ইসরায়েল সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করেছে: হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প
https://parstoday.ir/bn/news/world-i164006-ইসরায়েল_সৌদি_আরবকে_অনেক_সাহায্য_করেছে_হোয়াইট_হাউসে_ট্রাম্প
ইরানের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাতে ইসরায়েলের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
(last modified 2026-10-17T12:30:31+00:00 )
অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৮:২৭ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাতে ইসরায়েলের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি ইসরায়েলের সমর্থনকে 'অত্যন্ত সহায়ক' বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে রিয়াদ ও জেরুজালেমের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা আবার এগোতে পারে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ায় এক সমাবেশে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সৌদি আরবের কি ইসরায়েলের প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই। ইসরায়েল সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করেছে।"

আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে আশাবাদ

ইসরায়েল ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আব্রাহাম চুক্তিতে (২০২০) সৌদি আরবের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা এখন কেমন, তা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, আমার তা-ই মনে হয়। হয়তো আগের চেয়েও বেশি। আব্রাহাম চুক্তি আমাদের অন্যতম বড় অর্জন। আর সৌদি আরব ইসরায়েল ও আমাদের সমর্থন পেয়ে খুবই খুশি।"

এ নিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মঙ্গলবার প্রশ্ন করা হয়, সৌদি আরব কি ইসরায়েলের সাহায্য চেয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা যায়, তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে এমন দেশ প্রায় নেই, যারা আমাদের কাছে সাহায্য চাইছে না।"

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ইসরায়েল ও সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করা হতো। তবে সৌদি আরব বরাবরই বলে আসছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের একটি স্পষ্ট পথ থাকতে হবে।

জুলাই থেকে নতুন করে উত্তেজনা

জুলাই মাসে ইয়েমেনে নতুন করে সৌদি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, ট্যাংকার এবং রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।  সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার শুক্রবার অভিযোগ করেছে, হুথিরা এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি কায়রোগামী ইয়েমেনিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমানের কাছে পড়ে, যেটি তখন উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দেশটির তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরইয়ানি এ কথা জানান।

এর আগে ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।  

এদিকে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে লিখেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান রাজধানী সানা এবং দালে, তাইজ, হোদেইদা, ধামার, মারিব, সাদা, আল-জাওফ, আমরান ও লাহজ প্রদেশে বেসামরিক স্থাপনায় ১০১টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

তিনি জানান, খামিস মুশাইত ও তায়েফের ঘাঁটি থেকে ওড়া এফ-১৫ ও টাইফুন বিমান এবং নাজরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। সারির দাবি অনুযায়ী, উত্তেজনা শুরুর পর থেকে সৌদি হামলার মোট সংখ্যা ২ হাজার ৪৮৯-এ পৌঁছেছে। এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা

সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ১৫ অক্টোবর তারিখে এক্সে এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তা দিয়েছে, যা শুক্রবার প্রকাশ পায়। দেশটিতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরে হামলা, আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল ও ভ্রমণে বিঘ্নের আশঙ্কা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাস বিমানবন্দর ব্যবহারে চরম সতর্কতা অবলম্বন, ফ্লাইটের অবস্থা সরাসরি এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর থেকে জেনে নেওয়া এবং সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের অস্বীকার ও মধ্যস্থতার প্রস্তাব

হুথিদের এসব হামলায় ইরানের সমর্থন আছে বলে অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব। তবে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, পক্ষগুলো অনুরোধ করলে সংঘাত থামাতে তেহরান নিজের সামর্থ্য কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

বাকায়ি বলেন, "গত ১২ বছর দেখিয়ে দিয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অবরোধ সমাধান নয়। ব্রিটেন ও আমেরিকার সাজানো অবরোধের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের জনগণ বছরের পর বছর প্রতিরোধ করে আসছে। অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে কাজ করা।"

তিনি আরও বলেন, "ইয়েমেনের অভিযানে ইরানের জড়িত থাকার দাবি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। সমস্যার সমাধানে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং আকাশ ও নৌ অবরোধের অবসান প্রয়োজন। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের স্বার্থেই কাজ করছে। এসব দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়, আর উত্তেজনা বাড়ুক, তা ইরান কারও জন্যই কল্যাণকর মনে করে না।"#

পার্সটুডে/এমএআর/১৭