‘আত্মরক্ষার্থে বাংলাদেশকে দায়ি করছে মিয়ানমার
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ নভেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ঢাকায় বাস কম, দুর্ভোগ -দৈনিক প্রথম আলো
- সচল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক, ধর্মঘট স্থগিত- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- ১০ দিন ধর্মঘটেও চালের বাজারে প্রভাব পড়বে না, গ্যারান্টি: খাদ্যমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
- সরকার চায় না খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হোক : মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
- ‘আত্মরক্ষার্থে বাংলাদেশকে দায়ি করছে মিয়ানমার’-দৈনিক মানবজমিন
-
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে জাহাজ প্রস্তুত-দৈনিক নয়াদিগন্ত
- তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপিত-দেশের মানুষ এখন খোলা জেলে বন্দী : মির্জা আব্বাস--দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- এনআরসিতে কোনও ধর্ম টার্গেট নয়, রাজ্যসভায় বললেন অমিত, একই সঙ্গে শোনালেন নতুন নাগরিকত্ব বিলের কথাও-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- আর্থিক বর্ষের প্রথম ছ’মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জালিয়াতি হয়েছে প্রায় ৯৬০০০ কোটি টাকা, জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী -দৈনিক আজকাল
- অসমে নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের সময়সীমা এক মাস বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার প্রশ্ন (২৪ জুলাই, ২০১৯)
১. ‘.বাংলাদেশের বেশ কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ অনেকটা নাজেহাল অবস্থায় তখন আবার লবণের দাম বাড়ার ব্যাপারে একটা গুজব ছড়ানো হলো। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
২.ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে জনগনের একটা অংশ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তবে ইরান সরকার বলছে এই আন্দোলনে আমেরিকার সরাসরি মদদ রয়েছে। ব্যাপারটা আসলে কতটা সত্য?
জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ
ঢাকায় বাস কম, দুর্ভোগ -দৈনিক প্রথম আলো
সড়কের নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ। পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। সকাল থেকেই রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে রিকশায়, ভ্যানে বা বিকল্প পন্থায় কর্মস্থলে গেছেন। সায়েদাবাদের ব্রাহ্মণচিরণ এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আবদুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, বাস না পেয়ে তিনি বেলা ১১টায় সায়েদাবাদ থেকে রিকশায় থেকে মালিবাগ আসেন। সকাল থেকেই সায়েদাবাদ থেকে কোনো বাস চলছে না। সকাল সাড়ে আটটায় তার সামনেই গাজীপুর থেকে আসা একটি বাস থেকে সায়েদাবাদ নামিয়ে দেওয়া হয়, যেটি যাওয়ার কথা ছিল নারায়ণগঞ্জ।
ঢাকার তিনটি বাস টার্মিনাল গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকেও দূরপাল্লার এবং আন্তজেলার বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।এর মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে বাস চলাচল বন্ধে সেখানে জনদুর্ভোগ বেশি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিবহন মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সহ সভাপতি আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দূরপাল্লার সড়কে কিছু কিছু বাস পাঠাচ্ছি। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন জেলায় সেগুলো আটকা পড়ে ফিরতে পারছে না।’
সচল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক, ধর্মঘট স্থগিত- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে ডাকা ধর্মঘট স্থগিত করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রমিকরা। এতে আবার সচল হয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল। আজ বুধবার দুপুর দুইটার দিকে আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট স্থগিত করেন। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে আজ সকালে শ্রমিকদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সড়ক যোগাযোগ। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ স্থগিত ও সংশোধনের দাবিসহ নয় দফা দাবিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে সারাদেশে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা অন্যান্য গাড়িও চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে অচলাবস্থার তৈরি হয় সড়কে।নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) মোল্লা তাসনিম হোসেন ধর্মঘট স্থগিতের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। শ্রমিকদের বুঝিয়ে বলায় তারা আন্দোলন স্থগিত করেছে বলে জানান তিনি। এতে যান চলাচল শুরু হয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে।
১০ দিন ধর্মঘটেও চালের বাজারে প্রভাব পড়বে না, গ্যারান্টি: খাদ্যমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
বাজারে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, কেউ যদি কারসাজি না করে, তাহলে চালের দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই।
বুধবার সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বাজারে যে পরিমাণ চাল আছে, সেখানে পরিবহন ধর্মঘট যদি আট থেকে ১০ দিনও চলে তাতেও কোনও প্রভাব পড়বে না।
‘কেউ যদি এমন পরিস্থিতিতে অনৈতিকভাবে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে ছাড় দেয়া হবে না। তা সহ্যও করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, কারসাজি করে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
প্রয়োজন হলে তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি, নিজেরাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো বলে হুশিয়ারি করেছেন মন্ত্রী।
তার মতে, যে মজুত আছে, সেখানে আমরা চাল আমদানি নয়, রফতানির চিন্তা করছি। এমন পরিস্থিতিতে চালের দাম বাড়াটা অযৌক্তিক ও অনৈতিক।
চাল ব্যবসায়ীদের পক্ষে মিল মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি আব্দুর রশিদ (মিনিকেট রশিদ) সভায় উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাবুবাজারে চালের যে স্টক থাকে, বড় বড় বাজারে যে স্টক থাকে, ঢাকার বাজারে বিন্দুমাত্র কারণ (দাম বাড়ার) নেই। ৩-৪ দিন কেন, ১০ দিন বন্ধ থাকলেও প্রভাব পড়বে না গ্যারান্টি দিলাম, আমার সোজা কথা।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, মোটা চাল ওএমএস ডিলাররা লোকসানের কারণে তুলতে পারছে না। কারণ রেট হচ্ছে ৩০ টাকা, সেই চাল বাজারে ২৬-২৭ টাকা।
‘খুচরা বাজারে ৪-৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে, যেটা সাধারণ ভোক্তাদের আতে ঘা লাগে, আমরা এটি ছাড় দেবো না, এটি চলতে দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, পাইকাররা কেজিতে ৫০ পয়সার বেশি লাভ করতে পারেন না, এটাও সহ্য করা হবে না। খুচরা বাজার আপনাদের কন্ট্রোল করতে হবে, মনিটরিং করতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বেলেন, চালের দাম আর বাড়বে না, এটি শপথ করতে হবে। সরকারিভাবে চাল-গম মিলে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন মজুদ আছে, যা অন্য দেশের তুলনায় বেশি। সরকারি গোডাউনে ১১ লাখ ১২ হাজার ৬৭৪ টন চাল মজুদ আছে। দাম বাড়ালে ভোক্তা অধিকার আইনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকার চায় না খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হোক : মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেনছেন, ‘ সরকার চায় না খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হয়ে আসুক। কৌশলে খালাদে জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে।’
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনি অভিযোগ করেন তিনি।
ফখরুল আরো বলেন, ‘যে মামলায় খালোদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে তা সাজানো একটি মামলা। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে সেটা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
খালেদা জিয়া একজন জনপ্রিয় নেত্রী এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রেখে ভুল করছে। তিনি যদি জেল থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে বর্তমানে দেশে যে সংকট রয়েছে সেটি কাটিয়ে উঠতে পারতো।’ সরকার যদি খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করে তাহলে এই ‘সংকট’ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘এই সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ছদ্মবেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন,সহ-সভাপতি নূরে সাহাদাত স্বজনসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আত্মরক্ষার্থে বাংলাদেশকে দায়ি করছে মিয়ানমার’-দৈনিক মানবজমিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসীন বলেছেন, নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করছে মিয়ানমার। তাদের অবস্থান থেকে তারা এ ধরনের কথা বলছে। কিন্তু বিশ্ববাসীর কাছে তা প্রমাণ করতে পারছে না।তিনি বলেন, জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারে বিরদ্ধে মামলা হতো না, যদি তারা সঠিকভাবে প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ নিতো।
আর্ন্তজাতিক যে সম্প্রদায় আছে তারাই তো পর্যবেক্ষণ করছে। তারাই তো দেখছে যে, মিয়ানমার এমন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি যার কারণে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারবে। একই কারণে রোহিঙ্গারা নিজেরাও যেতে রাজি না। এটা সবার সামনে দৃশ্যমান।সুতরাং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে মিয়ানমার পার পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আমেনা মহসীন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আর্ন্তজাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাদের রাযকে মেনে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিসির সেই র্ফোসিং পাওয়ার নেই।
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে জাহাজ প্রস্তুত-দৈনিক নয়াদিগন্ত
নোয়াখালীর ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ রোহিঙ্গাদের নিতে চারটি জাহাজ তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার জাহাজের তিনটি ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। অপর জাহাজটি ১৫ ডিসেম্বর হস্তান্তর করার দিন নির্ধারিত রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন এম এস করিম জানান, এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ খুলনা শিপইয়ার্ডে এই জাহাজ নির্মাণ কাজের সূচনা হয়। ইতিমধ্যেই চলতি বছরের ১২ জুন দুটি ও ৭ নবেম্বর তৃতীয় জাহাজটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের জিএম (প্লান এন্ড এস্টিমেট) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ এর আওতায় ল্যান্ড ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) নামে চারটি ভ্যাসেল জাহাজ নির্মাণ কাজ শেষের পথে। প্রতিটি এলসিইউ এর দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার, মাঝখানে চওড়া ১০ মিটার, গভীরতা ১.৮ মিটার, ওজন ৪১৫ টন, সর্বোচ্চ গতি ১২ নটিক্যাল মাইল, স্বাভাবিক গতি ১০ নটিক্যাল মাইল। এই জাহাজ একবার যাত্রা করে ১৫০০ নটিক্যাল চলতে সক্ষম। জাহাজটিতে ২৫ জন নাবিকের থাকার জন্য সার্বিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮০ জন যাত্রী নেয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। জাহাজটিতে ১৫০ টন ত্রাণ সামগ্রী বহন করা সম্ভব।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে নৌবাহিনী চারটি এলসিইউ (জাহাজ) নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি করে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের এই প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে চলতি নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারিত ছিল। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আশ্রয়ণ-৩ শীর্ষক প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়, নোয়াখালী জেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নে ভাসানচরের অবস্থান। নোয়াখালী থেকে এর দূরত্ব ২১ নটিক্যাল মাইল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় অধিবাসীর সংখ্যা যেখানে ৫ লাখ ৭ হাজার, সেখানে ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও প্রকল্প কার্যপত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত ভাসানচরের ভূমি উন্নয়ন ও সমুদ্রতীরের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের জন্য সেখানে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ১৪৪০টি ব্যারাক হাউজ ও ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া থাকবে উপাসনালয়, নিরাপত্তার জন্য নৌবাহিনীর অফিস ও বাসভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো এবং ওয়াচ টাওয়ার। সূত্র : ইউএনবি
তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপিত-দেশের মানুষ এখন খোলা জেলে বন্দী : মির্জা আব্বাস
কেক কেটে নয়, দোয়া মাহফিল ও সামাজিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেছে বিএনপি। বুধবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী যুব দল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলসহ বিভিন্ন সংগঠন দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে তারেকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে।
১৯৬৫ সালের এই দিনে তারেক বগুড়ায় জন্মদিন গ্রহন করেন। ২০০৭ সালে ১/১১ পরিবর্তনের পর ততকালীন সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকার তারেককে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দেয়। গ্রেপ্তারের পর গুরুতর অসুস্থ হলে সুপ্রিম কোর্টের জামিনে তারেক চিকিতসার জন্য লন্ডনে যান স্বপরিবারে।
সকালে যুব দলের দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সুদুর প্রবাসে অবস্থারত আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এখানে শুধু আমি নই, আমার রাজনৈতিক সহকর্মীরাও তার প্রতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আমরা দোয়া করবো আল্লাহ‘তালা যাতে তাকে সুস্বাস্থ্যে দীর্ঘদিন নেক হায়াত দান করেন।
তারেক রহমান জন্ম নিয়েছেন-এটা আমাদের জন্য আনন্দের। এই দিনটা একজন মানুষের জীবনে সকল সময়েই আসে, কেউ পালন করে সরবে, কেউ পালন করে নিরবে। আমাদের সরবে পালন করার কথা ছিলো। অনেক উতসাহ, অনেক উদ্দীপনা। আমার তো মনে হয়, সারা বাংলাদেশে অন্ততঃ কয়েক‘শ কেক এই মুহুর্তে কাটার কথা ছিলো। কিন্তু তারেক রহমান সাহেব এটা নিষেধ করেছেন। এই মুহুর্তে এই ধরনের অনুষ্ঠান চাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারান্তরালে, হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তার যে বর্তমান অবস্থা কেমন সেটা জানার অধিকার বর্তমানে বাংলাদেশের জনগনের অধিকার নেই। এই সরকার এটাকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, একদিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি আর অন্যদিকে আমরা সারাদেশে মানুষ একটা খোলা জেলে বন্দি আছি। উপরের আকাশ খোলা, বাতাসও পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু আমরা বন্দি আছি। যুব দলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা এখানে আছে, আপনারা কী ভুলে গেছেন এমনই একটা সময় ছিলো ৯০-৯১ বা তার আগে এই যুব দলই নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলো। আজকে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকীতে আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-যুব দলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনুন, এই দেশকে আবারো স্বাধীন ও সার্বভৌম থাকতে সাহায্য করুন।আমি বিশ্বাস করি, যুব দল ঠিকভাবে কাজ করলে পরিবর্তন আসবে
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনেকটাই নিরবে আমাদের নেতা তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করছি। কিন্তু সবকিছু নিরবে যদি উপেক্ষা করি আমরা আমাদের দায়িত্ববোধগুলো তাহলে হয়তো অনাদিকাল পর্যন্ত আমরা এমনিভাবে জন্মদিন পালন করব। কখনো আন্দন নিয়ে জন্মদিন বলতে যে উচ্ছাস, সেই উচ্ছাস নিয়ে আমাদের বিলিন হয়ে যাবে। আমরা আছি একটি দ্বন্দ্বের মধ্যে নেত্রীর মুক্তি প্যারোলে না জামিনে। কিন্তু নেত্রীর মুক্তি যে রাজপথে হয়-এই কথাটা কেনো জানি আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি না। কি কারণে জানি দোয়া মাহফিল, মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আর প্যারোল ও জামিনের তর্ক-বিতর্কের মধ্যে দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখছি। আমার মনে হয়, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমাদের কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ প্রাপ্য নয়। আমরা যদি খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে যদি লক্ষ লোক জেলে যাই- সেটি্ই হবে যথার্থ সন্মান প্রদর্শন করা, আমরা যদি রাজপথে গুলি খেয়ে মারা যাই সেটাই হবে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদর্শন করা। আসুন আমরা রাজপথ দখল করার প্রত্যয়ে সবাই সরব্ হই।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে কারাগারে। আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদেরকে নিদের্শ তার জন্মদিনে কেক কাটা যাবে না, আন্দন করা যাবে না। আমরা আজকে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করছে। আপনারা জানেন স্বৈরশাসক শাহ পাহলবীর আমলে আয়াতুল্লাহ খোমনীকে প্যারিসে নির্বাসিত থাকতে হয়েছিলো, তার বক্তৃতা ও ছবি ওই সময়ে ইরানে নিষিদ্ধ ছিলো। প্যারিস থেকে খোমেনী যেভাবে বিপ্লব সংঘটিত করে তেহরনানের মাটিতে নেমেছিলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশেও অচিরেই বিপ্লব সংঘটিত হবে এবং বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, এবং দেশের শাসনভার গ্রহন করবেন। দেশে সুশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি, আধিপত্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হাত থেকে দেশ রক্ষা পাবে বলে আমরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমূথ বক্তব্য রাখেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, রফিকুল আলম মজনু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন সহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সকালে ঢাকা মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে দুঃস্থ ছাত্রদের মধ্যে বস্ত্র বিতরন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল রিজভী। এই সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান-উল হোসেন রিয়াজ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেয় নেতা-কর্মীরা।
বাদ জোহর নয়া পল্টনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ছাত্র দলের সভাপতি ফজলুর রহমান শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ রোহিঙ্গাদের নিতে চারটি জাহাজ তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার জাহাজের তিনটি ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। অপর জাহাজটি ১৫ ডিসেম্বর হস্তান্তর করার দিন নির্ধারিত রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন এম এস করিম জানান, এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ খুলনা শিপইয়ার্ডে এই জাহাজ নির্মাণ কাজের সূচনা হয়। ইতিমধ্যেই চলতি বছরের ১২ জুন দুটি ও ৭ নবেম্বর তৃতীয় জাহাজটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের জিএম (প্লান এন্ড এস্টিমেট) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ এর আওতায় ল্যান্ড ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) নামে চারটি ভ্যাসেল জাহাজ নির্মাণ কাজ শেষের পথে। প্রতিটি এলসিইউ এর দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার, মাঝখানে চওড়া ১০ মিটার, গভীরতা ১.৮ মিটার, ওজন ৪১৫ টন, সর্বোচ্চ গতি ১২ নটিক্যাল মাইল, স্বাভাবিক গতি ১০ নটিক্যাল মাইল। এই জাহাজ একবার যাত্রা করে ১৫০০ নটিক্যাল চলতে সক্ষম। জাহাজটিতে ২৫ জন নাবিকের থাকার জন্য সার্বিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮০ জন যাত্রী নেয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। জাহাজটিতে ১৫০ টন ত্রাণ সামগ্রী বহন করা সম্ভব।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে নৌবাহিনী চারটি এলসিইউ (জাহাজ) নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি করে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের এই প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে চলতি নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারিত ছিল। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আশ্রয়ণ-৩ শীর্ষক প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়, নোয়াখালী জেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নে ভাসানচরের অবস্থান। নোয়াখালী থেকে এর দূরত্ব ২১ নটিক্যাল মাইল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় অধিবাসীর সংখ্যা যেখানে ৫ লাখ ৭ হাজার, সেখানে ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং পর্যটন এলাকা কক্সবাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও প্রকল্প কার্যপত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত ভাসানচরের ভূমি উন্নয়ন ও সমুদ্রতীরের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের জন্য সেখানে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ১৪৪০টি ব্যারাক হাউজ ও ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া থাকবে উপাসনালয়, নিরাপত্তার জন্য নৌবাহিনীর অফিস ও বাসভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, নলকূপ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো এবং ওয়াচ টাওয়ার। সূত্র : ইউএনবি
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
এনআরসিতে কোনও ধর্ম টার্গেট নয়, রাজ্যসভায় বললেন অমিত, একই সঙ্গে শোনালেন নতুন নাগরিকত্ব বিলের কথাও-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) তৈরির ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ ধর্মকে নিশানা করা হয়নি। বুধবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও জানিয়ে দিলেন, পড়শি দেশগুলিতে ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হিন্দু, জৈন, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সিদেরই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর আগেও অমিত-সহ বিজেপি নেতৃত্ব একাধিক বার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন— বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে আসা সে সব দেশের সংখ্যালঘুদেরই এ দেশে শরণার্থী হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। যার থেকে স্পষ্ট, ওই দেশগুলিতে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষদের অর্থাৎ মুসলিমদের এ দেশে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।
সংসদের চলতি অধিবেশনে রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের। তার আগে বুধবার এনআরসি-র প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু হলে শাহ রাজ্যসভায় বলেন, ‘‘পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান এবং পার্সি শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত। তাঁদের ভারতের নাগরিক করে তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রয়োজন।’’

কিন্তু হিন্দু, খ্রিস্টান-সহ বাকিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললেও, শাহ কেন মুসলিমদের এড়িয়ে গেলেন, তা জানতে চান এনসিপি সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন। জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘‘আপনি এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধনী বিলের মধ্য গুলিয়ে ফেলছেন। এনআরসি তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ধর্মকে নিশানা করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতেই সব কিছু হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিকেরই নাম নথিভুক্ত হবে এনআরসি তালিকায়। দেশের সর্বত্র এনআরসি হবে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকলকে এনআরসি-র আওতায় আনতেই এই প্রক্রিয়া।’’
অসমে নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ১৯ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু ফরেনার্স ট্রাইবুনালে তাঁরা আবেদন করতে পারে বলে এ দিনও জানান অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘তালিকায় নাম বাদ গেলে ফরেনার্স ট্রাইবুনালে যাওয়ার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। অসমের বিভিন্ন প্রান্তে এই ট্রাইবুনাল গড়ে তোলা হবে। কারও সামর্থ্য না থাকলে, অসম সরকার তাঁর আইনজীবীর খরচ বহন করবে।’’
২০১৬ সালে লোকসভায় নাগরিক সংশোধনী বিল পেশ করে প্রথম মোদী সরকার। পরে সেটি সংসদীয় যৌথ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এ বছর জানুয়ারি মাসে তা নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয় ওই কমিটি। তার পর সেটি লোকসভায় গৃহীত হয় এবং গত ৮ জানুয়ারি পাশ হয়ে যায়। কিন্তু রাজ্যসভায় এখনও পাশ হয়নি বিলটি।
আর্থিক বর্ষের প্রথম ছ’মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জালিয়াতি হয়েছে প্রায় ৯৬০০০ কোটি টাকা, জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী -দৈনিক আজকাল
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে ২০১৯–২০ আর্থিক বর্ষের প্রথম ছ’মাসে ৯৫,৭৬০ কোটি টাকার জালিয়াতির কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। মঙ্গলবার সংসদীয় অধিবেশনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে জালিয়াতির মামলার সংখ্যা ৫,৭৪৩টিতে ছুঁয়েছে। গত কয়েকবছর ধরেই এই জালিয়াতি চলছে। সংসদের উচ্চকক্ষে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাঙ্কগুলিতে জালিয়াতির ঘটনা রোধে সরকার বিস্তৃত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’ একই সঙ্গে নির্মলা সীতারমন জানান, গত দু’টি আর্থিক বছরে নিষ্ক্রিয় সংস্থাগুলির ৩,৩৮,০০০ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান সম্বলিত একটি আইন কার্যকর করা ওই পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কথায়, জালিয়াতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি স্টেট ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদায়। একাধিক ব্যাঙ্ক কর্মী এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গত কয়েক মাস ধরেই দেশের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে বিরোধীরা সরব কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করাও হয়েছে। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য পেশ সেই বিতর্কে ইন্ধন জোগালো বলেই মনে করা হচ্ছে
শাসকদলের উদ্বেগ বাড়িয়ে বাংলার সব আসনে প্রার্থী দিতে চলেছে ওয়েইসির দল-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্যের শাসকদলের উদ্বেগ বাড়িয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে রীতিমতো আগ্রাসী আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)।
সংবাদমাধ্যমে দলের মুখপাত্র আসিফ ওয়াকার সাফ জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেবে মিম। তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি গ্রামে আমাদের উপস্থিতি রয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সব আসনেই আমরা প্রার্থী দেব।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মধ্যে বেনজির বাদনুবাদ চলছে। এহেন পরিস্থিতিতে মিম-এর নয়া ঘোষণায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত যে নয়া মাত্রা পাবে তা বলাই বাহুল্য।
সম্প্রতি, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসলে তুলোধোনা করে ওয়েইসি বলেন, ‘বাংলায় মুসলমানরা সুরক্ষিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঠকিয়ে আসছে তৃণমূল। বাংলায় বিজেপি কী করে ৪২টির মধ্যে ১৮টি লোকসভা আসন পেল। সেই জবাব দিন মুখ্যমন্ত্রী।’ মিম প্রধানের এই অভিযোগের পরই তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সোমবার কোচবিহারের জনসভা থেকে ওয়েইসির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে দেখেছি হিন্দুদের মধ্যে উগ্রতা রয়েছে। তবে এখন সংখ্যালঘুদের মধ্যেও উগ্রপন্থার বিষ ঢোকানোর চেষ্টা করছে অনেকে। এরা বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে এরাজ্যের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। হায়দরাবাদ থেকে এরাজ্যে এসে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সবাইকে বলব এদের বিরুদ্ধে একজোট হন। কোনও ভাবেই কোনও সংখ্যালঘু ভাইবোন যেন ওদের খপ্পরে না পড়েন সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’
ভোট বিশ্লেষকেরদের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে থাবা বসাতে পারে মিম। তুলনায়, বিজেপির হিন্দু ভোট ব্যাংকে কোনও প্রভাব পড়বে না। এছাড়াও, কংগ্রেস ও সিপিএময়েরও সংখ্যালঘু ভোট যথেষ্ট। সব মিলিয়ে মিম আসরে নামলে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হয়ে আখেরে ফায়দা হবে গেরুয়া শিবিরেরই। গোটা চিত্রটি ঝানু রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্পষ্ট। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতে ওয়েইসিকে আটকাতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো।
পার্সটুডে/ এমবিএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।