অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩ নভেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত -দৈনিক প্রথম আলো
- পাপনের ক্যাসিনো খেলার ভিডিওটি দেশের নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- দুদক কার্যালয়ে জিকে শামীম, আনা হচ্ছে খালেদকেও- দৈনিক যুগান্তর
- পলাতক খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো হবে : কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
- আমার চরিত্র সারা জীবনের অর্জন, সততা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই: মেনন: দৈনিক ইত্তেফাক
- রাঘব-বোয়ালরা এখনও ধরা পড়েনি-দৈনিক মানবজমিন
-
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ড. ইউনূস-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের খবর:
- লক্ষ্য কাশ্মীরে অস্থিরতা তৈরি, শীতে ফিদায়েঁ হামলা চালাতে পারে পাক জঙ্গিরা, সতর্কবার্তা গোয়েন্দাদের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ‘রাস্তায় এক টাকা কুড়িয়ে পেয়েছিলাম, ফিরিয়ে দিলাম’, শোভনকে কটাক্ষ দিলীপের-দৈনিক আজকাল
-
ফের সোনিয়ার ডাকে বিরোধী সমাবেশ দিল্লিতে, যোগ দিচ্ছে তৃণমূলও-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত -দৈনিক প্রথম আলো
রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মামলা দায়েরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৫ জনকে আটক করে চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ। আজ রোববার সকালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখায়।
তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনো মূল অভিযুক্ত পলিটেকনিক ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন ওরফে সৌরভকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গতকাল রাতে মহানগর ছাত্রলীগের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ জানায়, অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ শনিবার রাতে ছাত্রলীগের সাতজন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ২৫ জনকে আটক করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে রোববার সকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আজ সকালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর তাদের আদালতে পাঠানো হবে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এ ঘটনায় শনিবার রাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সভায় যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন ওরফে সৌরভকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। কামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, ঘটনার সঙ্গে কামালের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে বহিষ্কারের জন্য ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি কল্যাণ কুমার জয়ের নেতৃত্বে ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আরও কারও বিরুদ্ধে ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনার ঘটনায় ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন। আজ সকালে শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। বেলা ১১টায় তারা ইনস্টিটিউটের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন করেন। এতে তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিচার, তাঁদের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিল, ইনস্টিটিউটে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গতকাল সকালে উপস্থিতি কম থাকা দুজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে না পারায় অধ্যক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। দুপুরে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে কার্যালয়ে ফিরছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১২জন তরুণ তাঁর হাত ধরে টেনে ও ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে পুকুর থেকে তোলেন।
পাপনের ক্যাসিনো খেলার ভিডিওটি দেশের নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দৈনিক কালেরকণ্ঠ-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ক্যাসিনো খেলার যে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তা দেশের নয়।
আজ রবিবার সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সম্প্রতি বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ক্যাসিনো খেলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতদূর দেখেছি, তিনি বাংলাদেশে কোথাও ক্যাসিনো খেলেননি। তিনি বিদেশে খেলেছেন, ফলে বিষয়টিকে সেভাবে নেওয়া যায় না। এটা আমাদের বিষয় নয়।’
যারা ক্যাসিনো ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনো বিষয়ে কেউ এখানে ছাড়া পাচ্ছে না। আমরা এ পর্যন্ত যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি তারা মূলত ক্যাসিনো ব্যবসার উৎপত্তি ঘটিয়েছে। যারা ক্যাসিনো ব্যবসা লিড দিচ্ছে তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তারে চেষ্টা করেছি।’
বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুদক কার্যালয়ে জিকে শামীম, আনা হচ্ছে খালেদকেও- দৈনিক যুগান্তর
কারাবন্দি প্রভাবশালী ঠিকাদার জিকে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
এছাড়া ক্যাসিনোকাণ্ডে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকেও আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রোববার দুপুরের দিকে শামীমকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুদক কার্যালয়ে হাজির করে দুদকের একটি টিম। এছাড়া দুদকের দুটি টিম খালেদকে আনতে কাশিমপুর কারাগারে গেছে বলে জানা গেছে।
২৭ অক্টোবর শামীম ও খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
১৮ সেপ্টেম্বর খালেদ ও ২০ সেপ্টেম্বর শামীমকে গ্রেফতার করে র্যাব। ২১ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। খালেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পলাতক খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো হবে : কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডে বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফেরাতে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও বাড়ানো হবে।
রবিবার জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বাসস
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যারা খুনি, তাদের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। যাদের দণ্ড কার্যকর হয়নি, তারা বিদেশে পলাতক। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য জোরদার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রয়াস সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইনে সমস্যা আছে। অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই। যারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে তারা ফাঁসির আসামি। ফাঁসির আসামি বিধায় তাদের ফিরিয়ে আনতে অসুবিধা হচ্ছে। তবুও বিভিন্ন দেশে যারা রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, উচ্চ পর্যায়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়।

তিনি বলেন, কলঙ্কজনক রক্তাক্ত দু’টি ঘটনা- ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট, এরপর ৩ নভেম্বর। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর একই সূত্রে গাঁথা। একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন ও নেতৃত্ব শূন্য করে দেয়ার ঘৃণ্য অভিলাষে আমাদের জাতির চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের চারজন প্রথম সারির সংগঠককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, তাদের যে স্বপ্ন, শহীদদের স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতার যে স্বপ্ন, সে স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া এটা আমাদের অঙ্গীকার।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের হত্যা করে।
জাতীয় এ চার নেতা হলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান।
রাঘব-বোয়ালরা এখনও ধরা পড়েনি-দৈনিক মানবজমিন
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বর্তমান শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযান থেকে আমরা কতটা সুফল পাবো তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলা কঠিন। রাঘব-বোয়ালরা এখনও ধরা পড়েনি বা চিহ্নিত হয়নি। তিনি বলেন, এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অপারেশন ক্লিন হার্ট নামে এ ধরনের অভিযান হয়েছিলো। এতে কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সময়ও এ ধরনের অভিযান শুরু হয়ে মাঝপথে থেমে গিয়েছিলো। এ সরকার আবার অভিযান শুরু করেছে।
কিন্তু সমাজ কাঠামো না বদলালে এই অভিযান দিয়ে খুব একটা কিছু হবে না।অধ্যপক আনোয়ার বলেন, রাজনীতি যেখানে দুর্বৃত্তায়িত হয়ে গেছে, সেখানে ছোট-খাটো দু’একটি অভিযান দিয়ে রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করা যাবে না। আমি এই অভিযানটিকে বলেছি অপারেশন ক্লিন পলিটিক্স।পলিটিক্স কতটুকু ক্লিন হবে তা কিন্তু অনেকটা নির্ভর করবে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। প্রধানমন্ত্রী যে অভিযান শুরু করেছেন এর জন্য উনাকে অভিনন্দন কিন্তু আমরা চাইবো তিনি যেন চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আমরা শেখ হাসিনার ওপরে আস্থা রাখতে চাই। দেখতে চাই যে, রাজনীতিটাকে তিনি পরিশুদ্ধ করবেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এই অধ্যাপক আরও বলেন, আগামিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আসন্ন। সেটাকে সামনে রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এটি একটি সুলক্ষণ। অন্তত: বির্তকিত, প্রশ্নবিদ্ধ কেউ যেন আওয়ামী লীগের কোন সংস্থায় বা সংগঠনে স্থান না পায়। তাহলে আমরা চূড়ান্ত মন্তব্য করতে পারবো কতটুকু দল পরিশুদ্ধ হলো বা হলো না ।
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ড. ইউনূস-দৈনিক নয়াদিগন্ত
প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে না দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাকিয়া পারভিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ডা. ইউনূস। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত ২৮ অক্টোবর নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও খোন্দকার দিলুরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। একই সঙ্গে, বিমানবন্দরে নামার পর থেকে তাকে এই সময়ের মধ্যে (৭ নভেম্বর পর্যন্ত) গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণকমিউনিকেশন্সের সদ্য চাকরিচ্যুত সাবেক তিন কর্মচারী।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
লক্ষ্য কাশ্মীরে অস্থিরতা তৈরি, শীতে ফিদায়েঁ হামলা চালাতে পারে পাক জঙ্গিরা, সতর্কবার্তা গোয়েন্দাদের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
শীতের মরসুমে ফের ভারতে বড়সড় আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে পাক জঙ্গিরা। লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনের জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই সেই হামলার ছক কষতে শুরু করেছে বলে তথ্য পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা । তাঁরা জানতে পেরেছেন, হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন খোদ জইশ প্রধান মাসুদ আজহার। আবার লস্কর কমান্ডার আবু উজেইল সরাসরিই ঘোষণা করেছেন, শীঘ্রই ভয়ঙ্কর আত্মঘাতী হামলার মুখে পড়বে ভারত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই সব তথ্য পাওয়ার পরেই কেন্দ্রকে তা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ফিদায়েঁ হামলা হবে বলে গোয়েন্দারা ইঙ্গিত পেলেও তা কবে, কোথায় হতে পারে, সে বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য মেলেনি।
শীতের সময় প্রায় গোটা উপত্যকা প্রায় বরফে ঢাকা পড়ে যায় বলে তার আগেই জঙ্গি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে জঙ্গি ঢোকানোর মরিয়া চেষ্টা করে পাক সেনা এবং পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। এ বারও সেই চেষ্টা জারি রয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। তবে সেনা সূত্রে খবর, তাদের কাছেও বিষয়টি পরিচিত বলে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পুলওয়ামা হামলার পরে ভারতীয় বায়ু সেনার অভিযানে বালাকোটের জঙ্গি ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আবার ওই ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর রয়েছে বালাকোটের উপর। তাই ওই ঘটনার পর থেকেই জইশ তাদের সদর কার্যালয় বানিয়েছে ভাওয়ালপুরের মার্কাস উসমান ও আলিকে। আবার জইশ প্রধান মাসুদ আজহার অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বভার নিয়েছেন আজহারেরই ভাই মুফতি আবদুল রউফ আজগর।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই ভাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে চলতি সপ্তাহেই শীর্ষ জঙ্গিদের ডেকে পাঠিয়েছিল মাসুদ আজহার। হাজির ছিল নতুন নেতা রউফ আজগরও। সেখানেই হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। তার পরেই কেন্দ্রকে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন তাঁরা।
গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া এবং জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার পর থেকেই উপত্যকায় কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছিল। তার পর থেকে দফায় দফায় সেই নিয়ন্ত্রণ যেমন তুলে নেওয়া হচ্ছে, তেমনই ধীর ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে উপত্যকা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, সেই স্বাভাবিক পরিবেশের ছন্দপতন ঘটাতে এবং অস্থিরতা তৈরি করতেই এই হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা।
অর্থনীতি তলানিতে, ব্যাংককে মোদির ঘোষণা, ‘বিনিয়োগের জন্য ভারতই সেরা’-দৈনিক আজকাল
অর্থনীতির সূটক নেমেই চলেছে। কাজের বাজার প্রায় শূন্য। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফ–ও সতর্ক করেছে ভারতের পতনোন্মুখ অর্থনীতি সম্পর্কে। এমনকি মোদিঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিও সম্প্তি স্বীকার করে নিয়েছেন দেশের ‘বর্তমান অর্থনীতি একটু ঝিমিয়ে পড়েছে’। এর মধ্যে দাঁড়িয়েও ক্রমাগত বড়াই করেই চলেছে বিজেপি সরকার। সেই পথে হেঁটেই রবিবার ব্যাংককে আয়োজিত ১৬তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ড গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফের দাম্ভিক ঘোষণা, ‘বিনিয়োগ এবং সহজে ব্যবসা করার জন্য ভারতে আসুন। নতুন ব্যবসা শুরুর জন্যও ভারতে আসুন। সেরা পর্যটনকেন্দ্র দেখতে হলে ভারতে আসুন। ভারত সবসময় দুহাত বাড়িয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। বিনিয়োগের জন্য অন্যতম সেরা অর্থনীতি ভারত।’

ব্যাংককে একটি ভারতীয় শিল্প সংস্থার ৫০তম বর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একথা বলেছেন মোদি।তাঁর সদর্প ঘোষণা, ‘ভারত এখন পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্নে বুঁদ। যখন আমার সরকার ২০১৪–য় ক্ষমতায় এসেছিল তখন ভারতের জিডিপি ছিল দুই ট্রিলিয়ন ডলার। গত ৬৫ বছরে দুই ট্রিলিয়ন। অথচ গত পাঁচ বছরে আমরা তা বাড়িয়েছি প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার। গত পাঁচ বছরে ভারত ২৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ বা এফডিআই পেয়েছে। যা গত ২০ বছরে পাওয়া এফডিআই–এর প্রায় অর্ধেক। আমরা প্রথম ১০টি এফডিআই গন্তব্যে রয়েছি। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহজে ব্যবসার সুযোগ তালিকায় আমরা এখন ৭৯তম স্থানে।’ এরপরই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে মোদি ঘোষণা করেন, ‘আমি পূ্র্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি এটাই দেশের সেরা সময়। ভারত সমৃদ্ধ হলেই বিশ্ব সমৃদ্ধ হবে। আমাদের লক্ষ্য ভারতের উন্নয়ন এই গ্রহের নেতৃত্ব দেবে।’এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুত চান–ও–চা–র সঙ্গে দেখা করেন মোদি। তারপর আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বলেছেন, ভারতের ‘পূর্বে তাকাও নীতি’–র একদম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসিয়ান। মোদি বললেন, ‘ইন্ডো–পেসিফিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে ভারত–আসিয়ান সহযোগিতাকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। ভারতের পূর্বে তাকাও নীতিতে ইন্ডো–পেসিফিক লক্ষ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আসিয়ান তার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। সংযুক্ত, শক্তিশালী এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল আসিয়ানকেই চায় ভারত।’ শিক্ষা এবং পর্যটনের জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মানুষের মধ্যে আনাগোণায় জোর দিয়েছেন মোদি। ভারত–আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেছেন, এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
ফের সোনিয়ার ডাকে বিরোধী সমাবেশ দিল্লিতে, যোগ দিচ্ছে তৃণমূলও-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
লোকসভার আগে বিজেপি-বিরোধী মহাজোট নিয়ে বেশ হুজুগ উঠেছিল। ভোট মিটতেই সে হুজুগ মিটেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলায় প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি বিরোধীরা। নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির। স্বাভাবিকভাবেই ঢিলেঢালা হয়েছে বিরোধী মহাজোটের বন্ধন। এবার কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী নিজে ফের বিরোধীদের এক সুতোয় গাঁথার দায়িত্ব নিয়ে নিলেন। আগামী সোমবার দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক ডেকেছেন সোনিয়া। তাতে বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে দাবি কংগ্রেসের।
মূলত মোদি সরকারের আর্থিক নীতি, কাশ্মীর সমস্যা, ৩৭০ ধারা, কাশ্মীরে দেশের বিরোধীদের ঢুকতে না দেওয়া, অথচ ইউরোপের সাংসদদের জামাই আদরে নিয়ে যাওয়া, হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে এজেন্সির ব্যবহার, এসব বিষয়ে মোদির বিরুদ্ধে রণকৌশল তৈরির লক্ষ্যেই বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা করছেন সোনিয়া। তাছাড়া দ্বিতীয়বার সভানেত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সোনিয়ার প্রথম বিরোধী দলের বৈঠক। তাই এই বৈঠক বাড়তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লোকসভার পর কীভাবে আগামীদিনে বিরোধী ঐক্য বজায় রাখা যায়, সেটাও আলোচনার বিষয় হতে পারে।
কিন্তু, এই বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত থাকবেন তা স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত যা খবর শরদ পওয়ার মুম্বই থেকে উড়ে আসছেন। তিনি আজই দেখা করতে পারেন সোনিয়ার সঙ্গে। পওয়ার মূলত কথা বলবেন মহারাষ্ট্রের অচলাবস্থা নিয়ে। সরকার গড়তে শিব সেনাকে সমর্থন করা যাবে কিনা সেসব নিয়েও আলোচনা হবে। তৃণমূলের তরফেও জানানো হয়েছে, তাঁদের এক প্রতিনিধি সোনিয়ার ডাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। যদিও, আর কারা কারা উপস্থিত থাকছেন তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে, কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করছে, অনেক বিরোধী দলের নেতাই সোমবার দিল্লিতে এই বৈঠকে যোগ দেবেন। ভোটের পর অন্তত সংসদে বিরোধীদের ঐক্য একেবারেই চোখে পড়েনি। রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়া সত্ত্বেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে সরকার। অনেক বিরোধী দলই হয় ভোটদানে বিরত থেকেছে, নয় সরকার পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এদিনের বৈঠক বাড়তি গুরুত্বপূর্ণ।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।