সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠে চামড়া থাকবে না’- দৈনিক যুগান্তর
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- বিআরটিসির বাস আটকে দিলেন শ্রমিকেরা-দৈনিক প্রথম আলো
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন-সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের বাস্তবায়ন করতেই হ- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠে চামড়া থাকবে না’- দৈনিক যুগান্তর
- অপপ্রচারে কান দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
- দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি: মওদুদ- দৈনিক মানবজমিন
- জনসমর্থন হারিয়ে চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি : কাদের-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের খবর:
- কাশ্মীর স্বাভাবিকই, দাবি অমিতের, শাহের বক্তৃতা ‘মিথ্যের ঝুড়ি’, বলছে উপত্যকা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা-দৈনিক আজকাল
- আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে রোহিঙ্গা মামলা, আইনি লড়াইয়ে নামছেন নেত্রী সু কি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা এবার বাছাইকৃত খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ।
বিআরটিসির বাস আটকে দিলেন শ্রমিকেরা-দৈনিক প্রথম আলো
নম্বরবিহীন বিআরটিসির দ্বিতল বাস আটকে দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। আজ বেলা ১১টায় সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। ছবি: প্রথম আলো।সড়কে বাস চলাচল বন্ধ। এ অবস্থায় গণপরিবহনের ভরসা হয়ে উঠেছিল বিআরটিসির দ্বিতল বাস। নম্বরপ্লেট না থাকায় পরিবহনশ্রমিকেরা আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুটি দ্বিতল বাস আটকে দেন নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাস দুটি এক ঘণ্টা পর যাত্রীসহ ফেরত পাঠানো হয়।
তিন দিন ধরে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট চলছে সৈয়দপুরে। সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে মাঠে ছিল বাস, ট্রাকসহ পরিবহনশ্রমিকেরা। সরকারের সঙ্গে পরিবহনের নেতাদের গতকাল বুধবার রাতে ফলপ্রসূ আলোচনার পরও আজ বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। বন্ধ রয়েছে সৈয়দপুর-ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, সিলেটসহ সব গন্তব্যের বাস চলাচল। এ অবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে সৈয়দপুরের ওপর দিয়ে বিআরটিসির বেশ কিছু দ্বিতল বাস যাত্রীসেবা দিয়ে আসছিল। ফলে পরিবহন খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। আজ বেলা ১১টার দিকে নম্বরপ্লেটবিহীন দুটি দ্বিতল বাস আটক করেন অবরোধে থাকা পরিবহনশ্রমিকেরা।
নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা সামান্য একটা কাগজ ছাড়া সড়কে যানবাহন নামাতে পারি না, অথচ সরকারি গাড়ি নম্বরপ্লেট ছাড়াই চলছে। আইন সবার জন্য সমান। তাই আমরা ওই বাস দুটি আটক করেছি। পরে এসব ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
বিআরটিসি বাস আটকের ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন ও সৈয়দপুর থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরে বাস দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন-সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের বাস্তবায়ন করতেই হ- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কেউ আইন মানতে চায় না। যদি সবাই আইন মেনে চলে তবে কোনও সমস্যা থাকে না। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, সব পর্যায়ে সবাই আইন মেনে চললে অপরাধ অনেক কমবে। সব পর্যায়ে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি চালু হোক, এটাই আমার চাওয়া।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও অসঙ্গতি থাকলে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সড়ক নিরাপদ রাখতে কি কি করা যায় তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন।
তিনি বলেন, মহাসড়কে যারা বাস-ট্রাক চালায়, তাদের দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালাতে হয়। তাই তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের প্রয়োজন। একটা চালক আট ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর তাকে বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিতে হবে। মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় চালকদের বিশ্রামের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।
লাইসেন্স নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চালকদের লাইসেন্স প্রদানে সিস্টেমগত জটিলতা ছিল বিধায় আইন প্রয়োগে শিথিলতার সময় বাড়ানো হয়েছে। সড়ক সবার জন্য নিরাপদ করতে, শৃঙ্খলা ফেরাতে, আইনের বাস্তবায়ন করতেই হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠে চামড়া থাকবে না’- দৈনিক যুগান্তর
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। আমাদের সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে পুলিশ, গাড়িচালক মালিক-শ্রমিক কারও পিঠে চামড়া থাকবে না। তাই সাবধান হোন। আইন মেনে চলুন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ডিএমপির ‘ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ ২০১৯’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে আমাদের যাওয়ার কোনো পথ থাকবে না। এটিই শেষ সুযোগ। এবার আমাদের সন্তানেরা মাঠে নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না। কাজেই সবাইকে শৃঙ্খলা মানতে হবে। যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
চালকদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমার আপনার কারণে এমন একজন মারা গেল, যে পরিবারে দুজন শিশু রয়েছে। তাদের খাবার দেয়ার কেউ নেই। আমরা সবকিছু আলোচনা করে সমাধান করতে পারব। কিন্তু একজন সন্তানের চোখের পানির দাম কেউ দিতে পারব না। অরাজক পরিস্থিতি আর কতদিন মানবেন? এ অরাজকতার কারণে অনেক চালক এভাবে চলে গেছেন। তাদের পরিবারেও কেউ না কেউ আছে। কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছেন? তাদের মা, স্ত্রী-সন্তান হয়ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাই আসুন আমরা সবাই শৃঙ্খলা মেনে চলি।
সড়কে পাল্লা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় আমরা যারা নামি তাদের প্রত্যেকই সবার আগে যেতে চাই। বাকিরা পেছনে পড়ে থাকে। সবার এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাইকে আইন মানতে হবে। আইনকে শ্রদ্ধা করে স্ব স্ব জায়গা থেকে আইন মানতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। ডিএমপির এই ট্রাফিক সচেনতামূলক পক্ষ ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
অপপ্রচারে কান দেবেন না : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজবে কান না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলবো, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষকরে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা করবে আমি জানি, এটা স্বাভাবিক। কাজেই সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন। দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পেঁয়াজ, লবন এবং চালের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সাম্প্রতিক অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি: মওদুদ- দৈনিক মানবজমিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমার চোখের সামনে এখনও ৭৪ (দুর্ভিক্ষ) সাল ভাসছে। ৭৪ সালে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিলো, আজকে আমার কাছে মনে হয়, সেই একই পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছি।আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামানায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।মওদুদ আহমদ বলেন, ২০১৯ সালটা বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি বছর। সারা জাতির জন্য একটি দুর্ভাগ্যজনক বছর। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। নুসরাত হত্যা থেকে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি, সেখান থেকে যুবলীগের ক্যাসিনো, তারপরে পেঁয়াজ ও লবণের সমস্যা। যে সরকার সামান্য পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার আর থাকে না।
এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।চালের দাম একদিনে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এসব কারণে আমার চোখের সামনে এখনও ৭৪ (দুর্ভিক্ষ) সাল ভাসছে। দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি দেখতে পাচ্ছি।সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। এই কথা বলতে চাই, এখনই সময়, আপনারা পদত্যাগ করুন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে এদেশের মানুষ নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তারা তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটাই এখন একমাত্র সময়ের দাবি। আর এটা যদি আপনারা নিজে থেকে না দেন তাহলে দেশের মানুষ আদায় করে নেবে।বর্তমান সরকার একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আছে- এমন মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে গিয়ে তারা সব মানুষের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। এজন্য মানুষের মনে শান্তি নাই। একটার পর একটা সংকট দেখা দিয়েছে। গত নির্বাচনে তারা মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলেই আজকে দেশে এই নৈরাজ্যকর অবস্থা।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামিনে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তির না হয় তাহলে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে রাজপথে তার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত আছে। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা কি ধরনের কর্মসূচি দিই। সেই কর্মসূচিতে তারা অংশগ্রহণ করে শুধু খালেদা জিয়াকে নয়, গণতন্ত্রও ফিরিয়ে আনবে।দোয়া মাহফিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, এডভোকেট আহমদ আযম খান, ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ওলামা দলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম।
জনসমর্থন হারিয়ে চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি : কাদের-দৈনিক নয়াদিগন্ত
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমস্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তারা জনসমর্থন হারিয়েছে এবং তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে।
আজ বৃহম্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বেপরোয়াভাবে রাজনীতি করছে। তাদের এখন বেহাল দশা। বিএনপি তাদের দলের নেত্রীর জন্য একটি আন্দোলনও করতে পারেনি।সেতুমস্ত্রী বলেন, বিএনপি পেঁয়াজের ওপর ভর করে আন্দোলন করতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। এর পরে গুজব ছড়িয়ে লবণ ও চালের মূল্য বৃদ্ধির চক্রান্ত করতে চেয়েছিল, তাতেও ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই। দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই তার ওপর ভর করে আন্দোলন করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছে। তারা চক্রান্ত করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন সঠিকভাবে কার্যকর হবে।তিনি বলেন, এবার আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে ব্যতিক্রম। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে হবে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা আওয়ামী লীগে আছে যা অন্য দলে নেই। এখানে নেতা নির্বাচিত করতে হলে ভোটের মাধ্যমে হয়। সমস্যা থাকলে প্রধানমস্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হয়।
এ সময় সাংস্কৃতির উপ-কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান, সদস্য সচিব অসীম কুমার উকিল, চিত্র নায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, কন্ঠ শিল্পী এস ডি রুবেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি।
কাশ্মীর স্বাভাবিকই, দাবি অমিতের, শাহের বক্তৃতা ‘মিথ্যের ঝুড়ি’, বলছে উপত্যকা-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
সংসদে আজ খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানালেন, কাশ্মীর স্বাভাবিকই আছে। ইন্টারনেটও ‘উপযুক্ত সময়ে’ চালু করা হবে। কিন্তু উপত্যকার পরিস্থিতি অন্য কথা বলছে।
কয়েক দিনের তুষারপাত আর তার জেরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিষেধাজ্ঞার কাশ্মীরে বাসিন্দাদের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে। দু’দিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আজ আবার ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে পোস্টার দেখা দিয়েছে শ্রীনগরের শহরতলি এলাকা, গান্ডেরবাল ও অনন্তনাগে। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দোকানপাট।
তারই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার উপরে নজর রেখেছিলেন অনেকে। তবে তাতে ফের হতাশই হয়েছেন তাঁরা। শ্রীনগরের মহিলা কলেজের শিক্ষক আব্দুল মান্নান শেখ বললেন, ‘‘আমাদের সব কিছু কেড়ে নিয়ে এখন ওঁরা জ্ঞান দিচ্ছেন। এই বক্তৃতা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিল।’’ মহিলা কলেজেরই ছাত্রী রাকিবা সালিমের আশা ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা করতে পারেন। হতাশ তিনিও। বললেন, ‘‘রাজ্যে তা-ও বাসিন্দাদের কিছুটা নিরাপত্তাবোধ থাকে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ জানানোর পথই থাকছে না। উনি তো এখানে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করার কথাও বললেন না।’’ রাকিবার সহপাঠী শাইস্তার মতে, শাহের বক্তৃতা ‘মিথ্যের ঝুড়ি’ ছাড়া কিছু নয়। চিকিৎসক আব্দুল কবীর দারের মতে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী না সরানো পর্যন্ত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার দাবি করাটাই হাস্যকর।

গত দু’দিন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল উপত্যকার পরিস্থিতি। কিন্তু আজ সকালে আবার শ্রীনগরের শহরতলি, গান্ডেরবাল ও অনন্তনাগে হুমকি পোস্টার দেখা গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুললে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টারে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে আজ ফের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহণ ব্যবস্থা অবশ্য মোটের উপরে চালু ছিল। খোলা ছিল অনেক স্কুল। সরকারি সূত্রে খবর, উপত্যকার অনেক বেসরকারি স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম না পরে স্কুলে আসতে বলছে।
এরই মধ্যে উপত্যকার পড়ুয়াদের ক্ষতি নিয়ে মুখ খুলে এ দিন সরকারের অস্বস্তি বাড়ান জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল এন এন ভোরা। বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘‘গত ১০-২০ বছরে কাশ্মীরে শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এটাই কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।’’
শ্রীনগরের এমএলএ হস্টেলে বন্দি নেতাদের আত্মীয়েরা দাবি করেছেন, ওই ভবনে ন্যূনতম পরিষেবা নেই। ডাল লেকের তীরে সেন্টর হোটেল থেকে সরিয়ে সম্প্রতি ওই নেতাদের এমএলএ হস্টেলে আনা হয়েছে। আজ সেখানে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন আত্মীয়েরা। তাঁদের দাবি, শীতের উপযুক্ত হিটার ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেই হস্টেলে। দেওয়া হচ্ছে বাজে খাবার। প্রবীণ পিডিপি নেতা সরতাজ মাদনির ছেলে সাকিব মাদনির দাবি, ‘‘পুলিশ আমাদের হেনস্থাও করছে। আমাদের গাড়ি হস্টেলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হল না। বন্দিদের জন্য আমরা ম্যাট আর হিটার এনেছিলাম। কিন্তু সেগুলি ভিতরে নিয়ে যেতে পারলাম না। এর চেয়ে ওঁদের গৃহবন্দি করাই ভাল।’’
প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা-দৈনিক আজকাল
প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে জায়গা হল মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা ভোপালের সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের। ২১ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।এই কমিটিতে সাধ্বী প্রজ্ঞার ঠাঁই পাওয়া যে যথেষ্ট বিতর্কিত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ ২০০৮ সালে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে ঘটা ধারাবাহিক বিস্ফোরণে অন্যতম অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ২০১৭ সাল পর্যন্ত জেল খেটেছেন।তাঁর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে প্রজ্ঞাকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে জামিন দেয় আদালত। কিন্তু এখনও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

এবছর লোকসভা নির্বাচনে বিতর্কিত সাধ্বীকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কংগ্রেস নেতা ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংকে হারিয়ে তিনি সাংসদ হন। লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য এখনও অনেকেই মনে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, গান্ধীর খুনি নাথুরাম গডসে নাকি প্রকৃত দেশপ্রেমিক। বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়েও বেলাগাম মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দেওয়ায় সাধ্বীর সমালোচনা করেছিলেন মোদি।
আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে রোহিঙ্গা মামলা, আইনি লড়াইয়ে নামছেন নেত্রী সু কি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুত মায়ানমার। কয়েকদিন আগেই সংখ্যালঘুদের গণহত্যার অভিযোগ এন আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে (ICJ) মায়ানমারের বিরুদ্ধে মামলায় দয়ের করে গাম্বিয়া। জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় ICJ-তে ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল ওই দেশ। সেখানে মায়ানমারের রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে রাখাইন প্রদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে খুন, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘর ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। সেই মামলা লড়ার জন্য প্রশাসক আং সান সু কি’র নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়ছে।

নাইপিদাও জানিয়েছে, মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসি’র সমর্থনে গাম্বিয়ার করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের বহাল করা হয়েছে। আইনজীবীদের দলের নেতৃত্ব দেবেন স্টেট কাউন্সিলর ও বিদেশমন্ত্রী সু কি। দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে লড়বেন তিনি। সূত্রের খবর, মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করার এক মাসের মধ্যে ICJ শুনানি শুরু করতে চলেছে। আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ নিয়ে গাম্বিয়া ও মায়ানমার দুই দফা শুনানিতে অংশ নেবে। এদিকে, গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার একটি আদালতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সু কি, সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মায়ানমার। তারপর ৫৫ হাজার উদ্বাস্তুর তথ্য নাইপিদাওয়ের হাতে তুলে দিয়েছে ঢাকা। তবে নানা আইনি জটিলতায় এখনও দেশে ফিরতে পারেননি শরণার্থীরা। সমস্ত কিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো যাবে বলে মনে করছে হাসিনা সরকার। প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রায় নুয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এদিকে, নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে ফের রাখাইন প্রদেশে ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারাও। তাঁদের অভিযোগ, ফিরে গেলে ফের হামলা চালাবে বার্মিজ সেনা। সেক্ষেত্রে শরণার্থী হয়ে থাকলে অন্তত প্রাণে বাঁচতে পারবেন তাঁরা।#
পার্সটুডে/ এমবিএ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।