জানুয়ারি ১৯, ২০২০ ১৪:২৫ Asia/Dhaka
  • সিএএ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বললেন, এর প্রয়োজন ছিল না

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ জানুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশে:

  • সিএএ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-বুঝতে পারছি না ভারত কেন এটা করল, এর প্রয়োজন ছিল না-দৈনিক প্রথম আলো
  • প্রথম আলো সম্পাদককে গ্রেফতার না করার নির্দেশ, জামিন শুনানি কাল--দৈনিক বাংলাদেশ
  • নির্বাচিত হলে সিটিকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা ইশরাকের-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মহাকাশে নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর ঘোষণা ইরানের-দৈনিক যুগান্তর
  • শিশু ধর্ষণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন নয়ঃ হাইকোর্ট-দৈনিক মানবজমিন
  • নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ-অযোগ্য : মির্জা ফখরুল-দৈনিক  নয়া দিগন্ত

ভারতের খবর:

  • সিএএ: শীতের রাতে প্রতিবাদীদের কম্বল কেড়ে নিল যোগীর পুলিশ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • সিএএ–এর বিরোধিতা যাঁরা করছেন তাঁরা মানসিক রোগের শিকার’, মন্তব্য উত্তরপ্রদেশের উপ–মুখ্যমন্ত্রীর-দৈনিক আজকাল
  • সংসদে পাশ হওয়া আইন মানতে বাধ্য রাজ্য’, CAA ইস্যুতে উলটো সুর কপিল সিব্বলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

সিএএ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-বুঝতে পারছি না ভারত কেন এটা করল, এর প্রয়োজন ছিল না-দৈনিক প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে ভারত সরকারের উদ্দেশ্য কী, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় দেশটির রাজধানী আবুধাবিতে গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না, কেন ভারত সরকার এটা করল। এটার প্রয়োজন ছিল না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতে পাড়ি দেওয়া কেউ বাংলাদেশে ফিরে এসেছে, এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে ভারতে তাঁদের অনেকে সমস্যার মধ্যে আছেন।’ তিনি বলেন, ‘তার পরও এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ সব সময়ই সিএএ এবং এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে আসছে। ভারত সরকারও সব সময় তাদের পক্ষ থেকে বলে আসছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ব্যক্তিগতভাবে গত বছরের অক্টোবর মাসে নয়াদিল্লি সফরকালে আমাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।’ গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস হয়। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে এই আইন সংশোধন করে ভারত। বিতর্কিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল।

শেখ হাসিনার মতে, যেকোনো বৃহত্তর ক্ষেত্র বিবেচনায় বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।

প্রথম আলো সম্পাদককে গ্রেফতার না করার নির্দেশ, জামিন শুনানি কাল--দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে করা আগাম জামিন আবেদনের ওপরে আগামীকাল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এর আগে সকালে আগাম জামিন চেয়ে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ছয়জন হাইকোর্টে আবেদন করেন। অন্যরা হলেন কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহ পরাণ তুষার এবং নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক। তাদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়ে জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানি জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। 

১৬ জানুয়ারি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অন্যতম বিচারক কায়সারুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুল আবরার। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সেদিনই থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই আবরারের বাবা  ছেলের লাশ নিয়ে যান। পরে ৬ নভেম্বর ঢাকার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪ (এ) ধারায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নাইমুল আবরারের বাবা।

নির্বাচিত হলে সিটিকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা ইশরাকের-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকাকে নিরাপদ বাসযোগ্য ও সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে একসাথে নিয়ে কাজ করবো। এজন্য শুধুমাত্র সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণার দশম দিন আজ রবিবার আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গণসংযোগ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী সফু, এসএম জিলানী, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, রফিক শিকদার, শরিফ হোসেন, ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন।

এর আগে সকাল ১০টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ইশরাক হোসেন। মাজারে শ্রদ্ধা ও মোনাজাত শেষে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আজকের গণসংযোগের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। সনাতন ধর্মাবলম্বিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে বিবেচনায় নিয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানান ইশরাক।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারনের সময়ই কমিশনের উচিত ছিল হিন্দু ধর্মালম্বীদের পূজার বিষয়টা বিবেচনা করা। তাহলে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনজনিত কারণে পরীক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হতো না। 

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করে আজিমপুর মোড় থেকে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার, আজিমপুর কবরস্থান হয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন ইশরাক হোসেন। গণসংযোগে ধানের শীষ শ্লোগানে শ্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলে নেতাকর্মীরা।

ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পোস্টার ছেঁড়া ছোটলোকি কাজ। পোস্টার ছেঁড়ার মাধ্যমে কেউ আমাদেরকে জনগণের মন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মহাকাশে নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর ঘোষণা ইরানের-দৈনিক যুগান্তর

রাজধানীর রমনা থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব।

আজ বুধবার ঢাকার মে‌ট্রোপ‌লিটন ম্যা‌জি‌স্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক এ চার্জশিট জমা দেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তাকে গ্রেফতার করা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। পরে গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

শিশু ধর্ষণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন নয়ঃ হাইকোর্ট-দৈনিক মানবজমিন

শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ ঠেকাতে একজন বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার  বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, অন্তর্বর্তী আদেশের পাশাপাশি ১৬ বছরের নিচে কেউ ভিকটিম হলে সেক্ষেত্রে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রণয়ন করায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তা রুলে জানতে চেয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় কারও মৃত্যু ঘটলে সেক্ষেত্রে আইনে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজার যে বিধান রয়েছে, সে যাবজ্জীবন সাজা উঠিয়ে দিতে সরকারের নিস্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।এছাড়া ধর্ষণের ভিকটিমদের জন্য সাক্ষী সুরক্ষা আইন কেন প্রণয়ন করা হবে না, ধর্ষকদের ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য কেন ডিএনএ ডাটাবেজ করা হবে না,  প্রতিটি জেলায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ভিকটিমদের সুরক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, ভিকটিমদের ছবি গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে কেন সতর্কতা অবলম্বন করা হবে না, সব ধরনের ধর্ষণের অপরাধের জন্য কেন পৃথক একটি আদালত গঠন করা হবে না এবং সে আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ-অযোগ্য : মির্জা ফখরুল-দৈনিক  নয়া দিগন্ত-দৈনিক  নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র প্রার্থী, বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিবাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য। তার প্রমাণ হচ্ছে সিটি নির্বাচনের তারিখ তারা নির্ধারণ করে রেখেছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার দিনে। বড় সমস্যা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো হয়, সেখানেই পূজা হয়। এতে করে বড় ধরণের সমস্যা হতে পারতো। কিন্তু এসব চিন্তা না করে তারা তারিখ নির্ধারণ করেছিল। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা মানুষ ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিবস পালন করছি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে একটা মিথ্যা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকার কারাগারে আটকে রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশি নির্বাসিত করে রেখেছে। লক্ষ লক্ষ বিএনপির নেতাকর্মীকে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে, হত্যা করেছে, গ্রেফতার করেছে, গুম করেছে, খুন করেছে। দেশটাকে একটা অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ দেশে একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়। সেজন্যই তারা অত্যাচার নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমরা এখানে শপথ নিয়েছি যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশকে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র মানেই তো সবার সমান সুযোগ, তা কি এখন এই দেশে আছে? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের সকল গণতান্ত্রিক স্তরগুলোকে সংকুচিত করে ফেলেছে। গণতান্ত্রিক কার্যক্রম সীমিত করে দিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনে ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতে করে নিয়েছে তারা।

তিনি বলেন, আজকে এই ঢাকা সিটি নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীরা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, কারণ একটি অযোগ্য নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়। এবং তাদের সেই যোগ্যতা নেই। তিনি আরো বলেন, ইভিএমে নির্বাচন করার মানে হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার আরেকটা অপকৌশল। জনগণের রায় কখনো ইভিএমের মাধ্যমে জনগণের সামনে আসবে না। ইভিএম হচ্ছে একটা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। পৃথিবীর কোন দেশেই এই ব্যবস্থাকে ত্রুটিহীন সিস্টেম বলা যায় না। ব্যালটের মাধ্যমে যদি ভোট দেয়া হয় সেটাই জনগণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা। জনগণ ভোট দিলে চুরি-ডাকাতি না হলে মোটামুটি একটা ফল পাওয়া যায়। কিন্তু ইভিএমে ভোটের ফলাফলকে পরিবর্তন করার মতো যথেষ্ট ত্রুটি আছে।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

সিএএ: শীতের রাতে প্রতিবাদীদের কম্বল কেড়ে নিল যোগীর পুলিশ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

এর বিরুদ্ধে অবস্থান তুলতে এ বার নয়া পন্থা নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। রাতের অন্ধকারে মহিলা বিক্ষোভকারীদের লেপ-কম্বল কেড়ে নিয়ে গেল তারা। কেড়ে নেওয়া হল থালা-বাসন, খাবারও।

শনিবার রাতে লখনউয়ে ওল্ড কোয়ার্টারের কাছে ঘণ্টাঘর এলাকায় এমনই দৃশ্য চোখে পড়ল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই সেই ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। তাতে যোগী সরকারের দমননীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা।

সিএএ এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) বিরোধিতায়পাঁচ শতাধিক মহিলা গত একমাস ধরে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই শুক্রবার থেকে ঘণ্টাঘরের কাছে জমা হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মহিলারা। ছিল কচিকাঁচারাও। প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে বাঁচতে লেপ কম্বল নিয়ে বসেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু সন্ধ্যা পেরোতেই সেখানে হাজির হয় পুলিশের একটি দল। লেপ-কম্বল কেড়ে নিতে শুরু করে তারা। খাবার এবং থালা-বাসনও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে ‘কম্বল চোর’ বলে দাগিয়েছেন কেউ কেউ।আবার কটাক্ষও করেছেন কেউ কেউ। প্রশ্ন উঠেছে, ‘‘প্রভুরা ওই কম্বল মুড়ি দিয়ে ঠিকঠাক ঘুমিয়েছেন তো?’’ কোন আইনে বিক্ষোভকারীদের কম্বল কেড়ে নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তবে সে সবে কান দিতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাদের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, ‘‘ঘণ্টাঘরের কাছে বেআইনি বিক্ষোভ চলছিল। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তাঁবু খাটানোর চেষ্টা চলছিল। একটা দল কম্বল বিলি করছিল। যাঁরা বিক্ষোভে অংশ নেননি, তাঁরাও কম্বল নিতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ভিড় হঠাতেই আমাদের নামতে হয়। আর তা করতে গিয়েই নিয়ম মেনে কম্বল বাজেয়াপ্ত করা হয়।’’

সিএএ–এর বিরোধিতা যাঁরা করছেন তাঁরা মানসিক রোগের শিকার’, মন্তব্য উত্তরপ্রদেশের উপ–মুখ্যমন্ত্রীর-দৈনিক আজকাল

ফের একবার বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের উপ–মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। যাঁরা সিএএ–এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের মানসিক রোগাক্রান্ত আখ্যা দিলেন। পাশাপাশি দ্রুত ভাল কোনও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শও দিলেন। রবিবার বৃন্দাবন সফরে এসেছেন মৌর্য। দুপুর ১২টার সময় হেলিপ্যাডে নামতেই তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন উপ–মুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্য। নতুন করে রাজ্যে সিএএ বিরোধিতা শুরু হয়ে যাওয়া নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বলেন, ‘‌যাঁরা সিএএ–এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের মানসিক অবস্থা ভাল নয়। অবিলম্বে তাঁদের উচিত ভাল কোনও চিকিৎসককে দেখানো। তাঁর পরামর্শ নেওয়া।’ এরপরই মৌর্যের এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে পাল্টা মন্তব্য করেছেন বিরোধীরাও। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলা এসপি অখিলেশ সিংয়ের সমর্থনেও মন্তব্য করেছিলেন মৌর্য। বলেছিলেন, ‘‌মেরঠের এসপি সব মুসলিমকে উদ্দেশ্য করে এটা বলেননি৷ যাঁরা পাকিস্তানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন, ভারত বিরোধী পোস্টার ছড়িয়েছেন, পাথর ছুঁড়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন৷ কেউ এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকলে, তাঁদের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করে কোনও ভুল করেননি এসপি৷’

সংসদে পাশ হওয়া আইন মানতে বাধ্য রাজ্য’, CAA ইস্যুতে উলটো সুর কপিল সিব্বলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি শাসিত রাজ্যগুলি CAA কার্যকর করবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে। বামশাসিত কেরল ও কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব বিধানসভা এই বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর মাঝেই দলের লাইনের বাইরে কথা বলতে শোনা গেল বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলকে।

সংসদে পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন রাজ্যগুলি মানতে বাধ্য বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। অন্যথায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন। শনিবার কোঝিকোড়ে কেরল লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল (KLF)-এর তৃতীয় দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী এই আইন মানতেই হবে বলে জানান। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর কোনও রাজ্য বলতে পারবে না যে আমরা এটা কার্যকর করব না। এটা কখনই সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টি অসাংবিধানিক। আপনারা এর বিরোধিতা করতে পারেন। বিধানসভায় এর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারকে এটা প্রত্যাহার করার জন্য চাপও দিতে পারেন। তারপরও যদি অবস্থার কোনও পরিবর্তন না হয় তাহলে সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যগুলি এই আইন মানতে বাধ্য থাকবে। কেউ বলতে পারবে না যে এটা আমি কার্যকর করব না। তাহলে বিষয়টি আরও সমস্যা বাড়াবে। নতুন নতুন অসুবিধার সৃষ্টি হবে।’

সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যগুলি আইন মানতে বাধ্য বলে জানালেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি CAA বিরোধী বলেই উল্লেখ করেন। দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় পড়ুয়া, গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁরা কিন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে আসেননি। তাঁদের বিক্ষোভের ছবি এবং ভিডিও দেশ ও বিশ্বব্যাপী একটা প্রভাব তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে যে এটা রাজনীতি নয় বাস্তব। তাই পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষরা আজ রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনও যোগই নেই। আসলে আজকের ভারতীয়রা আগামীর ভারতের কথা ভেবে প্রচণ্ড আতঙ্কিত। তাই আগামীকে রক্ষা করতে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে নিজেদের অসন্তোষ ব্যক্ত করছেন। সমস্ত মানুষ উন্নয়ন চান। সেই বিষয়ে মোদি কী করছেন? তিনি দেশের যতটা না উন্নয়ন করেছেন তার থেকে অনেক বেশি নিজের ভাল করেছেন।’

কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি যখন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের রাজ্যগুলিতে এই আইন কার্যকর না করার ডাক দিয়েছে। তখন কপিল সিব্বলের এই মন্তব্য তাদের মধে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এপ্রসঙ্গে আরেক কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অনেকগুলি আবেদন জমা পড়েছে। আমার মনে হয় সবার উচিত এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করা। তারপরই এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করা উচিত।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৯