ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর হামলায় লেবাননের খ্যাতনামা সাংবাদিক শহীদ
-
শহীদ সাংবাদিক আমাল খলিল
পার্সটুডে- ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সংবাদ সংস্থাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, যার ফলে তাদের হামলায় আল-আখবার পত্রিকার প্রতিবেদক "আমাল খলিল" শহীদ হয়েছেন এবং তার সহকর্মী "জেইনাব ফারাজ" আহত হয়েছেন।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার অবরোধ, যাতায়াতে বাধা এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর লেবাননের উদ্ধারকারী বাহিনী অবশেষে আহতদের সরিয়ে নিতে এবং শহীদ সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
এই প্রতিবেদন অনুসারে, লেবাননের আল-আখবার পত্রিকার প্রতিবেদক আমাল খলিলের মরদেহ কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ লেবাননের আল-তাইরি এলাকায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো খুঁজে পায়।
বুধবার বিকেলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে তাকেও সরাসরি আক্রমণ করে।
আল-আহেদ জানিয়েছে: সংবাদকর্মীদের দলটিকে ঘিরে ফেলার পর ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী উদ্ধারকারী ও রেড ক্রিসেন্ট দলগুলোকে তাদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য বারবার চেষ্টার পর, ইসরায়েলি সেনারা ফের উদ্ধারকারী দলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং উদ্ধারকারীদের আহতদের কাছে পৌঁছানো ও নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে গ্রামের দিকে যাওয়ার রাস্তায় বোমা হামলা চালায়।
রাত নামার সাথে সাথে লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং দুই শহীদের মরদেহের পাশাপাশি মাথায় অস্ত্রোপচার হওয়া আহত সাংবাদিক জয়নাব ফারাজকেও উদ্ধার করে।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মার্কেস এক্স চ্যানেলে একটি বার্তায় আমাল খলিলের শাহাদাতবরণে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন: "গভীর দুঃখের সাথে, আমরা শহীদ সাংবাদিক আমাল খলিলের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই, যিনি দক্ষিণ লেবাননের আল-তাইরিতে সত্য তুলে ধরার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।" “সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি নির্লজ্জ অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন, এ বিষয়ে আমরা চুপ থাকব না। এই অপরাধগুলো বন্ধ করতে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা আবারও বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন