অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১০; চলছে উদ্ধার অভিযান
-
কক্সবাজারের ইনানী বিচ এলাকায় একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের মরদেহ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে প্রথম আলোকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহমেদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার জানান, উদ্ধার করা বাকি চারজনের মরদেহ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দগ্ধ ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছয়জন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী চিকিৎসক নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ফলে তাঁদের সবাইকে শনাক্ত ও তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, রিসোর্টটির রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।
অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না রিসোর্টটির
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘টুপটুপ রিসোর্টের’ কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। এমনকি গত জুন মাসেও রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং আগুনের প্রকৃত
পার্সটুডে/এমএআর/১৭