সবাই সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে ওমিক্রন আতঙ্ক! ‘সবধরনের সভা-সমাবেশ’ সীমিত করুন: কারিগরি কমিটি
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ইতোমধ্যে বিশ্বের ষাটটি দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবেশী ভারতে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আফ্রিকা সফর করে দেশে ফিরে বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট টীমের দু’জন সদস্য ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন।
দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষিত করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ন্ত্রণে ‘সবধরনের সভা-সমাবেশ’ ও ‘জনসমাগম’ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক কার্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বৈঠকে সব সদস্যের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে দু’টি সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ দু’টি হচ্ছে ‘সবধরনের সভা-সমাবেশ’ ও ‘জনসমাগম’ সীমিতকরণ এবং পাশাপাশি ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক নাগরিক ও সন্মুখ সারির যোদ্ধাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া।
কারিগরি পরামর্শক কমিটি জানিয়েছে, ‘কোভিড ১০ রুটিন ভ্যাক্সিনেশনের জন্য টিকা নিশ্চিত করে ষাটোর্ধ ও ফ্রন্ট-লাইনার; যাদের দুই ডোজ টিকা নেওয়া অন্তত ছয় মাস আগে সম্পন্ন হয়েছে, তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া যেতে পারে।
এছাড়াও দেশে প্রবেশের সকল পয়েন্টে স্ক্রিনিং, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন কার্যক্রম আরও জোরদার করারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন-এর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সোমবার সাপ্তাহিক মন্ত্রীসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।
এদিকে, মন্ত্রীসভা বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চলতি মাসেই সম্মুখ-সারির (ফ্রন্ট-লাইনার) ষাটোর্ধদের করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । সুরক্ষা অ্যাপসে কিছু আপডেট করতে হবে। আশা করা হচ্ছে, এ মাসেই এই কাজ শুরু করা যাবে।
এসময় মন্ত্রী জানান, দেশে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এ মাসে আরও দেড় থেকে দুই কোটি টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হাতে প্রায় চার কোটি টিকা আছে। আজকেও যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। টিকার কোনো অসুবিধা নেই।
হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলো যেভাবে ছিল আমরা সেভাবেই রেখেছি। এটাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। আমরা প্রায় ৮০টি অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপন করছি, এর মধ্যে ৩০টি স্থাপনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। বাকিগুলো আগামী অল্পদিনের মধ্যে দেশে আসলে আমরা লাগিয়ে দেবো।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলের ছাত্রদের টিকার অগ্রগতি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি বলেছি, সেখানে আমরা সে রকম অগ্রগতি লাভ করতে পারিনি। এটা যেহেতু ফাইজারের টিকা দিতে হচ্ছে। দেশের সব কর্নারে তো সেভাবে কোল্ড চেইন নেই। কাজেই যে কয়েকটি জায়গায় আছে, সেখানেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এটা যাতে আরও বাড়ে, গতি যেন আনতে পারি, সে জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আরও এক হাজার বুথ আমরা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছি। আড়াই হাজার বুথ, যেটা আছে, তার সঙ্গে আরও এক হাজার যোগ হলে আমরা মনে করি, টিকা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।’ #
পার্সটুডে/এআরকে/১৩