নাসিক নির্বাচন: প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আইভী-তৈমূরের মন্তব্য
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে ব্যবসা আর হোসিয়ারী শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। নতুন প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন, পুলিশি হয়রানি আর প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের মাঝে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে।
এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচনে বিজয়ী হবার আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে আইভী বলেছেন, "আমি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করি না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জানে। আমাকে তারা দেখেছে। আমি যা বলি প্রকাশ্যেই বলি। আমি আরও দুটি সিটি নির্বাচন করেছি। কেউ বলতে পারবে না নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছি।"
আইভী আরো বলেন, "প্রভাব বিস্তার করার মতো লোকবল আমার নেই। প্রশাসনও নেই। অপর প্রার্থী কী অভিযোগ করেছেন, সেটি আমার দেখার বিষয় না। প্রশাসন যদি কিছু করে থাকে তারা দেখবে।"
তিনি আরো বলেন, "উনি (তৈমূর) কেন এমন অভিযোগ করছেন, আমি জানি না। হয়তো এটি তাঁর নতুন কোনো চাল! নির্বাচনে উনি (তৈমূর) প্রচারণা চালাচ্ছেন, আমিও চালাচ্ছি। কিন্তু এর বাইরে কী হচ্ছে আমি জানি না, জানতে চাইও না। আমি এই মুহূর্তে আমার জনগণকে নিয়ে আছি, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, ভোট চাইছি।"
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তাঁর পক্ষে নির্বাচনে নেমেছেন কি না জানতে চাইলে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘বিধি মোতাবেক তিনি (শামীম ওসমান) নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন না।’
আইভী বলেন, "কে সমর্থন দিলেন, দিলেন না, সেটি বিষয় নয়। ভোটারদের কাছেও অপরিহার্য নয়। ভোটাররা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তাঁরা ভোট কাকে দেবেন।"
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তার নেতা-কর্মীদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আর কাউকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেবেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ‘ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি’ হুঙ্কার দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানি শুরু হয়েছে- এমনটি অভিযোগ করেন তৈমূর আলম খন্দকার ।
এসময় তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে নগরের মিশনপাড়া এলাকায় প্রধান নির্বাচনী কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর জানান, সোমবার রাতে বন্দর থেকে তার ১৭ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমপক্ষে ৪০ জনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর আলমের মেয়ে অ্যাডভোকেট রেশমী অভিযোগ করে বলেন, বাবার পক্ষে কাজ করায় সোমবার গভীর রাতে ২২নং ওয়ার্ড থেকে তার স্বামী আশরাফুল ইসলামকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় রেশমীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১