একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৫ নভেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- পেঁয়াজের চোটপাটে ক্রেতা দিশেহারা-দৈনিক প্রথম আলো
- সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এই অবস্থা: ওবায়দুল কাদের: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি মন্ত্রী-এমপিরা জড়িত: রিজভী- দৈনিক যুগান্তর
- মায়ের কোলে ফিরলেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি দৈনিক ইত্তেফাক
- রোহিঙ্গা নির্যাতন-মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের অনুমোদন আইসিসির-দৈনিক মানবজমিন
-
কি.মি হেঁটে জাবিতে সেই হানিফ বাংলাদেশি, চাইলেন ভিসির পদত্যাগ-বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের খবর:
- পাকিস্তানের ডিএনএ-র মধ্যেই রয়েছে সন্ত্রাসবাদ’, ইউনেস্কোয় তীব্র কটাক্ষ ভারতের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ভারত কখনওই কাশ্মীরকে বাদ দিয়ে হবে না’, মার্কিন কংগ্রেসে আক্রমণাত্মক লেখিকা সুনন্দা বশিষ্ঠ -দৈনিক আজকাল
- আরও বিপাকে কুলভূষণ, আইন সংশোধনের দাবি উড়াল পাকিস্তান-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পেঁয়াজের চোটপাটে ক্রেতা দিশেহারা-দৈনিক প্রথম আলো
দেশজুড়ে বাজারে অভিযান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস, বড় চালান আসার খবর—কোনো কিছুই থামাতে পারছে না পেঁয়াজের দরবৃদ্ধিকে। ডাবল সেঞ্চুরি করে এখনো নটআউট পেঁয়াজ। বাঙালি রান্নার উপাদেয় এই উপকরণটির চোটপাটে ক্রেতারা দিশেহারা।রাজধানীর বাজারে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই গতকালের চেয়ে বাড়তি পেঁয়াজের দাম। কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও, কলাবাগান, আগারগাঁওয়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের পেঁয়াজই কেজিতে ২০০ টাকার ওপর বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম ২২০ টাকা ছাড়িয়েছে।
দেশি পেঁয়াজের মতোই লাফিয়ে বেড়েছে মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজের দাম। গতকালের চেয়ে আজ সব পেঁয়াজেরই দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। এমনকি চীনা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের এই দ্বিশতক দেশে প্রথম। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকায় উঠেছিল। সেটাই ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দর।
খিলগাঁওয়ের গৃহিণী শামীম আরা বলেন, সকালে পেঁয়াজ কিনতে বের হয়েছিলেন। দুই দোকান থেকে ফেরত আসতে হয় তাঁকে। পেঁয়াজ নেই। পরে একটি দোকানে গিয়ে পেঁয়াজ পান। ২০০ টাকা কেজিতে ১ কেজি পেঁয়াজ নেন তিনি। দোকানি তাঁকে জানান, আগে কিনে রেখেছিলেন বলে এই দামে পেয়েছেন।
কলাবাগানে খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করেন রুমানা। তিনি বলেন, ‘আফা পিয়াজ কিনতে পাঠাইছিলেন। আড়াই শ টাকা কেজি শুইনা ফিরা আসছি।’ আগারগাঁওয়ে বাসিন্দা সোবহান আলম বলেন, ‘ছুটি থাকায় শুক্রবারই বাজার করি। বাজারে ২০০ টাকা নিচে কোনো পেঁয়াজ নেই। দেশিটা ২২০ টাকা কেজি চায়।’
পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ ব্যাপক চাপে পড়েছে। সকালে কারওয়ান বাজারে ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম শুনে মলিন মুখ করে চলে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। অনেককে এক কেজি করে পেঁয়াজ কিনে ফিরে যেতে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের জোগান নেই। তাঁরা জানান, দাম বেশি বলে বাজারে ক্রেতাও কম।
এ বিষয়ে আজ সকালে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে পরে মন্তব্য করবেন তিনি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দেশে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। আমদানিও হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বেশ ভালো হবে বলে আশা করা যায়।
ভারত গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে টনপ্রতি ন্যূনতম মূল্য ৮৫০ মার্কিন ডলার বেঁধে দেয়। এর পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় দেশটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানিতে সিটি, মেঘনা ও এস আলম গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করে ১৪ অক্টোবর। এরপর থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বড় চালান আসছে।
২৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বড় চালান দেশে পৌঁছাবে। দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এরপর ১৭ দিন কেটেছে। বড় ধরনের চালানের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) সদস্য মো. আবু রায়হান আলবিরুনি বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিসর ও তুরস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। কোনো বাজারেই পেঁয়াজের ঘাটতি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
তাহলে পেঁয়াজের কী সমস্যা? এ বিষয়ে জানতে গত কয়েক দিনে তিনজন আমদানিকারক ও চারজন পাইকারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা বলেছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ কখন এসে বাজার সয়লাব করে ফেলে, সেই ভয়ে আমদানিকারকেরা অন্য দেশ থেকে বাড়তি পরিমাণে পেঁয়াজ আনছেন না। ঝুঁকি নিয়ে সরকার পেঁয়াজ আমদানি করতে পারত বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাই সরবরাহ ঘাটতি কমেনি। সংকট কাটেনি।
গোলাম রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে চাহিদার দুই–তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এক-তৃতীয়াংশ আসে ভারত থেকে, যা প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার টন। ভারত যখন রপ্তানি বন্ধ করে দিল, এই পরিমাণ পেঁয়াজের একটা ঘাটতি তৈরি হলো। এ ছাড়া বন্ধ ঘোষণা করার আগে ভারত কিছু বলেনি। হঠাৎ করেই ঘাটতি হলো। সরকার ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করল অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে। তবে ব্যবসায়ীরা আমদানির ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই জোগানের ঘাটতি থেকেই গেল। সরকার বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পেঁয়াজ আমদানি করতে অনুরোধ করেছিল। তারা পেঁয়াজ আমদানি করেছে বলে আমি খবর পাইনি। ফলে সব মিলিয়ে দাম বাড়তে থাকল। যাদের কাছে কিছু পেঁয়াজ ছিল তারা দাম বাড়িয়ে দিল। সরকার কিছু অভিযান চালাল, জরিমানা করল। দাম বেঁধে দিল। যাদের কাছে পেঁয়াজ ছিল তারা ভাবল এই দামে তাদের পোষাবে না। তারা বিক্রি করল না। ফলে সংকট তৈরি হলো।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, পেঁয়াজের উৎপাদন ১৮ লাখ ৩ হাজার টন। দুই সরকারি সংস্থার হিসাবে ৫ লাখ টনের গরমিল। এই হিসাব ধরে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
ভারতের পর পেঁয়াজের বড় উৎস মিয়ানমার। মিয়ানমার থেকে আমদানিকারকেরা বলেছেন, টেকনাফ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দেড় মাস ধরে আমদানিমূল্য টনপ্রতি ৫০০ ডলার বা কেজিপ্রতি ৪২ টাকা দেখাচ্ছে। যদিও সেটা এখন ৯৩ টাকায় উঠেছে।
সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এই অবস্থা: ওবায়দুল কাদের: দৈনিক কালেরকণ্ঠ
দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর মুখ খুললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এই অবস্থা বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আসছে বাংলাদেশে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পেঁয়াজের দাম যারা বাড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত করা হলে তারা অবশ্যই সাজা পাবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এই অবস্থা হয়েছে। এছাড়া যাদের কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত হলে অবশ্যই সাজা পাাবে তারা।
সজীব ওয়াজেদ জয় এবার আওয়ামী লীগের কোনো পদে থাকবেন কি-না এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, কমিটিতে কে থাকবে আর কে থাকবে না তা নির্ধারণ করার মালিক শেখ হাসিনা। তবে জয়কে এর আগেও বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কমিটিতে থাকতে রাজি হননি। পীরগঞ্জে মনোনয়ন দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল তাতেও তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, জয় কোনটাতেই আগ্রহী নন। যে অবস্থায় কাজ করছে সে অবস্থাতেই থাকতে চান জয়।
পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি মন্ত্রী-এমপিরা জড়িত: রিজভী- দৈনিক যুগান্তর
পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির ঘটনায় অবিলম্বে ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে রিজভী এ দাবি করেন। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়।
নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার দলটির কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। রিজভী বলেন, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের কেজি দেড় শতকের পর ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। গতকাল যোগ হয়েছে আরও ৪০ টাকা। ২৪০ টাকা ছাড়িয়েও থামেনি দাম। দাম আর কত বাড়বে এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছেন না।
‘বরং সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী যেদিন বললেন বাজার নিয়ন্ত্রণে, তার পরদিনই এক লাফে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যায় কেজিতে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, তাদের বক্তব্য সিন্ডিকেটকে উসকে দিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতবছর থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আছে, তা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে এভাবে লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন? রাজধানীর খুচরা বাজারে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২৪০ টাকা ছাড়িয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ মনে করে পেঁয়াজ নিয়ে যে সিন্ডিকেট লুটতরাজ চলছে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি সরাসরি জড়িত। এ কারণে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলছে। অবিলম্বে আমরা ব্যর্থ মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।
রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ অংশ নেন।
মায়ের কোলে ফিরলেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি দৈনিক ইত্তেফাক
সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক সুমি আক্তার আজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫১৭ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান সুমি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সচ্ছলতার আশায় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাংলাদেশের সুমি আক্তার। বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানোর কথা বললেও ভালো টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে দালালরা তাকে বিক্রি করে দেয়। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই মারধর আর যৌনহয়রানিসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সম্প্রতি ফেসবুকে ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেই নির্যাতনের কথা তুলে ধরে দেশে ফেরার আকুতি জানান সুমি।

পরে জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ফাইনাল এক্সিট- অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেয়া হবে না বলে জানালেও পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
সুমি পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার পরিবার জানায়, আগের স্ত্রীর কথা গোপন করে তাকে বিয়ে করে নুরুল ইসলাম। সেখানেও সতীনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে উপার্জনের আশায় সৌদি আরবে যান সুমি।
রোহিঙ্গা নির্যাতন-মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের অনুমোদন আইসিসির-দৈনিক মানবজমিন
রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার আদালতের তিন বিচারক বিশিষ্ট একটি প্যানেল এই অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর এ অনুমোদন দিয়েছেন তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।খবরে বলা হয়, সম্প্রতি রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ছে। সোমবার দ্য হেগে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে গাম্বিয়া। এরপর বুধবার আর্জেন্টিনায় মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক নৃশংসতা শুরু হয়।
এর হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে কমপক্ষে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা।২০০২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর বিচারের জন্য আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়।হেগ-ভিত্তিক আদালতটি বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ অভিযোগের তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে। আদালতের তথ্য অনুসারে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত সহিংস কর্মকা- এবং জাতি বা ধর্ম বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের তিন বিচারক বিশিষ্ট প্যানেল বলেছে, এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ও/অথবা পদ্ধতিগত সহিংস কর্মকা- সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। যেগুলো মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পাড়ি দেয়া মানুষদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া, জাতি ও ধর্ম বিবেচনায়ও তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।এদিকে, আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন। দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক পরিচালক জর্জ গ্রাহাম বলেন, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মাত্রা ও তীব্রতার সহিংসতা চালিয়েছে তা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শুনানির দাবি রাখে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বালক-বালিকাদের হত্যা করা হয়েছে, ধর্ষণ করা হয়েছে। তারা গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে।জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ও দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা বা জাতিগত নিধনের চালানোর অভিযোগ এনেছে। তবে মিয়ানমার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি আইসিসির সদস্য নয়। তবে গত বছর এক রায়ে আইসিসি জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তাদের বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। কেননা, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আর বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য।গত বছরের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত করার অনুমোদন পেয়েছিলেন আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর ফাতাও বেনসুদা। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পূর্ণ মাত্রার তদন্তের আবেদন করেন তিনি।
কি.মি হেঁটে জাবিতে সেই হানিফ বাংলাদেশি, চাইলেন ভিসির পদত্যাগ-বাংলাদেশ প্রতিদিন
জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ৩৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান সেই হানিফ বাংলাদেশি। এসময় তিনি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজাান ইসলামের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। বৃহস্পতিবার বিকালে জাবি ক্যাম্পাসে যান সেই হানিফ বাংলাদেশি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সাখাওয়াত হেসেন, আল আমিন রাজু, ফেরদৌস জিন্নাহ লেলিন।
ভিসির পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেবরুল হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্ররা। স্মারকলিপিতে হানিফ বাংলাদেশি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে যখন ক্ষমতায় এসেছে, সে দলই ঘুষ-দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। যা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। সমাজ রাষ্ট্র সর্বত্রই ঘুষ-দুর্নীতি, সামাজিক-মানবিক-পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে।

তিনি বলেন, পরস্পর দোষারোপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি অবক্ষয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে দল যখন ক্ষমতায় আসে তারা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের আজ্ঞাবহ লোকদের বিভিন্ন পদে পদায়ন করে। এতে সর্বত্রই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
হানিফ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একটি সম্মানজনক, মর্যাদাশীল ও আদর্শিক পদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দীর্ঘদিন যাবত ভিসির বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলন করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। যা কারোই কাম্য নয়।
‘আমরা আশা করি ভিসি তার ওপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করুন। না হলে সম্মানের সহিত পদত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর-সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
নোয়াখালীর নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের আবদুল মান্নান রেনু মিয়ার একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ হানিফ। দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করায় বন্ধুরা তাকে ‘হানিফ বাংলাদেশি’ বলে ডাকেন। বর্তমানে তিনি এ নামেই পরিচিত।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
পাকিস্তানের ডিএনএ-র মধ্যেই রয়েছে সন্ত্রাসবাদ’, ইউনেস্কোয় তীব্র কটাক্ষ ভারতের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
নিজেদের দোষেই আজ ঋণের ভারে জর্জরিত পাকিস্তান। ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ। অথচ সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া থেকে বিরত থাকছে না তারা। সন্ত্রাসবাদ আদতে পাকিস্তানের ডিএনএ-র মধ্যেই রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ ভাবেই পাকিস্তানকে তুলোধনা করল ভারত।
প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে পাকিস্তান। তারই প্রত্যুত্তরে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাদের তীব্র সমালোচনা করে ভারত।
ইউনেস্কোর সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অনন্যা আগরওয়াল। তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের ডিএনএ-র মধ্যেই সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। মৌলবাদী চিন্তা ভাবনা ওদের সামাজিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়েছে। উন্মাদের মতো আচরণের জন্য আজ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ওরা।’’
ইউনেস্কোর মতো মঞ্চে দাঁড়িয়েও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের প্রতি বিষোদ্গার করা নিয়েও পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অনন্যা। তিনি বলেন, ‘‘ইউনেস্কোর মঞ্চে দাঁড়িয়েও ভারতের প্রতি বিষোদ্গার করছে পাকিস্তান। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।’’
২০১৮ সালে পৃথিবীর দুর্বল রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ১৪তম স্থানে ঠাঁই হয়েছিল পাকিস্তানের। তার পরেও সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশন চলাকালীন পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে কোথাও সুবিধা করতে না পেরে জানিয়েছিলেন, ভারত এবং পাকিস্তান, দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে তার ফল ভয়ঙ্কর হবে। ইমরানের সেই আচরণেরও তীব্র নিন্দা করে ভারত।
ভারত কখনওই কাশ্মীরকে বাদ দিয়ে হবে না’, মার্কিন কংগ্রেসে আক্রমণাত্মক লেখিকা সুনন্দা বশিষ্ঠ -দৈনিক আজকাল
মার্কিন কংগ্রেসে ফের উঠল কাশ্মীর প্রসঙ্গ। এবার মুখ খুললেন লেখিকা সুনন্দা বশিষ্ঠ। জানিয়ে দিলেন, পাঞ্জাব এবং উত্তর–পূর্বে বেড়ে ওঠা জঙ্গি গতিবিধি ইতিমধ্যেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে ভারত। এবার নজর দিতে হবে কাশ্মীরের দিকে। জঙ্গি উপদ্রব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সেখানকার সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ফিরবে। এর আগেও মার্কিন কংগ্রেসের মানবাধিকার বিষয়ক শুনানিতে কাশ্মীরের প্রসঙ্গ উঠেছিল। যদিও ভারত বারবারই সওয়াল করে এসেছে, কাশ্মীর তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের মানবাধিকার কমিশন জানায়, ভারত ও পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে জম্মু–কাশ্মীরে সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হবে। দ্বিতীয় শুনানিতে সুনন্দা বশিষ্ঠ বলেন, ‘ভারত একটি অনন্য গণতান্ত্রিক দেশ। জঙ্গি সমস্যা সমাধান করতে পারলেই কাশ্মীরের মানুষের জীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া জঙ্গিদের নৃশংসতা অকল্পনীয়। আইএস জঙ্গিদের সমকক্ষ হয়ে উঠেছে তারা। কিন্তু কাশ্মীরে যতই হামলার চেষ্টা করুক, ভারত কখনওই কাশ্মীরকে বাদ দিয়ে হবে না।’

নয়ের দশকে উপত্যকা থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে যে আজ এখানে কথা হচ্ছে, এতে আমি খুব খুশি। কারণ এক সময়ে আমি, আমার পরিবারের মতো অনেককে ঘর হারাতে হয়েছিল। কিন্তু সারা পৃথিবী সেদিন চুপ করেছিল। তখন মানবাধিকারের ধ্বজাধারীরা কোথায় ছিলেন? তখন কেন মানবিকতা বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ!’ বশিষ্ঠের বক্তব্যের পরে মার্কিন কংগ্রেসের এক সদস্য, টেক্সাসের শাইলা জ্যাকসন লি প্রশ্ন তোলেন, এখন জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের মানবাধিকার ফেরাতে কী করা হবে? তিনি জানতে চান, মার্কিন কংগ্রেসের তরফে উপত্যকায় ঘুরে দেখা সম্ভব কিনা। আগস্ট মাসের গোড়ায় উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর থেকেই অবরুদ্ধ জম্মু–কাশ্মীর। বন্ধ করা হয়েছে টেলিফোন পরিষেবা। ল্যান্ডলাইন সাময়িকভাবে চালু হলেও মোবাইল পরিষেবা এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি উপত্যকায়। নেই ইন্টারনেট। মোতায়েন রয়েছে বিপুল বাহিনী। ৩১ অক্টোবরের পর থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে জম্মু–কাশ্মীর। কিন্তু সেখানকার মানুষের মৌলিক অধিকার এখনও ফেরেনি। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোরই দাবি উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে।
আরও বিপাকে কুলভূষণ, আইন সংশোধনের দাবি উড়াল পাকিস্তান-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
কুলভূষণ যাদব মামলায় ভারতের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না বলে সাফ জানাল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের নির্দেশ বলবৎ করার ক্ষেত্রেও দেশের সংবিধান মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দিল তারা।
কুলভূষণের বিরুদ্ধে যাবতীয় মামলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে ‘সম্মান জানিয়ে’ পাকিস্তানের আইন অনুসারেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘‘কুলভূষণ যাদব সম্পর্কে সমস্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে পাকিস্তানি আইন মেনেই নেওয়া হবে। এই বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না।’’ বুধবার প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কুলভূষণ যাতে পাকিস্তানের নাগরিক আদালতে আবেদন করতে পারেন, তার জন্য সেনা আইন সংশোধন করতে চলেছে ইমরান খানের প্রশাসন। কিন্তু এই খবর প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে পাক সেনার।
পাক সেনার মুখপাত্র অসিফ গফুর টুইট করেন, ‘অভিযুক্ত কুলভূষণ যাদব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকর করতে পাক সেনা আইন সংশোধনের যে জল্পনা শুরু হয়েছে, তা অসত্য। ওই মামলাটি পর্যালোচনার ব্যাপারে বিভিন্ন আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ জুলাই মাসে কুলভূষণ যাদব মামলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করা নিয়ে ভারতের অভিযোগকে মান্যতা দেয় আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত (আইসিজে)। কুলভূষণের বিরুদ্ধে পাক সেনা আদালতের রায় খতিয়ে দেখার ও পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক আদালত। ইসলামাবাদের দাবি, ইরান থেকে বালুচিস্তানে প্রবেশ করার পরে কুলভূষণকে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ গ্রেফতার করে পাক সেনাবাহিনী। তাঁর বিরুদ্ধে চরবৃত্তি ও নাশকতার অভিযোগ খারিজ করে ভারত উলটে জানায়, ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে অবৈধ উপায়ে কুলভূষণকে অপহরণ করে পাকিস্তান।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।