নভেম্বর ০২, ২০২০ ১৩:৫৭ Asia/Dhaka
  • কথাবার্তা:  বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভিবাসীদের নিষিদ্ধের দাবি ফ্রান্সের বিরোধীদল নেতার

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২ নভেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু-মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫ পিবিআই সদস্যের করোনা-দৈনিক প্রথম আলো
  • করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৭৩৬'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
  • সেলিমপুত্র ইরফানের রিমান্ড শুনানি পেছাল - দৈনিক যুগান্তর
  • গুজব সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য মন্ত্রণালয়- দৈনিক ইত্তেফাক
  • বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভিবাসীদের নিষিদ্ধের দাবি ফ্রান্সের বিরোধীদল নেতার-দৈনিক মানবজমিন
  • বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার চালানো উচিত নয় : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:   

  • রাজনীতি ছেড়ে দিলেও বিজেপি-র সঙ্গে জোট নয়, দাবি বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • এবারে আইসোলেশনে ‘‌হু’‌ প্রধান টেড্রস অ্যাঢানম ঘিব্রিয়েসাস-দৈনিক আজকাল
  • করোনাযুদ্ধে ক্রমশই এগোচ্ছে দেশ, দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় বেশি সুস্থতার হার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • চিনের ‘করোনাভ্যাক’ নিয়ে ধাক্কা খেল ব্রাজিল, তৃতীয় দফা ট্রায়ালের আগে সাও পাওলোয় বিক্ষোভ--দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কথাবার্তার প্রশ্ন

১. সরকারি তথ্য বিবরণতে বলা হেয়চে- গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা। প্রশ্ন হচ্ছে- কেন এই তথ্য বিবরণী প্রকাশ করল সরকার?
২. করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য সিরিয়ায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ঘটনাটিকে কীভাবে দেখছেন আপনি?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

 

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু-মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫ পিবিআই সদস্যের করোনা-দৈনিক প্রথম আলো

সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে মো. রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মহিদুল ইসলামসহ পাঁচজনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত শনিবার রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষায় তাঁদের পজিটিভ ফল আসে।

গতকাল রোববার যোগাযোগ করলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিলেটের এসপি মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পরিদর্শক, তাঁর সঙ্গে থাকা তিনজন পরিদর্শক ও একজন কনস্টেবলের করোনা পজিটিভ। এই পাঁচজনই হেফাজতে মৃত্যুর মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাঁদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

১০ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে মো. রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে পুলিশ। পরের দিন ১১ অক্টোবর রায়হান মারা যান। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। নগর পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় ১৩ অক্টোবর থেকে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, পুলিশ থেকে মামলাটি পিবিআইয়ে ন্যস্ত হওয়ার সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন পরিদর্শক তদন্ত সমন্বয় করছিলেন। মামলার তদন্তকালে মহিদুলের শরীরে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। ২৯ অক্টোবর থেকে তাঁর জ্বর ও কাশি হলে তদন্তসংশ্লিষ্ট আরও চারজনের মধ্যে তা ছড়ায়। শনিবার সকালে তাঁরা পাঁচজন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৭৩৬'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৯৬৬ জনে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ৭৩৬ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলো ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৮৮ জন করোনা রোগী।

আজ সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯৬১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন তিন লাখ ২৭ হাজার ৯০১ জন। সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১১৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৫টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৯১টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭০২টি।

সেলিমপুত্র ইরফানের রিমান্ড শুনানি পেছাল - দৈনিক যুগান্তর

ঢাকা-৭ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলায় রিমান্ড শুনানি পেছাল। রিমান্ড শুনানির জন্য ৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করেন।

ইরফান সেলিম জাহিদের গ্রেফতার এবং রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলেছে, আসামিরা অন্য মামলায় রিমান্ডে আছেন। তাই আদালতে পাঠানো সম্ভব হলো না। ওই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য পুনরায় এ দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। এর পর পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন– ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন।  

২৬ অক্টোবর ভোরে মামলার পর দুপুরে র‌্যাব পুরান ঢাকায় চকবাজারের ২৬ দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায়। পরে হাজী সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন।

২৭ অক্টোবর ডিএসসিসির কাউন্সিলর পদ থেকে ইরফানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ইরফান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে (রিমান্ড) আছেন। 

গুজব সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য মন্ত্রণালয়- দৈনিক ইত্তেফাক

গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। রবিবার রাতে এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি গুজবে কান না দিতে সবার প্রতি অনুরোধও জানানো হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের কোনো গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্যে কান না দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।। এতে আরও বলা হয়, গুজব সৃষ্টিকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে তা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে একজনকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই হুঁশিয়ারি এল।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভিবাসীদের নিষিদ্ধের দাবি ফ্রান্সের বিরোধীদল নেতার-দৈনিক মানবজমিন

ফ্রান্সে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভিবাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী দলের নেতা মারিন লো পেন। শুক্রবার নিজের টুইটার একাউন্টে মারিন লিখেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা আমাদের রাষ্ট্রদূতের শিরশ্ছেদ করতে চেয়েছে, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এই দেশগুলোর অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক।’মারিনের এই পোস্টে ফ্রান্সের অনেক সাধারণ মানুষকেও একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুততম সময়ে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন সরকারকে।ফ্রান্সের  সরকার অবশ্য এ বিষয়ে এখনও  কিছু বলেনি। তবে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এর আগে গত মাসের শুরুতে খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না।ম্যাঁক্রোর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পরই তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ নিন্দা জানিয়েছে।এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইসলামের নবীকে নিয়ে আঁকা বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্রের কারণে মুসলিমরা কেন এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছিল, সেটা তিনি বুঝতে পারেন। তবে এর কারণে সহিংসতার যুক্তি তিনি কোনদিনই মানতে পারবেন না।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে তার কথা নিয়ে যে এরকম তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তার কারণ হচ্ছে লোকে ভুল করে ভেবেছেন তিনি নবীর ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করেছেন। অথবা তারা মনে করেছেন ফরাসি সরকারই বুঝি এই ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করেছে।এর আগে গত মাসের শুরুতে প্যারিসের উপকন্ঠে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক স্কুল শিক্ষককে হত্যা করা হয়। তিনি ইসলামের নবীর (সা.) বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র ক্লাসে ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করেছিলেন।  এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছিলেন, ফ্রান্স কখনো সহিংসতার কাছে নতি স্বীকার করবে না।  এই ঘটনার জের ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশসহ কিছু দেশে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। এরপর এরদোয়ানের সঙ্গে বাকযুদ্ধ শুরু হয় ফরাসি প্রেসিডেন্টের।

বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার চালানো উচিত নয় : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক নয়াদিগন্ত

বাকস্বাধীনতার নামে গুজব ছড়িয়ে দেয়া ও মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি যে কোনো ঘটনার সত্যিকারের তথ্য উত্থাপন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া বাকস্বাধীনতা নয়, যেকোনো মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত, মানুষকে আসল ঘটনা জানতে হবে, চুপ করে বসে থাকা যাবে না।’

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো ঘটনারচ সত্য কথা বলার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসের জন্য কিছুটা ব্যথা হতে পারে তবে শেষ পর্যন্ত এটি অবশ্যই কাজ করবে এবং এটিই বাস্তবতা। একটি অংশ দেশের জনগণ ও বাংলাদেশ সরকারের ক্ষতি করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওই অংশের লোকদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পর্কিত সমস্ত ঘটনার সত্য এবং আসল তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অংশ নিজেদের ইচ্ছামত গুজব ছড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি কলুষিত করার জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা কখনো তাদের খারাপ উদ্দেশ্য পূরণে সফল হতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘অরাজকতা সৃষ্টি করার সুযোগের নাম বাকস্বাধীনতা? সঙ্ঘাত সৃষ্টির জন্য যারা বক্তৃতা দিচ্ছেন তাদেরকে গ্রেফতার করা মানে কি বাকস্বাধীনতা হরণ করা? এটা সঠিক নয়।’ ‘ডিজিটাল মিডিয়ার এই যুগে এটা মেনে নেয়া যায় না যে, বাকস্বাধীনতার নামে যে কেউ তার যা ইচ্ছা লিখবে এবং প্রকাশ করবে,’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কেউ তার পছন্দ মত, মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে বলতে পারে। যখন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে, তখন একটি মহল চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ তা বিবেচনায় নেয় না।’অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ তথ্যাদি সরবরাহ করাটাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সরকার প্রধান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত তথ্য না দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণের মানসিকতা ভালো অভ্যাস নয়।শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় গুজবের একটি ঘটনার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যলয়ে একটি মেয়েকে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। একদল ষড়যন্ত্রকারীর ছড়িয়ে দেয়া গুজবের কারণে সেদিন পাথর ও প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

‘বাংলাদেশ যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতিবাচক অনেক ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণিত করে অর্থনৈতিক সূচকে আরো উন্নত অবস্থানে পৌঁছেছে, তখনই এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটেছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, যারা দেশের উন্নয়ন না চেয়ে বাংলাদেশ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাক সেটি চান, তারাই এই অপকর্ম ঘটাচ্ছে।

‘মানুষের মধ্যে সব সময় একটি অংশ থাকে যারা কখনো অন্যের উন্নতির জন্য চিন্তা করে না, তারা সর্বদা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যক্তিগত আগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। যখনই তারা তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র অনুযায়ী কিছু করতে ব্যর্থ হয়, তখনই তারা সমালোচনা শুরু করে,’ বলেন শেখ হাসিনা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং এটি তার স্ব-মর্যাদার সাথে এবং মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশ ও বিদেশে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রয়েছে যারা দেশের অগ্রগতি চায় না এবং তারা কখনই চায়নি যে দেশ স্বাধীন হোক। বাংলাদেশ অগ্রগতি দেখে তারা দুঃখ অনুভব করে। ‘তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) বাংলাদেশকে একটি গরীব দেশ এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল রাখতে চেয়েছিল,’ বলেন তিনি। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

রাজনীতি ছেড়ে দিলেও বিজেপি-র সঙ্গে জোট নয়, দাবি বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে হলেও লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র সঙ্গে কখনও জোট বাঁধবেন না। সোমবার এমনটাই দাবি করলেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র সুপ্রিমো মায়াবতী। মায়াবতীর আরও দাবি, সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং কংগ্রেস তাঁর মন্তব্যের অপব্যবহার করেছে। এবং তা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে তাঁর বিরুদ্ধে ভুল বোঝাচ্ছে।

Image Caption

 

ওই দুই দলের বিরুদ্ধে মুসলিম ভোটারদের প্রতারণা করারও অভিযোগ করেছেন মায়াবতী।যদিও গত সপ্তাহেই মায়াবতী জানিয়েছিলেন, বিহারে আসন্ন বিধান পরিষদের নির্বাচনে অখিলেশ যাদবের সপা-কে হারাতে যে কোনও প্রার্থী, এমনকি তা বিজেপি-র হলেও, তাঁকে ভোট দেবে বিএসপি। তবে এ দিন উল্টো সুর শোনা গিয়েছে দলিত নেত্রীর কণ্ঠে। বিজেপি-কে সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসাবে আখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনেই বিএসপি-র সঙ্গে বিজেপি-র জোট হওয়া সম্ভব নয়

এবারে আইসোলেশনে ‘‌হু’‌ প্রধান টেড্রস অ্যাঢানম ঘিব্রিয়েসাস-দৈনিক আজকাল

এতদিন যাঁর ভরসাতে ছিল গোটা পৃথিবী, এবারে তিনিও আইসোলেশনে চলে গেলেন। সম্প্রতি কোভিড পজিটিভ ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাঢানম ঘিব্রিয়েসাস। তিনি নিজেই রবিবার মধ্যরাতের দিকে টুইট করে সেকথা জানালেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও উপসর্গ নেই ‘‌হু’‌ প্রধানের শরীরে।

Image Caption

 

তবে যতদিন না কোয়ারেন্টাইন পেরচ্ছে, ৫৫ বছরের প্রাক্তন ইথিওপিয়ান মন্ত্রী বাড়ি থেকেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও দু’‌টি টুইটে তিনি বিশ্ববাসীকে করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেছেন। জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব। এরমধ্যেও যে তিনি নিজের কর্তব্য ভুলবেন না তা স্পষ্ট বলে দিলেন টেড্রস।  

করোনাযুদ্ধে ক্রমশই এগোচ্ছে দেশ, দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় বেশি সুস্থতার হার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

করোনাযুদ্ধে ক্রমশই উন্নতির দিকে হাঁটছে দেশ। নভেম্বরের প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন আরও কমল সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজারের কিছু বেশি মানুষ নতুন করে করোনা ভাইরাসে (Coronavirus) আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪৯৬ জনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেড়েছে দৈনিক সুস্থতার হারও।

দৈনিক আক্রান্তের চেয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন বেশি সংখ্যক মানুষ। আর তাতেই আশা আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ২৩০ জন। নভেম্বরের প্রথম দিন এই সংখ্যাটা ছিল ৪৬, ৯৬৪। অর্থাৎ আজ আরও বেশ খানিকটা কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয় বাড়ি ফিরেছেন ৫৩,২৮৫জন। এ নিয়ে মোট করোনাজয়ীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার ৭৯৮। আরও একটি পরিসংখ্যানও যথেষ্ট লক্ষ্যণীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ৮৫৫০ এই মুহূর্তে দেশে মোট করোনা পজিটিভ ৫ লক্ষ ৬১ হাজার ৯০৮।

চিনের ‘করোনাভ্যাক’ নিয়ে ধাক্কা খেল ব্রাজিল, তৃতীয় দফা ট্রায়ালের আগে সাও পাওলোয় বিক্ষোভ--দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

যতটা সহজভাবে চিনের তৈরি করোনা প্রতিষেধকের (Corona Vaccine) ট্রায়ালপর্ব সম্পন্ন করার কথা ভাবা হয়েছিল, তেমনটা হল না ব্রাজিলে (Brazil)। ইতিমধ্যেই চিনা ভ্যাকসিন ‘করোনাভ্যাক’-এর বিরুদ্ধে সাও পাওলোয় শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিবাদ। যদিও কারণ একেবারেই আভ্যন্তরীণ। সাও পাওলোর গভর্নরের ঘোষণার জন্যই বাসিন্দাদের বিক্ষোভ। রবিবার সাও পাওলোর রাস্তায় গভর্নরের বিরুদ্ধে পোস্টার হাতে, স্লোগান তুলে প্রতিবাদে শামিল হন শ তিনেক বাসিন্দা।

আসলে করোনা ভাইরাসের আঁতুড়ঘর বলে পরিচিতি লাভ করা চিনের (China) সিনোভ্যাকের তৈরি করোনা প্রতিষেধকের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্রাজিলের। সাও পাওলোর সবচেয়ে বিখ্যাত বায়োমেডিক্যাল গবেষণা সংস্থার মতে, সিনোভ্যাকের তৈরি প্রতিষেধক ‘করোনাভ্যাক’ (CoronaVac) সবচেয়ে নিরাপদ। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু করার সিদ্ধান্তও হয়। আর তারপরই সাও পাওলোর (Sao Paulo) গভর্নর জোয়া ডোরিয়ার ঘোষণায় গোল বাঁধে। তিনি জানান যে এই করোনা প্রতিষেধকের ট্রায়াল বাধ্যতামূলক, অর্থাৎ প্রত্যেক বাসিন্দাকে এই পরীক্ষায় ‘গিনিপিগ’ হতেই হবে। তাঁর যুক্তি ছিল, এতে সকলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, তাতে আখেরে লাভই হবে। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাও পাওলোর বাসিন্দারা।

রবিবার গভর্নর জোয়া ডোরিয়ার বিরুদ্ধে পোস্টার নিয়ে পথে নামলেন শয়ে শয়ে বাসিন্দা। সকলের দাবি, এভাবে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য সকলকে স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারেন না তিনি। বিক্ষোভকারীদের হাতের পোস্টারেও সে কথাই লেখা। যদিও গভর্নরের এই ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। তিনিই আগে জানিয়েছিলেন যে করোনা প্রতিষেধকের জন্য তাঁর দেশ স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা নেবে। এখন সাও পাওলোর এই বিক্ষোভের পর চিনের ভ্যাকসিনটির তৃতীয় দফা ট্রায়াল আদৌ শুরু হতে পারবে কি না ব্রাজিলে, তা নিয়ে সংশয় উসকে উঠল। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।