা থাকে, হোম মিনিস্টারকে বলেছি, একটা চরে জুয়ার ব্যবস্থা করে দেন, ট্যাক্স বসান, নীতিমালা করেন। অন্তত ট্যাক্স তো পাওয়া যায়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। আমরা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। ন্যাম সম্মেলনে যাওয়ার পর সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। সেখানকার প্রবাসীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা বলেছেন তারা ভালো আছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা খুশি। তাই কারও কথায় কিছু যায়-আসে না।
পদ্মাসেতু উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না: মুজিব বর্ষে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের কোনও সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না। পদ্মা সেতুর পুরো প্রক্রিয়াটাই হাইলি টেকনিক্যাল বিষয়। সেতুর নিচের অংশে ট্রেন, ওপরের অংশে গাড়ি চলবে। এটার টেকনোলজিটাই ভিন্ন। এছাড়া নদীর চরিত্রও একটা বড় ব্যাপার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সবচেয়ে খরস্রোতা নদী। একটা বর্ষার পরেই নদীর চরিত্র বদলায়। পলি পড়ে। গতিপথ পরিবর্তন হয়। এসব কারণে অনেক দিন কাজ বন্ধও রাখতে হয়েছিল। তাই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার বিষয়টি অনেক কিছুর ওপরও নির্ভর করে। মুজিব বর্ষের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা এমন আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠিও দিয়েছিলাম এ ব্যাপারে। নূর আছে কানাডায়, তার ব্যাপারেও কানাডা সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। ট্রুডোর (কানাডার প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন-ব্যক্তিগতভাবে তিনিও এরকম নৃশংস ঘটনার বিচার চান। কিন্তু তাদের দেশের আদালতের কিছু নিয়মের কারণে প্রতিবন্ধকতা আছে। বিশ্বের অনেক দেশই এখন মৃত্যুদণ্ড রহিত করেছে। যেহেতু তারা (খুনিরা) মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত, তাই সেই ছুতোয় তারা দেশে না ফেরার কৌশল অবলম্বন করছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুজনকে আমরা আনতে পেরেছিলাম। হুদাকে আনতে পেরেছি থাইল্যান্ড থেকে। মহিউদ্দিনকে আনতে পেরেছি। তিনি বলেন, যে বিচার করার প্রক্রিয়াই ছিল না, নিষিদ্ধ ছিল, সেই বিচার করতে পেরেছি। আমার জন্য কেউ সুন্দর রাস্তা বানিয়ে দেয়নি। রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান এসে তা থামিয়ে দিলো, যারা জেলে ছিল তাদের ছেড়ে দিলো, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিলো। নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
পিঁয়াজ কিন্তু পচেও যায়: পিয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিয়াজ মজুত যারা করছে তারা কত দিন ধরে তা রাখতে পারে, পিয়াজ কিন্তু পচেও যায়। বেশি রাখতে গিয়ে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদের লোকসান হবে। লাভ হবে না। এটাও বাস্তবতা। পিয়াজের দরজা খুলে দেয়া হলো। সমস্যা থাকবে না, হয়তো সাময়িক। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ চলে আসছে। ১০ হাজার টন কয়েক দিনের মধ্যেই চলে আসবে। পিয়াজ কিন্তু অলরেডি আছে। তিনি বলেন, আপনারা পত্রিকায়ই তো বের করেছেন অনেক জায়গায় পিয়াজ রয়ে গেছে। কিন্তু কেন তারা বাজারে ছাড়ছে না, সেটা বড় ব্যাপার।এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাম সম্মেলনে দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, শান্তি যাতে প্রতিষ্ঠা হয়, সেদিকে দৃষ্টি ছিল। সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নে বাহবা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের অব্যবহিত পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরদার করেছে বলে আমি মনে করি। এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যেন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা হয় সেদিকেই এবারকার সম্মেলনের দৃষ্টি বেশি ছিল। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ও বর্তমান অনেক ছাত্রলীগ নেতাকে এর আগে দেখা গেলেও গতকাল তাদের উপস্থিতি ছিল না।
সরকার ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে : মির্জা ফখরুল –দৈনিক নয়া দিগন্ত
আগামী ৭ নভেম্বর "জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস" উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইদিন সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করা হবে। এছাড়া অঙ্গ সংগঠনগুলো মাসব্যাপী পৃথক কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি জনসভা করার প্রস্তাবও এসেছে। আমরা বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নিবো। আজ বুধবার বিএনপির সম্পাদকমন্ডলী ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে এক যৌথসভা শেষে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। সেসময় দেশে একদলীয় শাসনের হাত থেকে সিপাহী জনতার সমন্বয়ে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। আজো বাংলাদেশে সেরকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা দেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। বর্তমান সরকার ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। কৃষক ধানের দামসহ উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। দেশে গণতন্ত্র না থাকায় এসব হচ্ছে। তিনি বলেন, যিনি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন সেই গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ২০ মাস ধরে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। তার প্রাপ্য জামিনও দিচ্ছে না। এটা কোনো আনুকূল্য নয়। আমরা ৭ নভেম্বর সামনে রেখে মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে যেতে চাই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের বাকস্বাধীনতা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করবো। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা গুরুতর অসুস্থ। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় দলের যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশারফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, কৃষকদলের হাসান জাফির তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমদ খান, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এবিএম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
কাশ্মীরে জঙ্গি হানায় আহত শ্রমিকেরও মৃত্যু হাসপাতালে, হত বেড়ে ৬- দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গি হামলায় আহত শ্রমিকেরও মৃত্যু হল হাসপাতালে। তাঁর নাম জহিরুদ্দিন। এই নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হল ৬।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থেকে কাশ্মীরের কুলগামে কাজ করতে যাওয়া পাঁচ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ওই হামলাতেই গুলিবিদ্ধ হন জহিরুদ্দিন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে শ্রীনগরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আজ সকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই জহিরুদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আরেকটি দৈনিকে এসেছে, কাশ্মিরে সংঘঠিত এ ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি এই ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে এই পাঁচ শ্রমিকের পরিবারকে যথাযথ সাহায্য করা হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে লাভ কী হল? যেখানে সেনাবাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে বলে বারবার জানানো হয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের কীভাবে হত্যা করল জঙ্গিরা? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও উত্তর মেলেনি।
বই পড়ে দারিদ্র্যের কথা শিখিনি, শিখেছি চা–বিক্রি করে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল
ফের নিজের প্রচার বিদেশে। কারণ তিনি প্রচারে থাকতে চান। বিরোধীরা এই কথাই এতদিন বলতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে। এবার সৌদি আরবে গিয়ে নিজের চা বিক্রির কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা বিরোধীদের তোলা অভিযোগকে সিলমোহর দেয়। সৌদি আরবের রিয়াদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনও রাজনৈতিক পরিবারে মানুষ হননি তিনি। বরং খুবই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ তিনি। রেল প্ল্যাটফর্মে চা বিক্রি করা তাঁর জীবন যাত্রার একটি অংশ ছিল। ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এফআইআই) এক প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পেছনে কোন বড় রাজনৈতিক পরিবারের নেই।

আমি বই পড়ে দারিদ্র্য সম্পর্কে শিখিনি। আমি দারিদ্রের মধ্যেই বড় হয়েছি। রেল প্ল্যাটফর্মে চা বিক্রি করে আজ এখানে পৌঁছেছি।’ বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলি নিজের প্রচার ছাড়া কিছু নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি আরও জানান, কয়েক বছরের মধ্যেই ভারত দারিদ্র্য দূরীকরণে সফল হবে। দরিদ্রের মর্যাদার প্রয়োজন। যখন কোনও দরিদ্র ব্যক্তি বলে যে সে নিজেই তার দারিদ্র্যের অবসান ঘটাবে, তখন তার চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছুতে নেই। আমাদের শুধু দরকার তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদান এবং তাঁকে ক্ষমতাবান করা।এইসব কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রকল্পগুলি নিয়েও নিজের সন্তোষ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যখন দেখি ভারতের পরিবর্তন বিশ্বের পরিসংখ্যানের পরিবর্তন নিয়ে আসছে তখন আমি তৃপ্তি পাই। আমরা যখন ভারতকে খোলাস্থানে শৌচমুক্ত করি বা দারিদ্র্য নির্মূল করি তখন বিশ্বের পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হয়।
কাশ্মীর অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিদেশিদের ডাকা হল কেন?”, বিজেপিকে তোপ শিব সেনার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
মহারাষ্ট্রের দড়ি টানাটানির মধ্যে ফের বিজেপিকে তোপ দাগল শিব সেনা। এবার কাশ্মীরে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের পাঠানো নিয়ে নতুন করে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল সেনা। শিব সেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন করা হয়েছে, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। তাহলে কাশ্মীরে বিদেশি সাংসদদের কেন আমন্ত্রণ জানানো হল?
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৩ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি কাশ্মীরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উপত্যকায় যান। তাঁরা কাশ্মীরের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঘুরে দেখেন ডাল লেকের আশেপাশের অঞ্চল। ডাল লেকে নৌকাবিহার করতেও দেখা যায় তাঁদের। এই সাংসদদের কাশ্মীর পর্যবেক্ষণ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। তাদের প্রশ্ন, সেখানে দেশের সাংসদদের কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে ভিনদেশী সাংসদদের কেন অনুমতি দেওয়া হল?

খানিকটা বিরোধীদের সুরেই সুর মেলাল শিব সেনাও। তাদের মুখপত্র সামনায় লেখা হয়েছে, “কাশ্মীরে ইউরোপের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষণ করে গিয়েছেন। কাশ্মীর আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা উড়ছে, এতে আমরা গর্বিত। কিন্তু, কাশ্মীরে যদি সবকিছু ঠিকই থাকবে, তাহলে দেশের বাইরে থেকে প্রতিনিধিদল আনার কী দরকার ছিল। আপনারা চান না রাষ্ট্রসংঘ হস্তক্ষেপ করুক। অথচ, আপনারাই ইউরোপের প্রতিনিধিদের আনছেন। বিদেশিরা কাশ্মীরে আসছে মানে এটা আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এবং এতে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।” শুধু তাই নয়, বিরোধীদের সুরে, দেশীয় সাংসদদের কাশ্মীর যাওয়ার অনুমতি কেন দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির জোটসঙ্গী।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সাংসদরা এসেছিলেন তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা কাশ্মীরে শান্তি চান। সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বের সমস্যা। গোটা ইউরোপ সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে আছে। ওই প্রতিনিধিদল ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কোনও রিপোর্ট দেবে না বলেও জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, “কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরের বিষয়। তাই আমরা কোনও রিপোর্ট দেব না।”
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।