খোকার জানাজায় মানুষের ঢল-দৈনিক যুগান্তর
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৭ নভেমম্বর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ চলছেই-দৈনিক প্রথম আলো
- যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদের প্রমাণ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- খোকার জানাজায় মানুষের ঢল-দৈনিক যুগান্তর
- বিএনপি ছেড়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লে.জে. (অব.) মাহবুব: দৈনিক ইত্তেফাক
- দেশে ১১ হাজার অবৈধ বিদেশি নাগরিক, ফেরত পাঠানো হবে সরকারি খরচে-দৈনিক মানবজমিন
- খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের মানুষ ছিলেন: তোফায়েল; আর মির্জা ফখরুলের অভিযোগ-জীবিত খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের খবর:
- উপত্যকার সদ্য নিয়োজিত রাজ্যপালকে খুনের ষড়যন্ত্র! দাবি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির-দৈনিক আজকাল
- দৈনিক আজকালের আরেকটি খবর- বিজেপি–শিবসেনা দ্বন্দ্ব! শিবসেনার বিধায়কদের টাকার লোভ দেখাচ্ছে বিজেপি, দাবি সেনার
- ৩১ লক্ষ ডলার হাতিয়ে বিদেশে, মুম্বই থেকে প্রতারককে ধরল কলকাতা পুলিশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ চলছেই-দৈনিক প্রথম আলো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে আজ বৃহস্পতিবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আজ সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করে।
বেলা একটার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি এখন উপাচার্যের বাসভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে ঘুরছে।শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বুধবার থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই কর্মসূচিতে যোগ দেন তাঁরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ। আজ বেলা দেড়টায়। ছবি: মাইদুল ইসলামজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে আজ বৃহস্পতিবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আজ সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করে।

বেলা একটার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি এখন উপাচার্যের বাসভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে ঘুরছে।শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বুধবার থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই কর্মসূচিতে যোগ দেন তাঁরা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা 'দুর্নীতিবাজের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও গুঁড়িয়ে দাও', 'ভিসি তোমায় জানিয়ে দিলাম, ওয়ালাইকুম আসসালাম', 'স্বৈরাচারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে', 'সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও', 'আওয়ার ক্যাম্পাস আওয়ার রাইট, সেভ দ্য ক্যাম্পাস জয়েন দা ফাইট' প্রভৃতি স্লোগান দেয়।
দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বুধবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আবাসিক হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা।গত সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে তাঁকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন অবরোধ এবং সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে কার্যালয়ে যেতে পারছিলেন না উপাচার্য। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর।একপর্যায়ে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা প্রায় তিন মাস ধরে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত দাবি করে আসছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দেড় মাস এ আন্দোলন চললেও উপাচার্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোণ বৈঠক করেননি। অথচ উপাচার্যের তল্পিবাহক শিক্ষকেরা কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই উপাচার্য দুর্নীতি করেননি বলে সাফাই গাওয়া শুরু করে।'

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, 'সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আন্দোলন করছি আমরা। ছাত্রলীগের যারা টাকা পেয়েছে, তারাও গণমাধ্যমে টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। উপাচার্য দিনের পর দিন মিথ্যাচার করে গেছেন। আমরা আচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছি। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের বোধোদয় হয়নি।'
রায়হান রাইন বলেন, 'অথচ আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা চালানো হলো। উপাচার্য গণমাধ্যমের সামনে ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।’
যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদের প্রমাণ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক আর্থিক সহায়তা-ভাতা অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে সেটা আমি বরদাশত করতে পারি না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুখে বললেই হবে না দুর্নীতিকারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তাহলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি হবে।

তিনি বলেন, আমি দেখছি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদের এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, তাদের তথ্য দিতে হবে। তারা তথ্য দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। কিন্তু তারা তথ্য দিতে পারবে না দুর্নীতি দুর্নীতি বলে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দিবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দিবে না, অন্দোলনের নামে ভিসির বাড়ি আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ করবে। আমি বলবো এটার এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে অনুদানের চেক বিতরণ করার সময় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক।
সারাদেশের ৫৩ জন অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত এবং প্রয়াত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হাতে কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তার অনুদানের অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ফান্ড থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৪ জন সাংবাদিক।
খোকার জানাজায় মানুষের ঢল-দৈনিক যুগান্তর
একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের মাটিতে এটি তার দ্বিতীয় জানাজা, প্রথমটি হয় বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার লাশবাহী কফিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেয়া হলে সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে নয়াপল্টন এলাকা।
রাজধানীর নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, কাকরাইল এলাকার সড়কে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের সমাগম। এ সময় ওই এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার কিছু সময় আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে খোকার লাশ সেখানে নেয়া হয় নয়াপল্টনে। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খোকাকে সর্বস্তরের জনতা শেষ শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোকার মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছায়। পরে দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ীভাবে স্থাপিত মঞ্চে মরদেহের কফিনটি রাখা হয়। সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব হয়েছেন মশিউর আলম রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ খোকার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, জমিরউদ্দিন সরকার, এর মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, জয়নুল আবদীন, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ জানাজায় অংশ নেন।
এর আগে সাদেক হোসেন খোকার লাশ আজ সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।
খোকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনে নেয়া হয়। লাশবাহী গাড়িতে ছিলেন মির্জা আব্বাস।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম জানাজা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সর্বস্তরের বাংলাদেশিরা অংশ নিয়েছেন। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তার পরিবার।
সাদেক হোসেন খোকা সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। ক্যান্সারে আক্রান্ত খোকা প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন।
সবশেষ ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি হন খোকা। গত সোমবার তার শ্বাসনালি থেকে টিউমার অপসারণ করা হয়। নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সাদেক হোসেন খোকা বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০২ সালে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হন।
মৃত্যুর আগে বারবার দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন খোকা। সবশেষ হাসপাতালে ভর্তির আগে বন্ধু বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান টুকুকে টেলিফোনে বলেছিলেন, জীবনবাজি রেখে যে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, সে দেশের মাটিতে ফিরতে পাব কিনা আল্লাহ জানেন।
বিএনপি ছেড়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লে.জে. (অব.) মাহবুব: দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খানের পদত্যাগের একদিন পর বুধবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন,তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে চলে গেছেন। অন্তত দেড় থেকে দুই মাস আগে নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্র দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দিয়েছেন তিনি।
মাহবুবুর রহমান বলেন,আমি বয়স্ক মানুষ। আগামী ডিসেম্বরে ৮০ বছর পূর্ণ হবে। রাজনীতিতে অবদান রাখার মতো আমার কিছু নেই। আমি এখন রাজনীতি করি না। রাজনীতি থেকে সরে এসেছি। আমি রিজাইন করেছি দল থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
তিনি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন,আমি রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছি। বাংলাদেশে রাজনীতি নাই। এখানে কোনও আদর্শও নাই। এখানে রাজনীতির নামে একটা এক্সপ্লয়টেশন চলছে। একটা তোষামোদ, ধাপ্পাবাজি ও মিথ্যাচারিতা চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাহবুবুর রহমান পদত্যাগপত্র দিলেও তা এখনো গৃহীত হয়নি। এনিয়ে স্থায়ী কমিটিতে কোন আলোচনাও হয়নি।
প্রসঙ্গত,সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে দিনাজপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ১১/১১ এর সময় সংস্কারপন্থী নেতা ছিলেন মাহবুব। সেসময় জিয়াউর রহমানের মাজারের সামনের সড়কে লাঞ্ছিত হন তিনি।
দেশে ১১ হাজার অবৈধ বিদেশি নাগরিক, ফেরত পাঠানো হবে সরকারি খরচে-দৈনিক মানবজমিন
বাংলাদেশে ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে রয়েছেন। তাদেরকে সরকারি অর্থে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, অনেক বিদেশি নাগরিক তারা এ দেশের পাসপোর্ট নিয়ে আসে। পরবর্তীকালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অনেকেই যান না, থেকে যান।

তারা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় আছেন। আমাদের গত সভায় সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিহ্নিত করা। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদেরকে চিহ্নিত করেছে।তিনি বলেন, এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে, ওরা যে ফেরত যাবে তাদের কাছে টাকাও নেই।ওদের আমরা কী করব? আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারের কাছে অনুরোধ করবো কিছু টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য। যাতে ওই সমস্ত অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া যায়। এরা যে টাইপের লোক জেলখানায় দিলেও একটা ঝামেলা সৃষ্টি করবে।
খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের মানুষ ছিলেন: তোফায়েল; আর মির্জা ফখরুলের অভিযোগ-জীবিত খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার -দৈনিক নয়া দিগন্ত
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের ব্যক্তি ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোকার নামাজের জানাজায় অংশ নিতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে খোকার অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি চমৎকার মানুষ ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে আমাদের প্রত্যেক্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা মানুষ হিসেবে ছিলেন অমায়িক ও ভদ্র।’
শুধু আওয়ামী লীগ নেতারা নয়, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের এ গেরিলা যোদ্ধার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণও অংশ নেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘খোকা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি আধুনিক ঢাকা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’
খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, জানাজায় সব দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে তার বাবা সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা ছিলেন। আমার বাবা দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে না পারার দুঃখ নিয়ে মারা গেছেন। তিনি (খোকা) ভ্রমণ নথি দিয়ে দেশে ফিরলেন। তিনি ২০১৭ সালে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করলেও তিনি তা পাননি।’ ইশরাক খোকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জীবিত খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার : ফখরুল
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জীবদ্দশায় সরকার দেশে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এদিন ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সকাল-বিকেল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় দেশে ঢুকতে দেয়নি। এ রকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান সহ ঢাকা মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উপত্যকার সদ্য নিয়োজিত রাজ্যপালকে খুনের ষড়যন্ত্র! দাবি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের নজরে এবার জম্মু–কাশ্মীরের সদ্য নিয়োজিত রাজ্যপাল। নতুন রাজ্যপাল গিরীশচন্দ্র মুর্মুকে প্রাণে মারার ছক কষছে পাকিস্তান, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর। রাজ্যপালকে খুন করার চক্রান্তে সম্প্রতি লস্কর–ই–তৈবার সঙ্গে বৈঠক করেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংগঠন আইএসআই। বৃহস্পতিবার দেশের গোয়েন্দা সূত্রে এমনই একটি প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের কোটলিতে একটি মাদ্রাসায় লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে বৈঠক করে আইএসআই।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রাজ্যপাল মুর্মূকে হত্যার ষড়যন্ত্র। গিরীশচন্দ্র মুর্মূ ছাড়াও কাশ্মীরে সম্প্রতি সংঘটিত ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের নামও ষড়যন্ত্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। লস্কর জঙ্গি জিয়া-উল-রেহমান মীরকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দাবি গোয়েন্দাদের। সম্প্রতি জম্মু–কাশ্মীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরেই কাশ্মীর ইস্যুতে আরও চাপে পড়েছে পাকিস্তান। তারই ফলস্বরূপ উপত্যকায় যত বেশি সম্ভব সন্ত্রাসবাদী হামলা চালাতে চাইছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলো। আইএসআইয়ের সঙ্গেই হাতে হাতে মিলিয়ে কাজ করছে তারা। এমনটাই দাবি দেশের সুরক্ষা সংস্থাগুলির।
বিজেপি–শিবসেনা দ্বন্দ্ব! শিবসেনার বিধায়কদের টাকার লোভ দেখাচ্ছে বিজেপি, দাবি সেনার
মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোট মিটেছে সেই কবে! এখনও সরকার গঠনের নাম নেই। কে হবে মুখ্যমন্ত্রী, তাই নিয়ে চলছে বিজেপি–শিব সেনার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। সেই টানাপোড়েনের মাঝেই এবার বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন জোটসঙ্গী শিবসেনা প্রধান উদ্ভব ঠাকরে। এতদিন বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীরা যে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, সেই এক অভিযোগ। টাকা লোভ দেখিয়ে বিধায়ক ভাঙাতে চাইছে বিজেপি। শিবসেনার মুখপত্র সামনার একটি প্রতিবেদনে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে লেখা হয়েছে যে মহারাষ্ট্রের জনগণ রাজ্যে শিবসেনার থেকে মুখ্যমন্ত্রী চায়।

কিন্তু জনগণের এই ইচ্ছেকে সম্মান না জানিয়ে বিজেপি টাকার খেলায় মেতেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শিবসেনার বক্তব্য, টাকার ক্ষমতা প্রদর্শন করে জয়ী শিবসেনা বিধায়কদের কেনার চেষ্টা করছে। কিন্তু শিবসেনা মহারাষ্ট্রে এই অনৈতিক রাজনীতি হতে দেবে না। পূর্বতন সরকার টাকার ক্ষমতা দেখিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা করছে। কিন্তু তাঁরা কৃষকদের সাহায্য করার কথা ভাবছে না। মহারাষ্ট্রের কৃষকরা শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রী চায়। বিজেপির বিরুদ্ধে শিবসেনার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের মুখপাত্র সচিন সাওয়ান্ত বলেন, ‘শিবসেনা মহারাষ্ট্রে বিজেপির জোটসঙ্গী। যদি তাঁরা ভয় পেয়ে অভিযোগ আনে যে বিজেপি তাঁদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা রইল না যে বিজেপি কোন অনৈতিক ভঙ্গিতে রাজনীতি করে। বিজেপি থেকে মহারাষ্ট্রকে বাঁচাতে হবে আমাদের। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-সেনা জোটের কি সরকার গঠন করার কোনও নৈতিক অধিকার রয়েছে?’
৩১ লক্ষ ডলার হাতিয়ে বিদেশে, মুম্বই থেকে প্রতারককে ধরল কলকাতা পুলিশ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
কলকাতার একটি সংস্থার থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে গা ঢাকা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। টাকার অঙ্কও নেহাত কম নয়! ৩১ লক্ষ ডলার। তক্কে তক্কে ছিল পুলিশ। মুম্বই বিমানবন্দরে পা রাখতেই ধরা পড়ে যায় ওই ব্যক্তি। অভিযুক্তের নাম মধুসূদন তাপাড়িয়া।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৩১ লক্ষাধিক ডলার হাতিয়ে বিদেশে পালাচ্ছিল অভিযুক্ত। লুক আউট নোটিসের ভিত্তিতে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে মধুসূদন তাপাড়িয়া নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেন কালীঘাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন দক্ষিণ কলকাতার শম্ভুনাথ পন্ডিত স্ট্রিটের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মধুসূদন ওই সংস্থারই কর্মী ছিল। বিভিন্নভাবে সে সংস্থাকে প্রতারণা করতে শুরু করে। তিন বছর আগে মহারাষ্ট্রের থানের ওই বাসিন্দা সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩১ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৯৭ ডলার উধাও করে দেয়। তার পর থেকে তার সন্ধান মেলেনি। কালীঘাট থানায় ওই সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে যে, ওই ব্যক্তি বিদেশে পালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি হয়। তারই ভিত্তিতে কালীঘাট থানার পুলিশ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে একটি মেল পায়। পুলিশ জানতে পারে, বিদেশ থেকে এসে মুম্বই বিমানবন্দরে নামামাত্রই তাকে ধরা হয়। তাকে সাহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কালীঘাট থানার পুলিশ মুম্বই পৌঁছয়। মঙ্গলবার আন্ধেরি আদালতে তোলার পর তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। ধৃত ওই ব্যক্তিকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন কলকাতা আদালতের বিচারক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে আপাতত জেরা করা হচ্ছে। #
পার্সটুডে/এমবিএ/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।