আগস্ট ২০, ২০২০ ১১:৫৯ Asia/Dhaka

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২০ আগস্ট বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • মোবাইলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনবেন আইজিপি-দৈনিক ইত্তেফাক
  • কক্সবাজার পরিস্থিতি, সিনহাতেই শেষ হোক সব বিতর্ক-প্রথম আলো
  • শ্রিংলার সফর: ভারতীয় মিডিয়া যা লিখেছে -মানবজমিন
  • সিনহা হত্যা: রিমান্ড শেষে ৪ পুলিশসহ ৭ আসামি আদালতে-দৈনিক যুগান্তর
  • করোনা পরীক্ষার ফি কমিয়ে পরিপত্র জারি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • শিপ্রাকে সাইবার বুলিং: দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রিট খারিজ-দৈনিক সমকাল
  • ব্রিটেনের অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও-বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • বিশ্বজুড়ে জিমেইলে বড় ধরনের বিভ্রাট, সমস্যায় ব্যবহারকারীরা-কালের কণ্ঠ

ভারতের শিরোনাম:

  • এক দিনে ৯ লক্ষের বেশি করোনা পরীক্ষা, নতুন আক্রান্ত ৬৯৬৫২ -সুপ্রিম কোর্ট-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • যুবপ্রজন্মের নাড়ি বুঝতে আপনি ব্যর্থ! দেশে বেকারত্ব নিয়ে মোদিকে খোঁচা নুসরতের -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ইংল্যান্ডে-করোনা পরীক্ষা হবে বিমানবন্দরেই, এর ফলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্তি-দৈনিক আজকাল

শ্রোতাবন্ধুরা! এবারে চলুন বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

সামাজিক মাধ্যম ঘিরে ভয়ংকর ‘কিশোর গ্যাং’-দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,

দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে গড়ে উঠছে ভয়ংকর ‘কিশোর গ্যাং’। আধিপত্য বিস্তারে মারামারি, নেশা, শোডাউন, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে একশ্রেণির কিশোর। আর এসব অপরাধের অর্থের জোগানে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরিসহ নতুন অপকর্মে জড়াচ্ছে তারা। ‘ক্ষমতা জানান দিতে’ ঘটছে খুনের ঘটনাও। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে স্থানীয় প্রভাবশালীরা উঠতি বয়সী এসব তরুণকে বিভিন্ন সময় আশ্রয়প্রশ্রয় দিচ্ছেন। কেবল রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব গ্যাং এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম।ওবারলো ডটকমের এক পরিসংখ্যান বলছে, টিকটকের ৪১ শতাংশ ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ থেকে ২৪ বছর। সামাজিক মাধ্যম ঘিরে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেও এই বয়সীদের বেশি সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের অধিকাংশই কিশোর।

বিশ্লেষকরা বলছেন,‘স্ট্যাটাস ফ্রাস্ট্রেশন’ (সামাজিক পদমর্যাদাজনিত প্রতিবন্ধকতা), অর্থলোভ, দুর্বল পারিবারিক বন্ধন ও ক্ষমতা প্রদর্শন থেকেই এসব গ্যাং গড়ে উঠছে।এদের ‘শেল্টার’ দিচ্ছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চায় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক সমকালের এ খবরে লেখা হয়েছে, সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চায় না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হোক, সেটা আমরা চাই না। আমরা চাই বিচারের মাধ্যমে তার (অপরাধীর) শাস্তি হোক। তবে মাঝে মধ্যে এক দুইটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।করোনা পরিস্থিতিতে শাহেদ, সাবরিনার মত অপরাধীদের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দুর্নীতি হয়। আমাদের দেশে যখনই অন্যায়-দুর্নীতি হয় তখনই সরকার সরকার শক্ত হাতে দমন করে। সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করে।

শ্রিংলার সফর: ভারতীয় মিডিয়া যা লিখেছে-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নয়া দিল্লির স্বার্থের কোনো ধরনের ক্ষতি হোক এমন কিছুর অংশ (পার্টি) হবে না ঢাকা। একই সঙ্গে ভারতকে টার্গেট করা কোনো উগ্রপন্থি বা সন্ত্রাসীদেরকে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা লিখেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস। এ ছাড়া ভারতের প্রায় সব পত্রিকাই শ্রিংলার ঢাকা সফর নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছে অনলাইন আউটলুক ইন্ডিয়া। চীনের প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে শ্রিংলার এই সফর নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ডেকান ক্রনিকল।

হিন্দুস্তান টাইমস ঢাকা ও নয়া দিল্লির কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে লিখেছে, সময়মতো দ্বিপক্ষীয় অবকাঠামো এবং কানেক্টিভিটি বিষয়ক প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রজেক্টগুলো মনিটরিং করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে।

তাতে নেতৃত্বে থাকবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। এমন কমিটি অবিলম্বে গঠন করা হবে। দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পগুলো যাতে দ্রুতগতিতে শেষ করা যায় সে জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের মিটিংয়ের শিডিউল দেয়া হবে শিগগিরই। বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালন করছে তখন ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শ্রিংলার মিটিং হয়েছে ৯০ মিনিট বা দেড় ঘন্টা। তিনি শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারত পুরো বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়েছে--অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামানদৈনিক মানবজমিন

ভারতের দিক থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে কূটনীতির ভাষায় একে সম্ভাব্য সঙ্কট বলা যেতে পারে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যুক্ত শাহীদুজ্জামান শ্রিংলার আকষ্মিক এই সফরকে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যখ্যা করেন। এক. উচ্চতর জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়া, দুই. এটাকি জানতো, না সারপ্রাইজ, তিন. সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কি দ্রুত না দেরিতে হলেও হবে।

এই তিনটি প্রেক্ষিতে পুরো বিষয় বিশ্লেষণ করতে আমরা দেখতে পাই, ভারত জানতো না চীনের সঙ্গে কি হতে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশেকে চীনের সঙ্গে তিস্তার মতো বৃহৎ একটি সেচ প্রকল্পে অর্থায়ন চুক্তি থেকে যতটা সম্ভব নিবৃত করা যায় তা নিয়ে দ্রুতই কথা বলা জরুরি মনে করেছে ভারত।

আমি মনে করি, চীনের সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলারের যে চুক্তি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে কথা বলতেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের এই ঝটিকা সফর। কারন, তাছাড়া এমন কোন এজেন্ডা ছিল না, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোন ধরনের অ্যাপয়েন্টমেন্টও ছিল না। মিটিংগুলো নিয়ে বারবার সময় বদলানো হয়েছে।

পুরো বিষয়টিতে আকষ্মিকতা ছিল। এটা ভেবে দরকার কতখানি জরুরি হলে এভাবে বিশেষ বিমানে আসতে হয়। খেয়াল করলে দেখবেন, গত ক মাসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র সচিব কারও সঙ্গে দেখা করেননি। সুতরাং, সব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভারত পুরো বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়েছে।

বাংলাদেশের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে আমার মনে হয়, এর আগে ভারত যখন টিপাইমুখে বাধ নির্মাণ করতে চেয়েছে তখন তারা কথা দিয়েছিল এখানে সেচ প্রকল্প করবে না, বিদ্যুৎ প্রকল্প করবে। বন্যা বা ভূমিকম্পে কোন ক্ষতি হবে না। ভারত কাজ শুরু করে দেয়। কিন্তু ভারত যখন জানতে পারে চীন অরুণাচলের উত্তরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে তখন ভারত এই বাধ নির্মাণ স্থগিত করে। কারণ, ভারতের ভয় ছিল চীন যদি পানি প্রত্যাহার বা বন্ধ করে দেয় তাহলে এই বাধ অকার্যকর হয়ে যাবে। এছাড়াও আরও বেশকিছু কারন হয়তো ছিল। ভারতও একই ধরনের কাজ করছে তিস্তার পানি নিয়ে। তারা সিকিমের পাশে গজলডোবায় বাধ নির্মাণ করেছে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে। গজলডোবা ছাড়াও অন্তত তিরশটি ছোটবড় বাধ রয়েছে ভারতের ভেতরে। যা থেকে তিস্তার পানি ডাইভার্ট করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে ভারতের দ্বিমুখি নীতি স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে তিস্তা নিয়ে। বাধ নির্মাণ করে তিস্তার পানি যদি সংরক্ষণ করা যায় তাহলে একদিকে যেমন উত্তর থেকে পানি প্রবাহের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যাবে অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের নোনা পানির অনুপ্রবেশ রোধ করে সম্ভাব্য মরুকরণ ঠেকানো যাবে। এটা ইন্টারেস্টিং টেস্ট কেস, ভারত কতোটা পারে আগামীতে এই চুক্তি থেকে বিরত রাখতে চীনের সঙ্গে দেখার বিষয়।

কোভিড উত্তর কূটনীতিতে বাংলাদেশকে কাছে টানতেই সফর-কূটনীতিক হুমায়ুন কবির-দৈনিক মানবজমিন

সম্পর্ক আরও সুসংহত করতেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলার এই আকষ্মিক বাংলাদেশ সফর এমনটাই মনে করেন কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর। তিনি মনে করেন, সফরটি আকষ্মিক হওয়ায় চারপাশে ব্যপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আকষ্মিক এ সফর নিয়ে শ্রিংলা নিজেও বলেছেন, ভারত যাদের বন্ধু মনে করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সংহত করতেই এই সফর।

আমি মনে করি, প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সংহত করার অংশ হিসাবেই শ্রিংলার সফর। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যত প্রকল্প রয়েছে সেগুলিকে তারা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ, বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দু দেশেই নানা ধরনের রিপার্ট প্রকাশিত হয়েছে। কাজেই ভারত চাইছে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আনতে। তৃতীয়ত,কোভিড উত্তর কূটনীতিতে যে ধরনের ন্যাশনালিজম হচ্ছে তাতে বাংলাদেশকে কাছে টানা।

সিনহা হত্যাকাণ্ড এবং বর্তমান কক্সবাজার পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক প্রথম আলো একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন করেছে। শিরোনামটি এরকম.

কক্সবাজার পরিস্থিতি-সিনহাতেই শেষ হোক সব বিতর্ক

বিস্তারিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বন্ধ লোহার ফটকের ছোট ফটকটি (পকেট গেট) পর্যন্ত ভেজানো। সেটি ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই রে রে করে তেড়ে আসেন উর্দিপরা কনস্টেবল। জানতে চান—কী পরিচয়, কার কাছে যাবেন? দেশের সব থানা সব মানুষের জন্য দিনরাত উন্মুক্ত থাকবে, সেটাই পুলিশ প্রবিধানের (পিআরবি) ভাষ্য। তাহলে সদর থানায় ঢুকতে এত জেরা কেন—প্রশ্ন করতেই নিচু হয়ে আসে কনস্টেবলের কণ্ঠস্বর। নরম গলায় বলেন, ‘বুঝতেই তো পারছেন, কী অবস্থায় আছি।’সদর থানার এই পুলিশ কনস্টেবল সবকিছু পরিষ্কার না করলেও তাঁর ‘অবস্থা’ শব্দটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর কক্সবাজারের পরিস্থিতি কেমন। 

এ তো গেল শহরের কথা। কক্সবাজার শহর থেকে ৯১ কিলোমিটার দূরের টেকনাফ মডেল থানায় আমরা যাই মঙ্গলবার দিনে ও রাতে—দুবার। দুবারই চোখে পড়েছে টেকনাফ থানার সদর দরজা বন্ধ। ফটকে নিরস্ত্র পুলিশের বদলে সশস্ত্র পুলিশের (এপিবিএন) পাহারা, হাতে বন্ধ ফটকের চাবি। শুধু জরুরি কেউ এলে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দরজা খুলে দিচ্ছেন। রাতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী থানার সামনে গেলে দ্রুত তালা লাগিয়ে দেন দায়িত্বরত কনস্টবেল। বন্ধ ফটকের পাশের দেয়ালে গ্রেপ্তার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রংতুলিতে আঁকা বিশাল আকারের ছবি। তার নিচে লেখা, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ’।

আতঙ্কে পুলিশ, অপরাধ রেকর্ড হচ্ছে কম

থানা–পুলিশের এই হাল নিয়ে কথা হয় জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, শুধু টেকনাফ আর সদর থানা নয়, পুরো জেলার পুলিশ সদস্যরা ভয়াবহ আতঙ্কে আছেন। থানায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরির হার কমে গেছে। জেলা পুলিশের কাছ থেকে তিনটি থানার মামলা ও সাধারণ ডায়েরির হিসাব নিয়ে দেখা গেছে, অভিযোগ দায়েরের হার কোনো থানায় অর্ধেক,শুধু মামলা–জিডির হারই কমেনি, ইয়াবা কারবারেও তার প্রভাব পড়েছে। এখন প্রায়ই লাখ লাখ পরিত্যক্ত ইয়াবা উদ্ধার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যদিও আসামি না ধরে শুধু পরিত্যক্ত ইয়াবা উদ্ধারের এই কর্মকাণ্ডকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখেন।

পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছে টেকনাফ থানার পুলিশ। টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে যাঁরা ক্রসফায়ার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, এখন সেই পরিবারগুলো মুখ খুলতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সোচ্চার এসব পরিবারের অনেক সদস্য। পুলিশের আশঙ্কা, ইয়াবা কারবারি ও তাদের লগ্নিকারীরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। তারা একজোট হয়ে পুলিশের ওপর হামলাও চালাতে পারে। এই আশঙ্কায় শুধু টেকনাফ নয়, সারা জেলায় পুলিশের টহল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, সড়ক থেকে তল্লাশিচৌকি তুলে নেওয়া হয়েছে, পায়ে হাঁটা টহলও (ফুট প্যাট্রোল) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও পুলিশ সদস্যদের একা একা ঘুরতে দেখা যাচ্ছে না।

কাল রূদ্ররূপে, আজ অসহায়

কক্সবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন, তা একটি ঘটনা বললেই পরিষ্কার বোঝা যাবে। দুদিন আগে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা একজন সাংবাদিকের কাছে জানতে চান, তিনি কক্সবাজার থেকে টেকনাফে যেতে চান। এই পথে যাওয়া তাঁর জন্য নিরাপদ হবে কি না। ওই সাংবাদিক এ কথা শুনে অবাক হয়ে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে থাকেন।

কক্সবাজার পুলিশের এই ‘অসহায়’ চেহারা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল রুদ্ররূপে। টেকনাফের মানুষ সে রূপ দেখেছে। দুই বছরে মেরিন ড্রাইভে শতাধিক মানুষ ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন।

এত দিন টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কথায় কথায় যে মেরিন ড্রাইভ নিয়ে গরম বক্তৃতা করতেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতেন, হুমকি দিতেন; সেই মেরিন ড্রাইভই এখন তাঁর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাঁর একার নয়, গোটা পুলিশ বাহিনীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে মেরিন ড্রাইভের একটিমাত্র হত্যাকাণ্ড। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সিনহার তিন সহযোগী শ্রিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিন রিফাত নূরকে আটক করে। রিফাতকে ছেড়ে দিলেও বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে রামু থানার পুলিশ। নীলিমা রিসোর্ট থেকে তাঁদের ভিডিও তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়

সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভেতরে ছোটখাটো দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের পর থেকে তা অনেকটা প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তবে এত দিন এসব নিয়ে কথা না হলেও পুলিশের গুলিতে সিনহা নিহত হওয়ার পর সেই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। এক পক্ষ প্রকাশ্যে অভিযোগ করে, সিনহাকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আরেক পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা ঠান্ডা মাথার খুন নয়, তাৎক্ষণিক ঘটনার ফল। দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের আলোড়ন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার সফর করেন। সেনাপ্রধান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক সম্ভবত এই প্রথম যৌথভাবে কোনো সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। দুই বাহিনীর প্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর দায় বাহিনীর ওপর পড়বে না। এতে দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরবে না। এর এক দিন পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, এটাই শেষ ঘটনা।

আইএসপিআরের এই বিজ্ঞপ্তি নিয়েও পুলিশের ভেতরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ওই সময় প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাহিনী বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। 

জড়িয়ে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্তরা

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রধান এবং পুলিশ বাহিনীর প্রধান মর্মাহত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এটাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বললেও তা আর ‘বিচ্ছিন্ন’ থাকেনি। সবকিছুই পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে। সেনাপ্রধান ও পুলিশ মহাপরিদর্শক যেদিন কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন, সেদিনই ঢাকার মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সংগঠন। ৫ আগস্টের সেই সংবাদ সম্মেলনে রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ারে হত্যা’ বা ‘হারিয়ে যাওয়ার’ মাধ্যমে ব্যক্তিকে গায়েব করে অপরাধ দমনের প্রবণতার নেতিবাচক দিক প্রকাশ পাচ্ছে। এরপর রাওয়া ক্লাবের সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব.) এ এন মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে দরকার পড়লে তাঁরা রাস্তায় নামবেন।

জেলার পুলিশ সদস্যরা আতঙ্কে-থানায় মামলা ও জিডির হার কমে গেছে,প্রায়ই লাখ লাখ পরিত্যক্ত ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে প্রকট রেষারেষি

মামলা ও সরকারের কমিটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তাই এসব কর্মকাণ্ড তদন্ত ও অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করছে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। তবে এটা ঠিক যে মাঠপর্যায়ের সব কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব পড়ছে। বেশ কিছু ঘটনায় তার প্রমাণও পাওয়া গেছে। 

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনটি ঘটেছে পুলিশের মামলার তিন সাক্ষীকে নিয়ে। সিনহা হত্যার ঘটনায় টেকনাফ থানায় যে দুটি মামলা করেছিল পুলিশ, তার জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মো. আইয়াজ। সিনহা যে পাহাড়ে গিয়েছিলেন, সেই মারিশবুনিয়ায় এঁদের বাড়ি। ১০ আগস্ট বিকেলে সেই গ্রাম থেকে র‌্যাব তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যায়। এঁদের নিয়ে যাওয়ার পর নুরুল আমিনের মা খালেদা বেগম পুলিশের সহায়তায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে। এই অপহরণ মামলা করার পরপরই র‌্যাব জানায়, অপহরণের অভিযোগ ঠিক নয়, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন আদালতে পাঠিয়ে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এই তিনজনকেই র‌্যাব সিনহা হত্যার আসামি হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কক্সবাজার আদালতের এক আইনজীবী বলেন, র‍্যাব যেদিন এঁদের আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেছিল, সেদিন পুলিশ যদি ‘অপহরণের শিকার’ হিসেবে তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করার দাবি করতেন, তাহলে আদালতকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতো।

আবার সিফাত ও শিপ্রাকে নিয়ে ঘটেছে আরেক ঘটনা। পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার করা সিফাত ১০ আগস্ট ও শিপ্রা দেবনাথ ৯ আগস্ট জামিন পান। জামিন পাওয়ার পর নম্বরবিহীন একটি গাড়িতে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়। পরে সৈকতের তীরে সেনাবাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বিশ্রামাগার ‘জলতরঙ্গে’ বসে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। মূলত তাঁদের যে কোনো অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়নি, সেটা বোঝাতে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তাঁরা জলতরঙ্গেই আছেন। সেখানে থেকে প্রথমে নিজের ইউটিউট চ্যানেলের জন্য একটি ভিডিও প্রকাশ করেন শিপ্রা। সেই ভিডিওতে তাঁদের কক্সবাজারে অবস্থান এবং কাজের বিস্তারিত বিবরণ ছিল।

শিপ্রার এই ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার শিপ্রা বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত ছবি সম্পাদনা করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। সিনহা নিহত হওয়ার পর পুলিশ তাঁর কটেজ থেকে যেসব ডিভাইস নিয়ে যায়, সেখান থেকে ছবি চুরি করে তা ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে বলেও শিপ্রা অভিযোগ করেন। এমনকি যারা এসব করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। 

সেই অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে শিপ্রা যান কক্সবাজার সদর থানায়। সেখানে লিখিত অভিযোগে দুজন পুলিশ সুপারসহ দেড় শ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ তাঁর অভিযোগ আমলে না নিয়ে জানিয়ে দেয়, জব্দ করা সব ডিভাইস রামু থানায় আছে, অভিযোগ করতে হলে সেই থানায় করতে হবে। এরপর শিপ্রা ফিরে এলেও গতকাল পর্যন্ত রামু থানায় অভিযোগ দিতে আর যাননি।রামু থানার ওসি আবুল খায়ের গতকাল সকালে প্রথম আলোকে বলেন, শিপ্রার ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো রামু থানায় আছে। এখান থেকে কেউ কোনো কিছু ছড়ায়নি।

সিনহা হত্যা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি ১৬ আগস্ট টেকনাফের শামলাপুর মেরিন ড্রাইভের পাশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে গণশুনানি করেন। সেই শুনানিতে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। এমনকি পুলিশের কোনো টহলও সেখানে ছিল না।

গণশুনানির পর তদন্ত কমিটির ব্রিফিংয়ের সময় কমিটির চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, এখানে দায়িত্বরত বাহিনীগুলোর ভেতরে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, তিনি সবার সমান সহযোগিতা পাচ্ছেন।

১৭ আগস্ট র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন শামলাপুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সে সময় তাঁর সঙ্গে এপিবিএনের সদস্য ছাড়া জেলা পুলিশের কোনো গাড়ি দেখা যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, বাহিনীগুলোর ভেতরে সমন্বয়হীনতা কেমন। জবাবে তিনি বলেন, কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। 

মূলে কক্সবাজারের নিয়ন্ত্রণ

কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, সিনহা হত্যা নিয়ে বাহিনীগুলোর ভেতরের বিরোধ নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভালো চোখে দেখছেন না কেউ। অনেকে বলছেন, কক্সবাজার দেশের এমন একটি এলাকা, যেখানে সবকিছুই আছে। এখানে সাগর, পর্যটন, বন, রোহিঙ্গা, মাছের ঘের, শুঁটকি ব্যবসা, মাদক, মানব পাচার—সবই আছে। বৈধ-অবৈধ পথে আয়ের অবারিত সুযোগ আছে এখানে। সে কারণে কক্সবাজার কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে যেন লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই বন্ধ করার কথা বলছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, শুধু বৈধ সম্পদই নয়, এখানে অবৈধ সম্পদেরও ছড়াছড়ি। এই পথ দিয়ে যে ইয়াবার চালান আসে, বছরে তার পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর আছে রোহিঙ্গা ও মানব পাচারের অর্থ। সব মিলিয়ে এই জেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার কারবার চলে।

মানা না–মানা ও আশাবাদ

কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিকেরা বিষয়টিকে এভাবে দেখলেও পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি এভাবে দেখতে চান না। তাঁরা বলছেন, এসব সাময়িক বিষয়, আলোচনার মাধ্যমেই সঠিক সমাধান হবে।

সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, সিনহার মৃত্যু একসঙ্গে অনেক বিষয় সামনে এনে দিয়েছে। এর মধ্যে আছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও কাদা–ছোড়াছুড়ি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত একান্ত বিষয়কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়। 

এ অবস্থায় সবারই আশা, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের হাজারো বিতর্কিত বিষয়ের অবসান হবে। সিনহা হত্যা ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে। আর কক্সবাজার থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের উদ্যোগ শুরু হবে।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

এক দিনে ৯ লক্ষের বেশি করোনা পরীক্ষা, নতুন আক্রান্ত ৬৯৬৫২-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

দৈনিক নতুন সংক্রমণ অগস্টের শুরু থেকেই ঘোরাফেরা করছিল ৫৫-৬৪ হাজারের মধ্যে। যা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনও অবধি সর্বোচ্চ পরিমাণে বাড়ল। যার জেরে দেশের মোট আক্রান্ত ২৮ লক্ষ পেরলো। দেশে করোনার জেরে মৃত্যুও ৫৪ হাজারের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তবুও এর মধ্যেই স্বস্তি দিচ্ছে সুস্থ হওয়ার পরিসংখ্যান। পাশাপাশি সংক্রমণ হারও গত এক সপ্তাহ ধরে ৭/৮ শতাংশের আশেপাশেই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যে সংখ্যক কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছে, তা করোনাকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তিক্ততা ভুলে জন্মদিনে রাজীব স্মরণ মোদির, ‘এমন বাবা পেয়ে গর্বিত’, বললেন রাহুল-সংবাদ প্রতিদিন

৭৬ তম জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে (Rajiv Gandhi) স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কংগ্রেস নেতা তথা রাজীবের পুত্র রাহুল বললেন, বাবা হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিকে পেয়ে তিনি গর্বিত। কংগ্রেসের সব স্তরের নেতাকেই রাজীবের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার প্রশংসা করতে শোনা গেল। সংক্ষিপ্ত টুইটে রাজীবকে স্মরণ করে মোদি বললেন, “জন্মবার্ষিকীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাই।” নেহাতই সৌজন্যমূলক হলেও মোদির এই টুইট বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বছর দেড়েক আগে লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজীবকে ব্যক্তিগত স্তরে পর্যন্ত আক্রমণ করেছেন মোদি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ‘এক নম্বরের দুর্নীতিবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। 

যুবপ্রজন্মের নাড়ি বুঝতে আপনি ব্যর্থ! দেশে বেকারত্ব নিয়ে মোদিকে খোঁচা নুসরতের-সংবাদ প্রতিদিন

“যুবপ্রজন্মকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন!” দেশে বেকারত্বের হার নিয়ে মোদিকে নজিরবিহীন খোঁচা সাংসদ নুসরত জাহানের (Nusrat Jahan)। 

“আমাদের দেশে এত জনসংখ্যা, তার ভিত্তিতে যুবপ্রজন্মের জন্য কী করছেন নরেন্দ্র মোদি? ওদের ভবিষ্যতের জন্য কি শুধু বেকারত্বই রেখেছেন? দেশের তরুণ প্রজন্মের নাড়ি বুঝতে আপনি ব্যর্থ! ওদের অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন আপনি। সত্যিই লজ্জাজনক!” প্রধানমন্ত্রী মোদিকে (Narendra Modi) কড়া ভাষায় বিঁধলেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২০