উদ্ধার কাজ চলছে, ৩৬ লাশ উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি ৯০ জন
ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী অভিযান-১০ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তোফায়েল ইসলামকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আমিনুর রহমান কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন।
এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)- ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, নদীবক্ষে এ অগ্নি-দুর্ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনায় দগ্ধ প্রায় ৭৫ জনকে বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আরও ১৫ জনকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেক শিশু ও বৃদ্ধ নিখোঁজ রয়েছেন।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসের প্রায় পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকালে কুয়াশার জন্য উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালায়।
বিকেল নাগাদ পাওয়া খবর অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। উদ্ধার কাজের তদারকিকে নিয়োজিত জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানিয়েছেন , যাত্রীরা ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় লঞ্চটির ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অনেকে আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
হতাহতদের খোঁজে দুর্ঘটনাস্থলে নদীর তীরে ও হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা। এ সময় প্রিয়জনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ।
এদিকে, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে অপরাহ্নে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবী
এদিকে, ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনে দগ্ধ ও আহত যাত্রীদের রাষ্ট্রীয় খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করা, এবং নিহত প্রত্যেক যাত্রীর পরিবারকে যাত্রী-সাধারণের অর্থে গঠিত নৌ-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।’
আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, ‘বছর বছর লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হলেও যাত্রী-সেবা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা এখনও সেকেলে রয়ে গেছে। এতে করে নৌপথের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যু হাতে নিয়ে এসব লঞ্চে যাতায়াত করছে।’
এ ছাড়া ‘লক্কড়-ঝক্কড় ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সার্ভে সনদ এবং রুট পারমিট ইস্যুর কারণে এ হতাহতের দায়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের দাবি’ জানিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব আরও বলেন, ‘বাসের মতো লঞ্চেও মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ইঞ্জিন, বডি নিয়ে অসংখ্য লঞ্চ যাত্রীর জীবন নিয়ে খেলছে।’
# পার্সটুডে/এআরকে/২৪