গভীরতর হচ্ছে ইসরায়েল-আমিরাত জোট, আবুধাবিতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর: রিপোর্ট
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i163462-গভীরতর_হচ্ছে_ইসরায়েল_আমিরাত_জোট_আবুধাবিতে_নেতানিয়াহুর_গোপন_সফর_রিপোর্ট
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল (রোববার) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অত্যন্ত গোপনীয় এক সফর করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি এই সফরের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
(last modified 2026-09-28T02:55:56+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০৮:৫১ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল (রোববার) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অত্যন্ত গোপনীয় এক সফর করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি এই সফরের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, রোববার সকালে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে পৌঁছান নেতানিয়াহু। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিরে যান।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই সফরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই সফর ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও আমিরাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক জোটেরই প্রতিফলন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও দ্রুত জোরদার হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপে ইসরায়েল সাময়িকভাবে তাদের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমিরাতে মোতায়েন করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই ব্যবস্থার সঙ্গে ইসরায়েলি পরিচালকরাও সেখানে অবস্থান করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গত সপ্তাহে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্প্রতি নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রতিবাদে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে আরব দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা তাঁদের আসনে বসে ছিলেন। আরব দেশগুলোর মধ্যে মাত্র এই দুটি দেশের প্রতিনিধিরাই অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেননি।

চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে আমিরাতে নেতানিয়াহুর এটিই প্রথম গোপন সফর নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ চলাকালে ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু গোপনে আমিরাত সফর করেন। ওই সফরে তিনি আল আইন মরূদ্যান শহরে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সে সময় নেতানিয়াহুর কার্যালয় গোপন সফরের দাবি করার পরও আমিরাত সরকার প্রকাশ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়।

অঞ্চলটির আগের শান্তিচুক্তিগুলোর তুলনায় আমিরাত-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি ছিল ভিন্ন। অতীতে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা দুটি দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির পরিবর্তে এই চুক্তির মাধ্যমে এমন দুটি পক্ষের কৌশলগত, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক জোট আনুষ্ঠানিক রূপ পায়, যাদের মধ্যে আগে কখনো যুদ্ধ হয়নি।

এর বিনিময়ে আবুধাবি ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌমত্বের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থন থেকে সরে এসে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, উন্নত মার্কিন অস্ত্রপ্রাপ্তির সুযোগ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের পথ বেছে নেয়। তবে আরব ও মুসলিম বিশ্বে এই জোট এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো সম্পূর্ণ গোপনীয়তার মধ্যে আয়োজন করা, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহার করা এবং সফরের কোনো আগাম ঘোষণা না দেওয়ার বিষয়টি এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার ভঙ্গুর ও বিতর্কিত চরিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক জনমতের বড় একটি অংশ এখনো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন জানায় এবং ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর গোপন সফর আমিরাত-ইসরায়েল সম্পর্কের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরেছে।#