ব্যবসায়ীরা ফলে কী রাসায়নিক মেশাচ্ছেন আল্লাহ জানেন: হাইকোর্ট
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ নভেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- ‘অসুস্থ’ সম্রাটকে রিমান্ডে আনতে পারেনি দুদক-দৈনিক প্রথম আলো
- 'অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগে থাকার অধিকার নেই'- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- ব্যবসায়ীরা ফলে কী রাসায়নিক মেশাচ্ছেন আল্লাহ জানেন: হাইকোর্ট-’- দৈনিক যুগান্তর
- ভারত পেঁয়াজ দিল না, দিল পাকিস্তান: বিএনপি নেতা আলাল-দৈনিক ইত্তেফাক
- মিয়ানমারের অপপ্রচারের প্রতিবাদ- দৈনিক মানবজমিন
- সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্য গঠন চান রাষ্ট্রপতি-দৈনিক নয়াদিগন্ত-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের খবর:
- মিত্র হাসিনার শীতল অভ্যর্থনা, কাঠগড়ায় দিল্লি-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা-দৈনিক আজকাল
- ব্যক্তিগত কাজে’ শরদ পওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি সাংসদের, জোর জল্পনা মহারাষ্ট্রে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা এবার বাছাইকৃত খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ।
‘অসুস্থ’ সম্রাটকে রিমান্ডে আনতে পারেনি দুদক-দৈনিক প্রথম আলো
অসুস্থ’ হওয়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে রিমান্ডে আনতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে আজ রোববার থেকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর কথা ছিল সংস্থাটির।
দুদক ও কারা সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুরে হাই সিকিউরিটি কারাগারে থাকা সম্রাট গতকাল শনিবার রাতে অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আনা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফেরত যাওয়ার পর সম্রাটকে দুদকে আনা হবে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ নভেম্বর সম্রাটের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সূত্র জানায়, সম্রাটের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও সুনির্দিষ্টভাবে ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তার ওপর ভিত্তি করে সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্রাটের বিপুল সম্পদের তথ্য উদ্ধারে চেষ্টা করবে সংস্থাটি।
কাশিমপুর কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, ‘সম্রাটের হার্টের সমস্যা দেখা দিলে গতকাল রাতে তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
রাজধানীর অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে সম্রাট দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধ জগতের অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আবার আলোচনায় আসে সম্রাটের নাম। তাঁকে ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার প্রধান নিয়ন্ত্রক মনে করা হচ্ছিল। অভিযানের শুরুতে কয়েক দিন কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে থাকলেও পরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।গ্রেপ্তারের পর বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। অস্ত্র ও মাদক রাখায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলাও করা হয়। দুই মামলায় সম্রাটকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
'অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগে থাকার অধিকার নেই'- দৈনিক কালেরকণ্ঠ- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
'আমাদের কাছে সারা দেশের অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের তালিকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই তালিকা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের আওয়ামী লীগে থাকার অধিকার নেই।'
আজ রবিবার (২৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিআরটিসির মতিঝিল ডিপোতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান দেওয়া বাস বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে পরগাছা পরিষ্কারের চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। দলে আগাছা-পরগাছা পরিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দলের পাঁচটি সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে আমরা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব উপহার দিয়েছি। এ ছাড়া ৭০টি জেলা-উপজেলায় কমিটি হয়েছে। সেখানেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব আনা হয়েছে।
দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের কাছে সারাদেশের অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের তালিকা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেই তালিকা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের আওয়ামী লীগে থাকার অধিকার নেই।'
বিএনপিকে নয়াপল্টনে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমি সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার জন্য বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে সমাবেশ করবেন।'
ব্যবসায়ীরা ফলে কী রাসায়নিক মেশাচ্ছেন আল্লাহ জানেন: হাইকোর্ট-’- দৈনিক যুগান্তর
ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, ব্যবসায়ীরা ফলে কী রাসায়নিক মেশাচ্ছেন আল্লাহ জানেন।
রোববার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ফলে রাসায়নিক শনাক্ত করতে বন্দরে 'কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট' বসানোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ফলে কি কি রাসায়নিক থাকে ৫ ডিসেম্বর মধ্যে তা পরীক্ষা করে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট বলেছেন, ফলে ফরমালিন মেশানোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। মানুষের কিডনি-লিভার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব ফলে।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান (মামুন)। মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ হয় কিনা, তা পরীক্ষা করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২৩ জুন বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া ফলে রাসায়নিকের পরীক্ষার জন্য দেশের বন্দরগুলোতে 'কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট' স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এর পর ২৬ আগস্ট বিএসটিআই জানায়, তারা ফলে রাসায়নিক পায়নি।
ভারত পেঁয়াজ দিল না, দিল পাকিস্তান: বিএনপি নেতা আলাল-দৈনিক ইত্তেফাক
ভারতের পেঁয়াজ না আসায় প্রশ্ন তুলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ভারতের কথা ছিল পেঁয়াজ দেওয়ার। তারা কেন দিল না? পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ এনে সংকট মোকাবেলা করা হচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগ যদি বলে পাকিস্তানি পেঁয়াজ যারা খাবে তারা রাজাকার- সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী কথা। আমাদের বুঝতে হবে মানুষের প্রয়োজনের ব্যাপারে কোনো আইন নেই।
শনিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। তবে পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভ মিছিল না করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, পুলিশ আমাদেরকে গ্রেফতার করলেও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলব, পেটালেও কথা বলব। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, সরকার ভিন্ন মতের কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টর্চারসেলে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে ফেলা হচ্ছে। ৯ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ আজকে ক্যাসিনো লীগ হয়ে গেছে। আমরা একথাগুলো বলতে পারব না? এটা কি আমাদের অপরাধ? সাধারণ মানুষের কাছে আমরা এ কথাগুলো বলছি।
মিয়ানমারের অপপ্রচারের প্রতিবাদ- দৈনিক মানবজমিন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে।এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিয়ে মনগড়া তথ্যের অব্যাহত সমাবেশ, তথ্যের অপব্যবহার, অসমর্থিত দাবি এবং অযৌক্তিক অভিযোগ করছে। বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানান্তরিত করতে মিয়ানমার সরকার রাখাইনে পরিবেশ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা এড়াতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।ধারাবাহিক প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং জন্মভূমিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিতে মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানানো হয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ই নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সম্পূর্ণরূপে অসহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি তারা নৃশংসতায় জড়িতদের জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে।বিবৃতিতে বলা হয়, এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারে একের পর এক শাসন ব্যবস্থা কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক বঞ্চনা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ফলে হয়েছিলো। বর্তমান সরকার কর্তৃক এই সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে।সুতরাং সমাধানটি পুরোপুরি সেখানেই রয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত করার জন্য মিয়ানমার ব্যতিত অন্য কারোর-ই দায়বদ্ধ হওয়া উচিত নয়। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করায় বাংলাদেশের কোন আগ্রহ নেই। রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করতে বাংলাদেশের আন্তরিকতা নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।আগস্টে প্রত্যাবাসন প্রয়াস চলাকালে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গারা বিশ্ব গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলো যে, নিরাপত্তা, সুরক্ষার আশ্বাস পেলেই রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করে।অতীতে হতাশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা এবং আরও বড় চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ আবারও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জড়িত হয়েছে, প্রত্যাবাসনের সময় দু’টি অধ্যায় শেষ করেছে। দ্বিপক্ষীয় উপকরণ অনুসারে রাখাইনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা, সুরক্ষা, নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা, মৌলিক সেবা ও জীবিকা নির্বাহসহ মূল কারণগুলির মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনও পুনরায় শুরু করতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় মিয়ানমারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রোহিঙ্গারা তাদের উৎস স্থান বা তাদের পছন্দের যে কোনও নিকটতম জায়গায় ফিরে যাক। তদুপরি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যথাযথ পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে উৎসাহিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব মিয়ানমারের।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ভাগ্যক্রমে মিয়ানমার তার দায়বদ্ধতা পালনের জন্য কোনও রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রদর্শন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোকের ফিরে যাওয়ার দাবি করছে, যা যাচাই করা হয়নি।
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্য গঠন চান রাষ্ট্রপতি-দৈনিক নয়াদিগন্ত
অসাধু ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর সব ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সব সংগঠন ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের ঐক্য আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে সাধারণ মানুষের ঐক্য নেই।’
শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তনে তিনি এ কথা বলেন। ‘প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা, কিন্তু দুই মাসের মধ্যে তা হয়ে গেল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। তারপরও মানুষ এখনো উচ্চ দামে পেঁয়াজ কিনছে,’ বলেন তিনি।
জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত এবং শুধুমাত্র জনগণই এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি দাম আপনার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না থাকে তাহলে পেঁয়াজের ব্যবহার বাদ দিতে হবে। ‘পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য। যদি আমরা এক মাস পেঁয়াজ না খাই তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবে।’
বাজারে পেঁয়াজ, লবণ ও অন্যান্য পণ্য ছিল না জানিয়ে অনেক ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এসব কথা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাজারে পেঁয়াজ বা লবণে ঘাটতি থাকার কোনো গুজবে কান না দিতে প্রত্যেকের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা এসব গুজবের সুফল নিচ্ছেন। ‘তাই, এসব অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আপনাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
শিক্ষা খাত নিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। কারণ গুণগত শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই উচ্চশিক্ষা যাতে কোনোক্রমেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
‘জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সচেতন। দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর,’ যোগ করেন তিনি।
সমাবর্তন বক্তা জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব হিসেবে আপনি বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি ও পানিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের উদ্যোগী করতে আপনার পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয়।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
সমাবর্তনে মোট ৩ হাজার ২৫০ জন গ্রাজুয়েট অংশ নেন। চারজন শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি
মিত্র হাসিনার শীতল অভ্যর্থনা, কাঠগড়ায় দিল্লি-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিমান যখন নয়াদিল্লিতে নামে, তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম বারের সাংসদ তথা নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। হাসিনার সফরসঙ্গী নেতারা ঘরোয়া ভাবে জানিয়েছিলেন, এটা ‘যেচে অপমান নেওয়া’। প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের ‘পরম মিত্র’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বা কোনও সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন— এটাই ছিল প্রত্যাশা। প্রথম বার জিতে আসা কোনও প্রতিমন্ত্রী নন।
গত কাল প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কলকাতায় এলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্ত্রী, এমনকি শীর্ষ আমলাকেও পাঠানো হয়নি। যা কি না বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা এবং সৌজন্যের বিরোধী। কেন এমন উদাসীনতা প্রদর্শন, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে মুখ খুলতে চাইছে না সাউথ ব্লক। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, ঘরোয়া রাজনীতির বাধ্যবাধকতাই কারণ। এক দিকে তাঁরা যখন দেশজুড়ে এনআরসি করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করার কথা বলছেন, সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে পরিচিত এনআরসি-বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতেই চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেরা। কিন্তু সিনিয়র কোনও আমলাকেও কেন কলকাতায় পাঠায়নি মোদী সরকার, তা নিয়ে চুপ সাউথ ব্লকের কর্তারা। সব মিলিয়ে দিল্লির এই আচরণে প্রতিবেশী বলয়ে ভারতের অস্বস্তি যে আরও বেড়ে গেল, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই কূটনীতিকদের।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিভিন্ন মঞ্চে এ কথা বার বার বলেছেন খোদ মোদী। পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে আসা জঙ্গিপনায় ভারত যখন চাপে, সেই সময় হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাস উৎখাত করবেন। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ঢাকাকেই বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ে পাশে পেয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ভারতের অনুরোধে ঢাকা তাদের দেশের ভিতর দিয়ে অসম-ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহণের জন্য ‘ফি’ এক ধাক্কায় টন প্রতি ১০৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে করেছে ১৯২ টাকায়। এমন ‘পরম মিত্রের’ ভারত সফরে দিল্লির এই উদাসীনতা কেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রা কাড়তে না চাইলেও দিল্লির এই উদাসীনতা যে ঘরোয়া রাজনীতিতে হাসিনার পক্ষে চাপের, সে কথা ঘরোয়া ভাবে জানানো হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হুমকির ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা বাড়ছে। দিল্লির আচরণ তাকে উস্কে দিতে পারে।
চিনপন্থী গোতাবায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পরে সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিনের কাছে ঋণের ফাঁসে কার্যত বন্দি কলম্বো তাদের হাম্বানটোটা বন্দরটি তুলে দিয়েছে বেজিংয়ের হাতে। ভারতের জন্য কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী ঘাঁটি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজিং। এ বার গোতাবায়ার জমানায় সেই কাজ মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা।
ডোকলাম পরবর্তী ভুটান এবং চিনপন্থী সরকার হওয়ার পরে নেপালও খোলাখুলি ভাবেই বেজিংয়ের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য মোটা পর্যটন শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান। অন্য দিকে চিনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে নেপালের। ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত যৌথ সেনা মহড়া থেকে কাঠমান্ডুর সরে দাঁড়ানো, চিনের সঙ্গে পণ্য পরিবহণ চুক্তি করা, বেজিংয়ের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এ নিজেদের সামিল করার মতো বিষয়গুলি থেকে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দিল্লির এমন শীতল ব্যবহারে অবাক অনেকেই। ভারতের অস্বস্তি যে আরও বেড়ে গেল, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই কূটনীতিকদের।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিভিন্ন মঞ্চে এ কথা বার বার বলেছেন খোদ মোদী। পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে আসা জঙ্গিপনায় ভারত যখন চাপে, সেই সময় হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাস উৎখাত করবেন। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশীদের মধ্যে একমাত্র ঢাকাকেই বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ে পাশে পেয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি ভারতের অনুরোধে ঢাকা তাদের দেশের ভিতর দিয়ে অসম-ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহণের জন্য ‘ফি’ এক ধাক্কায় টন প্রতি ১০৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে করেছে ১৯২ টাকায়। এমন ‘পরম মিত্রের’ ভারত সফরে দিল্লির এই উদাসীনতা কেন, সে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রা কাড়তে না চাইলেও দিল্লির এই উদাসীনতা যে ঘরোয়া রাজনীতিতে হাসিনার পক্ষে চাপের, সে কথা ঘরোয়া ভাবে জানানো হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হুমকির ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা বাড়ছে। দিল্লির আচরণ তাকে উস্কে দিতে পারে।
চিনপন্থী গোতাবায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পরে সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিনের কাছে ঋণের ফাঁসে কার্যত বন্দি কলম্বো তাদের হাম্বানটোটা বন্দরটি তুলে দিয়েছে বেজিংয়ের হাতে। ভারতের জন্য কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত-বিরোধী ঘাঁটি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজিং। এ বার গোতাবায়ার জমানায় সেই কাজ মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা।
ডোকলাম পরবর্তী ভুটান এবং চিনপন্থী সরকার হওয়ার পরে নেপালও খোলাখুলি ভাবেই বেজিংয়ের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় পর্যটকদের জন্য মোটা পর্যটন শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভুটান। অন্য দিকে চিনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে নেপালের। ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত যৌথ সেনা মহড়া থেকে কাঠমান্ডুর সরে দাঁড়ানো, চিনের সঙ্গে পণ্য পরিবহণ চুক্তি করা, বেজিংয়ের মহাযোগাযোগ প্রকল্প ওবর-এ নিজেদের সামিল করার মতো বিষয়গুলি থেকে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সফরকারী রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দিল্লির এমন শীতল ব্যবহারে অবাক অনেকেই।
যোগগুরু রামদেবকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার দলিতরা, চিঠি দিলেন রাষ্ট্রপতিকে-দৈনিক আজকাল
যোগগুরু হয়ে এবার দলিত আইকনের অনুগামীদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করায় বাবা রামদেবের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হলেন ডক্টর আম্বেদকর মিশনের সদস্যরা। এমনকী উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে রামদেবের কুশপুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন ডক্টর আম্বেদকর মিশনের সভাপতি অশোক সন্ত। এই ঘটনায় তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে রামদেবের বিরুদ্ধে চিঠি লিখেছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, অশোক সন্তকে লেখা চিঠিতে দলিতরা রামদেবের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সেই চিঠি স্মারকলিপি আকারে তুলে দেওয়া হয় জেলাশাসকের হাতেও। এই মন্তব্য নিয়ে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। কারণ এবার আগুনে হাত দিয়ে দিয়েছেন যোগগুরু। দেশের সংবিধান প্রণেতা তথা দলিতদের কাছে তিনি আদর্শ, সেই বিআর আম্বেদকরের অনুরাগীদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন যোগগুরু বাবা রামদেব। এখন দেশের রাজনীতিতে দলিত ইস্যু একটা বড় ফ্যাক্টর। সেখানে ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের অনুরাগীদের ইনটেলেকচুয়াল টেররিস্ট হিসেবে উল্লেখ করেন বাবা রামদেব। তাতে ক্ষুব্ধ হন এই সংগঠনের সদস্যরা। রামদেবের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়। দলিত ভোটব্যাঙ্ক দেশের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে একটা বড় বিষয়। তাছাড়া দলিতরা নিজেদের মেধা দেখিয়ে এখন সমাজের ওপরের স্তরে উঠে আসছে। সেখানে রামদেবের এই মন্তব্য আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে।অশোক সন্ত সাংবাদিকদের জানান, রামদেব একজন ব্যবসায়ী মানুষ। উনি সাধুর বেশে ভারতীয় জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন। আরও বলেন, ‘আমাদের আইকন ডক্টর আম্বেদকর একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশের প্রতি দলিতদের আনুগত্য নিয়ে রামদেবের শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে দলিতদের অসন্তোষ বাড়াবেন না।’
ব্যক্তিগত কাজে’ শরদ পওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি সাংসদের, জোর জল্পনা মহারাষ্ট্রে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
মহারাষ্ট্রের মহানাটকে কি নয়া অধ্যায় যোগ হতে চলেছে? রবিবার সেই জল্পনাই উসকে দিলেন বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় কাকাড়ে। ফড়ণবিস এবং অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতা নিয়ে রবিবার সকালে মহাগুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম রায়ের আগেই এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পওয়ারের বাড়িতে হাজির বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় কাকাড়ে। যিনি আবার পওয়ারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে এই সাক্ষাতে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও পরে শীর্ষ আদালত দ্রুত আস্থা ভোটের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। আস্থা ভোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সোমবার সকাল সাড়ে দশটায়।
আস্থা ভোট পিছিয়ে গেলেও কাকাড়ে এবং পওয়ার বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সঞ্জয় কাকাড়েই মূলত বিজেপি এবং এনসিপির সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেন। শোনা যায়, লোকসভা ভোটের আগে এনসিপির সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তাঁর নেপথ্যেও ছিলেন কাকাড়ে। এমনকী, অজিত পওয়ারের সঙ্গেও কাকাড়ের যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাকাড়ে আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অজিত পওয়ার এনসিপি ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারেন। এ হেন গুরুত্বপূর্ণ নেতার হঠাৎ পওয়ারের শরণাপন্ন হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ তো বটেই। যদিও কাকাড়ে প্রকাশ্যে বলছেন, শরদ পওয়ারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা নতুন কোনও জল্পনার অবকাশ নেই। তিনি নেহাৎই ব্যক্তিগত কাজে শরদ পওয়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন।
কিন্তু, তাতেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন থামছে না। এমনিতেই, শিব সেনার সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই মোদির সঙ্গে পওয়ারের সাক্ষাৎ নিয়ে জোটসঙ্গীদের অন্দরেই প্রশ্ন রয়েছে। এমনকী, এনসিপির বিশ্বস্ত বন্ধু কংগ্রেস নেতাদের একাংশও পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না পওয়ারকে। তাদের ধারণা, শরদের অনুমতি ছাড়া অজিত পওয়ার কোনওদিনই দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারতেন না। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র পওয়ারের ভূমিকাও প্রশ্নাতীত নয়। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সাংসদের সঙ্গে এনসিপি সুপ্রিমোর বৈঠক জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।#
পার্সটুডে/ এমবিএ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।