বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী-রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করুন
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১১ নভেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বুলবুল বিদায় নিলেও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা কাটেনি-দৈনিক প্রথম আলো
-
বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী-রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করুন- কালেরকণ্ঠ
- তুরিনকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ- দৈনিক যুগান্তর
- লতিফ সিদ্দিকীর জামিন স্থগিত-দৈনিক ইত্তেফাক
- আমরা বসন্তের কোকিল চাই না’-দৈনিক মানবজমিন
- বাবরি মসজিদ ইস্যুতে মুসলিম উম্মাহ মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন : জামায়াত-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- বুলবুলে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষত সারাতে দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশ জেলা প্রশাসনকে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ছাত্র আন্দোলেন উত্তাল জেএনইউ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ-দৈনিক আজকাল
- কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’ স্লোগান থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন সংঘ প্রধান ভাগবত-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
১. সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে বাংলাদেশের হাইকোর্ট হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- আাদলত কেন হতাশা প্রকাশ করল?
২. আরবদের আঁতাতের কারণে ইয়েমেনকে হুমকি দেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে ইসরাইল -এমন মন্তব্য করেছেন হামাসের পলিট ব্যুরোর সদস্য মাহমুদ আয-যাহার। তার এ বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ
বুলবুল বিদায় নিলেও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা কাটেনি-দৈনিক প্রথম আলো
তাণ্ডব চালিয়ে বিদায় নিয়েছে মহাপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তবে বুলবুল দুর্বল হলেও সাগর কি শান্ত হয়েছে?—সেটাই এখন পর্যবেক্ষণ করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বঙ্গোপসাগর বা তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগর থেকে সাধারণত নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে আঘাত হানে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এসব সাগর থেকে নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই বুলবুল বিদায় নিলেও আরও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে যে আঘাত হানবে না, সে শঙ্কা মোটেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আর এই শঙ্কা না কাটা পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতও জেঁকে বসতে পারবে না।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আসার সপ্তাহখানেক আগে একটা শীত শীত ভাব সারা দেশেই অনুভূত হচ্ছিল। কিন্তু বুলবুলের কারণে তাপমাত্রা আবার খানিকটা বেড়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে বিদায় নিয়েছে। এখন সাগর কিছুটা শান্ত হয়েছে। এখন দেখতে হবে সাগরের শান্ত ভাব আর কত দিন থাকে। কারণ সূর্য এখনো খাঁড়াভাবে বঙ্গোপসাগরে কিরণ দিচ্ছে। এই কিরণ থেকে সৃষ্টি হয় লঘুচাপ, তারপর নিম্নচাপ এবং অবশেষে ঘূর্ণিঝড়। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশ থেকে নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রবণতা থেকে যায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে বছরের নভেম্বর মাসে যদি ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে এর থেকে বাতাস বা জলীয় বাষ্প উপকূলের দিকে এসে থাকে। এ বাতাসের কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে হিমেল বাতাস আসতে পারে না। এমন পরিস্থিতি হলে শীতও অনুভূত হয় না।
আবহাওয়াবিদেরা জানান, বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কম হলে মানুষের মধ্যে শীত অনুভূত হয়। এখনো পর্যন্ত দেশের উত্তরের পঞ্চগড় বা আশপাশের জেলা ছাড়া কোথাও এই ধরনের আবহাওয়ার দেখা মেলেনি। তাই শীতের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ সকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা সারা দেশের আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থাকবে। তবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। রাতের তাপমাত্রা এ সময় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকালে সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় আজ সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী-রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করুন- কালেরকণ্ঠ
'নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন।'
আজ সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে 'ঢাকা গ্লোবাল ডায়লগ-২০১৯' এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়-এই পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা বিশ্বাসী এবং আমরা এটাই মেনে চলি। এ কারণে পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি মিয়ানমার থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আসার পরও তাদের সঙ্গে আমরা ঝগড়ায় লিপ্ত হইনি। সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন।' তিনি বলেন, 'বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগর বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় শত্রু দারিদ্র। সেটি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। শিক্ষা শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না।'
প্রথমবারের মতো তিনদিনব্যাপী এই ডায়লগের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) ও অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)।
তুরিনকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ- দৈনিক যুগান্তর
পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
সোমবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এরপর তাকে মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার ওয়াহিদুল হকের মোবাইল ফোনে থাকা দুই অডিও রেকর্ডের কারণে ফেঁসে যান তুরিন আফরোজ। রাজধানীর গুলশান থেকে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করে গুলশান পুলিশ।
ওই সময় তার মোবাইল ফোনটিও জব্দ করে পুলিশ। পরে সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে দুটি অডিও রেকর্ড পাওয়া যায়। ওই অডিওতে তার সঙ্গে তুরিনের যোগাযোগের তথ্য ছিল। গুলাশান থানার ওসি অডিও রেকর্ড দুটি কপি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে সংস্থা তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে দিলে তুরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়।
দুটি অডিওর মধ্যে একটি টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ড। এটি চার মিনিটের মতো। অন্য অডিওটি ওই গোপন বৈঠকের, প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার মতো। জানা গেছে, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে তদন্ত হচ্ছিল। তা হল- আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠক, মামলার নথি তার কাছে হস্তান্তর ও মামলার মেরিট নিয়ে কথা বলা।
অভিযোগের প্রমাণ ও অডিও রেকর্ড আইন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তুরিন আফরোজকে ট্রাইব্যুনালের সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আসামি ওয়াহিদুল হকের মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এবং তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। গত বছর তদন্ত শুরু হওয়ার পর ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর তুরিন আফরোজকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।
অভিযোগ উঠে, ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতারের আগে গত নভেম্বরে তুরিন আফরোজ প্রথমে তাকে টেলিফোন করে দেখা করার সময় চান। এর পর একটি হোটেলে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেন তিনি।
তদন্ত সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, তাদের টেলিফোনে কথা হয় গত বছরের ১৮ নভেম্বর। আর পর দিন ঢাকার অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁর গোপন কক্ষে বৈঠকটি হয়। সেখানে তুরিন আফরোজ, তার সহকারী ফারাবি, আসামি ওয়াহিদুল হকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।
তিনি জানান, টেলিফোন রেকর্ডে তুরিন আফরোজ জানিয়েছেন যে তিনি বোরকা পরে ওই হোটেলে যাবেন। তার সঙ্গে থাকবে সহকারী ফারাবি, যাকে তিনি নিজের স্বামী পরিচয়ে সেখানে নিয়ে যাবেন।
লতিফ সিদ্দিকীর জামিন স্থগিত-দৈনিক ইত্তেফাক
বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনাদেশ আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর এ মামলায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে পাঁচ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক আপিল আবেদন করে।
আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় পাটকলের প্রায় আড়াই একর জমি দরপত্র ছাড়াই বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনে লতিফ সিদ্দিকীসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামি হলেন- ওই জমির ক্রেতা বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ। পরে চলতি বছরের ২০ জুন এ মামলায় বগুড়ার আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করেও জামিন পাননি লতিফ সিদ্দিকী। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি গত ২৬ সেপ্টেম্বর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আমরা বসন্তের কোকিল চাই না’-দৈনিক মানবজমিন
সব দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসীদের সাবধান হতে বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আপনারা কেউ ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। বসন্তের কোকিলদের নিয়ে দল ভারী করার প্রস্তাব করবেন না। আমরা বিশ্বাসী, সাহসী এবং ত্যাগী কর্মী চাই; বসন্তের কোকিলদের চাই না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আমাদের প্রতিটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বলতে চাই, দলে কোনো দূষিত রক্ত চাই না। দলে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।ক্লিন ইমেজের কর্মীদের সংগঠনে যুক্ত করতে হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো খারাপ লোকের দরকার নেই। খারাপ কর্মীরা দলের দুর্নাম ডেকে আনে। খারাপ কর্মীদের দলের দুঃসময়ে হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। আওয়ামী লীগে দুঃসময়ের কর্মী চাই, বসন্তের কোকিল চাই না।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সম্পাদকের নাম আগামী ১৬ই নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে।এর আগে, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি বাবু দেবাশীষ বিশ্বাস, পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু।
বাবরি মসজিদ ইস্যুতে মুসলিম উম্মাহ মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন : জামায়াত-দৈনিক নয়াদিগন্ত
বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ এই উদ্বেগ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন,‘বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার রায়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ রায় ভারতের মুসলমানসহ মুসলিম উম্মাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরো বলেন, ভারতের একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক ঘোষিত ধর্মীয় ও মানবাধিকার সনদ এবং ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক শক্তির জোরে ৪৬০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত প্রকারান্তরে ঐ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অন্যায় কাজকেই বৈধতা দিল। এতে মুসলিম উম্মাহ মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।
জামায়াতের আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, বাবরী মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের জন্য ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও মসজিদের জন্য পাঁচ একর জমি দানের যে কথা রায়ে বলা হয়েছে- তা মুসলমানদের প্রতি চরম উপহাসের শামিল। ভারতের মুসলিম সমাজকে তাদের ধর্মীয় ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ‘বাবরি মসজিদের স্থানে পূর্বে মন্দির ছিল’ মর্মে যে দাবি করছে তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ঐ স্থানে খনন কাজ করেও মন্দিরের কোনো চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদরাও ঐ স্থানে মন্দিরের কোনো নিদর্শন আবিষ্কার করতে পারেনি। সুপ্রিমকোর্ট নিজেও মেনে নিয়েছে যে, পুরাতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের রিপোর্টে কোনোভাবেই প্রমাণ হচ্ছে না যে, একটা মন্দিরকে ভেঙ্গে ওখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। এ থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের দাবি সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক এবং ন্যায়নীতির পরিপন্থী।
ভারতের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিসহ একাধিক বিচারপতি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাদের বক্তব্যে বলেছেন যে, ‘ইতিহাস পুননির্মাণ করা আদালতের কাজ নয়। আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিমকোর্ট কোনো অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দেয়নি। এই রায় আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে দেয়া হয়নি।’
ভারতীয় বিচারপতিদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতের সুপ্রিমকোর্ট বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করেছে। এ রায় শুধু ভারত নয়, সারাবিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক ঘোষিত ধর্মীয় ও মানবাধিকার সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বাবরি মসজিদের স্থানে সরকারি দায়িত্বে মসজিদ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করে মুসলমানদের ধর্মীয় ন্যায্য অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিজ্ঞপ্তি।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
বুলবুলে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষত সারাতে দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশ জেলা প্রশাসনকে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
পশ্চিমবঙ্গ যে ভাবে বুলবুলের মোকাবিলা করেছে, তার প্রশংসা করেছে ভারত সরকার। সোমবার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার সকালে আকাশপথে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত নামখানা-বকখালি-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পর, কাকদ্বীপে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানেই মমতা জানান— কেন্দ্রীয় একটি পর্যবেক্ষক দল রাজ্যে আসছে। তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন জেলা আধিকারিকদের। বুলবুলে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যসচিব রাজীব সিংহকে পাশে নিয়ে তিনি জেলার বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খতিয়ান চান মমতা। হেলিকপ্টার থেকে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলেন— উপকূলবর্তী এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পান এবং ধান উপকূলবর্তী এলাকায় ১০০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির কতটা ফসলবিমার অন্তর্ভুক্ত, তা জেলা কৃষি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে জানানো হয় এই পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ মোট কৃষিজমির অর্ধেকের ফসল বিমার অন্তর্ভুক্ত। শোনার পর তিনি ১০০ শতাংশ জমি ফসলবিমার অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সারানোরও নির্দেশ দেন মমতা। বলেন, ‘‘ দেখতে পেলাম সমুদ্রতট এলাকা ব্যাপক ভেঙেছে। অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে। অবিলম্বে সেই বাঁধ সারান।” তিনি সেচ দফতরকে বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে বাঁধ বাঁচাতে ম্যানগ্রোভ লাগাতেও বলেন। গোটা এলাকার ম্যানগ্রোভ বাঁচানোর উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানান, আপাতত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গোটা রাজ্যে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সেই সংখ্যাটা বেড়ে ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে প্রায় ২ লাখ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি সেই বাড়ি বাংলা আবাস যোজনায় তৈরি করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে জেলা আধিকারিকদের দ্রুত জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত গোসাবা, সাগর, বাসন্তী, নামখানার মতো ব্লকগুলোতে গাড়ি করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যুত্ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন— ২১ টি সাব স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। এখনও সাত-দশদিন সময় লাগবে গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবকদের ১০০ দিনের কাজের আওতায় এনে বিদ্যুৎ কর্মীদের সহায়ক হিসাবে কাজে লাগানোরও নির্দেশ দেন। ঠিক একই ভাবে ১০০ দিনের কাজের খাত থেকেই গ্রামে জমা জল পরিষ্কার করা এবং গাছ কাটা ও পুকুর পরিষ্কার করার কাজে যুক্ত করার কথা বলেন। জমা জল পুরো বের করতে প্রায় দু’মাস সময় লাগবে বলে আধিকারিকদের অনুমান। কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে মুখ্যমন্ত্রী জেলার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন।
ছাত্র আন্দোলেন উত্তাল জেএনইউ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ-দৈনিক আজকাল
আবার রণক্ষেত্র জেএনইউ। সোমবার ছাত্র আন্দোলনে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। ফি বৃদ্ধি–সহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ দেখান জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সদস্যরা। এই বিক্ষোভ প্রশমিত করতে পুলিশ নামানো হয়। তখন পুলিশের সঙ্গে তারা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ফলে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্রদের ওপর জলকামান ব্যবহার করা হয়।এদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করে পুলিশ। তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্ররা।

আন্দোলনরত ছাত্রদের বক্তব্য, ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১৫ দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ছাত্রই আসে গরীব পরিবার থেকে। কীভাবে তারা এখানে পড়াশোনা করবে? ছাত্রবিরোধী নীতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।ছাত্র সংসদ ক্যাম্পাসে সব ছাত্রদের জড়ো হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অডিটোরিয়াম পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই হলেই এদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠান। হস্টেলের নিয়ম না বদলানো পর্যন্ত বিক্ষোভ জারি থাকবে বলে হুমকি দিয়েছেন ছাত্ররা। এই সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকার কথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু।
কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’ স্লোগান থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন সংঘ প্রধান ভাগবত-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরেই স্লোগান উঠেছিল, ‘ইয়ে সিরফ্ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’। অর্থাৎ এরপর কাশী ও মথুরায় মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির যে অভিযোগ হিন্দু সংগঠনগুলি তুলেছিল, তারও এভাবেই নিষ্পত্তি করতে চায় তারা। সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা মামলার রায় দেওয়ার পর তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষত, যেগুলি বহুদিন ধরেই হিন্দু জনবসতির পাশে অবস্থিত, সেগুলি নিয়ে বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরেই। কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের ইঙ্গিত, এবার সেগুলি নিয়ে তারা সুর চড়াবে। তবে এ সবের মধ্যে রবিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে আর্জি, মন্দির এবার দ্রুত নির্মিত হোক। আর তা হোক পুরাতত্ত্ববিদ চন্দ্রকান্ত সোমপুরার তৈরি নকশা অনুসরণ করে।
কিন্তু কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির আদর্শগত পথপ্রদর্শক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস স্পষ্ট করে দিয়েছে, বারাণসী-মথুরায় মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণের কোনও আন্দোলনে তাদের সায় নেই। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের ইঙ্গিত, ‘কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’ স্লোগানে তাঁরা শরিক নন। এবং এই ধরনের কোনও আন্দোলন হলে তাতে সংঘ পরিবার যোগ দেবে না। আরও এই ধরনের সমস্ত বিতর্কের এবার অবসান চান ভাগবত।
এপ্রসঙ্গে সংঘ প্রধান বলেন, যিনি বা যাঁরা বারাণসী ও মথুরায় মসজিদের পরিবর্তে মন্দির তৈরির কথা বলছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেব না। সংঘের কাজ আন্দোলন করা নয়, এর কাজ কেবল মানুষের চরিত্র গঠন করা। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পাঁচিলের পাশেই অবস্থিত জ্ঞানবাপী মসজিদ। কয়েক শতকের পুরনো বিশ্বনাথ মন্দির বহুবার আক্রান্ত হয়েছে। শেষবার ১৬৬৯ সালে। বহু ঐতিহাসিক মনে করেন, মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব মন্দিরের একাংশ ভেঙে ওই মসজিদ তৈরি করেছিলেন। হিন্দুদের আর এক পবিত্র তীর্থ মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরের লাগোয়া শাহি ইদগা মসজিদ।
বহু ঐতিহাসিকের ধারণা, ঔরঙ্গজেব এখানেও কেশবনাথ মন্দির ভেঙে ওই মসজিদ তৈরি করেছিলেন। অর্থাৎ, এই মসজিদগুলি নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এবার পথে নামতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু, সংঘ প্রধান স্বয়ং এ ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করায় কিছুটা স্বস্তিতে মুসলিম সংগঠনগুলি।
তবে রবিবার ভিএইচপির তরফে কেন্দ্রের কাছে একটি আবেদন জানানো হয়েছে। আর তাতে বলা হয়েছে, কেন্দ্র দ্রুত অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির কাজ শুরু করুক। তা করতে গিয়ে তারা পুরাতত্ত্ববিদ রামচন্দ্র সোমপুরার তৈরি মন্দিরের নকশা মেনে চলুক। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে পুরাতত্ত্ববিদ এবং প্রখ্যাত মন্দির স্থাপত্যবিদ চন্দ্রকান্ত সোমপুরাকে অযোধ্যায় প্রস্তাবিত মন্দিরের নকশা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেসময়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি অশোক সিংঘল। সেকথা মনে করিয়ে সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অলোক কুমার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা চাই নতুন মন্দির সঠিকভাবে নির্মিত হোক।’’#
পার্সটুডে/এমবিএ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।