এবার সৌদিতে নির্যাতিত গৃহকর্মী হুসনার ভিডিওবার্তা, ‘আর পারছি না, আমারে বাঁচাও
-
ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৫ নভেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- চার কমিশনারের মত না নিয়ে ইসিতে কর্মচারী নিয়োগ-দৈনিক প্রথম আলো
-
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের-অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সাহস বিএনপির নেই- কালেরকণ্ঠ
- একই দৈনিকের আরেকটি খবর- প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে ফিরেছেন দেশবাসীর জন্য লজ্জা নিয়ে'- বলেছেন দুদু-
-
এবার সৌদিতে নির্যাতিত গৃহকর্মী হুসনার ভিডিওবার্তা, ‘আর পারছি না, আমারে বাঁচাও’-দৈনিক যুগান্তর
- খুলনায় ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ভুখা মিছিল-দৈনিক ইত্তেফাক
- জাবি ভিসির ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ জনসম্মুখে আনার ঘোষণা আন্দোলনকারীদের-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- মহা-নাটকে ফের ‘নৈশ অভিযান’! গুরুগ্রামের হোটেল থেকে ‘উদ্ধার’ ৪ এনসিপি বিধায়ক-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন! সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিল জোট -দৈনিক আজকাল -দৈনিক আজকাল
- বন্ধ কাশ্মীরের রাস্তা, এবার নেপাল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শুরু পাক জঙ্গিদের!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার প্রশ্ন
১. বুয়েটে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুয়েট কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
২. ইরানের সাম্প্রতিক সহিংসতায় উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের গভর্নর এই তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ
চার কমিশনারের মত না নিয়ে ইসিতে কর্মচারী নিয়োগ-দৈনিক প্রথম আলো
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের একটি নিয়োগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। চার কমিশনারের কোনো মত না নিয়েই ৩৩৯ জন কর্মচারীর নিয়োগ চূড়ান্ত করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী গতকাল রোববার সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, চার কমিশনারকে আর্থিক বিষয়সহ অনেক বিষয়ে জানানো হয় না। বর্তমান অবস্থায় ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ অনুপস্থিত। তাঁরা শুধু সিইসি ও সচিবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। নিয়োগের বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সিইসি ও সচিব মনে করেন, নিয়োগসহ কিছু বিষয় ইসির এখতিয়ারের বাইরে। এটি সচিবালয়ের দায়িত্ব। সচিব সিইসির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন। সচিবালয়ের ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে এর আগেও চার কমিশনারের সঙ্গে সিইসির বিরোধ দেখা গিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসি সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের ১০টি পদে ৩৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয় ইসি সচিবালয়। এতে মোট ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন আবেদন করেন। চলতি মাসে নিয়োগ চূড়ান্ত করে নিয়োগপত্র ছাড়া হয়।
এই নিয়োগ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চার কমিশনারের মতামত বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ইসি সচিবালয়ের সচিব নথি উপস্থাপন করার পর সিইসি নূরুল হুদা তা অনুমোদন করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য চার কমিশনারকে কিছুই জানানো হয়নি। এতে তাঁরা অসন্তুষ্ট হন। নাম প্রকাশ না করে একজন কমিশনার বলেন, নিয়োগের পেছনে চার কোটি আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকার কোনো হিসাব নেই।

ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, চার কমিশনারের চিঠির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। নিয়োগের বিষয়ে সচিব বলেন, ৩৩৯ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে, নিয়োগপত্রও ছাড়া হয়েছে। আইনকানুন অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটাই ইসি সচিবালয়ে প্রথম নিয়োগ নয়, এর আগেও যেভাবে নিয়োগ হয়েছে, এবারও সেভাবেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে। অর্থ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পিএসসির প্রতিনিধিরা মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছেন। এরপর সিইসি অনুমোদন দিয়েছেন।
১৪ নভেম্বর সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় আলোচনার একপর্যায়ে একজন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি তাঁদের না জানানোর বিষয়ে জানতে চান। জবাবে জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, এই নিয়োগ ও এ-সম্পর্কিত অর্থ ব্যয় কমিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত। সিইসিও তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান। সচিব আরও বলেন, আইন অনুযায়ী শুধু নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন আছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অন্যান্য বিষয়াদি সিইসির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সচিবের এই বক্তব্যের বিষয়টি চার কমিশনারের চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গতকাল রোববার চার কমিশনার একসঙ্গে সিইসিকে চিঠি দেন। চার কমিশনার চিঠিতে বলেছেন, ইসি সচিবালয় ও কমিশনের সব বিষয় সংবিধানসহ বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ইসির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে তাঁরা সিইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তা জানানোর অনুরোধ করেছেন।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগ নিয়ে তাঁরা কিছু বলেননি। কমিশনের অনেক বিষয় তাঁরা জানতে পারেন না, অনেক বিষয়ে নথিও তাঁদের কাছে পাঠানো হয় না। সব বিষয় যেন তাঁদের অবহিত করা হয়—এ বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেছেন।
চার কমিশনার তাঁদের চিঠিতে ইসি-সংক্রান্ত আইন ও বিধি তুলে ধরে যুক্তি দিয়েছেন, ইসি সচিবালয় প্রকৃতপক্ষে পুরো কমিশনের কাছেই দায়বদ্ধ। সে হিসেবে সচিবালয়ের সবকিছু কমিশনকে অবহিত করতে হবে। তাঁরা বলেছেন, কমিশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচিবালয় গঠিত। ইসি সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সব দায়িত্ব পালন করবেন। সচিব সিইসির মাধ্যমে কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের ব্যাপারে কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন আবশ্যক। মাঝেমধ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হলেও অন্য কোনো আর্থিক বিষয়ে কমিশনকে জানানো হয় না, যা নির্বাচন কমিশন আইনের ১৬ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের-অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সাহস বিএনপির নেই- কালেরকণ্ঠ
অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, অনুমতি না নিয়ে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার ঘোষণাকে হাস্যকর। সভা-সমাবেশ করতে হলে পুলিশসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই করতে হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের নেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ৫০০ কর্মী নিয়ে একটি মিছিল-মিটিং করতে পারেনি। তারা কীভাবে অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করবে। বিষয়টি হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলে আমাদেরও অনুমতি নিয়ে সভা সমাবেশ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখন আমরা অনুমতি নিয়েই সমাবেশ করেছি। এমনও হয়েছে সভা শুরু হওয়ার আগে ব্যারিকেড দিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের আচরণগুলো তারা করেছে। তখন কি অনুমতি না নিয়ে আমরা সভা সমাবেশ করতে পেরেছি?
উল্লেখ্য, রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে সভা-সমাবেশ করতে আর অনুমতি চাওয়া হবে না। এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
একই দৈনিকের আরেকটি খবর- প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে ফিরেছেন দেশবাসীর জন্য লজ্জা নিয়ে'- বলেছেন দুদু-
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, আপনি একজন প্রধানমন্ত্রী। অথচ ভারত সফরে সেদেশের একজন নবীন মহিলা সাংসদ উপমন্ত্রী আপনাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করছে। আমি জানি না এটা আপনার কিংবা আপনার সরকারের কাছে কতটুকু লজ্জার। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে এটি একটি বড় লজ্জার বিষয়। ভারতকে সব দিয়ে আপনি দেশবাসীর জন্য সেই লজ্জাটুকু সম্বল করে দেশে ফিরছেন।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে '৭ নভেম্বরের চেতনায় : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, আমাদের ওপর আপনারা প্রতিনিয়ত মামলা অত্যাচার করছেন। কিন্তু আপনি যখন বিদেশে যান বিশেষ করে ভারতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছেন, একবারও তো একটা কথা বলছেন না। ভারতকে আমরা কি দেইনি। আপনি ফেনী নদীর পানিটুকুও দিয়ে এসেছেন। অথচ ভারত থেকে ফিরছেন দেশবাসীর জন্য লজ্জা নিয়ে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। দাঁড়ান মাথা উঁচু করে। তবে আমি উনাকে বলি, আপনি গণতন্ত্রের দিকে তাকান, গণতন্ত্রের কাছে মাথা নিচু করেন। তাহলে আপনি অহংকারী হতে পারবেন। গণতন্ত্রকে দেখুন, গণতন্ত্রকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার যেমন কোনো নিয়ম-নীতি মানে না, গণতন্ত্র মানে না। ঢাকা শহরটাও এখন তেমনই নির্দয় শহরে পরিণত হয়েছে। ইচ্ছা করলেই কেউ নিজের মতো করে চলতে পারে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা মানে দেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধকে বন্দি করে রাখা। তিনি হলেন ৭ নভেম্বরের চেতনা, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার চেতনা। দেশে যারা আত্মমর্যাদা হারিয়ে ফেলেছেন তারা ৭ নভেম্বরের দিকে তাকান, বেগম খালেদা জিয়ার দিকে তাকান, তাহলে মর্যাদা কি জিনিস এটা বুঝতে পারবেন।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস ও জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান প্রমুখ।
জাবি ভিসির ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ জনসম্মুখে আনার ঘোষণা আন্দোলনকারীদের-দৈনিক মানবজমিন
এবার সৌদিতে নির্যাতিত গৃহকর্মী হুসনার ভিডিওবার্তা, ‘আর পারছি না, আমারে বাঁচাও’-দৈনিক যুগান্তর
সুমি আক্তারের পর এবার সৌদি আরবে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে হুসনা আক্তার (২৫) নামে আরেক গৃহকর্মী ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে পাঠানো ওই ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হুসনা আক্তার হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
ভিডিওবার্তায় হুসনা আক্তার বলেন, ‘আমি মোছা. হুসনা আক্তার। আমার দালালে ভালা কথা কইয়া-কামের কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদি। নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি। আমি আইসা দেখি ভালা না। আমার সাথে ভালা ব্যবহার করে না ওরা। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে।
আমি বাক্কা দিন (১০/১২ দিন) হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরও বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে পারো আমারে তোমরা বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। অনেক অত্যাচার করতাছে। আমারে ভালা কামের (কাজের) কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পারো আমারে নেও।’
জানা গেছে, হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের হুসনা আক্তার আর্থিক সচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ১৭ দিন আগে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাকে ভিডিও বার্তা পাঠান। হুসনার স্বামী ওই এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং হুসনা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
আর্থিকভাবে অসচ্ছল শফিউল্লা কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করান।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, নির্যাতনের শিকার নারীর নাম ঠিকানা ও সৌদিতে কোন জায়গায় আছেন সেটা আমাকে জানাতে হবে। তখন আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। আর আগে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের গৃহবধূ সুমি আক্তার।
তার ওই আকুতির ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে চলতি মাসের ১৫ তারিখ সকালে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন।
খুলনায় ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ভুখা মিছিল-দৈনিক ইত্তেফাক
বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) বাতিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদান, শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি নিয়মিত পরিশোধ, পাট মৌসুমে পাট ক্রয়ের অর্থ বরাদ্দসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা ভুখা মিছিল করেছে।
সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ৬ দিনের কর্মসূচির মধ্যে প্রথম দিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে এ ভুখা মিছিল বের করা হয়।
পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকরা স্ব স্ব মিলগেটে সভা করে। এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) বাতিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদান, শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি নিয়মিত পরিশোধ ও পাট মৌসুমে পাট ক্রয়ের অর্থ বরাদ্দসহ ১১ দফা মেনে নেওয়ার দাবি জানান।
গেট সভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সরদার আব্দুল হামিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাহানা শারমিন, সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ নেতা হুমায়ুন কবির খান, মুরাদ হোসেন, আবু দাউদ, দীন মোহাম্মদ, বেল্লাল মল্লিক, আব্দুল মান্নান, কাউসার আলী মৃধা, মো. হানিফ প্রমুখ। পরে পাটকল শ্রমিকরা থালা-বাসন হাতে নিয়ে নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে ভুখা মিছিল বের করে। শ্রমিকদের ভুখা মিছিলটি খালিশপুর বিআইডিসি সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন রাস্তা হয়ে স্ব স্ব মিল গেটে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে গত শনিবার সকালে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা আলাদা গেট সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধ পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার ভুখা মিছিল, ২৭ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মিল গেটে প্রতীকী অনশন, ২ ডিসেম্বর ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল, ৩ ডিসেম্বর ভোর ৬টা থেকে পর দিন ভোর ৬টা পর্যন্ত পাটকলে ধর্মঘট ও বিকেল ৪টায় সব গেটে সভা, ৮ ডিসেম্বর আমরণ অনশনের সমর্থনে গেট সভা এবং শপথগ্রহণ, ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সব মিল গেটে আমরণ গণঅনশন।
জাবি ভিসির ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ জনসম্মুখে আনার ঘোষণা আন্দোলনকারীদের-দৈনিক মানবজমিন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া ও ভিসি অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে হামলার বিচারের দাবি জানিয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলনকারীরা।আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতা কর্মীরা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সংগঠক ও ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ।লিখিত বক্তব্য মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আরোপিত অচলাবস্থা জারি করে রেখেছে অবাঞ্ছিত উপাচার্য ও তার প্রশাসন। গত ৫ই নভেম্বর আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনের উপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি বিশেষ অংশকে লেলিয়ে দেয় এই অবাঞ্চিত উপাচার্য। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরকে নৃশংস ভাবে পেটানো হয় ছাত্রলীগের ওই বিশেষ অংশ ও কর্মচারীদেরকে দিয়ে। নিজের বাসার সামনে ঘটা এই ধরনের ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসকে গণঅভ্যুত্থান আখ্যায়িত করে উপাচার্য একধরনের উদগ্র পাশবিক উল্লাস প্রকাশ করেন এবং তিনি ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানান। উপাচার্যের দুর্নীতি, মামলাবাজি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের কথা ইতিমধ্যে সর্বজনবিদিত।তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়া করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হাস্যকর। হল বন্ধ রেখে ভর্তি প্রক্রিয়া কার্যক্রম চালু করলেই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপরে অশান্তি নেমে আসবে। নিজের গদি টিকিয়ে রাখতেই নবীন শিক্ষার্থীদেরকে ভোগান্তিতে ফেলবার কোন অধিকার অনির্বাচিত উপাচার্যের নেই।সচল ক্যাম্পাসেই করতে হবে ভর্তি কার্যক্রম। সেইসঙ্গে গত ৫ই নভেম্বরের হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, হামলার নির্দেশদাতা দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলাকারীদের বিচার করতে হবে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হল ভ্যাকেন্টের অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে এবং দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার ও তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।এছাড়া এই তিন দাবিতে আগামী আগামী ২৭শে নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল ও ৩রা ডিসেম্বর ভিসির দুর্নীতির খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করার ঘোষণা দেন অধ্যাপক রায়হান রাইন।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
মহা-নাটকে ফের ‘নৈশ অভিযান’! গুরুগ্রামের হোটেল থেকে ‘উদ্ধার’ ৪ এনসিপি বিধায়ক-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
হিন্দি সিনেমার খাসতালুক মুম্বই। অনেকেই বলছেন, মহারাষ্ট্রে রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে যত নাটক-অতিনাটক, মুহুর্মুহু পট পরিবর্তন, ঘটনার যে ঘনঘটা চলছে, বলিউডের সিনেমেকারদের হাতেও তত মালমশলা নেই। শনিবারের পর ফের এক ভোররাতের নাটক। তবে এ বারের ‘অঙ্ক’ রাজ্যের বাইরে দিল্লির কাছে গুরুগ্রামে। সেখানকার একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘নৈশ অভিযান’ চালিয়ে দলের চার বিধায়ককে ‘উদ্ধার’ করলেন এনসিপি ও শিবসেনার যুব নেতারা। এমনই দাবি দুই দলের।
এনসিপি-র অভিযোগ, বিজেপি জোর করে তাঁদের ওই চার বিধায়ক নরহরি ঝিরওয়াল, দৌলত দারোদা, অনিল পাতিল ও নিতিন পাওয়ারকে আটকে রেখেছিল হোটেলে। এর মধ্যে আবার দৌলত দারোদার নামে নিখোঁজ ডায়েরিও হয়েছিল। উদ্ধার করতে গেলে বিজেপি কর্মী এবং পুলিশের সঙ্গে এনসিপি-শিবসেনার যুব শাখার কর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়। তাঁরা শরদ পওয়ার শিবিরের বলেই দাবি দলের যুব শাখার জাতীয় সভাপতি ধীরাজ শর্মার।
মুম্বইয়ে ফিরে দুলাল দারোদা ও অনিল পাতিল বলেন, ‘‘সবাই ভাবছিলেন আমরা পালিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমরা এখনও এনসিপিতে আছি। আমরা কোথাও যাইনি। আমরা শরদ পওয়ারের সঙ্গেই আছি।’’ অন্য দিকে শরদ পওয়ার শিবিরের দাবি, ৫৪ বিধায়কের মধ্যে এই চার জনকে ধরে অধিকাংশই এখন তাঁদের সঙ্গে। অজিত পওয়ারের সঙ্গে রয়েছেন হাতে গোনা দু’-তিন জন।
‘অভিযান’-এর বর্ণনা দিতে গিয়ে ধীরাজ জানান, স্থানীয় সূত্রে তাঁরা বিধায়কদের আটকে রাখার কথা জানতে পারেন। ওই হোটেলে রাত দেড়টা নাগাদ অভিযান চালান। কিন্তু পুলিশ ও বাউন্সাররা তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। কিন্তু কোনও ভাবে তাঁদের নজর এড়িয়ে কয়েক জন ভিতরে ঢুকে পড়েন। হোটেলের ৫১১৭ নম্বর রুমে ছিলেন বিধায়করা। কিন্তু এক বিজেপি নেতার মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় তিনি চিনে ফেলেন। তিনি পুলিশকে বলেন, দু’দলের কর্মীদের বাইরে বের করে দিতে। এর পরেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
ধীরাজ বলেন, ‘‘চার বিধায়ক আমাদের বলেছেন, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁরা পালানোর ছক কষছিলেন। শরদ পওয়ার বিজেপিকে সমর্থন করছেন এবং পওয়ারের নির্দেশেই তাঁদের হোটেলে থাকতে বলা হয়েছে বলে ভুল বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সংবাদমাধ্যমে সত্যিটা জানার পর দলের সঙ্গে যোগ দিতে চেয়েছিলেন।’’
উদ্ধারের পর রাত দুটো নাগাদ গুরুগ্রাম থেকে মুম্বইয়ে উড়িয়ে আনা হয় তিন বিধায়ককে। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তিন বিধায়ক মুম্বই পৌঁছন এবং যে হোটেলে এনসিপি বিধায়করা রয়েছেন, সেই রেনেসাঁ হোটেলে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে আলাদা বিমানে মুম্বই আসেন নরহরি ঝিরওয়াল।
সেনা-এনসিপির অভিযোগ, শনিবার কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ককে একটি বিশেষ বিমানে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে যায় বিজেপি। যাত্রীদের তালিকা থেকেও সেটা স্পষ্ট হয়েছে। হোটেলে অভিযানের কথা জানিয়ে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘‘বিজেপির ষড়যন্ত্র নিয়ে এই বিধায়করা যা জানিয়েছেন, তা দূর্ভাগ্যজনক।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এটাই প্রমাণ করে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য ওরা (বিজেপি) কতটা নীচে নামতে পারে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়।
রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন! সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিল জোট -দৈনিক আজকাল
বিরোধী জোটের কাছেই রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন। বিরোধী জোটকেই সরকার গঠনের সুযোগ করে দেওয়া হোক। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি দিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিল শিবসেনা–এনসিপি–কংগ্রেস জোট। যদিও শীর্ষ আদালতে শুনানি চলাকালীন বিজেপির দাবি, সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তাঁদের কাছেই আছে। বিজেপির সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে বিরোধী জোটের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি জানান, বিরোধী জোটের পক্ষে শিবসেনার ৫৬ জন, এনসিপির ৪৮ জন এবং কংগ্রেসের ৪৪ জন বিধায়ক সমর্থন জানিয়েছেন। শীর্ষ আদালতে মহারাষ্ট্র মামলার শুনানি চলাকালীন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মিলেছিল, শনিবার থেকে নিখোঁজ মহারাষ্ট্রের চারজন এনসিপি বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলে ফিরেছেন। সেই খবর যদি সত্যি হয়, সেক্ষেত্রে মোট এনসিপি বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫২। সুতরাং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই পিছিয়ে পড়ছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ–অজিত পাওয়াররা। মহারাষ্ট্রের মসনদের গদি হাতছাড়া হচ্ছে তাঁদের, মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এদিকে বিরোধী জোট বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ তুলছে। সব মিলিয়ে শনিবার মহাকাব্যিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিজেপি মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করল, তা কতদিন ধরে রাখতে পারবে, এখন সেটাই দেখার। বিরোধী জোটের দাবি, আস্থাভোট হলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখনই প্রমাণ হয়ে যাবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক কাঁদের কাছে আছে! আর সেই সেই ভয়ই পাচ্ছে বিজেপি। সেই এখনই আস্থাভোটে বাধা দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বন্ধ কাশ্মীরের রাস্তা, এবার নেপাল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শুরু পাক জঙ্গিদের!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ একপ্রকার বন্ধ। শীতকালে কাশ্মীর সীমান্ত বরফে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এবার ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য বিকল্প রাস্তা খোঁজ করছে পাকিস্তান। সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নেপাল সীমান্তকে। পাকিস্তানের তুলনায় ভারত-নেপাল সীমান্ত অনেকটাই অরক্ষিত। তাই এই সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকে অনেক সোজা বলে মনে করছে পাক জঙ্গিরা।
নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে ঢুকে পড়েছে সাত পাকিস্তানি জঙ্গি, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। নিয়ন্ত্রণরেখায় নিরাপত্তা আঁটসাঁট। সেই কারণে সেখানে সুবিধা করতে না পেরেই নেপাল সীমান্তকে বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, জঙ্গিরা উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর ও অযোধ্যায় ঘাঁটি গেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। এনআইএ-এর পদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভারতে ঢুকেছে ওই জঙ্গিরা। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। যাদের নাম মহম্মদ ইয়াকুব, আবু হামজা, মহম্মদ শাহবাজ, নিসার আহমেদ ও মহম্মদ কুয়ামি চৌধুরি। বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
গোয়েন্দা রিপোর্ট পেয়েই ওই দুই জেলার প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। জম্মু-কাশ্মীর দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তাবেষ্টনী আরও মজবুত করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় সতর্ক পাহারা। গোয়েন্দাদের রির্পোট অনুযায়ী, উপত্যকায় সরাসরি ঢুকতে না পেরে তাই নেপাল সীমান্তকেই বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা। ভারতে ঢুকে উপত্যকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অনুপ্রবেশকারী এই সাত জঙ্গিরও টার্গেট উপত্যকায় আস্তানা গড়ে তোলা।
প্রসঙ্গত, বালাকোটে জইশ গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট দিয়েছিল এনআইএ। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বালাকোট অভিযানের সাত মাস পর সেই জঙ্গি ঘাঁটিকে ফের গড়ে তুলতে উঠে পড়ে লেগেছে জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। এবং পুরোটাই চলছে পাক মদতে। সীমান্তে ক্যাম্প করে রয়েছে অন্তত ৫০০ জঙ্গি। ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জইশের হাত ধরেই ভারতে সন্ত্রাস চালাতে চাইছে পাকিস্তান। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এও জানিয়েছে, নতুন করে মানসেরা, গুলপুর, কোটলির জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
পার্সটুডে/এমবিএ/২৫