ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক্সে ঝড়, ‘ইসরায়েলের দায়মুক্তির যুগ শেষ’
https://parstoday.ir/bn/news/world-i160136-ইরানের_ক্ষেপণাস্ত্র_হামলায়_এক্সে_ঝড়_ইসরায়েলের_দায়মুক্তির_যুগ_শেষ’
পার্সটুডে– অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইরানের দৃঢ় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী এ ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘দায়মুক্তির যুগের সমাপ্তি’ এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে ইরানের নতুন ও সক্রিয় ভূমিকায় প্রবেশের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করেন।
(last modified 2026-06-08T12:40:13+00:00 )
জুন ০৮, ২০২৬ ১৮:০৬ Asia/Dhaka
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক্সে ঝড়, ‘ইসরায়েলের দায়মুক্তির যুগ শেষ’

পার্সটুডে– অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইরানের দৃঢ় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী এ ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘দায়মুক্তির যুগের সমাপ্তি’ এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে ইরানের নতুন ও সক্রিয় ভূমিকায় প্রবেশের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করেন।

মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে রোববার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান শুরু হওয়ার পর এক্স প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া, কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে দেখানো হয় যে ট্রাম্পের লেবানন ও ইরানের প্রতি একযোগে শত্রুতাই দুই দেশের মধ্যে সহমর্মিতা ও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করেছে। পোস্টটির সঙ্গে দূতাবাস একটি উদ্ধৃতিও শেয়ার করে: “যার সঙ্গে আপনি হেসেছেন তাকে হয়তো ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু যার সঙ্গে কেঁদেছেন তাকে কখনো ভুলতে পারবেন না।”

দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাসও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কিছু ছবি প্রকাশ করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লিখেছে, “আপনারাই তো বলেছিলেন, সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হবে!” অন্য এক পোস্টে তারা লেখে, “বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম।”

ইরানের এই হামলা বিদেশি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। স্কটিশ ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ক্রেইগ মুরে লেখেন, “ইরান অবশেষে ইসরায়েলের জবাব দিয়েছে দেখে আমি স্বস্তি পেয়েছি। লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দায়মুক্তি ভোগ করার যে পরিস্থিতি ছিল, তার অবসান হওয়া উচিত। ইরান আজ জায়নবাদী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।”

স্বাধীন মার্কিন সাংবাদিক ইথান লেভিনস ইরানের রাস্তায় মানুষের আনন্দ-উল্লাসের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখেন, “ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাওয়ার সময় ইরানিরা রাস্তায় উদ্‌যাপন করছে। খেলা শুরু হলো।”

একজন ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লেখেন, “ট্রাম্প চুক্তি চান, ইসরায়েল যুদ্ধ চায়, আর মনে হচ্ছে ইরান দুটোর সঙ্গেই একমত।”

আরেকজন ব্যবহারকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একটি কম্পিউটার-নির্মিত ছবি প্রকাশ করে লেখেন, “ইরান, কাজটা শেষ করে ফেল।”

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেকসন হিঙ্কল হামলার শুরুতেই ইরানের জাতীয় পতাকার ছবি পোস্ট করে লেখেন, “ইরান দীর্ঘজীবী হোক!” পরে তিনি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ভিডিও প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “ইরানের কারণে উত্তর ইসরায়েল আবারও জ্বলছে।”

ব্রিটিশ চিকিৎসক রহমত আল আদওয়ান লেখেন, “ইরান বর্তমানে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত গণহত্যাকারী সত্তা—‘ইসরায়েল’-এর বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে। ইরান আজ বৈরুত বোমাবর্ষণ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছিল, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছে। এটিই হলো পরিণতি।”

ইহুদি-আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলবিরোধী লেখক অ্যালন মিজরাহি মন্তব্য করেন, “আজ রাতে পশ্চিম এশিয়ায় লেবাননে ইসরায়েলের ‘স্বাধীন সামরিক অভিযান’ বা গণহত্যার যুগের অবসান ঘটেছে। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেই সমাপ্তি টেনেছে এবং নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। মানবতা এ জন্য ইরানের কাছে কৃতজ্ঞ।”

অন্যদিকে, এক্স ব্যবহারকারী আমির আমিনি লিখেছেন, “বিশ্বমঞ্চে ইরানের নতুন ভূমিকায় আপনাকে স্বাগতম। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ইরান তার মিত্রদের রক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং চলমান মানবিক বিপর্যয় থামাতে আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে।”

এদিকে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল এন-১২ নিউজের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক  অমিত সেগাল ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, “ইরানের হামলার পর ট্রাম্পের প্রথম বার্তা—‘ইরান, যথেষ্ট গুলি চালিয়েছ, এবার থামো এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসো।’ মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন প্রেসিডেন্টও ইরানের পদক্ষেপের জবাবে কেবল ‘করো না’ বলেই থেমে গেলেন।”

 

পার্সটুডে/এমবিএ/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ