ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯ ১৩:২৮ Asia/Dhaka
  • ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
    ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৪ ডিসেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • নিরাপদ সড়ক চেয়ে শিক্ষার্থীরা মামলার হয়রানিতে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
  • ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের কোনও অসন্তোষ নেই: কাদের- বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়া জেলকোড লঙ্ঘন'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

  • ভিপি নুরের কক্ষে তালা, কুশপুত্তলিকা দাহ-দৈনিক যুগান্তর
  • বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আদালত অবমাননার শামিল : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশের নতুন কণ্ঠস্বর শবনম-দৈনিক মানব জমিন
  • উইঘুর নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টে বিল, চটেছে চীন-দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম: 

  • যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি সেনাবাহিনী, চিন প্রশ্নে সংসদে জবাব রাজনাথের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা 
  • মহিলাদের উচিত কন্ডোম সঙ্গে রাখা, ধর্ষকদের ধর্ষণে সাহায্য করা’, বিস্ফোরক মন্তব্য পরিচালকে-দৈনিক আজকাল
  • মানসিক অবসাদ, পাঁচ সহকর্মীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে আত্মঘাতী বাংলার জওয়ান -দৈনিক আজকাল
  • এনআরসির দিকে আরও এক ধাপ! নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে ছাড়পত্র মন্ত্রিসভার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কথাবার্তার প্রশ্ন 
১. পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে- একথা বলেছেন বাংলাদেশের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কীভাবে দেখছেন তার এ বক্তব্যকে?
২. পরমাণু সমঝোতার প্রতি সার্বিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। এ সমর্থনের গুরুত্ব কী?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

নিরাপদ সড়ক চেয়ে শিক্ষার্থীরা মামলার হয়রানিতে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রায় দেড় বছরের মাথায় এই মামলার বিচার শেষ হয়েছে। কিন্তু নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এখনো হয়রানির শিকার। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো ঝুলে আছে। জামিনে থাকা এই শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের ভোগান্তির শেষ নেই।

সব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন, এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেছেন, গ্রেপ্তারের পর অনেকে তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এখন যুদ্ধটা করছেন নিজেরাই। কেউ কেউ চাকরি না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মামলার তথ্য থাকায় কারও পাসপোর্ট হয়নি, কারও কারও জন্য মামলার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা এই সমস্যার সুরাহা চান।

গত বছরের ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম (রাজীব) ও দিয়া খানম (মীম) নিহত হয়। এরপরই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। ঢাকায় ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান সরকারি দলের কিছু নেতা-কর্মী। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এর পরদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর একই কায়দায় হামলা চালানো হয়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ অবস্থাতেই হামলার শিকার হন। আর পুলিশ নামে-বেনামে শত শত শিক্ষার্থীকে আসামি করে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা করে।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রসহ শত শত শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয় বুয়েটের শিক্ষার্থী দাইয়ান নাফিস প্রধানসহ ৪০ জন এবং অজ্ঞাতনামা অনেকের বিরুদ্ধে। বাদী ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র‍্যাব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম অভিযোগে শিক্ষার্থীদের এখনো নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার তিন শিক্ষার্থী সম্প্রতি হাজিরা দেওয়া থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন হাইকোর্ট থেকে।

আদালতে ঘুরছেন ২৫ শিক্ষার্থীদেড় বছরেও অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশমামলা থাকায় পাসপোর্ট হচ্ছে নাআদালতে নিয়মিত হাজিরামামলার খরচ মেটাতে হিমশিম

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বৈঠক হয়েছে। শিগগির এসব মামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেছেন, যারা গুজব ছড়িয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গুজবের উৎস এখনো অজানারাজধানীর জিগাতলায় স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে গত বছরের ৪ আগস্ট। ওই দিন বিকেলে গুজব ছড়ানো হয় যে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে ছাত্রদের আটকে রাখা হয়েছে এবং ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গুজবের সূত্রপাত একটি ভিডিও, যে ভিডিওতে নেকাব ও গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা এক নারীকে গুজব প্রচার করতে দেখা যায়। এরপরই ডিএমপির সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ ২১টি আইডি, সিআইডি ১৮টি আইডিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে।

অভিযোগ ছিল ফেসবুক, টুইটার, ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ, ইউটিউব, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা, পোস্ট, ফটো বা ভিডিওর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী দাইয়ান নাফিস, কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুন্নাহার লুমা ও শাখাওয়াত হোসেন।

এই মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল ডিএমপির সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের উপকমিশনার এ এফ এম কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, গুজবের উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি। যারা ব্যাপকভাবে গুজব ছড়ায়, তাদের শনাক্ত করা হয়েছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেত্রী লুৎফুন্নাহার গ্রেপ্তার হন সিরাজগঞ্জে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে। তিনিই ওই ভিডিও ছড়িয়েছেন বলে প্রচার করা হয়। তবে গতকাল পর্যন্ত পুলিশ কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। লুৎফুন্নাহার মনে করেন, মামলাটি ছিল হয়রানিমূলক।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল। ফাইল ছবিগ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটেন বুয়েটের শিক্ষার্থী দাইয়ান নাফিস। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বুয়েটের হলে গিয়ে দাইয়ানকে নাজেহাল করার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। ওই ভিডিওতে বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ডের আসামি মেহেদী হাসানকেও দেখা যায়। গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, দাইয়ান ফেসবুকে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়িয়েছেন। এরপরই তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

দাইয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন চেষ্টার পরও পুলিশ আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। আমার একটাই দোষ, ফেসবুকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পক্ষে আমার একটা লেখা অনেক বেশি শেয়ার হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি মেহেদীর চোখে পড়লে তিনিই গোলাম রাব্বানীকে জানান ও পুলিশ ডাকেন।’

শিক্ষার্থীদের পাশে কেউ নেই। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোথাও কোথাও কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার আগেই হামলার শিকার হন। তারপরও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই তালিকা থেকে প্রাক্তন ছাত্ররাও বাদ যাননি। তাঁদের একজন কাঁকন বিশ্বাস।

গতকাল কাঁকন প্রথম আলোকে বলেন, কর্মস্থলে থেকেও তিনি মামলার আসামি হন। প্রতি মাসে ব্যাংক থেকে এক দিন ছুটি নিয়ে আদালতে যান। তাঁর মতো আসামি হয়েছেন তাঁর অফিসের নিরাপত্তাকর্মীর ছেলেও। ছেলেটার লেখাপড়া শেষ পর্যায়ে। চাকরি হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন তাঁর বাবা।

গ্রেপ্তার ২২ শিক্ষার্থীর একজন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহিদুল হক। গতকাল তিনি বলেন, তাঁর লেখাপড়া শেষ পর্যায়ে। সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদন ফরমে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, তার উল্লেখ করতে হয়েছে। জাহিদুলের প্রশ্ন, তিনি মামলার কথা উল্লেখ করলে কোনো প্রতিষ্ঠান কি তাঁকে চাকরি দেবে?

ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের কোনও অসন্তোষ নেই: কাদের- কালেরকণ্ঠ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তাই চাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের মাঝে কোনও অসন্তোষ নেই। বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

পিয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পদত্যাগ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখুন এটা কথার কথা। যদি গ্যারান্টি থাকতো যে আমি পদত্যাগ করলেই পিয়াজের দাম কমে যাবে, সেটা তো কথার কথা। সেটা তো আর পদত্যাগ করার বিষয় নয়। আর মন্ত্রী হিসেবে হয়তো কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যেহেতু পিয়াজের দাম বাড়তি। সেজন্য বলছেন যে পদত্যাগ করলেই যদি সমাধান হয়ে যেতো তাহলে তো আমি এক সেকেন্ডেই পদত্যাগ করতাম।

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়া জেলকোড লঙ্ঘন'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না এটা জেলকোডের চরম লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করে প্রতিহিংসার বিধানকেই চরিতার্থ করা হচ্ছে। আমরা বর্তমানে তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছি।' 

আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রিজভী বলেন, গত ২৫ দিন ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না স্বজনদের। গত ১৩ নভেম্বরের পর থেকে আর সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে ৬৬৫ দিন হলো অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আইন-আদালত, ন্যায় বিচার, সংবিধান, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, বয়স, অসুস্থতাসহ সব বিবেচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া আইনগত অধিকার।

রিজভী আরো বলেন, দেশ-বিদেশের আইনজ্ঞরা বলছেন, এ মামলায় জামিন না পাওয়া বিস্ময়কর। তিনি নিশ্চিতভাবেই জামিনের হকদার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি করবেন। ৫ ডিসেম্বররের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার সবশেষ অবস্থার প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা এত খারাপ যে, এ মুহূর্তে তাঁকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে তাঁর  জীবনহানির চরম ঝুঁকি রয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে তার যে ড্যামেজ হচ্ছে, সেটা আর ফিরে আসবে না। তার বাম হাত ও শরীরের বাম দিক প্রায় প্যারালাইজড হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারও সাহায্য ছাড়া তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না।

অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তির একটি অন্যতম শর্ত হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দুটি জায়গা রয়েছে- একটি  সংসদ অন্যটি রাজপথ। গণতন্ত্রের স্পেস সংকুচিত হলে রাজপথেই গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে।

ভিপি নুরের কক্ষে তালা, কুশপুত্তলিকা দাহ-দৈনিক যুগান্তর  

একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হকের নুরের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের একাংশ। বুধবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধন শেষে ভিপি নুরের কক্ষে তালা দেয়া হয় এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এছাড়া মানববন্ধনে নুরের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, ডাকসুর ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নুরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় ভিসিকে স্মারকলিপি দেয়া হবে বলে জানান তারা। একইসঙ্গে ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে নুরকেও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। এর আগে মঙ্গলবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস করা হয়।

অডিওতে ডাকসু ভিপিকে জনৈক এব ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক কথাবার্তা বলতে শোনা গেছে। এছাড়া প্রবাসে এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে তাকে। অডিওতে আরও বলতে শোনা গেছে, ওই ব্যক্তি ভিপি নুরকে ইমেইল অ্যাড্রেসসহ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠাতে বলেছেন। এদিকে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের একটি কণ্ঠ যে তারই তা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন ভিপি নুর।

বিষয়টি পরিস্কার করতে ভিপি নুর মঙ্গলবার রাতেই ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার ফোনালাপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিকভাবে প্রচার করা হয়েছে। এমন কাজ সাংবাদিকতার নীতিবিরোধী।

অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘আমার একটি ফোনালাপ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার পুরোপুরি কথা না শুনিয়ে কিছু অংশ কেটে প্রচার করেছে, যা সাংবাদিকদের নৈতিকতার সঙ্গে যায় না। আমি এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদলিপি ও উকিল নোটিশ পাঠাব।’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আদালত অবমাননার শামিল : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য তাদের আন্দোলনের হুমকি আদালত অবমাননার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন দেবে আদালত, সরকার নয়। খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আন্দোলন করার অর্থ বিএনপি আদালত মানে না। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে প্রমাণিত হচ্ছে তারা দেশের বিচার ব্যবস্থা, আইন-আদালত মানে না।’ আজ বুধবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সম্মেলন মঞ্চ পরিদর্শন পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার জামিন দেয়ার এখতিয়ার রাখে না। তার মানে তাদের আন্দোলন আদালতের বিরুদ্ধে। সে কারণে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু করে কী না, সেটিই দেখার বিষয়।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে চান। জাতি ও দেশকে এগিয়ে নিতে চান। সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করতে চান। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলকে আরও গতিশীল এবং সুসংগঠিত করতে চান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আদালত অবমাননার শামিল : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য তাদের আন্দোলনের হুমকি আদালত অবমাননার শামিল।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন দেবে আদালত, সরকার নয়। খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আন্দোলন করার অর্থ বিএনপি আদালত মানে না। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে প্রমাণিত হচ্ছে তারা দেশের বিচার ব্যবস্থা, আইন-আদালত মানে না।’

আজ বুধবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সম্মেলন মঞ্চ পরিদর্শন পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার জামিন দেয়ার এখতিয়ার রাখে না। তার মানে তাদের আন্দোলন আদালতের বিরুদ্ধে। সে কারণে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু করে কী না, সেটিই দেখার বিষয়।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে চান। জাতি ও দেশকে এগিয়ে নিতে চান। সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করতে চান। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলকে আরও গতিশীল এবং সুসংগঠিত করতে চান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জলবায়ু পরিবর্তন: বাংলাদেশের নতুন কণ্ঠস্বর শবনম-দৈনিক মানব জমিন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন টিনেজার রেবেকা শবনম (১৬)। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি হাইস্কুলের ছাত্রী সে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তাকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের নারীরা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেসব ঝুঁকির মুখে তা নিয়ে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে। নিউ ইয়র্কেরই পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে বসবাস তার। বয়স যখন ৬ বছর তখন পরিবার তাকে নিয়ে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ম্যানহাটানে হাজারো জনতার সামনে দাঁড়িয়ে শবনম জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কি ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ তা তুলে ধরে। দৃপ্তকণ্ঠে তার উচ্চারণ, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জরুরি অবস্থা কিভাবে জাতিগত অনাচার ও দারিদ্র্যের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত তার একটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন  বর্ণের মানুষ মাঝে মাঝে বৈষম্যমুলকভাবে আক্রান্ত হয়-  এর মধ্য দিয়ে তা-ই ফুটিয়ে তুলেছে শবনম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্বনেতারা যখন ইউএন ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স বা সিওপি২৫-এ যোগ দেন এ সংক্রান্ত সঙ্কট নিয়ে আলোচনা ও তার সমাধান বের করতে, তখন রেবেকা শবনমের ওপর আলো ফেলেছে আল জাজিরা। ওই সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে মূল আলোচনার ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তন। তবে এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে যুব সমাজের অধিকারকর্মীরা। বিশেষ করে গ্রেটা থানবার্গের মতো টিনেজ শিক্ষার্থীরা। গ্রেটা থানবার্গ সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে হাজারো মানুষের সমাবেশে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জোরালো বক্তব্য উত্থাপন করে। ওই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ। তারা ম্যানহাটান প্রদক্ষিণ করেছে। তার মধ্যে দূরের বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে একজন টিনেজার। সে রেবেকা শবনম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বিপন্ন যেসব দেশ এবং যাকে নিয়ে কমই রিপোর্ট করা হয়েছে, সেই বাংলাদেশকে তুলে ধরে শবনম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের নারী, শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয় তুলে ধরে সে।

ওই সমাবেশে দাঁড়িয়ে সে বাংলাদেশে তার শৈশব সম্পর্কে বক্তব্য রাখে। বর্ণনা করে, রাজধানী ঢাকায় বন্যার সময় তার এক আঙ্কেল কিভাবে তাকে পিঠে করে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।পরে শবনম কথা বলেছে আল জাজিরার সঙ্গে। সে বলেছে, যখন ম্যানহাটানের ওই সমাবেশে সে বক্তব্য রেখেছে বাংলাদেশকে নিয়ে তখন নীরবতা ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায় নি। পক্ষান্তরে জনতার সাড়া দেখে অভিভূত হয়েছে শবনম। নিউ ইয়র্কে উত্তাল জনতার সামনে শবনম বলে, জলবায়ু বিষয়ক সংকট শুধুই একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়।

এটি জরুরি মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যু। জলবায়ু সঙ্কটের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশী নারীরা চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েন। বাঙালি নারী এবং বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী মানুষগুলোকে আমরা জানাতে চাই যে, বিশ্বজুড়ে যুব সমাজ তাদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছে।আল জাজিরা লিখেছে, সিওপি২৫ আশা করছে তারা বিভিন্ন রকম ইস্যুতে দৃষ্টি দেবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পে জলবায়ু-বান্ধব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ২০১৬ নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত, যেখানে বৈশ্বিক নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে যুব সমাজের কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।

এবারের সম্মেলন শুরুর দু’সপ্তাহ আগে আল জাজিরাকে রেবেকা শবনম বলেছে, সিওপি২৪ গত বছর যেটুকু আশা বা দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছে, তার চেয়ে আরো বেশি জরুরি হিসেবে বিষয়টিকে দেখা উচিত। তার ভাষায়, আমরা চাই না যে, সিওপি২৫ শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগজনক ডাটাই আমলে নেবে। একই সঙ্গে আমরা চাই ফসিল জ্বালানিতে তহবিল, এর সম্প্রসারণ ও ব্যবহার বন্ধে পরামর্শ।

আমি আশা করি তারা (বিশ্বনেতারা) শুধু নবায়নযোগ্য উৎসের দিকে ফেরার বিষয়েই নজর দেবেন না, একই সঙ্গে তা হতে হবে সামনের সারিতে থাকা সম্প্রদায়ের পরিবর্তনের জন্য।উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে যেসব দেশ তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এ দেশটি সমতল ভূমির। ফলে এখানে খুব বেশি বন্যা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ২০১৬ সালে ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬ষ্ঠ। এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু সংক্রান্ত অভিবাসীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশেষ করে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশের উপকূল অঞ্চলে এই ঝুঁকিটা বেশি। এসব অঞ্চল থেকে মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন বলে শহরের ভিতর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে যুবতী ও শিশুদের পাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নারীরা যেসব কারণে ঘর ছাড়েন তার অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তন। এর ফলে নারীরা অধিক হারে পাচারের ঝুঁকিতে পড়েন।বাংলাদেশে ইউনিসেফের যোগাযোগ বিষয়ক ম্যানেজার সাকিল ফয়জুল্লাহ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যু হলো এক নীরব বিপর্যয়। এই বিপর্যয় ঘটছে নিত্যদিন।

ফলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিপর্যয়টা দেখতে পাই না। এপ্রিলে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক রিপোর্ট বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের এক কোটি ৯০ লাখ শিশু। সাকিল ফয়জুল্লাহ বলেন, এর অর্থ হলো অন্যান্য সুবিধা সহ এসব শিশুর শিক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। তার ভাষায়, বন্যা হলে স্বাস্থ্য সুবিধা প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস হয়ে যায়। বিশেষ করে টিউবওয়েল। বন্যায় এসব জিনিস ডুবে যায়। বন্যার সময় স্কুল বন্ধ থাকে। যদি একটি শিশু স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তাকে আপনি কি অফার করতে পারেন? এগুলো তো মৌলিক চাহিদা।

রেবেকা শবনম নিউ ইয়র্কে সেপ্টেম্বরে দেয়া তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে যেসব সম্প্রদায় তাদের দিকে দৃষ্টি ফেরায়। বিশেষজ্ঞরা একমত যে, একই রকম ঝুঁকিতে রয়েছেন নারী ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। সাংস্কৃতিক আদর্শে নারীরা প্রভাবিত হওয়া ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাড়িঘর ছেড়ে আসা নারীরা বৈষম্যের শিকার হন। এমনটা মনে করেন ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্রিপিয়ার্ডনেস বিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ময়েন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অভিবাসনের ফলে একটি বাড়ির পুরুষ ব্যক্তিটি মাঝে মাঝেই আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন। এর ফলে গৃহস্থালির যাবতীয় দায় চাপে একজন নারীর কাঁধে।শবনম বলেছে, সে চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে যেন ভুলে যাওয়া না হয় এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে ‘আমরা আমাদের দাবিকে অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে চাই’।

উইঘুর নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টে বিল, চটেছে চীন-দৈনিক নয়াদিগন্ত

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম নির্যাতন নিয়ে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ। বিলটির ফলে জিনজিয়াং নিয়ে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আরো কঠোর হবে। তবে এই বিলের পর ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। মঙ্গলবার বিলটি ৪০৭-১ ভোটে পাস হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হয়ে, চীনা নেতাদের প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী করার বিষয়টি বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। তবে চীন বলছে, এটি সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনের পন্থা। সেখানে তাদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন সময় ফাঁস হওয়া নথিতে প্রমাণ মিলেছে সেখানে উইঘুরদের চীনা সংস্কৃতির সাথে জোর করে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম চর্চায় বাধা দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীনের বিশেষ নজরদারির বিষয়টিও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে।আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন পার্লামেন্টে‘ উইঘুর অ্যাক্ট ২০১৯’ পাস হওয়ার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে এর নিন্দা জানিয়েছে।

বিলটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দফতরে পাঠানোর আগে সেটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস করাতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট সেটিতে স্বাক্ষর করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। আইন হলে উইঘুর ও জিনজিয়াং ইস্যুত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরো কঠোর হবে। তবে বিলে স্বাক্ষর না করে ভেটো দেয়ার ক্ষমতাও রয়েছে প্রেসিডেন্টের।

জিনজিয়াং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছে বেইজিং। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, বিলটিকে আইনে পরিণত করার আগে আমরা অনুরোধ করবো এর ভুলগুলো সংশোধন করতে। তিনি চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার জন্য জিনজিয়াংকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করতে আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি।

গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন সিনেট উইঘুর নিয়ে একটি বিল পাস করেছিল, যাতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের দায়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধে বেইজিংয়ের সাথে সমঝোতায় যেতে পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন তখনই বিলটি পাস হয়। ওই বিলের পরও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল চীন।

গত মঙ্গলবার পাস হওয়া নতুন বিলটি আগের সেই বিলেরই জোরালো সংস্করণ। কাজেই এটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে চীনের অনেক নেতার প্রতি। 

এবারের বিলেও কিছু নেতার প্রতি নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম জিনজিয়াং প্রদশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান চেন কুয়াংও। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও শীর্ষ নীতি নির্ধারকদের একজন।

যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি সেনাবাহিনী, চিন প্রশ্নে সংসদে জবাব রাজনাথের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

ভারতের জলসীমায় চিনের ‘আগ্রাসন’ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুললেন অধীর চৌধুরী। বুধবার কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর অভিযোগ তোলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নিলেও চিনের প্রতি কেন্দ্র নমনীয়। যদিও অভিযোগ খণ্ডন করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেছেন, দেশের সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা সর্বদা কড়া নজর রাখেন। এ নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। তবে রাজনাথের যুক্তি, বহু জায়গায় চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নির্দিষ্ট না থাকাতেও অনেক সময় এই সমস্যা হয়।

মঙ্গলবারই নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিংহ জানিয়েছিলেন, দিল্লির অনুমতি না নিয়ে সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল ‘শি ইয়ান ১’ নামে একটি চিনা জাহাজ। পিছু তাড়া করে নৌবাহিনী সেটিকে ভারতীয় জলসীমার বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুধু এটিই নয়, মাঝে মধ্যেই এই রকম চিনা জাহাজ ঢুকে পড়ে বলেও জানিয়েছিলেন নৌসেনা প্রধান।

এ দিন সংসদে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, আর চিন দেয় পাকিস্তানকে। আন্দামান-নিকোবর অঞ্চলে জাহাজ পাঠাচ্ছে চিন। যখন পাকিস্তানের প্রশ্ন ওঠে, তখন আমরা কড়া অবস্থান নিই। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয় কেন?’’ জাহাজ ঢুকে পড়ার ঘটনাকে ‘দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুতর’ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন বহরমপুরের সাংসদ।

জবাবে রাজনাথ সিংহ বলেন, ‘‘ভারত-চিনের মধ্যে পারস্পারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কোনও লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নেই। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে মতভেদের জন্যই মাঝেমধ্যে চিনা অনুপ্রবেশ ঘটে। আমি সেটা মানি। কখনও চিনের সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে, কখনও বা ভারতীয় বাহিনী চিনের সীমান্ত পার হয়ে যায়। তবে দেশের ঐক্য, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় রাস্তা, টানেল, রেললাইন, এয়ার বেস তৈরির মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।’’

এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, ‘‘আমি সংসদকে নিশ্চিত করে বলতে চাই যে, আমাদের সেনাবাহিনী সারাক্ষণ সীমান্ত সুরক্ষায় তৎপর। আমাদের বাহিনী যে কোনও সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি। তা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’’

মহিলাদের উচিত কন্ডোম সঙ্গে রাখা, ধর্ষকদের ধর্ষণে সাহায্য করা’, বিস্ফোরক মন্তব্য পরিচালকে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

হায়দরাকাণ্ডে উত্তাল গোটা দেশ। ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। আর এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন ছবি পরিচালক ড্যানিয়েল শ্রদবান। ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা আটকাতে মহিলাদের উচিত কন্ডোম সঙ্গে রাখা এবং ধর্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা, মন্তব্য এই ছবি পরিচালকের। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‌সাহায্যের জন্য পুলিশকে ফোন না করে মহিলাদের উচিত কন্ডোম সঙ্গে রাখা। ধর্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। তাহলেই ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা আটকানো সম্ভব। নির্ভয়া এবং প্রিয়াঙ্কারা কোনওদিন বিচার পাবেন না। যৌন চাহিদা পূরণের জন্যেই মানুষ ধর্ষণ করে। যা নির্ভর করে সময় এবং মর্জির ওপর। যদি মহিলারা পুরুষদের যৌন চাহিদায় বাধা দেয়, তাহলে ধর্ষণ করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।’‌ ছবি পরিচালকের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল নিন্দার ঝড় ওঠে ড্যানিয়েলের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পোস্টটি উড়িয়ে দেন পরিচালক। পরে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে আরও একটি পোস্ট দেন তিনি। যা কিন্তু যা ঘটার ঘটে গিয়েছে ততক্ষণে। পরিচালকের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ সেক্রেড গেমসের অভিনেত্রী কুব্রা সৈত সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‌আমি জানি না কে এই পরিচালক। তবে এঁনার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।’‌

মানসিক অবসাদ, পাঁচ সহকর্মীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে আত্মঘাতী বাংলার জওয়ান -দৈনিক আজকাল

সহকর্মীর গুলিতে প্রাণ গেল পাঁচ জওয়ানের। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ছত্তিশগড়ে। জানা গেছে, এক জওয়ান নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে আচমকাই গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গুলির আঘাতে প্রাণ হারান ইন্দো–তিব্বত বর্ডার ফোর্সের পাঁচ জওয়ান। যাদের মধ্যে বাংলার দুই জওয়ানও আছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু’‌জন জওয়ান। এরপর নিজেকে গুলি করে আত্মঘাতী হয় বাংলার ওই জওয়ান। ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণপুর জেলায় ইন্দো–তিব্বত বর্ডার ফোর্সের ৪৫ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কাড়েনার ক্যাম্পে ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ। যে জওয়ান বাকিদের উপর গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে তার নাম মাসুদুল রহমান। বাড়ি নদিয়া জেলায়।

মৃত বাকি পাঁচ জওয়ানের মধ্যে আছেন, মহেন্দ্র সিং (‌বিলাসপুর, হিমাচলপ্রদেশ)‌, দলজিৎ সিং (‌লুধিয়ানা, পাঞ্জাব)‌, সুরজিৎ সরকার (‌বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ)‌, বিশ্বরূপ মাহাতো (‌পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ)‌, বিজেশ (‌কোজিকোড়, কেরল)‌। আহত দুই জওয়ানের মধ্যে আছেন এস বি উল্লাস (‌তিরুঅনন্তপুরম, কেরল)‌ ও সিতারাম দুন (‌নাগৌর, রাজস্থান)‌। বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি বলেছেন, এক জওয়ান আচমকাই সার্ভিস রাইফেল থেকে সহকর্মীদের উপর গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। পাঁচ জওয়ান মারা যান। এরপর নিজের উপর গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয় ওই জওয়ান। এই ঘটনায় আহত দুই জওয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেন ওই জওয়ান সহকর্মীদের উপর গুলি চালাল তা এখনও স্পষ্ট নয়?‌ তবে প্রাথমিকভাবে অনুমান ছুটি না মেলায় মানসিক অবসাদে ভুগছিল ওই জওয়ান। আর তা থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের। ‌

এনআরসির দিকে আরও এক ধাপ! নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে ছাড়পত্র মন্ত্রিসভার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন 

এনআরসির দিকে আরও এক পদক্ষেপ এগিয়ে গেল কেন্দ্র সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই জানিয়েছিলেন, আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হবে, তারপর হবে এনআরসি। ২০২৪ সালের মধ্যে গোটা দেশে এনআরসি করবে মোদি সরকার। সেই লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোলো কেন্দ্র। মন্ত্রিসভায় ছাড়পত্র পেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শুরু হয় কেন্দ্রিয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের খসড়া পেশ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সর্বসম্মতিক্রমে খসড়াটি ছাড়পত্র পায় বলে সরকারি সূত্রের খবর। সরকারের প্রস্তাবিত বিলটি আসলে ১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইনের সংশোধিত খসড়া। এর মূল বক্তব্য হল, তিনটি প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দিতে হবে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আগত ৬টি অমুসলিম জাতি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, পার্সি এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক্ত দেবে ভারত। মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা এ দেশের নাগরিকত্ব পাবে না।

বিলটি মন্ত্রিসভায় পাশ হয়ে যাওয়ায় লোকসভায় পেশে আর কোনও বাধা রইল না। সম্ভবত আগামিকালই বিলটি লোকসভায় পেশ করতে চলেছে সরকার। এই মুহূর্তে লোকসভা বা রাজ্যসভা কোনও কক্ষেই বিল পাস করাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় সরকারের। ইতিমধ্যেই, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিজেপি সংসদদের জানিয়ে দিয়েছেন, বিলটি পেশ করার সময় সকলকে সংসদে উপস্থিত থাকতে হবে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিরোধী দলগুলির দাবি, এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এটা আসলে বিদ্বেষ ছড়ানো। আবার উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি এই বিলটির বিরোধিতা করছে। কারণ তাঁদের মতে, এই বিল পাস হয়ে গেলে উত্তরপূর্বের ভূমিপুত্রদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেতে পারে। বিরোধিতা সত্ত্বেও যদি বিলটি পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়, তাহলে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে অনেকটা সুবিধা পাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।