'নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে অনেক অপূর্ণতা রয়েছে'
ইসি গঠন নিয়ে জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক করছে সরকার: ড. মোশাররফ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করেছে তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
আজ (শনিবার) ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২–এর খসড়া ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) নির্বাচন কমিশন বিল জাতীয় সংসদে ওঠার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনো কোনো নির্বাচনে যাবে না। কেননা আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং এসব সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সকল সেক্টরে অবদান রেখেছেন জিয়াউর রহমান। তার নাম মুছে ফেলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই তারা করছে না। যারা জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করেন না তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না। অন্যরা তো তখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। কেউ ইচ্ছা করলে ইতিহাস মুছে দিতে পারে না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্র হত্যা করেছে আর বিএনপি তা বার বার পুনরুদ্ধার করেছে। এগুলো ইতিহাস। চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না। তেমনি আজকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী।
মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ ১২ বছর ধরে গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। এটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারের বৈশিষ্ট্য। তারা ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে। এমনকি ২০০৪ সাল থেকে তারা বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। তবু তারা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছে। লবিস্টরাও ব্যর্থ হয়েছে। আজকে তাদের অপকর্মের কারণে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান ও কিছু কর্মকর্তার নামে স্যাংশন দিচ্ছে। তবু তারা আমলে নিচ্ছে না। এখন চারদিক থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ওয়ার্নিং দিচ্ছে। র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাতিসংঘ আমলে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন- সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সরকার সবার জন্য গ্রহণযোগ্য আইনের কথা বললেও প্রস্তাবিত নতুন আইন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। এর আগে সার্স কমিটি গঠন করে কমিশন গঠনের মতই পরিণতি হবে নতুন আইনের।
'নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে অনেক অপূর্ণতা রয়েছে'
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে অনেক অপূর্ণতা রয়েছে। এই আইনটির অনেক সংশোধন করতে হবে।
‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে’ শীর্ষক এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে এ টি এম শামসুল হুদা এ কথা বলেন। আজ (শনিবার) রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ ছায়া সংসদ বিতর্কের আয়োজন করে।
প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘এখানে আস্থার অভাব ছিল। আরও তদারকির দরকার ছিল। এত তাড়াহুড়ার প্রয়োজন ছিল না। এই আইনের খসড়া পড়ে মনে হয়েছে, এটি সার্চ কমিটি গঠনের খসড়া।’
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনাও করেন এই সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো জায়গায় আমাদের অন্তত সৎ ও পরিচ্ছন্ন মানুষ প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে এবং তিনি অব্যাহতি পান, তাহলে তাঁকে নিয়োগ দিতে বাধা নেই। এটি আমার কাছে ভালো লাগেনি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্রের জবাবে শামসুল হুদা বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে জনগণেরও মতামত নেওয়া প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এমন একটি আইন হলে এটির যোগ্যতা প্রমাণ করা উচিত।
এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ৫০ বছরে অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। তাই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেছে কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল চায় না একটি ভালো নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনলোজি ও বিরোধী দল হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকেরা অংশ নেন। বিতর্কে বিজয়ী হন বিরোধী দলের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।