বড়পুকুরিয়া মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i10291-বড়পুকুরিয়া_মামলার_পূর্ণাঙ্গ_রায়_প্রকাশ_খালেদা_জিয়াকে_আত্মসমর্পণের_নির্দেশ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রায় অনুসারে খালেদা জিয়াকে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ২৫, ২০১৬ ০৮:২১ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া
    বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রায় অনুসারে খালেদা জিয়াকে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

আজ (বুধবার) মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আব্দুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ ও বিচারিক আদালতে মামলাটির কার্যক্রম বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

সাত বছর পর গত বছরের শুরুতে দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিলে হাইকোর্টের দেয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ আগস্ট আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে হাইকোর্ট। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রুল খারিজ করে দিয়ে মামলার কার্যক্রমের ওপর দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় দেয়। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ প্রকাশিত হলো।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি বাতিল চেয়ে একই বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছর ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করে। রুলের ওপর বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি চলছে। এ অবস্থায় মামলার নথি চেয়ে গত ১৮ আগস্ট আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

ওই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও এম শামসুল ইসলাম মারা যাওয়ায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি হওয়ায় তারা আসামির তালিকা থেকে বাদ গেছেন।#

পার্সটুডে/এআর/২৫