আত্মসমর্পণ ইরানি জাতির অভিধানে নেই: অ্যাডমিরাল সাইয়্যারি
-
ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি
পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি বলেছেন, আত্মসমর্পণের কোনো স্থান ইরানি জনগণের অভিধানে নেই এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবিশ্বাস্য ও হজমযোগ্য নয়।
পার্সটুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি বর্তমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে সামাজিক সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও সহমর্মিতা রক্ষা ও শক্তিশালী করা মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মোকাবিলায় সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, সবার এই ময়দানে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত থাকতে হবে এবং নিহত নেতা ও অন্যান্য শহীদদের পথ ধরে বিশ্ব আধিপত্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শক্তিকে আবারও দেখাতে হবে যে জনগণ ও ইসলামি বিপ্লব দুইটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান এবং এতে কখনো কোনো ফাটল ধরে না।
অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি গত ৪৮ বছর ধরে ইসলামি বিপ্লব ও ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে বিশ্ব আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার শত্রুতা ও বিদ্বেষের ইতিহাস উল্লেখ করে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিগত ও গোত্রীয় বিভেদ সৃষ্টি, বিচ্ছিন্নতাবাদ, আট বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অতঃপর সফট ওয়ার ও কম্বাইন্ড ওয়ার—এই সব কিছু ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে, যার প্রতিটি বার শত্রুর পরাজয় এবং ইরানি জাতির সাফল্যের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
সাইয়্যারি বলেন, ময়দানে জনগণের উপস্থিতি, ইসলামের যোদ্ধাদের প্রতি তাদের সমর্থন ও আত্মত্যাগ সাম্প্রতিক দুইটি যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুকে পরাজয়ের প্রধান কারণ। তিনি আরও বলেন, এই পথে জনগণের ভূমিকা সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং লক্ষ রাখতে হবে যে, যেহেতু শত্রু এই দুই যুদ্ধে তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, তাই তা তাদের পরাজয় হিসেবে গণ্য, কারণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধ শুরুকারী ছিল না এবং মাতৃভূমির অস্তিত্ব রক্ষা ছাড়া এর কোনো লক্ষ্য ছিল না।
হাবিবুল্লাহ সাইয়্যারি বলেন, নিহত বিপ্লবী নেতা ও সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধের অন্যান্য শহীদদের রক্তের বরকতে, আজ ইরানের জনগণ দেশ রক্ষায়, দুর্বল শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অনুভূতিতে এবং প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়েছে এবং এটি শত্রুদের জন্য অবিশ্বাস্য ও হজমযোগ্য নয় এবং চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য এই পথেই অগ্রসর হতে হবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।