ইসি গঠনে প্রাথমিক বাছাইয়ে ৫০ নাম: রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া তিন শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ জনকে বাছাই করা হয়েছে।
এখন তাদের জীবনবৃত্তান্ত এবং অতীতের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হবে। এ নিয়ে আগামী শনিবার সকালে ফের বৈঠকে বসবে সার্চ কমিটি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগের লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গঠিত অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটিতে কারা কার নাম প্রস্তাব করেছে- তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
একইসঙ্গে সার্চ কমিটিকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে অভিজ্ঞ, সৎ, সাহসী ও সুনামের অধিকারী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে সুজন।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ দাবি তোলা হয়। শুরুতেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান কমিটিকে শুধু নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করলেই হবে না, কমিটি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, তাও জনগণের কাছে প্রতীয়মান হতে হবে। কী মানদণ্ডের ভিত্তিতে ও কী পদ্ধতিতে কমিটি তার বিবেচনাধীন ব্যক্তিদের সুনাম যাচাই করবে, তাও জনগণকে জানানো জরুরি। কমিটি যা প্রকাশ করেছে, তাতে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি, কারণ কাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তা প্রকাশ করলেও কারা প্রস্তাব করেছে, তা কমিটি প্রকাশ করেনি। অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলে বা তথ্য গোপন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না।
তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের ক্ষমতার বৈধতা দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষা ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন নয়, মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচনকালীন সরকারের মূল এজেন্ডাকে পাশ কাটিয়ে বিদ্যমান সংকটের সমাধান করা যাবে না।
চলমান সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, কেবলমাত্র একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বর্তমান সংকটের সমাধান দিতে পারবে না, আমাদের এখন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার।
আজ দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের রূপরেখা ও করণীয়; সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্য’ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে গণসংহতি আন্দোলন।
এদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটিতে বিএনপি নাম জমা না দিলেও কিছু যায় আসে না। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ আশপাশের কোনো দেশে নেওয়া হয়নি। যেখানে তিনশর বেশি নাম জমা পড়েছে, সেখানে বিএনপির ঘরে বসে থাকলেও কোন লাভ নেই।
আজ দুপুরে নওগাঁর জিলা স্কুল মাঠে নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরাসরি নাম জমা না দিয়ে গোপনে অন্যদের মাধ্যমে নাম জমা দিয়েছে এবং তাঁদের বুদ্ধিজীবীরা সেখানে গিয়েছেন। দেশের মানুষ বলছেন, তাঁরা যে নামগুলো দিয়েছেন, আসলে সেগুলো বিএনপির নাম।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে। যদিও বিএনপি কখনোই খুশি হবে না। ফেরেশতা বসিয়ে কমিশন গঠন করা হলেও তাঁরা মানবেন না।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭