এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল হত্যা, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
‘পাঠক! আমাদের প্রাত্যহিক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ২৩ এপ্রিল শনিবার কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইত্তেফাক অনলাইন: জয়ের কথায় শফিক রেহমান গ্রেপ্তার: বিএনপি
দৈনিক যুগান্তর অনলাইন: জাল ভোটের ছবি তোলায় আ'লীগের মারপিট, ৩ সাংবাদিক আহত
মানবজমিন: জাল ভোট দেয়ার দায়ে যুবকের ৬ মাসের জেল
প্রথম আলো অনলাইন: ইভ টিজিং কি চলতেই থাকবে?
ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:
আনন্দবাজার অনলাইন: বদল গণতন্ত্রের নিয়ম, বদলা নয়
বর্তমান অনলাইন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি হারালেন কংগ্রেসের হরিশ রাওয়াত। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের রায়ের উপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, ফের বহাল রাষ্ট্রপতির শাসন
তো, শ্রেতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের-সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি।
দৈনিক যুগান্তরসহ প্রায় সব দৈনিকের খবর-১১ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক খুন। সর্বশেষ আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করলো রাবি অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। তিনি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। অধ্যাপক রেজাউল হত্যা
গানের স্কুল ও ব্লগে লেখালেখিসহ তিন কারণ নিয়ে এগুচ্ছে পুলিশ। এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটে ডাক দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। ইত্তেফাকের খবর-অধ্যাপক রেজাউল হত্যায় জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এবার রাজধানীতে অধ্যক্ষকে কুপিয়ে জখম। এমন শিরোনাম- বাংলাদেশ প্রতিদিনের। দৈনিকটির অন্য একটি খবর নিখোঁজের একদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার। খুন হচ্ছে একের পর কিন্তু খুনি ধরা পড়ছে না- কেন এমন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্নমহলে।
..........
রানা প্লাজা ধস। ১ হাজার ১৩৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর নাম রানা প্লাজা ধস। এক মর্মান্তিক ট্রাজেডির নাম রানা প্লাজা ধস। ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল ঢাকার অদূরে সাভারে ৯ তলা রানা প্লাজা ধসে করুণভাবে মারা যান ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক। হতাহত শ্রমিকরা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
সেই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির তিন বছর পার হয়েছে।এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিবেদনের শিরোনাম এরকম যে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৩ বছর: মেলেনি ক্ষতিপূরণ শুরু হয়নি বিচার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজও ক্ষতিপূরণ মেলেনি,বিচার শুরু হয়নি; এখন অধরা হত্যা মামলার ১২ আসামি। হত্যা মামলার ৪১ আসামির ২৩ জনই আছে জামিনে। এখনও শুরু হয়নি বিচার। ভয়াবহ এ ভবন ধসের ঘটনা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের পুরো অংশ এখনও হাতে পাননি অনেকে। ওই ঘটনায় শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া অনেকে এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ওই ঘটনায় নিহতদের সন্তানরাও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতি বছর ২৪শে এপ্রিল এলেই এ নিয়ে আলোচনা হয়। তারপরও আর কেউ খবর নেয় না ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র না পাওয়ায় এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়নি। এ মামলায় কারাগারে রয়েছে ভবনমালিক সোহেল রানাসহ ৬ জন।
রানা প্লাজা ধসের দুই মামলার একটিতে ৫৯৪ জনকে এবং অপর মামলায় ১৩০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এসব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ জেরা শেষ করতে কিছু সময় লাগবে। খুব শিগগির এ মামলার বিচারকার্য শেষ হবে না।
আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী জীবিতদের ক্ষতি হিসেব করে ক্ষতিপূরণ হিসেব করা হবে। হতাহতদের ক্ষতিপূরণের জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো ইন্ডাস্ট্রি অলসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে মিলে আইলওর নেতৃত্বে ৩০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয় (৩২০ কোটি টাকা)। সেখানে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছে। অর্থাৎ এখনও ঘাটতি আছে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার।
..........
মধ্যম আয়ের বনাম উন্নয়নশীল দেশ -কী হতে চায় বাংলাদেশ?-জিজ্ঞাসাসূচক এ শিরোনামটি দৈনিক প্রথম আলোর। অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষণধর্মী এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে সব পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু সমৃদ্ধি মাপার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সূচকগুলোতে মধ্যম আয়ের দেশ বলতে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি নেই। জাতিসংঘ কিংবা বিশ্বব্যাংক—কারও সূচকেই মধ্যম আয়ের দেশ বলতে কোনো কিছুই নেই।
জাতিসংঘের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ। পরের ধাপ উন্নয়নশীল দেশ হতে কমপক্ষে আরও নয় বছর লাগবে। ২০২৪ সালের আগে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। পরের শ্রেণি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে বর্তমান মাথাপিছু আয়কে কমপক্ষে ৪ হাজার ১২৬ ডলার হতে হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এখন তা মাত্র ১ হাজার ৮০ ডলার।
........
‘কৃষকের মাথায় হাত: উৎপাদন খরচের চেয়েও ধানের দাম কম’
কৃষি বিষয়ক এ শিরোনামটি বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইনের।
কৃষিবিষয়ক এ প্রতিবেদনে মাঠে ময়দান থেকে কৃষকের সত্যিকার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রংপুরের সিও বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় সহস্রাধিক কৃষক। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপিও দেন। কৃষকদের বক্তব্য ছিল, ধানের চেয়েও আলুর দাম বেশি। এটা হতে পারে না। ধানের মূল্য অন্তত ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা হতে হবে। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রামের কৃষক চান মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানালেন, ‘এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা যাচ্ছে না।’
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার পানিহাকা গ্রামের কৃষক এনামুল হকও একই কথা বললেন, প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায়। মণপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুম থেকে ধানের আবাদ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। শুধু এ কজন কৃষকই নন, সারা দেশেই ধানের একই চিত্র। কৃষকের মাথায় হাত। উৎপাদন খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
........
বাংলাদেশে তৃতীয় দফায় ইউপি নির্বাচন নানামুখী খবর রয়েছে প্রায় সবগুলো জাতীয় অনলাইন দৈনিকে। কুমিল্লার বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ, বিএনপি প্রার্থীদের ভোট বর্জন- এ শিরোনামটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের।নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর ব্যালটে নৌকার সিল, নির্বাচন বর্জন। নাটোরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থীর ভোট বর্জন। এ দুটি খবর মানবজমিন অনলাইনের। এছাড়া- দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনের খবর-শেরপুরে ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশতাধিক। মোটামুটিভাবে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচনের খণ্ডচিত্র।
........
বাংলাদেশের পর এবার ভারতের নির্বাচনে বিভিন্ন দৈনিকে যা লেখা হয়েছে-সেগুলো তুলে ধরছি।
কোলকাতার দৈনিক বর্তমান অনলাইনে নির্বাচন সম্পর্কিত খবরে বলা হয়েছে-বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের ভোট মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে সিপিএম তৃণমূল সংঘর্ষে দুই সিপিএম কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দৈনিকটির অন্য এক খবরের শিরোনাম-পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে কমিশনের কোপে ডিএম, এসপি। আর আনন্দবাজারে নির্বাচন সম্পর্কে লেখা হয়েছে বাবুলের দাবি-ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই নির্লজ্জ রিগিং তবে এতে লাভ হয় না। দৈনিকটির অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-প্রতিরোধের প্রতিশোধে জোড়া খুনের অভিযোগ।
তো পাঠক! এই ছিল আজকের কথাবার্তার আসরে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আবার কথা হবে আগামীকালের কথাবার্তার আসরে। সবাই ভালো থাকবেন।#
গাজী আবদুর রশীদ/২৩