বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করুন, বিমান বাহিনীকে রাষ্ট্রপতি
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৫ নভেমম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- রাজধানীবাসী মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ-দৈনিক প্রথম আলো
- নতুনদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- আবরার নিহতের ঘটনায় আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ-দৈনিক যুগান্তর
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা: দৈনিক ইত্তেফাক
- সীমান্ত থেকে ৭ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ-দৈনিক মানবজমিন
- বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করুন, বিমান বাহিনীকে রাষ্ট্রপতি–দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের খবর:
- সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হোক, ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে কোমর বাঁধছে বিরোধীরা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- শিবসেনা থেকেই মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’, বিজেপিকে আরও চাপে রেখে ঘোষণা শিবসেনার-দৈনিক আজকাল
- সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ দিল্লির পুলিশ কর্মীদের, কাজে ফেরার আর্জি কমিশনারের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা-এবার বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
রাজধানীবাসী মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ-দৈনিক প্রথম আলো
নগরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে। তবে কমেনি মশার উপদ্রব। নগরবাসী মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। লোকজন বলছেন, মশকনিধন কার্যক্রমে ঢিলেমির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, এখন নগরে মূলত কিউলেক্স মশার উপদ্রব চলছে। স্ত্রী কিউলেক্স মশার মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ফাইলেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। ‘গোদ’ নামে পরিচিত এই রোগের কারণে হাত-পা ফুলে যায়। বারবার জ্বর হয়।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গুর সময় যেভাবে মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল, এখন তা আর নেই। তাই কিউলেক্স মশা বেড়েছে। তবে নতুন করে দুর্যোগ এড়াতে হলে মশকনিধন কার্যক্রমে ঢিলেমি দেওয়া যাবে না। কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এখনই জোর দিতে হবে। মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল বেশি। এই সময়ে দুই সিটি করপোরেশন বড় আকারে মশকনিধন কর্মসূচি পরিচালনা করে। নগরের বাসিন্দারা বলছেন, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এ কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বলছেন, কিউলেক্স মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত দুই দিনে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, লালবাগ, সূত্রাপুরসহ অন্তত আটটি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে মশার প্রকোপ ব্যাপক বেড়েছে।
নতুনদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
নতুন ঠিকাদারদের কাজে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নতুনদের কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। সবাই যেন উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারে, তবে মান ঠিক রেখে।
আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। সভাশেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সহজ করার কাজ চলছে। এটা হয়ে গেলে নতুন নতুন প্রতিযোগিতা হবে এবং নতুন ঠিকাদাররা ঢোকার সুযোগ পাবে।
এম এ মান্নান বলেন, আগ্রহ নিয়ে প্রায়ই প্রকল্প পাস করা হয়, দালান-কোঠা নির্মাণ করা হয়। তারপরে আর বাকি কাজ হয় না। হয় জনবল নাই, নয় যন্ত্রবল নাই। যে আগ্রহ নিয়ে আপনারা প্রকল্পের কাজ শেষ করেন, একই আগ্রহ নিয়ে আপনারা (সংশ্লিষ্টরা) দয়া করে বাকি কাজগুলো করবেন। যাতে জনগণ যে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে সেটা তারা পায়।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নুরূল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবরার নিহতের ঘটনায় আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ-দৈনিক যুগান্তর
কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পর্শে রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার রাহাত নিহতের ঘটনায় সাময়িকীটির সম্পাদক আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জিজি বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, রেসিডেন্সিয়ালের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় আনিসুল হক ছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আনিসুল হককে কবে কখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি। ওসি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন অনুসারে সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার বিকালে কিশোর আলোর অনুষ্ঠান চলাকালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা: দৈনিক ইত্তেফাক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার ৩টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হয়ে সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।
দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে তার বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। এরপর মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় উপাচার্য তার বাসায় অবরুদ্ধ হন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এরপর ঈদ সেলামির নামে দুই কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় গত ২৩ আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু দুর্নীতি তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়ায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
সীমান্ত থেকে ৭ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ-দৈনিক মানবজমিন
নওগাঁর পোরশা সীমান্ত থেকে সাত বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আজ মঙ্গলবার ভোরে ২৩১/১০(এস) নম্বর মেইন পিলার থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ক্যাদারিপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।আটককৃতরা হলেন- পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে সইবুর (২৬), রাঙ্গাপুকুর গ্রামের রবুর ছেলে আতাবুল (২২), বিষ্ণপুর বেড়াচকি গ্রামের মকবুলের ছেলে রেজাউল (২০), কালাইবাড়ি গ্রামের প্রফুল্যের ছেলে বিফল (৩০), একই গ্রামের লোকমানের ছেলে আজাদ (৩২), রফিকের ছেলে জহুরুল (৩২) ও সবুরদ্দিনের ছেলে হাকিম (৩৬)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে ১০-১১ জনের একটি দল ভারতের অভ্যন্তরে মহিষ আনতে প্রবেশ করে।
মহিষ নিয়ে ফেরার পথে ভোরে ২৩১/১০ (এস) নম্বর মেইন পিলার থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।নিতপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আকালু পালিয়ে আসা মহবুল নামে এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলেন, ১১ জন সোমবার রাত ২টার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে মহিষ নিতে যায়। সেখানে সাতটি মহিষ নিয়ে ফেরার সময় ডোবার পানিতে নেমে মহিষ লাফালাফি করছিল।এ সময় ডিউটিরত বিএসএফ সদস্যরা শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করলেও তিনজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এছাড়া আরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম আরিফুল ইসলাম পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনেছি বিএসএফ সদস্যরা কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। সত্যতা যাচাইয়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।যদি আটক করা হয় তা হলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।।
বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করুন, বিমান বাহিনীকে রাষ্ট্রপতি–দৈনিক নয়া দিগন্ত
দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, ‘পেশাগত দক্ষতা অর্জন আপনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ দক্ষতা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, তেমনি সংগঠনের জন্যেও বয়ে আনে সুনাম ও মর্যাদা। তাই আপনাদের গড়ে উঠতে হবে দক্ষ এবং আদর্শ বিমানসেনা হিসেবে। আমাদের বিমান বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিএএফ বঙ্গবন্ধু ঘাঁটির ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডপ্রাপ্ত ১, ৩, ৫, ৮, ৯ ও ৭১ নম্বর স্কোয়াড্রনের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন উন্নত প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রম। যেকোন লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন অদম্য স্পৃহা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। আর এর সফল পরিসমাপ্তি হচ্ছে অর্জন। তাই বিমান বাহিনীর অর্জনকে নতুন উচ্চতায় নিতে আপনাদেরকে নিরলস প্রয়াস চালাতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত দিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিধি ও সম্ভাবনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।
‘এ লক্ষ্যে ফোর্সেস গোলস ২০৩০ এ আওতায় বিমান বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসসহ অত্যাধুনিক বিমান ও যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টার। বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে নির্মিত এ সেন্টারের লক্ষ্য হলো সব ধরনের বিমান, র্যাডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহলিং করা,’ যোগ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।
ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টারে বিদেশি বিমান বাহিনীর বিমান ও হেলিকপ্টারের ওভারহলিং কাজ করাও সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।
যুদ্ধবিমানসহ বিমান বাহিনীর সকল যন্ত্রপাতি যথাযথ সংরক্ষণে আরও যত্নশীল ও মনযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি কারণ এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। এ জন্য আমাদের আকাশসীমার নিরাপত্তাও অনেক বেশি জরুরি। ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের বিমান বাহিনী এ দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করতে সক্ষম হবে,’ বলেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাশসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বিএএফ বঙ্গবন্ধু ঘাঁটির কমান্ডার এয়ার ভাইস মার্শাল এম সায়েদ হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
সায়েদ হোসেন ও উইং কমান্ডার মাসুদুর রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি একটি খোলা জিপে চড়ে বিমান বাহিনীর সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
এবার ভারতের বিস্তারিত কিছু খবর তুলে ধরছি
সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হোক, ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে কোমর বাঁধছে বিরোধীরা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতার বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দাবি জানাতে চলেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলো। তারা চাইছে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিষয়টি তদন্ত করা হোক। এ ব্যাপারে তারা রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জলঘোলা হচ্ছে দেশ জুড়ে। রাজনীতিও বেশ সরগরম।
আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা সরকারের জবাব চাইতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সোমবারই এ নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনা হয় বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। তিনি জানান, এ ব্যাপারে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে ফের আলোচনা হবে। তার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ দাবি করে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন চারটি মহাদেশের এমন অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নজরদারির শিকার হয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েক জন সাংবাদিক, দলিত আন্দোলনের নেতা, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক নেতা। অভিযোগের আঙুল ওঠে ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও-র দিকে। হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর তথ্য হাতানোর চেষ্টা করেছে এনএসও। বিষয়টি সামনে আসতেই ভারত সরকার হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে এর ব্যাখ্যা চায়। শুধু তাই নয়, ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে কী পদক্ষেপ করেছেন হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

সোমবার সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ভারতের ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করার সব রকম চেষ্টা করছে তারা। ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও-র বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ।
বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলো এ ব্যাপারে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছিল। তার পর একে একে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা এবং এনসিপি নেতা প্রফুল্ল পটেলও একই অভিযোগ তোলেন। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে ফোনে আড়ি পাতার মামলার এক প্রস্থ শুনানি হয়। এ ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট বলে, “এ ভাবে ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে কেন? দেশের মানুষের গোপনতা বলে আর কিছু রইল না? প্রতি দিন কিছু না কিছু ঘটছেই। এ দেশে হচ্ছেটা কী?” অন্য দিকে, এ বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন সমাজকর্মী কে এন গোবিন্দচার্য। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকার ও হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের আরও চাপ বাড়ল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিবসেনা থেকেই মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’, বিজেপিকে আরও চাপে রেখে ঘোষণা শিবসেনার-দৈনিক আজকাল
মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে বিজেপি–শিবসেনা দ্বৈরথ এখনও অব্যাহত। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সেনার রাজ্যসভার সাংসদ তথা শীর্ষ নেতা সঞ্জয় রাউত রীতিমতো ঘোষণা করে দিলেন, ‘পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবে শিবসেনা থেকেই। মহারাষ্ট্রের রাজনীতি বদলাচ্ছে। যেটাকে আপনারা হাঙ্গামা বলছেন সেটা আসলে অধিকাররক্ষা আর ন্যায়ের জন্য লড়াই। আর তাতে জয়ী হব আমরাই।’ সরকার গঠন কারও কুক্ষিগত অধিকার হতে পারে না বলেও এদিন শরিক বিজেপিকে নাম না করে সতর্ক করে দিয়েছে শিবসেনা।আগেই শিবসেনার সঙ্গে সরকার গঠনে না করে দিয়েছেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। সেই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি এড়িয়ে সঞ্জয়ের কৌশলি জবাব, ‘মহারাষ্ট্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখানেই হবে। উদ্ধবজিই তা ঠিক করবেন।
শারদ পাওয়ার বা সোনিয়া গান্ধী কি এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দিয়েছেন? রাজনীতিতে অনেক গুজব ছড়ায়। অনেক মানুষ আছেন যাঁরা এই গুজবে ইন্ধন জোগান। আমার এটুকুই এব্যাপারে বলার আছে।’সোমবার ফের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিল শিবসেনা। সেপ্রসঙ্গে সঞ্জয় সাফ জানিয়েছেন যেই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে তারাই সরকার গড়বে। সরকার গড়তে তাঁদের দল কখনও বাধা হবে না। আগামী শনিবার শেষ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের কার্যকাল। তার আগেই নতুন রাজ্য সরকার গঠন করতে হবে।
সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ দিল্লির পুলিশ কর্মীদের, কাজে ফেরার আর্জি কমিশনারের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
শুরুটা হয়েছিল গাড়ি পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে। তারপর কেটে গিয়েছে তিনটি দিন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সমাধান হওয়া তো দূরের কথা ক্রমশই বাড়ছে পুলিশ ও আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের উত্তাপ। একদিকে তিস হাজারিতে সহকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন দিল্লির আইনজীবীদের একাংশ। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সদর দপ্তরের সামনে নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন দিল্লি পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীরা। আগামী দিনে তিস হাজারি আদালতের মতো ঘটনা ঘটলে পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তাকে দেবে এটাই এখন তাঁদের প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের মাথা ঠান্ডা রেখে কাজে যোগ দেওয়ার আরজি জানান দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে শান্তি বজায় রাখার আরজি জানাব। এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টাই করা উচিত। আমাদের কর্তব্য ঠিকঠাক পালন করার পাশাপাশি আইন শাসনের বজায় রাখতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই আইনের রক্ষাকর্তা। তাই সবসময় রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা আমাদের করেই যেতে হবে। গত কিছুদিন ধরে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা খুব ঠান্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণ করেছি আমরা। এই পরিস্থিতিরও খুব দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।’

যদিও পুলিশ কমিশনারের এই বক্তব্যে খুশি হতে দেখা যায়নি বিক্ষোভরত পুলিশ কর্মীদের। গত শনিবার বিকেলে তিস হাজারি আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে সংর্ঘষের পর কমিশনারের আচরণে ক্ষুদ্ধ তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে দুদিন ধরে চাপানউতোর চললেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি হাসপাতালের ভরতি জখম পুলিশ কর্মীদের দেখতে যাননি অমূল্য পট্টনায়েক। তাই রাগ আরও বেড়েছে। এর প্রমাণ পাওয়া গেল মঙ্গলবারের বিক্ষোভে। প্রতিবাদে সামিল পুলিশ কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের পোস্টার হাতে নিয়ে স্লোগান তুললেন, ‘আমাদের পুলিশ কমিশনার ক্যায়সা হো, কিরণ বেদী জ্যায়সা হো।’ তাঁদের কারও কারও হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘হাউ ইজ দ্য জোশ? লো স্যার।’ কোনটাতে ছিল, ‘পুলিশকে বাঁচান।’
আইনজীবীদের সঙ্গে এই টানাপোড়েনের মাঝেই পুলিশের স্বপক্ষে টুইট করে বির্তক তৈরি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। পুলিশ কর্মীরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে কর্তব্য করলেও ধন্যবাদ পান না বলে অভিযোগ করেন। উলটে তাঁদের অপমানের শিকার হতে হয় বলেও উল্লেখ করেন। যদিও আইনজীবীদের সঙ্গে গন্ডগোল তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে টুইটটি নিয়ে বিতর্ক হতে ও মঙ্গলবার হেড কোয়ার্টারের সামনে পুলিশ কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করার পর টুইটটি ডিলিট করে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।#
পার্সটুডে/এমবিএ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।